কিরগিজ ডিফেন্ডারের গোলেই জয় পেলো বাংলাদেশ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ মার্চ, ২০২১ | ২০:১৫:৩২

ডেস্ক রিপোর্ট

অভিষিক্ত হাবিবুর রহমান সোহাগ, বিপলু আহমেদ ও বিশ্বনাথ ঘোষ।

কিরগিজস্তান জাতীয় দলের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত চার বার লড়াই করেও জয়ের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। তবে কিরগিজস্তান মূল দলের বিপক্ষে জিততে না পারলেও কিরগিজস্তান অনূর্ধ্ব-২৩ দলের বিপক্ষে নেপালের দশরথ স্টেডিয়ামে স্বস্তির জয় পেল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

নেপালের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে বাংলাদেশ কোচ জেমি ডে এই টুর্নামেন্টকে প্রস্তুতি হিসেবে নিলেও ফুটবলাররা জয়ের লক্ষ্যেই নেপালে গিয়েছেন। মূলত কাতার বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের প্রস্তুতি হিসেবেই এই টুর্নামেন্টে অংশ নেয় বাংলাদেশ। যার ফলে আজকের ম্যাচে অভিষেক হয়েছে তিন ফুটবলারের। প্রথম বার জাতীয় দলে ডাক পেয়েই একাদশে জায়গা করে নিয়েছেন ডিফেন্ডার রিমন হোসেন, হাবিবুর রহমান সোহাগ ও ফরোয়ার্ড মেহেদি হাসান রোয়েল। গতকালই দলের সাথে যোগ দেওয়া জামাল ভূঁইয়া ছিলেন না শুরুর একাদশে।

ম্যাচের প্রথমার্ধে দাপট দেখালেও দ্বিতীয়ার্ধে ডিফেন্স সামলানোয় ব্যস্ত ছিল বাংলাদেশ। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গোল পরিশোধের জন্য মরিয়া হয়েছিল কিরগিজস্তান অনূর্ধ্ব-২৩ দল। তবে ভাগ্যের চাকা নিজেদের করে নিতে পারেনি। তবে এ দিন বাংলাদেশের মিডফিল্ডে নজর কেড়েছেন অভিজ্ঞ সোহেল রানা। যার ফলে হয়েছেন ম্যাচ সেরা।

ম্যাচের প্রথমার্ধের শুরুতে কিছুটা অগোছালো ছিল বিশ্বনাথ, সাদ উদ্দিনরা। তবে ম্যাচের সময় যত গড়িয়েছে নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় ছিল ফুটবলাররা। বিশ্বনাথের বার বার ভুল পাস সাথে সোহাগ ও রিমনের নিজেদের পজিশন নিয়ে সন্দিহান থাকায় সুযোগ পেয়েই বেশ কয়েকবার আক্রমণ চালায় কিরগিজস্তান অনূর্ধ্ব-২৩ দল।

ম্যাচের ২৭ মিনিটে কিরগিজস্তান দারুণ সুযোগ পেয়েছিল তবে ত্রাতা হয়ে দাড়ান আনিসুর রহমান জিকো। ডি-বক্সের মধ্য থেকে নেওয়া শট দুর্দান্ত ভাবে ফ্লিক করে বাইরে পাঠিয়ে দেন জিকো। তবে এর তিন মিনিট পরেই ম্যাচে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। কাউন্টার আক্রমণ থেকে মতিন মিয়ার বাড়ানো বল ডি-বক্সের ডান দিক থেকে সাদ উদ্দিনের ডান পায়ের ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই জড়ান ডিফেন্ডার কুমারবাজ। গোল হজমের মিনিট খানেক বাদেই ম্যাচে ফেরার সুযোগ পেয়েছিলো কিরগিজস্তান অনূর্ধ্ব-২৩ দল। তবে আবারো পরাস্ত হতে হয় গোলকিপার জিকোর কাছে। ফলে ১-০ তে এগিয়ে প্রথমার্ধ শেষ করে বাংলাদেশ।

প্রথমার্ধের বিরতি থেকে ফিরে ৫৫ মিনিটে তিন পরিবর্তন করে জেমি ডে। মাঠে নামেন জামাল ভূঁইয়া, রাকিব হোসেন ও রিয়াদুল রাফি।

৫৭ মিনিটে মতিন মিয়ার কাট ব্যাক গোলে পরিণত করতে পারেনি মিডফিল্ডার সোহেল রানা। তার ফার্স্ট টাচ একটু গতিতে হওয়ায় প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার ব্লক করে রক্ষা করেন। ইঞ্জুরির থেকে ফিরেই ইম্প্রেসিভ ছিলেন মতিন, বলের টাচ, ক্ষিপ্রতা সবই ছিল আগের মত।

তবে ম্যাচের ৭০ মিনিট থেকে একদম শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দুর্দান্ত ছিল কিরগিজস্তানের তরুণ এই দলটি। কিরগিজদের আক্রমণ সামলাতে ব্যতি ব্যস্ত থাকতে হয় বাংলার ডিফেন্ডারদের।

ম্যাচের ৯০ মিনিটের মাথায় কিরগিজস্তানের জাপারোভ আমিরের নেওয়ার ফ্রিকিক ডি-বক্সের জটলা থেকে দারুণ ভাবে ক্লিয়ার করেন রিয়াদুল রাফি। ৯৩ মিনিটে কাউন্টার আক্রমণে ডান দিক দিয়ে ফাকা পেয়ে বল নিয়ে এগিয়ে যায় কিরগিজস্তানের তাপায়েভ কিন্তু পিছন থেকে এসে দুর্দান্ত ভাবে রক্ষা করেন অভিষিক্ত রিমন হোসেন।

কিরগিজস্তান যে দুর্ভাগা কপাল নিয়েই আজ মাঠে নেমেছিলেন সেটা আরও একবার প্রমাণ করেন ম্যাচের একদম অন্তিম মুহূর্তে। শেষ বাঁশি বাজার আগে জাপারোভ আমিরের কর্ণার থেকে ফাঁকা জায়গায় পেয়েও হেডে বল জালে জড়াতে পারেনি কিরগিজস্তানের তাশিয়েভ।

যার ফলে কিরগিজস্তানের আত্মঘাতি এক গোলেই ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ জিতে ফাইনালে এক পা দিয়েই রাখলো বাংলাদেশ। আগামী ২৭শে মার্চ নেপালের বিপক্ষে মাঠে নামবে টাইগাররা।