বিজ্ঞাপন

অফিসিয়াল গ্রুপে যোগ দিন

বাংলাদেশের স্পোর্টসভিত্তিক শীর্ষ অনলাইন ম্যাগাজিন

টপ ট্রেন্ডিং সাকিব আল হাসান/ তামিম ইকবাল/ মুশফিকুর রহিম/ বিরাট কোহলি/ বাবর আজম/ মেসি/ নেইমার/ রোনালদো/ ব্রাজিল/ আর্জেন্টিনা/ রিয়াল মাদ্রিদ/ বার্সেলোনা/ পিএসজি

পেটে খাবার নেই, মাঠে পারফর্মও নেই আরামবাগের ফুটবলারদের

প্রকাশ: সোমবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ | ১২:২৮:৩২

ডেইলি স্পোর্টসবিডি ডেস্ক

ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

“ভাই এক বেলা খাবার খাই তো আর এক বেলায় অনিশ্চয়তাই ভুগি, অনুশীলনের পর এক বোতল পানি পর্যন্ত পাই না। আপনিই বলেন দেশের শীর্ষ স্থানীয় লীগেও খেলে এভাবে কি দিন পার করা যায়?”

এক বুক ব্যাথা নিয়ে এভাবেই কথা গুলো বলেছেন আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের এক ফুটবলার।

ঢাকা শহরে রিক্সা চালক বা দিন মজুরদেরও খাবার নিয়ে কোন চিন্তা না করতে হলেও আরামবাগের ফুটবলারদের প্রতিনিয়ত দুঃশ্চিন্তায় ভুগতে হচ্ছে।

শুধু খাবারই নয়, মাস শেষে পকেটে কোনও টাকা তুলতেও পারেন না এসব ফুটবলাররা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ফুটবলার বলেন,

“নিয়মিত খাবার পাই না, থাকার জায়গার সংকট, সেই সাথে বিনা পয়সায় খেলতে হচ্ছে। পরিবারের কোনও সমস্যা হলে একটুও সাহায্য করতে পারি না। ক্যাম্পে নিজেরই নিশ্চয়তা নেই, সেখানে পরিবারকে সাহায্য করবো কিভাবে?”

গোল হজম করা যেন থামছেই না আরামবাগের। ছবিঃ বাফুফে।

চলতি মৌসুম শুরুর আগে নীলফামারীতে কন্ডিশনিং ক্যাম্প করলেও দল ঢাকায় ব্যাক করার পর থেকেই যত সমস্যার তৈরি হয়েছে। কোন ভাবে ফেডারেশন কাপ শেষ করলেও লীগ শুরুর পর থেকেই আরামবাগের অবস্থা খারাপের দিকে গড়িয়েছে। শুরুর দিকে নিয়মিত খাবার পেলেও শেষ দুই – তিন সপ্তাহে ক্লাবটির অবস্থা এতটাই বাজে যে ফুটবলাররা নিয়মিত খাবারই পাচ্ছে না।

সকালে এক প্যাকেট ব্রেড ও একটি কলা দিয়ে দিন শুরু হয় আরামবাগের ফুটবলারদের। দুপুরে কোন দিন মুরগির মাংস আবার কোন দিন ডিম দিয়েই খাবার খেতে হয় তাদের। আর যে দিন ম্যাচ থাকে সেদিনতো ম্যাচ শেষ করে এসে রাতের খাবার শেষ করতে করতে রাত ১২ টাও বেজে যায়। ফুটবলারদের জন্য এই খাবার মোটেও যথেষ্ট নয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ফুটবলার বলেন,

“যেদিন কুমিল্লা বা মুন্সিগঞ্জে ম্যাচ থাকে সেদিন সকাল বেলা রুটি খেয়ে রওনা হই, কোনও ভাবে দুপুরের খাবার শেষ করি। বসুন্ধরা কিংসের বিপক্ষে ম্যাচের আগে কুমিল্লাতে তো আমরা ড্রেসিং রুমের মেঝেতে বসেই দুপুরের খাবার খেয়েছিলাম। মুন্সিগঞ্জের ম্যাচ শেষে দুইটা কলা দিয়েছিল, এরপর ঢাকায় ক্যাম্পে এসে রাতের খাবার খাই রাত ১২ টারও পর। আপনি শুনে অবাক হবেন যে, দলে নতুন যোগ দেওয়া ব্রাজিলিয়ান কোচ ডগলাস ডি সিলভাও প্রথম দু’দিন ক্যাম্প থেকে কোনও খাবার পায়নি। নিজ টাকা দিয়ে বাইরে থেকে খাবার এনে খেতে হয়েছে এই ব্রাজিলিয়ান কোচকে।”

শুধু খাবারই নয়, আবাসন নিয়েও সমস্যা আরামবাগের ফুটবলারদের। নীলফামারী থেকে ক্যাম্প করে এসে ঢাকার একটি হোটেলে উঠেছিল ক্লাবটি। সেখানেও নিয়মিত টাকা পরিশোধ করতে না পারায় হোটেক কর্তৃপক্ষ ফুটবলারদের বের করে দেয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন হোটেলে দু-একদিন করে থাকলেও আফতাবনগরে একটি ফ্লাট ভাড়া নেয় আরামবাগ। সেখানে গিয়েও যেন শান্তি নেই ফুটবলারদের। গত ফেব্রুয়ারীর শুরুর দিনে নতুন বাসায় উঠলেও পাঁচ তারিখেই তাদের বাসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেয় বাড়িওয়ালা। কারণ, তখনও বাসার অগ্রিম ভাড়া পরিশোধ করেনি ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

আরও খেলার খবরঃ   শেখ রাসেলকে জয় উপহার দিলো মুক্তিযোদ্ধা

পাঁচ ফেব্রুয়ারীর সেই রাতের কথা বলতে গিয়ে এক ফুটবলার বলেন, “আমাদের তো বেরই করে দিতে চেয়েছিল বাড়িওয়ালা, তখন তো মনে হচ্ছিলো আমরা কি আদৌ ফুটবলার? একজন শ্রমজীবী মানুষেরও রাতে ঘুমানোর জন্য জায়গা আছে কিন্তু আমাদের নেই। যদিও ক্লাবের সহকারী ম্যানেজার কোন ভাবে পঞ্চাশ হাজার টাকা ম্যানেজ করে এনে বাড়িওয়ালাকে দিয়ে বাসায় থাকার একটা ব্যবস্থা করেন।”

এটা তো গেল খাবার ও আবাসন সমস্যা, এবার আসা যাক অন্য দিকে। কুমিল্লায় বসুন্ধরা কিংসের বিপক্ষে আরামবাগের ম্যাচ। ম্যাচের আগে একাদশে থাকা কোনও এক ফুটবলার তার জার্সি খুজে পাচ্ছিলেন না। পরে এই জার্সির কারণেই বসুন্ধরা কিংসের বিপক্ষে আর মাঠে নামা হয়নি সেই ফুটবলারের। কিন্তু আপনি ভাবতে পারেন একটা জার্সি খুজে পাচ্ছে না তো কি হয়েছে তার কি আর জার্সি নেই? না নেই, ক্লাব থেকে প্রতিটা ফুটবলারকেই দু’টি জার্সি দেওয়া হয়েছে। একটি সাদা আর একটি লাল। তাই একটি হারিয়ে ফেললে সে ম্যাচে আর তার মাঠে নামা হয় না।

এইতো সেদিন উত্তর বারিধারার বিপক্ষে ম্যাচের আগে টঙ্গিতে নিজেদের শেষ অনুশীলন সাড়তে বিকেলে মাঠে যায় আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ। সবাই বুট পরে অনুশীলনে নামলেও দু’জন ফুটবলার বুট ছাড়াই খালি পায়ে অনুশীলনে নেমে পড়ে। পরে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান টাকার অভাবেই বুট কিনতে পারছে না। আগের যে বুট ছিল সেটা ছিড়ে গেছে, এজন্যই খালি পায়েই অনুশীলন করতে হচ্ছে। বুট না থাকায় এখনও লীগে মাঠে নামা হয়নি।

এ তো গেল দেশীয় ফুটবলারদের সমস্যার কথা। এবার একটু শোনা যাক বিদেশী চার ফুটবলারের দিন যাপনের গল্প। দুই ঘানাইয়ান সাদিক এডামস, ইব্রাহিম মোরোর সাথে অস্ট্রেলিয়ান ব্রেডি স্মিথ এবং নাইজেরিয়ার ক্রিস্টোফার জিজোবাকে দলে ভেড়ায় আরামবাগ।

এই চারজনের নামের পাশে বিদেশী উপাধী থাকলেও ক্লাব কর্তৃপক্ষ তাদের সাথে লোকাল ফুটবলারদের মতই ব্যবহার করেছে। দেশী ফুটবলাররা কোনও টাকা না পেলেও বিদেশি ফুটবলাররা ম্যাচের আগে কিছু কিছু করে টাকা হাতে পেয়েছেন। তবে চলতি লীগে যে ম্যাচের আগে টাকা পাননা সে ম্যাচে সেই ফুটবলারকে একাদশেও দেখা যায় না। সর্বশেষ উত্তর বারিধারার বিপক্ষে চার বিদেশীই মাঠে নেমেছিলেন কেননা ম্যাচের আগে চার জনকেই পাঁচ হাজার করে টাকা প্রদান করা হয়েছিল। এ ব্যাপারে জানতে চাওয়ার জন্য চার বিদেশি ফুটবলারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

আরও খেলার খবরঃ   রেফারির ম্যাচ পরিচালনা সন্তোষজনক না হলেই গুণতে হবে জরিমানা

খাবার থেকে আবাসন সমস্যার পর মাঠের পার্ফরমেন্সেও আরামবাগের বেহাল দশা। চলতি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে নয় ম্যাচের আটটিতেই হেরেছে আরামবাগ, শেষ ম্যাচে উত্তর বারিধারার বিপক্ষে ম্যাচে ড্র করে এক পয়েন্ট পেয়েছে ক্লাবটি। এই নয় ম্যাচে গোল হজম করেছে ৩২ টি এবং গোল করেছে মাত্র ৭ টি। বর্তমানে পয়েন্ট তালিকার একদম তলানীতে আছে দলটি।

এ ব্যাপারে এক ফুটবলার বলেন, “যে দলের ফুটবলাররা নিয়মিত খাবার পায় না, থাকার জায়গা পায় না তাদের থেকে মাঠে ভাল পার্ফরমেন্স হয়তো কেউ আশা করবে না।”

তবে এত কিছুর পরেও প্রশ্ন একটাই, আরামবাগের এই সমস্যার শেষ কবে?

 

রিপোর্টঃ মোঃ রানা শেখ।

সাম্প্রতিক খবর

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট / বাংলাদেশকে লজ্জা দেওয়া স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে ইতিহাস নামিবিয়ার
অ্যাথলেটিক্স / বঙ্গবন্ধু ৫ম আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকস এর উদ্বোধন
আন্তর্জাতিক ফুটবল / মিশরের জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছে সালাহ’র নাম!
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট / অসহায় নাসুম বলেই ফেললেন, ‘আমাদের দ্বারা হচ্ছে না’
বাংলাদেশ ফুটবল / ফুটবলেও হার দিয়ে বাছাইপর্ব শুরু বাংলাদেশের
বাংলাদেশ ক্রিকেট / ইংল্যান্ডের কাছে পাত্তাই পেলো না বাংলাদেশ
বাংলাদেশ ক্রিকেট / ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের জন্য বাংলাদেশের পুঁজি ১২৪
টপ ট্রেন্ডিং সাকিব আল হাসান/ তামিম ইকবাল/ মুশফিকুর রহিম/ বিরাট কোহলি/ বাবর আজম/ মেসি/ নেইমার/ রোনালদো/ ব্রাজিল/ আর্জেন্টিনা/ রিয়াল মাদ্রিদ/ বার্সেলোনা/ পিএসজি