গোল ‘সে যেন এক সোনার হরিণ’

প্রকাশ: সোমবার, ২৯ মার্চ, ২০২১ | ২২:২৮:৫৮

ডেস্ক রিপোর্ট

ফিনিশিং, ফিনিশিং আর ফিনিশিং। এই একটি জায়গায় বাংলাদেশ কবে উন্নতি করবে? আত কত দিন এই একটি জায়গায় আমরা আটকে থাকবে? কবে আমাদের ফরোয়ার্ডরা প্রতিপক্ষের ডি-বক্সের মাথা ব্যথা হবে? এই প্রশ্নের কোন উত্তর আমার-আপনার বা টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে আছে? হয়তো নেই আবার হয়তো আছে।

আরও একবার স্বপ্ন ভঙ্গ, দীর্ঘ ১৫ বছর পর দেশের বাইরে ফাইনালে উঠে ট্রফি জয়ের স্বপ্নে বুঁদ হয়ে থাকা ফুটবলাররা ফাইনালের মত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এসে বড্ড হতাশ করেছে দেশের ফুটবল প্রেমীদের। স্বাধীনতার এই সুবর্ণজয়ন্তীতে ট্রফি জয়ের সুবর্ণ সুযোগ হেলায় হারালো ফুটবলাররা।

রানার্সআপ ট্রফি নিচ্ছে জামাল ভূঁইয়া

এবার শিরোনামের দিকে ফেরা যাক। হ্যাঁ, বলছিলাম একটি গোল যেন সোনার হরিণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের ফুটবলারদের কাছে। পুরা টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোলের দেখা পেয়েছে বাংলাদেশ। আপনার-আমার মনে নিশ্চয় প্রশ্ন জেগেছে গোল না পাওয়ার আসল কারণটা কি?

অনেকেরই ধারণা জাতীয় দলে ফরোয়ার্ডদের গোল না পাওয়ার অন্যতম কারণ লিগে বিদেশীদের আধিপত্য ও ফিনিশিং সমস্যা।

লিগের অধিকাংশ দলেই গোল করার মূল কাজটা করে থাকেন বিদেশি ফুটবলাররা। একাদশে দেশি ফরোয়ার্ডরা থাকলেও তাদের রোলটা আসলে গোল বানানোর কাজে থাকে বেশি, গোল করায় নয়। ফলে নিজেদের ফিনিশিং নিয়ে খুব বেশি উন্নতি করার সুযোগ পায় না দেশি ফরোয়ার্ডরা।

এবারের লিগে দেশিদের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন উত্তর বারিধারার সুমন রেজা। কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে শেষ দুই ম্যাচে মাঠে নেমেও গোল শূন্য এই স্ট্রাইকার। এদিকে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের হয়ে দুর্দান্ত সময় কাটানো মোহাম্মদ আব্দুল্লাহও জাতীয় দলের জার্সিতে ছিলেন নিষ্প্রভ।

এক গোল পরিশোধের পর তাড়াহুড়ো করছে ফুটবলাররা।

বসুন্ধরা কিংসের ফরোয়ার্ড মতিন মিয়া ও মাহাবুবুর রহমান সুফিল। ক্লাবের জার্সিতে চলমান মৌসুমে বিদেশিদের ভিড়ে সেভাবে নজর কাড়তে পারেনি এই দুই ফুটবলার। তবে সবার প্রত্যাশা ছিল অন্তত জাতীয় দলের জার্সিতে নিজেদের সেরাটা দিবেন তারা। কিন্তু আবারো হতাশ হতে হলো। যদিও ফাইনালে দুই শূন্য গোলে পিছিয়ে থাকার পর সাব হিসেবে নেমে এক গোল পরিশোধ করেন সুফিল। কিন্তু টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে মতিন মিয়ার পার্ফরমেন্স উজ্জ্বল থাকলেও ফাইনালে ৮২ মিনিট মাঠে থেকেও গোল করতে পারেননি, পারেননি কোন গোলের সুযোগ তৈরি করতে।

মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া সংঘের হয়ে লিগে তিন গোল করা মেহেদি হাসান রয়েল প্রথম বারের মত জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েই এই টুর্নামেন্টের তিন ম্যাচেই মাঠে নেমেছেন এই ফরোয়ার্ড। কিন্তু তিনিও হতাশ করেছেন। কাজের কাজ কিছুই করতে পারেননি। বাঁকি সব ফরোয়ার্ডদের মত তিনিও গোল শূন্যই থেকেছেন।

এই টুর্নামেন্টে শক্তির বিচারে নেপাল ও বাংলাদেশ সমানে সমান থাকলে কিরগিজস্তান অনূর্ধ্ব-২৩ দলের শক্তিমত্তার দিক থেকে অন্তত বাংলাদেশ এগিয়ে ছিল। দুর্ভাগ্য বশত ফুটবলাররা এই কিরগিজস্তানের বিপক্ষেও গোল করতে পারেনি।

তাই পরিশেষে বলাই যাই, বাংলাদেশের ফুটবলারদের জন্য ‘গোল সে যেন এক সোনার হরিণ’।