বিজ্ঞাপন

অফিসিয়াল গ্রুপে যোগ দিন

বাংলাদেশের স্পোর্টসভিত্তিক শীর্ষ অনলাইন ম্যাগাজিন

টপ ট্রেন্ডিং সাকিব আল হাসান/ তামিম ইকবাল/ মুশফিকুর রহিম/ বিরাট কোহলি/ বাবর আজম/ মেসি/ নেইমার/ রোনালদো/ ব্রাজিল/ আর্জেন্টিনা/ রিয়াল মাদ্রিদ/ বার্সেলোনা/ পিএসজি

এএফসি কাপ এবং কিংস ম্যানেজমেন্টের ভাবনা

প্রকাশ: বুধবার, ২১ এপ্রিল, ২০২১ | ১৬:৩৪:৪৭

মোঃ রানা শেখ

এএফসি কাপ এবং কিংস ম্যানেজমেন্টের ভাবনা
ছবিঃ ডেইলিস্পোর্টসবিডি
এএফসি কাপ এবং কিংস ম্যানেজমেন্টের ভাবনা ছবিঃ ডেইলিস্পোর্টসবিডি

২০১৭ সালে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নসশীপ জয় করে প্রথম বারের মত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ফুটবলে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে বসুন্ধরা কিংস। ২০১৮-১৯ মৌসুমে প্রথমবারের মত প্রিমিয়ার লিগে এসেই বাজিমাত কিংসের। পুরো লিগে মাত্র একটি ম্যাচ হেরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে, সেই সাথে নিশ্চিত হয় প্রথম বারের মত এএফসি কাপের গ্রুপ পর্বে অংশ নেওয়ার।

 

২০২০, এএফসি কাপ

নিজেদের ক্লাব ইতিহাসে এএফসি কাপের প্রথম ম্যাচেই বড় জয় তুলে নেয় কিংস। মালদ্বীপের টিসি স্পোর্টস কে ৫-১ গোলে হারিয়ে শক্তিমত্তার জানান দেয় বসুন্ধরা কিংস। সে ম্যাচে আর্জেন্টাইন হার্নান বার্কোস একাই করেছিলেন চার গোল। কিন্তু সারা বিশ্বে কোভিড-১৯ এর কারণে সেবার এই একটি ম্যাচেই থমকে যায় কিংসের এএফসির স্বপ্ন। এরপর জিতেছে ফেডারেশন কাপ, চলমান লিগেও আছে পয়েন্ট তালিকা শীর্ষে।

এমন অবস্থায় দ্বিতীয় বারের মত এএফসি কাপে অংশ নিতে যাচ্ছে বসুন্ধরা কিংস। সময়ে বদলেছে, বদলেছে কিংসের স্কোয়াড। সময় এসেছে আরও একবার নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দেওয়ার। প্রস্তুতিও চলছে জোরে সোরে। কেননা কিংসের লক্ষ্য এএফসি কাপ থেকে বাংলাদেশের সুনাম বয়ে আনা।

মাঠ বা মাঠের বাইরে, প্রতিটা ক্ষেত্রেই সফলতার দারুণ ছোয়া পাচ্ছে বসুন্ধরা কিংস। পর্দার পেছনের এই সফলতার অন্যতম এক সদস্য হলেন বসুন্ধরা কিংসের মার্কেটিং এবং মিডিয়া ম্যানেজার আহমেদ শায়েক। যার ফুটবল জ্ঞান ও মেধা কাজে লাগিয়েই দারুণ ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বসুন্ধরা কিংস। সেই আহমেদ শায়েকের মুখোমুখি হয়েছিল ডেইলিস্পোর্টসবিডি। এবারের এএফসি কাপ ও বসুন্ধরা কিংসের ভাবনা নিয়ে ডেইলিস্পোর্টসবিডির সাথে কথা বলেছেন তিনি।

পুরো সাক্ষাৎকার নিয়েছে মোঃ রানা শেখ। চলুন চোখ বুলিয়ে আসা যাক পুরো সাক্ষাতকারেঃ

প্রশ্নঃ এএফসি কাপের আর খুব বেশি সময় নেই। যেহেতু আপনি বসুন্ধরা কিংসের মার্কেটিং ও মিডিয়া ম্যানেজার সেহেতু কিংসের এএফসি প্রস্তুতি সম্পর্কে জেনেই আলোচনা আগাতে চাই।

আহমেদ শায়েকঃ
ধন্যবাদ। এএফসি কাপ প্রস্তুতি নিয়ে সামগ্রিকভাবে যদি বলতে হয় তাহলে শুরু করতে হবে গত বছরের জুলাই থেকে কারণ ক্লাব লাইসেন্সিং এর মাধ্যমে আসল প্রস্তুতি তখন থেকে শুরু হয়। এবার যেহেতু সেন্ট্রাল ভেন্যুতে খেলা তাই তেমন কোন বড় দ্বায়িত্ব নেই। আর ম্যানেজমেন্ট এর সাইডের দ্বায়িত্ব আসলে দল যাতে নির্বিঘ্নে এবং কোন বাইরের চিন্তা ছাড়াই মাঠে খেলতে পারে। আমরা এখন প্রস্তুত, এখন শুধু রওনা দেবার পালা মালদ্বীপের উদ্দেশ্যে।

প্রশ্নঃ এএফসি কাপের সফর নিয়ে যদি কিছু বলেন।

আহমেদ শায়েকঃ
প্রথমে পরিকল্পনা ছিল ৫ তারিখে যাওয়ার কিন্তু অনুশীলনের জন্য মালদ্বীপ ফুটবল ফেডারেশন খেলা শুরুর দুই দিন আগে ছাড়া অনুশীলন মাঠ দিতে পারবে না তাই শেষ পর্যন্ত ১১ তারিখ রওনা দিব আমরা। ঐ দিন পৌছেই করোনা টেস্ট করানো হবে এবং পরের দিন বিকালে ইনশাআল্লাহ প্রথম অনুশীলনে নেমে যাবো আমরা। খেলা শেষে ২১ তারিখে আবার ঢাকা ফেরত আসব ইনশাআল্লাহ। ফুটবলার, অফিশিয়াল ও স্টাফ মিলিয়ে প্রায় ৪০-৫০ জনের একটি দল যাবে মালদ্বীপে।

প্রশ্নঃ গ্রুপ ‘ডি’ তে খেলবে বসুন্ধরা কিংস, যেখানে কিংসের প্রতিপক্ষ মালদ্বীপ চ্যাম্পিয়ন মাজিয়া স্পোর্টস, ভারতের এটিকে মোহন বাগান এবং একটি দল আসবে প্লে-অফ থেকে। আপনার চোখে বা বিশ্লেষণে গ্রুপ ‘ডি’ এর লড়াই কেমন হবে সেটা এক নজরে জানতে চাই?

আহমেদ শায়েকঃ
এবারের এফসি কাপের ফিক্সচার আগের যেকোনও আসর থেকে একটু অন্য মাত্রায় গুরুত্ব বহন করে। কারণ হচ্ছে এবারের ফরম্যাটে গ্রুপ পর্ব দুই লেগের না হয়ে এক লেগে হবে যার ফলে মাত্র একটি করে ম্যাচ পাবো আমরা। এতে ভুল করার সুযোগ খুবই কম এবং সব দলই হচ্ছে তার দেশের টপ দল গুলোর মধ্যে একটি। প্রতিটা ম্যাচই অনেক প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ হবে। বাকি দল নিয়ে কোন মন্তব্য করতে চাই না তবে আমাদের বিশ্বাস যে আমরা ইনশাআল্লাহ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবো।

অনুশীলনে দলের নতুন সাইনিং এলিটা কিংসলে। ছবিঃ বসুন্ধরা কিংস

প্রশ্নঃ মাঠের লড়াইটা না হয় ফুটবলাররা করবে কিন্তু মাঠের বাইরের লড়াই নামক একটা ব্যাপার থাকে। সেই লড়াইয়ে বসুন্ধরা কিংসের ম্যানেজমেন্ট কতটা প্রস্তুতি সেরেছে?

আহমেদ শায়েকঃ
খুবই ভাল প্রশ্ন এবং এই টপিক গুলো আসলে অনেক অজানা থাকে ফুটবল ফ্যানদের কাছে। আজকে যেহেতু সুযোগ হয়েছে সেহেতু একটু বলি, বসুন্ধরার কাছে এএফসি কাপের গুরুত্ব অনেক বেশি এবং এজন্য আমাদের কাজের ব্যাপ্তিও অনেক বড়। ইন্টারন্যাশনাল টুর্নামেন্টে ভাল করতে দরকার একটা বেশ ভাল স্কোয়াড এবং একই সাথে একটা শক্তিশালী বেঞ্চ। যাতে যেকোনও মূহুর্তেই প্লেয়ার চেঞ্জিংয়ে নেমে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। আমাদের বর্তমান স্কোয়াড সে আলোকেই গড়া। যেটা আসলে করা হয়েছিল ২০২০ সালের এএফসি কাপকে মাথায় রেখে। এই স্কোয়াডটা অনেক রিসার্চ করে বানানো।

সাধারণত বাংলাদেশে বিদেশি ফুটবলার সাইন করার পর তাকে ঘিরে দল তৈরী করা হয়। কিন্তু আমাদের প্ল্যান ছিল ভিন্ন, প্রথমে আমরা চেয়েছি বাংলাদেশের সেরা ফুটবলারদের দিয়ে স্কোয়াড বানাতে। এরপর সেটাকে ভিত্তি করে দলটাকে ব্যালেন্স করতে বা যা ঘাটতি আছে সেটা পূরণ করেছি বিদেশিদের দিয়ে। এজন্য দলটা অনেক ব্যালেন্সড এবং যেকোনও ম্যাচেই খেলা ঘুরাতে সক্ষম এই দলটা। অনেকের অনেক আক্ষেপ আছে যে হার্নান বার্কোসের মত প্লেয়ারকে মিস করছি বা নতুন সাইনিং রাউল বেচাররা মূলত বার্কোসের মত হয়নি। কিন্তু আপনি দেখবেন রাউল কন্সট্যান্ট এবং বিগ ম্যাচ স্কোরার। এটা ভুললে চলবে না যে প্রথম লেগে ১১টি গোল করাও কিন্তু কম কথা না।

একটা ‘ভাল দল’ কোচিং প্যানেলকে বুঝিয়ে দেওয়াটাই ম্যানেজমেন্টের অনেক বড় দায়িত্ব এবং আমরা সেটা করতে পারায় স্যাটিস্ফাইড। কারণ রবসন এবং ফারনান্দেস এর মত প্লেয়ার সাইন করাটা যে কতটা কঠিন কাজ সেটা বলে বোঝানো যাবে না। টাকা থাকলেও এসব প্লেয়ার ওয়ার্ল্ড ফুটবলে সাইন করা যায় না। ওদের ট্রান্সফার এর গল্প বলতে গেলে প্রায় দুইটা ইন্টারভিউ লাগবে, পুরা ইউরোপিয়ান স্টাইলে ওদের সাইনিং হয়েছে। এই কাজ গুলোই মনে করেন মাঠের বাইরের লড়াই, যেটায় আমরা জিততে সক্ষম হয়েছি। বাকিটা এখন মাঠের খেলায় দেখাতে হবে আমাদেরকে।

প্রশ্নঃ এএফসি ক্লাব লাইসেন্স নিয়ে একটু খোলাসা করে যদি বলতেন।

আহমেদ শায়েকঃ
সহজ ভাবে বলি, এই ক্লাব লাইসেন্সিং আসলে ফিফার তৈরী। তারা একটা গাইডলাইন দিয়ে দিয়েছে এবং এএফসি সেটা ফলো করছে। ২০১৮ সালে প্রথমবার এটা করতে গিয়ে আমরা অনেক কঠিন সময় পার করেছি কারণ অনেক কিছুই তখন আমরা বুঝতাম না। কিন্তু এরপরও আমরা দিন-রাত খেটে এটা সম্পন্ন করেছিলাম কারণ ইমরুল স্যার এর নির্দেশ ছিল যাই হোক না কেন এএফসির নিয়ম নিয়ে যাতে আমরা কোন কম্প্রোমাইজ না করি। এটা সম্পন্ন করতে প্রায় ৭০টির ও বেশি কাগজ দেয়া লাগে। কিন্তু ভাল দিক হচ্ছে এটা করতে পারলে অটোমেটিক আপনার ক্লাব দাড়িয়ে যাবে অবকাঠামোর দিক দিয়ে।

প্রথম বারেই আমরা কোনও প্রকার শোকজ ছাড়াই লাইসেন্সিং এ পাশ করি এবং এতেই আমাদের কনফিডেন্স চলে আসে। ইনশাআল্লাহ প্রত্যেক বছর আমরা এটা সম্পন্ন করবো। কিংসের প্রফেশনালিজম এর অনেক বড় কারণ হচ্ছে এই লাইসেন্স এর প্রতি সিরিয়াসনেস। ঘরোয়া ফুটবলেও চালু হয়েছে লাইসেন্স এর কাজ যা খুবই প্রশংশনীয়। ক্লাব গুলোকে একটু সিরিয়াস হতে হবে তাহলে ফুটবলটা সুন্দর করে আগাবে।

প্রশ্নঃ অধিকাংশ এএফসি কাপের আসরেই দেখা যায় অন্যান্য দেশের (ভারত,মালদ্বীপ) ক্লাব গুলো থেকে বাংলাদেশের ক্লাব গুলো শক্তি-সামর্থ্যে বা অন্যান্য বিষয়ে অনেকটাই পিছিয়ে থাকে। ফলে এএফসিতে ভাল ফলাফল করতে পারে না। এএফসিতে ভাল করতে হলে কিভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে এবং ক্লাব গুলোকে কোন কোন বিষয়ে নজরদারি বাড়াতে হবে?

আহমেদ শায়েকঃ
আপনি যখন ইন্টারন্যাশনাল কোন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করবেন তখন আপনার এপ্রোচ থাকতে হবে পুরাদস্তুর প্রফেশনাল এবং সিরিয়াস। আমার ব্যক্তিগত মতামত, এই প্রফেশনালিজম এবং সিরিয়াসনেস এর জায়গায় বাকি দলের ঘাটতি আছে বাংলাদেশে। সত্যি বলতে বাংলাদেশের ফুটবল আসলেই একসময় অনেক এগিয়েছিল কিন্তু ১৯৯০ সালের পরে ফুটবলের যেই মর্ডান চেঞ্জ, সেটাকে বাংলাদেশ গ্রহণ করে নাই যার জন্য ক্লাবগুলো এখনও সেই ১৯৮০ তেই আটকে আছে। আমার মতে প্রথম স্টেপে সবাইকে পুরাদস্তুর প্রফেশনাল হতে হবে এবং এটার স্টার্টিং পয়েন্ট হচ্ছে ক্লাব লাইসেন্সিং। যত প্রফেশনাল হওয়ার চেষ্টা থাকবে, সাফল্য দেশে এবং বিদেশে তত দ্রুত আসবে।

২০২০ এএফসি কাপে টিসি স্পোর্টসকে বিধ্বস্ত করার পর উদযাপনে কিংস ফুটবলাররা। ছবিঃ বসুন্ধরা কিংস

প্রশ্নঃ প্রতিটা ক্লাবকেই এএফসি বা ফিফার কিছু নিয়মনীতি রক্ষা করতে হয়। আমাদের দেশের ক্লাব গুলো এসব নিয়ম নীতি সম্পর্কে কতটা অবগত থাকে?

আহমেদ শায়েকঃ
একেবারেই অবগত নয়। এটা সত্য যে অনেক নিয়মকানুন আছে এবং সব জানা সম্ভব নাও হতে পারে। কিন্তু জানার চেষ্টা বা ইচ্ছাটাও অনেক কম। ওইযে বললাম ১৯৯০ সালে যে চেঞ্জটা এসেছে ফুটবলে, এই চেঞ্জটা মূলত নিয়মকানুন নিয়েই। বাকি সব দেশ নিয়ম মেনে এগিয়ে গিয়েছে, আমরা না মানার কারণেই পিছিয়ে আছি।

উদাহরন হিসাবে বলি, ফিফা – ক্লাব এবং জাতীয় দলের মধ্যে সমস্যা যাতে সৃ্ষ্টি না হয় এজন্য ২০২৪ সাল পর্যন্ত ক্যালেন্ডার বেধে দিয়েছে যেখানে ১০ দিনের জন্য প্লেয়ার ছাড়তে হয় নির্দিষ্ট কিছু সময়ে। পৃথিবীর সকল দেশেই এটা মেনে চলে যাতে লিগ সঠিক সময়ে শুরু এবং শেষ হয়। বাংলাদেশে এই নিয়ম না মেনেই ১০-১৫ দিন আগে লিগ বন্ধ করে জাতীয় দলের অনুশীলন শুরু করে, যেটা খুবই অদ্ভুত। এতে ক্লাবগুলো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু নিয়ম না জানার জন্য কেও প্রটেস্টও করতো না।
২০১৮ সালে তো বাফুফে চিঠিও দিত না যে আমাদের কোন প্লেয়ারকে তারা সিলেক্ট করেছে। কয়েকবার কড়া চিঠি লেখাতে এখন তাও একটা চিঠি পাই আরকি। সেখানে বখতিয়ারকে নেয়ার জন্য তার দেশের জেনারেল সেক্রেটারি ৩০দিন আগে থেকে চিঠি লিখে আমাদের পুরা প্ল্যান জানাতো। বাফুফের দোষ আসলে নাই, ক্লাবগুলো যদি তাদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার না হয় তাহলে বাফুফে কেন এত চিন্তা করবে?

প্রশ্নঃ বাংলাদেশ ভুটান ট্রাজেডিতে পড়লো, সাফে সফলতার মুখ দেখে না, এমনকি বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপেও আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে পারি না। ফলে অনেকেই বাংলাদেশ ফুটবলের উন্নতি না হওয়ার পেছনে ফুটবল ‘অবকাঠামো’কে দোষারোপ করে। যেখানে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ‘ভারত’ ফুটবলে অনেক এগিয়ে গেছে, এখন নেপাল,মালদ্বীপ এগিয়ে যাচ্ছে। তবে বাংলাদেশ কেনো এখনো পিছিয়ে রয়েছে? অবকাঠামো দিক থেকে আমরা কতটা পিছিয়ে আছি বলে মনে করেন?

আহমেদ শায়েকঃ
বেশ পিছিয়ে আছি। তবে দোষটা আমাদের সবার। তবে খুব দ্রুত ২-৩ সিজনেই বদলে ফেলা সম্ভব। বাফুফে যদি ক্যালেন্ডার কোনওভাবেই বদল না করে, সুন্দর নিয়মে পেমেন্ট করে এবং ক্লাবগুলো যদি নিয়ম মেনে চলে তাহলে খুব শীঘ্রই সম্ভব। কারণ আমাদের ফুটবলের লিগের প্রতিদ্বন্দ্বীতার মান কিন্তু ভাল, শুধু ম্যানেজমেন্ট এবং নিয়ম মাফিক না হওয়ার কারণে পিছিয়ে যাচ্ছি। তবে একটা জিনিস সাথে যোগ করতে চাই, বাফুফের একটা প্রসংশা করতেই হয় যে তারা লিগ সিস্টেম বজায় রেখেছে। মনে রাখবেন, ফ্র্যাঞ্চাইজি লীগ কখনই দীর্ঘ মেয়াদি সুফল বয়ে আনবে না। তবে এই লিগ সিস্টেমে যত কর্পোরেট ইনভলমেন্ট হবে ততই ভাল।

প্রশ্নঃ যেহেতু এএফসি নিয়ে আলোচনা করছি সেহেতু আবাহনীর দিকে তাকানো যাক। প্রাক-প্রাথমিকের প্রথম ম্যাচ খেলবে ঈগলসের বিপক্ষে। ঈগলসকে হারাতে পারলে লড়তে হবে ভারতের ব্যাঙ্গালুরু এফসির বিপক্ষে। আবাহনীর বর্তমান ফর্ম বিবেচনায় গ্রুপ পর্বে উঠার কত টুকু সম্ভাবনা দেখছেন?

আহমেদ শায়েকঃ
আসলে রাইভাল দল নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না। তবে চাই যে তারা গ্রুপ পর্বে উঠুক। তারা উঠলে আমাদের ম্যাচ জিততে খুব একটা কষ্ট করতে হবে না।

উয়েফা সার্টিফিকেট ইন ফুটবল ম্যানেজমেন্ট কোর্স চলাকালীন সময়ে ইংল্যান্ডে অবস্থানরত আহমেদ শায়েক।

প্রশ্নঃ প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে উয়েফা সার্টিফিকেট ইন ফুটবল ম্যানেজমেন্ট কোর্স সম্পন্ন করেছেন। ফলে নিশ্চয় অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন হয়েছে আপনার। বাংলাদেশের ফুটবলাঙ্গনে এরকম ফুটবল ম্যানেজমেন্টের উপর কোর্সধারী মানুষদের কতটা দরকার বলে মনে করেন?

আহমেদ শায়েকঃ
খুবই দরকার, কারণ প্রতি বছর আমাদের দেশে কোচ অনেক তৈরী হচ্ছে কিন্তু ক্লাব চালাবে যারা এমন প্রফেশনাল ব্যক্তি কিন্তু তৈরী হচ্ছে না। এরকম প্রফেশনাল ব্যক্তি না থাকায় ক্লাবগুলোও প্রতিনিয়ত অজান্তেই কোন না কোন ভুলের স্বীকার হচ্ছে। প্রফেশনাল লোক থাকলে ভুলের পরিমাণ কমে যাবে।

প্রশ্নঃ সর্বশেষ প্রশ্ন, আপনি উয়েফার ফুটবল ম্যানেজমেন্ট কোর্সধারী একজন ব্যক্তি। যেখানে সর্বোচ্চ নাম্বারও পেয়েছিলেন। আপনার কি সুযোগ ছিল না ইউরোপ বা এশিয়ার টপ লেভেলের কোনেও দেশের বা ক্লাবের হয়ে কাজ করার? যদি থাকতোই তবে সেটা রেখে কেন বাংলাদেশে ফিরে আসা?

আহমেদ শায়েকঃ
উয়েফার কোর্সের আগে ফুলহ্যামে কাজ করেছিলাম। সেটা আরও বড় সুযোগ ছিল। তবে বাইরে কাজ করতে গিয়ে মনে হয়েছে একটা সাজানো গোছানো জিনিসকে শুধু মেইন্টেইন করতে হবে। নতুন করে নিজস্বতা তৈরীর কোন সুযোগ নাই। কিন্তু বাংলাদেশে সেই সুযোগ আছে। আর আমার মতে কাজের থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনি কার জন্য কাজ করছেন। বিশ্বের অনেক বড় বড় ক্লাবে ফুটবল বুঝে সঠিক ডিসিশন নেন এমন প্রেসিডেন্ট পাওয়া দুস্কর। বাংলাদেশে আছেন এমন প্রেসিডেন্ট, তাই বাকি দেশ বাদ দিয়ে এখানে কাজ করতে আক্ষেপ নাই।

 

আরও খেলার খবরঃ   কাচ্চি খেতে পছন্দ করেন অস্কার

ধন্যবাদ আহমেদ শায়েক, ডেইলিস্পোর্টসবিডিকে লম্বা সময় দেওয়ার জন্য।

সাম্প্রতিক খবর

বাংলাদেশ ফুটবল / যে কারণে মারিও লেমোসকে বেছে নিয়েছে বাফুফে
ক্লাব ফুটবল / ২০২৭ পর্যন্ত বার্সেলোনাতেই থাকছেন আনুস ফাতি
বাংলাদেশ ক্রিকেট / সাকিব-রিয়াদের ব্যাটে পিএনজির বিপক্ষে টাইগারদের পুঁজি ১৮১
বাংলাদেশ ফুটবল / ফিফা র‍্যাংকিংয়ে উন্নতি বাংলাদেশের
বাংলাদেশ ফুটবল / ঢাকায় এসে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেই ফাইনালের কথা স্মরণ করলেন গ্রান্ট
ক্লাব ফুটবল / ২০২১-এর ক্লাব বিশ্বকাপ হবে আরব আমিরাতে
বাংলাদেশ ক্রিকেট / সুপার টুয়েলভে ওঠার মিশনে পিএনজির বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ
টপ ট্রেন্ডিং সাকিব আল হাসান/ তামিম ইকবাল/ মুশফিকুর রহিম/ বিরাট কোহলি/ বাবর আজম/ মেসি/ নেইমার/ রোনালদো/ ব্রাজিল/ আর্জেন্টিনা/ রিয়াল মাদ্রিদ/ বার্সেলোনা/ পিএসজি