ফিচার

ফিক্সিংয়ের দায়ে নিষিদ্ধ হয়েছেন যেসব পাকিস্তানি ক্রিকেটার

নিউজ ডেস্ক

১৮ জানুয়ারী ২০২১, সকাল ৮:১৮ সময়

[ 126969-4 ]
ছবিঃ ক্রিক ইনফো
মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন, হ্যান্সি ক্রোনিয়ে, মোহাম্মদ আশরাফুল সহ বিভিন্ন দেশে ম্যাচ গড়াপেটার অভিযোগে অভিযুক্তদের তালিকা নেহাৎই ছোট নয়। তবে ফিক্সিংয়ের দায়ে বিশ্বব্যাপি যতজন নিষিদ্ধ বা সাজা পেয়েছেন, এক পাকিস্তানেই রয়েছে তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ফিক্সিং কেলেংকারী। তাই পাকিস্তানকে ফিক্সিংয়ের দেশ বললেও ভুল হবে না হয়তো। প্রতিযোগিতা মূলক ক্রিকেটে বিভিন্ন সময়ে ফিক্সিং কেলেংকারীতে জড়িয়েছেন এমন পাকিস্তানি ক্রিকেটারের সংখ্যা প্রায় ১৫ জন। চলুন ফিক্সিং এবং পাকিস্তানি ফিক্সারদের সম্পর্কে জানা যাক। ফিক্সিং কী? ম্যাচ ফিক্সিং হলো কোন ম্যাচের ফল বা ম্যাচের নির্দিষ্ট অংশের ফল, সেটি একটি বা দুইটি বলও হতে পারে, যা আগে থেকে নির্ধারণ করে খেলা। কোনো নির্দিষ্ট খেলার নিয়ম ও নীতি লঙ্ঘনের মাধ্যমে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের মতো ঘটনা ঘটানো হয়। ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রধান কারণ হলো জুয়াড়িদের মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া। বর্তমান আইসিসি ক্রিকেটের এই জুয়া ঠেকাতে 'শূন্য সহনশীল নীতি' গ্রহন করেছে। যার সাজা রাখা হয়েছে আজীবন নিষিদ্ধ সহ জেল জরিমানার বিধান। পাকিস্তানের যে সব সকল খেলোয়াড়েরা ফিক্সিং করে সাজা পেয়েছেনঃ সেলিম মালিকঃ তিনি ছিলেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক। পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ম্যাচ গড়াপেটার জনক ছিলেন তিনি। আশির দশকে পাকিস্তানের সবচেয়ে প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের একজন ছিলেন এই সেলিম মালিক। ১৯৯৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার দুইজন ক্রিকেটারকে, মার্ক ওয়াহ এবং শেন ওয়ার্নকে ম্যাচ পাতানোর জন্য ঘুষ সেধেছিলেন, এমন অভিযোগ উঠে সেলিমের বিপক্ষে। পরে তদন্তে তা প্রমাণিত হয়। শুধু তাই নয়, তার বিপক্ষে আরও কয়েকবার ম্যাচ পাতানোর অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়। ফলে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে আজীবন নিষিদ্ধ হন সেলিম মালিক। জেলও খেটেছেন এই পাকিস্তানি ক্রিকেটার। পরে ২০০৮ সালে আদালতের সহায়তায় আজীবন নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেও, ফিরতে পারেননি ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট কর্মকান্ডে। আতাউর রহমানঃ ৯০ দশকে পাকিস্তানের ক্রিকেট যে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল তা ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনিসদের কল্যাণে। তাদের সাথে উচ্চারণ হতো আতাউরের নামও। ২০০০ সালে ম্যাচ পাতানোর অভিযোগের পর সত্যতা প্রমাণিত হলে নিষেধাজ্ঞা পান আজীবন। ২০০৬ সালে তার নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেও ক্রিকেটে আর নিয়মিত হতে পারেননি। সালমান বাটঃ তিনিও পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক। চোখ ধাধানো অসাধারণ অফ ড্রাইভের কল্যাণে ক্রিকেটে বিশ্বে তার জনপ্রিয়তার কমতি ছিল না। অসাধারণ প্রতিভাবান এই ক্রিকেটার বেশ অল্পদিনেই পেয়েছিলেন অধিনায়কের দায়িত্ব। কিন্তু ফিক্সিং করে নিজের কপালে নিজেই গুলি চালিয়েছিলেন। ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে সালমান বাট ছিলেন ফিক্সিংয়ের মূল হোতা। বাটের নির্দেশেই নো বল করেছিলেন মোহাম্মদ আমির এবং আসিফ। ক্রিকেট বিশ্বে তোলপাড় তুলেছিল সেই স্পট ফিক্সিং কেলেংকারী। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ইংল্যান্ডের আদালত তাঁকে ২ বছরের কারাদণ্ড দেয়। ১০ বছরের জন্য ক্রিকেট থেকে নিষেধাজ্ঞা দেয় পিসিবি। পরে সাজা কিছুটা কমে এলে ক্রিকেটে ফিরেছেন ঠিকই, তবে জাতীয় দলে আর ফেরা হয়নি এই ওপেনারের। মোহাম্মদ আসিফঃ সালমান বাটের সাথে স্পট ফিক্সিং কেলেংকারীতে জড়িয়েছিলেন তিনি। করেছিলেন নো বল। পরে তা প্রমাণিত হওয়ায় ইংল্যান্ডের আদালত তাকে ১ বছরের সাজা এবং পিসিবি তাকে দিয়েছিল ৭ বছরের নিষেধাজ্ঞা। ৫ বছর পর শাস্তি কমে যাওয়ায় ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরলেও তার দশা হয়েছে সালমান বাটের মতই। মোহাম্মদ আমিরঃ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমিরের আবির্ভাব হয়েছিল ধুমধাম করে। অল্পদিনেই মন জয় করেন লাখো ভক্তদের। বাম হাতে গুড়িয়েছেন বহু প্রতিপক্ষের দূর্গ। ২০১০ সালের ওই টেস্ট সিরিজে সালমান-আসিফের সাথে দোষী সাব্যস্ত হন আমিরও। বয়স ১৮ বছরের কম থাকায় নিষেধাজ্ঞার পরিমাণটা কিছুটা কম ছিল তাঁর। ইংল্যান্ডের শিশু সংশোধানালয়ে কাটাতে হয়েছে ৬ মাস। পিসিবি দেয় ৫ বছরের নিষেধাজ্ঞা। সেই নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আমির ফিরেছিলেন বেশ দুর্দান্তভাবেই। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ দিয়ে ফিরে এসে ২০১৭ সালে জিতেছেন পাকিস্তানের হয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। তবে ১৭ ডিসেম্বর পাকিস্তানের বোর্ড কর্তাদের প্রতি ক্ষোভ নিয়ে মাত্র ২৮ বছর বয়সেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিয়েছেন মোহাম্মদ আমির। শারজিল খানঃ ২০১৭ সালের পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) স্পট ফিক্সিংয়ের দায়ে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন শারজিল খান। সেসময়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও সকল সাক্ষ্য প্রমাণ ছিল তার বিপক্ষে। ফলে নিষেধাজ্ঞা থেকে বাঁচতে পারেননি। ২০১৭ সালের পিএসএলে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের হয়ে খেলেছিলেন শারজিল। মাত্রাতিরিক্ত ডট বল খেলার জন্য জুয়াড়িদের থেকে ২ মিলিয়ন রুপি নেন এই ওপেনার। পরে শারজিল অবশ্য নিজের দোষ স্বীকার করে নেন। ফলে আড়াই বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে গত বছরের আগষ্ট থেকে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার অনুমতি পান তিনি। তবে ফিরতে পারেননি জাতীয় দলে। ছবি এবং তথ্যসুত্রঃ ইন্টারনেট।