বিজ্ঞাপন

অফিসিয়াল গ্রুপে যোগ দিন

বাংলাদেশের স্পোর্টসভিত্তিক শীর্ষ অনলাইন ম্যাগাজিন

টপ ট্রেন্ডিং সাকিব আল হাসান/ তামিম ইকবাল/ মুশফিকুর রহিম/ বিরাট কোহলি/ বাবর আজম/ মেসি/ নেইমার/ রোনালদো/ ব্রাজিল/ আর্জেন্টিনা/ রিয়াল মাদ্রিদ/ বার্সেলোনা/ পিএসজি

অবৈধ দখলে কমলাপুর স্টেডিয়াম

প্রকাশ: বুধবার, ৩ মার্চ, ২০২১ | ১০:৩৪:৩৯

মোঃ রানা শেখ

ছবিঃ ইন্টারনেট
ছবিঃ ইন্টারনেট

একসময় বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ মানেই ছিল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম, টানা বৃষ্টি বা কাদাযুক্ত মাঠ, যত কিছুই হোক না কেনো লীগের সব ম্যাচ ঢাকাতেই আয়োজন করতো ফুটবল ফেডারেশন। যদিও এই রীতি থেকে বের হয়ে গত কয়েক মৌসুম ধরে ঢাকার বাইরেও লীগ আয়োজন করছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। প্রিমিয়ার লীগ ছাড়া বিসিএল বা মেয়েদের ফুটবল থেক শুরু করে দ্বিতীয় বা তৃতীয় বিভাগ ফুটবল লীগ মানেই কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়াম। এছাড়া এই মাঠে মেয়েদের আন্তর্জাতিক ম্যাচও আয়োজন করা হয়। বর্তমানে এই একটি স্টেডিয়ামে বর্তমানে প্রতিদিন চার থেকে পাঁচটি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে কিন্তু ফুটবলার বা সাধারণ দর্শকদের জন্য এই মাঠ কতটা নিরাপদ সেটা একবারও হয়ত কর্তৃপক্ষ অনুসন্ধান করে দেখেনি।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধীনে থাকা স্টেডিয়ামটির সংস্কার কাজ অনেক দিন ধরেই চলছে যা এখনও শেষ হয়নি। স্টেডিয়ামের বিভিন্ন জায়গায় ইট, রড বা সিমেন্টের বস্তা স্তুপ করে রাখা হয়েছে। আবার ফুটবল ম্যাচ চলাকালীন সময়েও স্টেডিয়ামের সংস্কার কাজ অসতর্কভাবে চালানো হচ্ছে। যার ফলে ফুটবলার ও সাধারণ দর্শকেরা স্টেডিয়ামে চলাফেরার জন্য যথেষ্ট ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। কমলাপুর স্টেডিয়ামের এই বেহাল অবস্থা নিয়ে স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এখনও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

স্টেডিয়ামের প্রবেশ গেইয়ের সামনে অপরিচ্ছন্ন ও নোংরা অবস্থা হয়ে আছে।

তবে অবাক করার মত বিষয়, এই স্টেডিয়ামের সাধারণ দর্শকদের প্রবেশের কোন গেইট চালু রাখা হয়নি, ফুটবলাররা যে গেইট দিয়ে প্রবেশ করে দর্শকদেরও একই গেইট দিয়ে প্রবেশ করতে হচ্ছে। যার ফলে ফুটবলারদের নিরাপত্তার বিষয়েও কিছু প্রশ্ন চলে এসেছে। তবে কী কারণে সবাই একটি গেইট ব্যবহার করছে এর কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখা যায়, স্টেডিয়ামের বাঁকি প্রবেশ পথ গুলো দোকানদাররা বিভিন্ন ব্যবসায়ীক মাল-পত্র রেখে এক প্রকার গোডাউন হিসেবেই ব্যবহার করছে। ডলফিন ব্রান্ড নামক একটি অটো-রিক্সার দোকানের মালিক জানান, তারা কোন প্রকার টাকা প্রদান না করেই এসব প্রবেশ পথ ব্যবহার করছে।

স্টেডিয়ামের প্রবেশ গেইটের অবস্থা।

স্টেডিয়ামের দোকান-মালিক সমিতির ম্যানেজার জনাব কাজী পলাশের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দোকানদাররা এটা স্থায়ী ভাবে ব্যবহার করে না। কর্তৃপক্ষ যখন আমাদের নির্দেশ দেয় তখন দোকানদাররা প্রবেশ পথ আর ব্যবহার করে না। তিনি আরও জানান,

“এখানে সর্বমোট ২১৭ টি দোকান রয়েছে, অনেক দোকানদারই দীর্ঘ দিন ধরে এখানে ব্যবসা করছে। অধিকাংশ দোকানদারই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে ব্যাংকের মাধ্যমে মাসিক ভাড়া প্রদান করেন কিন্তু স্টেডিয়ামের প্রবেশ পথ ব্যবহারের জন্য কোনও টাকা প্রদান করে না।”

স্টেডিয়ামের পশ্চিম দিকেই অবস্থান জিমনেশিয়ামের, যেটা মূলত ফুটবলারদের জন্যই তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু ফুটবলাররা ছাড়াই এখানে সাধারণ মানুষও এসে শারীরিক চর্চা করেন। যদিও জিমনেশিয়ামের বাস্তব চিত্র মোটেও শারীরিক চর্চা করার মত অবস্থায় নেই। কেননা জিমনেশিয়ামের অধিকাংশ যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে আছে।

আরও খেলার খবরঃ   লীগ না করতে পারলে বাফুফের অংশ হিসেবে থাকবে না সেই জেলা - কাজী সালাউদ্দিন

এরপর বেরিয়ে আসে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য, জেমনেশিয়ামের পাশেই একটি পরিবারের বাসস্থান চিহ্নিত করা হয়। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উক্ত স্থানে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সচিবের গাড়ির ড্রাইভার তার পরিবার নিয়ে অস্থায়ীভাবে বসবাস করেন।

প্রবেশ গেইটে অটো রিক্সা রাখা হয়েছে।

বর্তমানে কমলাপুরের এই স্টেডিয়ামের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন জাহাঙ্গীর আলম। স্টেডিয়ামের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং অবৈধ দখল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান,

“স্টেডিয়াম ভবনের পশ্চিম অংশটি নিম্ন স্তরের সরকারী কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিবের গাড়ির ড্রাইভার বর্তমানে তার পরিবার নিয়ে সেখানে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন সেখানে ফুটবলারদের আবাসিক বাসস্থান করার চেষ্টা করছে।”

তিনি আরও বলেন,

“জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ অনেক দিন ধরে স্টেডিয়ামের সংস্কার কাজ করছে। স্টেডিয়ামের গেইট, অফিস রুম, টয়লেট থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিস গুলোর কাজ চলছে। যার ফলে স্টেডিয়াম নোংরা হয়ে যায় এবং এর বেশিরভাগ প্রবেশ গেইটে ফাঁকা জায়গায় নির্মাণ সামগ্রী রাখা হয়েছে। তবে আমি জানি না তারা (এনএসসি) এই কাজ কবে শেষ করবে। দোকানদাররা মাঝে মাঝে প্রবেশ পথ গুলো ব্যবহার করে যা স্থায়ী নয়। কিন্তু যখন আমাদের প্রয়োজন হয় তখন তারা এখান থেকে সব সরিয়ে নেয়, কিন্তু এই জায়গা ব্যবহারের ফলে তারা কোন টাকা প্রদান করেন না।”

বর্তমানে কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়াম জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধীনে রয়েছে। স্টেডিয়ামের দেখ-ভাল করার দায়িত্ব সবই ক্রীড়া পরিষদের। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সচিব জনাব মাসুদ করিমকে স্টেডিয়ামের এই নাজেহাল অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, এখনও স্টেডিয়ামের এই সমস্যা নিয়ে কেউ অভিযোগ করেনি।

তিনি আরও জানিয়েছেন,

“আমরা এই সমস্যাগুলো নিয়ে এখনও অভিযোগ পাইনি তাই এই বিষয়ে পরিস্কার ধারণা নেই। আমি যত টুকু জানি স্টেডিয়ামে পরিবার নিয়ে কারও থাকার অধিকার নেই। যদি স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ অস্থায়ীভাবে সরকারী কর্মচারীদের সেখানে থাকার অনুমতি দেয় তবেই থাকতে পারবে। এছাড়া স্টেডিয়ামের প্রবেশ পথের বিষয় নিয়েও আমরা কিছু জানিনা। দোকানদাররা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নিকট ভাড়া প্রদান করে। তবে তারা যদি প্রবেশ পথ ব্যবহার করে থাকে তবে স্থায়ী ভাবে তাদেরকে সেখান থেকে সরিয়ে দিবো।”

স্টেডিয়ামের সংস্কার কাজ নিয়ে ক্রীড়া পরিষদ সচিবকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান,

“এটা দীর্ঘ সময়ের কাজ, করোনার আগে শুরু হলে তা বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে আবার কাজ শুরু হয়েছে যার ফলে স্টেডিয়ামের বিভিন্ন জায়গা অপরিষ্কার হয়ে আছে। তবে আমরা চাই খুব দ্রুত কাজ শেষ করতে।”

দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবলের জন্য ব্যবহৃত স্টেডিয়ামের অবস্থা যদি এতটা নিম্নমানের হয় তবে দেশের ফুটবলে উন্নতি কিভাবে হবে?

আরও খেলার খবরঃ   আরামবাগের গোলকিপিং কোচের দায়িত্ব পেলেন খালেদ আহমেদ

সাম্প্রতিক খবর

বাংলাদেশ ফুটবল / ঢাকায় এসে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেই ফাইনালের কথা স্মরণ করলেন গ্রান্ট
ক্লাব ফুটবল / ২০২১-এর ক্লাব বিশ্বকাপ হবে আরব আমিরাতে
বাংলাদেশ ক্রিকেট / সুপার টুয়েলভে ওঠার মিশনে পিএনজির বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট / পাকিস্তান নয়, ইনজামামের চোখে বিশ্বকাপে ফেভারিট ভারত
বাংলাদেশ ফুটবল / লঙ্কা সফরে বাংলাদেশের কোচ পর্তুগালের মারিও লেমোস
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট / বাংলাদেশকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন পিএনজির
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট / আইরিশদের উড়িয়ে দিয়ে সুপার টুয়েলভে শ্রীলঙ্কা
টপ ট্রেন্ডিং সাকিব আল হাসান/ তামিম ইকবাল/ মুশফিকুর রহিম/ বিরাট কোহলি/ বাবর আজম/ মেসি/ নেইমার/ রোনালদো/ ব্রাজিল/ আর্জেন্টিনা/ রিয়াল মাদ্রিদ/ বার্সেলোনা/ পিএসজি