অচেনা শাহবাজে অবিশ্বাস্য জয় ব্যাঙ্গালোরের

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২১ | ০৪:৩৬:০৫

ডেস্ক রিপোর্ট

অচেনা শাহবাজে অবিশ্বাস্য জয় ব্যাঙ্গালোরের ছবি - টুইটার

মন্থর উইকেটেও দারুণ ব্যাটিংয়ে জয়ের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছিলো সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ, যে উইকেটে খাবি খেয়েছে কোহলি-এবি ডি ভিলিয়ার্সরা। সেই উইকেটেই দারুণ ব্যাট করেছেন ডেভিড ওয়ার্নার, মানিশ পান্ডেরা, তবে ১ ওভারেই দৃশ্যপট পাল্টে দিয়েছে অচেনা শাহবাজ আহমেদ।

১৬ ওভার শেষেও জয়ী দলের নাম হায়দ্রাবাদই মনে হচ্ছিলো, শেষ ৪ ওভারে জয়ের জন্য ৩৩ রান দরকার ছিল দলটির। ব্যাট করছিলেন মানিশ পান্ডে ও জনি বেয়ারস্টো, বোলিংয়ে আসেন শাহবাজ আহমেদ। অনেকেই তার প্লেয়িং রোলটাও ঠিকঠাক ভাবে জানতেন না, সেই অচেনা শাহবাজই। ইনিংসের ১৭ তম ওভারে তুলে নেন দুই সেট ব্যাটসম্যান পান্ডে, বেয়ারস্টোর পাশাপাশি আব্দুল সামাদের উইকেটও।

সেই ধাক্কা কাটিয়ে রশিদ খানের ছোট্ট ঝড়েও আর জয়ের তরি ভেড়ানো হয়নি হায়দ্রাবাদের, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর ম্যাচটি জিতে নেয় ৬ রানে। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে হার মেনে মাঠ ছাড়ে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ, টানা দ্বিতীয় ম্যাচে জিতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে আসে ব্যাঙ্গালোর।

১৫০ রানের লক্ষ্য, সাধারণ চোখে সহজ মনে হলেও উইকেটের চরিত্রের কারণে সেটাকেই চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহই ধরা হচ্ছিলো। সেটা প্রমাণ মেলে ঋদ্ধিমান সাহা ও ডেভিড ওয়ার্নারের উদ্বোধনী জুটিতে, মোহাম্মদ সিরাজের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৯ বলে ১ রান করে আউট হন সাহা। তবে মানিশ পান্ডেকে নিয়ে শুরুর চাপ কাটিয়ে দলকে জয়ের দিকে নেন অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার।

দ্বিতীয় উইকেটে যোগ করেন ৮৩ রান, তবে ৫৪ রানে ওয়ার্নারের আউটেই বিপত্তির শুরু। যে জয়টাকে সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছিলো সেটাকেই হারে রূপান্তর করেন শাহবাজ আহমেদ, ১৭ তম ওভারের প্রথম বলে জনি বেয়ারস্টো, দ্বিতীয় বলে ৩৮ রান করা মানিশ পান্ডে ও শেষ বলে আব্দুল সামাদকে আউট করে ব্যাঙ্গালোরকে জয় উপহার দেন শাহবাজ।

শেষ দিকে ব্যাট হাতে ব্যর্থ বিজয় শঙ্কর, জেসন হোল্ডাররা, তবে চেষ্টা করেছিলেন রশিদ খান; কিন্তু সেই চেষ্টাও সফল হয়নি ১৭ রান করে রশিদ রান আউটে কাটা পড়লে। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর ৬ রানের রোমাঞ্চকর এক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে, শাহবাজ ৭ রান খরচায় নেন ৩ উইকেট; ২টি করে উইকেট পেয়েছেন হার্শাল প্যাটেল ও মোহাম্মদ সিরাজ।

এর আগে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ১১ রান করে আউট হন করোনা বিজয়ী দেবদূত প্যাডিকাল, শাহবাজ আহমেদের ইনিংস বেশিদূর এগোয়নি। দলের হাল ধরেন অধিনায়ক ভিরাট কোহলি ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, তবে ধীর গতির ব্যাটিংয়ের কারণে চাপে পড়ে যায় ব্যাঙ্গালোর। ১১তম ওভারে ২ ছক্কা ১ চারে ২২ রান তুলে দলকে চাপ মুক্ত করেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, তবে এরপর আবারও চাপে তারা।

ভিরাট কোহলির ৩৩ রানের পর ব্যাট হাতে ব্যর্থ এবি ডি ভিলিয়ার্সরা, তবে ২০১৬ সালের পর প্রথম ফিফটিতে দলকে ১৪৯ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ এনে দেন ম্যাক্সওয়েল। ইনিংসের শেষ বলে আউট হওয়ার আগে ৪১ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৫৯ রান করেন ম্যাক্সওয়েল, ৪ ওভারে ১৮ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন রশিদ খান; ৩০ রান দিয়ে ৩ উইকেট পেয়েছেন জেসন হোল্ডার।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর ১৪৯/৮ (গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ৫৯, কোহলি ৩৩, ভিরাট কোহলি ৩৩, শাহবাজ আহমেদ ১৪, জেসন হোল্ডার ৩/৩০, রশিদ খান ২/১৮)।

সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ ১৪৩/৯ (ডেভিড ওয়ার্নার ৫৪, মানিশ পান্ডে ৩৮, রশিদ খান ১৭, শাহবাজ আহমেদ ৩/৭, মোহাম্মদ সিরাজ ২/২৫, হার্শাল প্যাটেল ২/২৫)।