ফিচার

অ্যান্টিগার কর্নওয়ালের অন্যরকম গল্প

নিউজ ডেস্ক

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, দুপুর ১১:২৯ সময়

[ processednjnnj ]
বিশাল বপু। শব্দটা শোনার পর এক সুশীল শ্রেনী হয়তো কট্টাক্ষ করে ভেংচি ভঙ্গিমায় কদাচিৎ হেসে উঠেছে। তবে শুরুতেই তাদের জন্য সমবেদনা। সব শুনে আপনার মুখে বিষণ্নতার কালো মেঘ ছায়া ফেলতেই পারে, মনটাও খানিকটা আফসোস করতেই পারে। কারণ, ইউনিভার্সিটি অব মিসৌরির একটি সমীক্ষা বলছে "মেয়েরা না-কি মোটা ছেলেতেই সাচ্ছন্দ্যবোধ করে। জীবন সঙ্গী হিসেবে তাদেরই বেশী পছন্দ করে।" অবশ্য মোটা হওয়া কতটা কষ্টের তা মোটা লোকটাই ভালো জানে। বঞ্চনা সইতে না পেরে একটা সময় তো অনেকের পৌঁছাতে হয় কঠিন সিদ্ধান্তে। প্রতিজ্ঞা করে আগামীকাল হতেই ডায়েটটা শুরু করে দিবে! গুগলের সার্চ ইঞ্জিনও সাক্ষী দেয় তার ‘মেদ কমার ১০১ উপায়’ নিয়ে। ফেসবুকে ফলো হয় ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের আসল-নকল সব পেইজ, গ্রুপগুলোতেও শুরু হয় অবাধ প্রবেশ। আর ইউটিউবে? তার কথা কি আর বলতে হয়! যাহোক ভদ্রলোকের খেলা ক্রিকেটও বিশ্বের অন্যান্য খেলার ন্যায় ফিটনেসের খেলা হলেও আবহমান কাল থেকে বহমান কালে সময়ে সময়ে ক্রিকেটের বাইশগজে আগমন ঘটেছে বিশাল বপুর অধিকারী অনেক ক্রিকেটারের। রিকি কাসচুলা, ইনজামামুল হক, কলিন মেলবান, ডোয়েন লেভেরক, ইউসুফ পাঠান, মোহাম্মদ শেহজাদ পরবর্তী স্থুল দেহের সর্বশেষ সংযোজন ক্রিকেটের বিস্ময় রাকিম কার্নওয়াল। ক্রিকেটের বিস্ময় উল্লেখ করার কারণ হলো, উপরে যাদের নাম বলেছি, বা যাদের নাম বাকী আছে তাদের সবাইকে ছাড়িয়ে ক্রিকেটের সর্বকালের সর্বোচ্চ ওজনধারী ক্রিকেটার রাকিম কার্নওয়াল। ১৪৫ কেজি ওজনে বিস্মিত না হয়ে উপায় আছে? আর যখন শুনবেন এই ওজন নিয়েই আভিজাত্যপূর্ণ রাজকীয় ফরম্যাট টেস্ট ক্রিকেটটা দিব্যি খেলে যাচ্ছে, তখন? ভালো কথা, উচ্চতাটাও কিন্তু তার পর্বতসম; ৬'৬"!! কর্নওয়ালের জন্ম অ্যান্টিগায়। এটি লিওয়ার্ড দ্বীপে অবস্থিত। এই দ্বীপ থেকেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে খেলেছিলেন স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস, কার্টলি অ্যামব্রোস, অ্যান্ডি রবার্টস, রিচি রিচার্ডসনের মতো কিংবদন্তি ক্রিকেটাররা। কর্নওয়াল তাদেরই একজন। তাইতো তিনিও হয়ে উঠেছেন পূর্বসূরীদের মতো অদম্য, দূর্দমনীয়। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ২০১৪ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক কর্নওয়ালের। তখন তার ওজন ছিল প্রায় ১৬০ কেজিরও বেশি! কর্নওয়াল আদতে একজন স্পিনার। ব্যাটিংটাও পারেন বাহুর শক্তিতে। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটের শুরু থেকে ২০১৯ সালের আগস্টে ভারতের বিপক্ষে জাতীয় দলের ক্যাপ মাথায় দেয়ার আগ পর্যন্ত মৌসুম প্রতি উইকেট পেয়েছেন অন্তত ৪০ টি করে। রানও ছিল ২ হাজারের বেশী। মূলত নজরে আসেন ২০১৭ সালের আঞ্চলিক সুপার৫০ টুর্নামেন্টে ২৫২ রান ও ১০ উইকেটের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে। তাতে সুযোগ মিলে এ দলে। এ দলের হয়ে শ্রীলংকা ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪২ উইকেট শিকার করে চলে আসেন জাতীয় দলে। জাতীয় দলের হয়েও নিজের বিশালতা বুঝাতে ভুল করেননি। মাত্র ৫ টেষ্টেই শিকার করেছেন ২৭ উইকেট। ম্যাচ প্রতি বল করেছেন প্রায় ৬০ ওভার। ১ বার পেয়েছেন ১০ উইকেট আর ২ বার ৫ উইকেট। ফিটনেস মানেই যে ছিপছিপে গড়ন হতে হবে, পাথরের মতো এই বিশ্বাসকে নাড়িয়ে দিয়েছেন কর্নওয়াল। বলা যায় ভুল প্রমাণ করেছেন। ওজন কমানো থেকে বরং মনযোগ দিয়েছেন মানসিকতায়। নিজেকে তৈরী করেছেন কঠোর পরিশ্রমে। লক্ষ্য দৃঢ় রেখে কঠিন পরিশ্রমে যে সফলতা আসে তার জ্বলমলে এক দৃষ্টান্ত এই রাকিম কর্নওয়াল। সম্প্রতি শেষ হওয়া বাংলাদেশ সিরিজের কথাই ভাবুন, স্পষ্টই দেখতে পারবেন আত্মনিবেদন। উইকেটের কথা বাদ দিন, শেষ ম্যাচে মিরাজের যেই ক্যাচটা নিয়েছেন তিনি তা চোখে অনেকদিন ভাসবে! ফিল্ডিংয়েও তাকে যথেষ্ট সাচ্ছন্দ্যময় লেগেছে। ডাইভ দিয়েছেন, ছোট্ট লাফও দিয়েছেন। ফিল্ডিংয়ে তার শারীরিক ভাষা আমাদের অধিকাংশ ক্রিকেটার থেকে ভালো ছিলো। ইতিহাসের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার ক্যালিসকে অনুসরণ করে, ক্রিকেটের বরপুত্র খ্যাত লারার বীরত্বকে অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়ে কর্নওয়াল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন কি-না বা তাদের মতোই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন কি-না সে প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে কেবল ভবিষ্যৎ। তবে কর্নওয়াল নিজেই এরই মধ্যে অনেকের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন। বুঝিয়ে দিয়েছেন, ক্রিকেটের সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার জন্য বাড়তি ওজনও বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।