ফোনেও সাড়া না পেয়ে এবার পাপনকে চিঠি দিলো কাজী সালাউদ্দিন

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ মার্চ, ২০২১ | ২১:৪৮:৪৯

ডেস্ক রিপোর্ট

ছবিঃ ইন্টারনেট

ঢাকার গুলিস্তানে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম এবং কমলাপুরে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোঃ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়, যেটা অনেক পুরোনো সমস্যা। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) অনেকদিন ধরেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নিজস্ব ফুটবল স্টেডিয়াম তৈরির লক্ষ্যে (কক্সবাজার এবং পূর্বাচলে) ইতোমধ্যেই পরিকল্পনা প্রণয়নও করে ফেলেছে দেশীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থটি। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হতে তো প্রচুর দেরি। তার আগে তো বিকল্প কিছু ব্যবস্থা করতে হবে। সেই লক্ষ্যেই কাজও শুরু করে দিয়েছে তারা।

বিপিএল ফুটবল লীগের খেলা আয়োজনের জন্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বরাবর আবেদন করে এই মৌসুমে বাফুফে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়াম এবং মুন্সীগঞ্জের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়াম দুটি পেয়েছে বাফুফে। কিন্তু লীগের বেশিরভাগ দলই তাদের হোম ভেন্যু করেছে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামকে। এদিকে চ্যাম্পিয়নশিপ লীগের সব খেলাই হচ্ছে কমলাপুরে। এখানে আবার প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগ লীগেরও খেলা হচ্ছে। ফলে ঢাকা ও কমলাপুর স্টেডিয়ামের ওপর চাপ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য বাফুফে এখন চাইছে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় অবস্থিত খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামটি ফুটবলের কাজে ব্যবহার করতে। যেটা এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অধীনে আছে। তবে পানি নিষ্কাষণে সমস্যায় জর্জরিত এই স্টেডিয়ামে ২০১৮ সালের পর থেকে কোন ক্রিকেট ম্যাচ হয়নি।

গত ১৮ই ফেব্ররুয়ারি ফতুল্লার মাঠ চেয়ে বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান পাপনকে ফোন দেন বাফুফে বস কাজী সালাউদ্দিন কিন্তু এখনও কোনও জবাব না পাওয়ায় আজ আবার চিঠি পাঠালেন। আজ সন্ধ্যায় বিসিবির নিকট বাফুফের চিঠি পৌছানোর কথা। চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, “বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের প্রথম লেগ শেষ হয়ে এখন দলবদল চলছে। আগামী ২৭ মার্চ থেকে নারী ফুটবল লীগ শুরু হবে। এছাড়াও বর্তমানে চ্যাম্পিয়নস শীপ ও তৃতীয় বিভাগ লীগ চলমান রয়েছে। এসব লীগ প্রায় একই সময়ে হওয়ায় বাফুফের আরো কয়েকটি মাঠ দরকার। এ কারণেই ৩-৪ মাসের জন্য ফতুল্লার খান সাহেব ওসমানী স্টেডিয়ামটি চায় বাফুফে। যে কয়মাস বাফুফে এই মাঠ ব্যবহার করবে সে সময় মাঠের যাবতীয় দায়িত্ব বাফুফের। যার ফলে বাফুফে নিজের অর্থায়ন ও উদ্যোগেই মাঠের প্রয়োজনীয় সংস্কার করবে।”

২৫ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন এই স্টেডিয়ামে শেষ ম্যাচ হয়েছে ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টির বাছাইপর্বের সংযুক্ত আরব আমিরাত ও হংকংয়ের মধ্যে। এছাড়াও দুটি করে টেস্ট ও ওয়ানডে ম্যাচ হয়েছে। প্রথম টেস্ট হয়েছিল ২০০৬ সালে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে এবং শেষ টেস্ট হয়েছে ৬ বছর আগে ২০১৫ সালে। একই বছর জুনে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে টেস্ট ম্যাচ হয়েছিল ফতুল্লার এই স্টেডিয়ামে।