অন্যান্য > কাবাডি

ফাইনাল হেরেও মন জয় করে নিয়েছে কেনিয়ার কাবাডি খেলোয়াড়রা

নিউজ ডেস্ক

৩ এপ্রিল ২০২১, সকাল ৬:৩৯ সময়

[ img-20210403-wa0008 ]
ফাইনালে হারের পর উল্লাসে মেতেছে কেনিয়ার কাবাডি খেলোয়াড়রা।
কখনও দেখেছেন ফাইনাল হেরেও কোনও দলকে আনন্দে মেতে উঠতে? ফাইনাল হেরেও প্রতিপক্ষের সাথে আনন্দে মেতে উঠার দৃশ্য খেলার মাঠে সচারাচর না দেখা না গেলেও গতকাল (শুক্রবার) পল্টনের ভলিবল স্টেডিয়ামে দেখা মিলেছে এমনই এক বিরল দৃশ্য।
রেফারি তার শেষ বাশি বাজিয়েছে, চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় উল্লাসে মেতেছে বাংলাদেশ। তবে থেমে থাকেনি রানার্সআপ কেনিয়ার খেলোয়াড়রাও। কোথায় তারা নিজেদের সান্তনা দিবে, মুখে হাত রেখে ফাইনাল হারের দুঃখ ভুলবে কিন্তু না, এসবের কিছুই করেনি কেনিয়ার কাবাডি খেলোয়াড়রা। বাংলাদেশের কাছে ৩৪-২৮ পয়েন্টে ফাইনাল ম্যাচ হেরেও নাচে-গানে উল্লাসে মেতেছে আফ্রিকার দেশ কেনিয়ার কাবাডি খেলোয়াড়রা। কেউ তাদের মানসিক ও শারীরিক ভাষা দেখে মোটেও বুঝে উঠতে পারিনি যে কে চ্যাম্পিয়ন, বাংলাদেশ নাকি কেনিয়া? হিংসা-বিদ্বেষ দূরে রেখে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের সাথে এক সাথে উল্লাস করতে দেখা গিয়েছে তাদেরকে। তাদের এমন উদযাপন বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন হওয়াকে ছাপিয়ে ভ্রাতৃত্বের পরিচয় বহন করে। [caption id="attachment_16348" align="aligncenter" width="643"] ফাইনালে হারের পর উল্লাসে মেতেছে কেনিয়ার কাবাডি খেলোয়াড়রা।[/caption] তবে কি কারণে ফাইনাল ম্যাচ হেরেও এমন উদযাপনে সামিল হওয়া তা জানতে ডেইলিস্পোর্টসবিডি কথা বলেছে কেনিয়ার কাবাডি খেলোয়াড় সাইমন কারানজার সাথে। এ বিষয়ে সাইমন কারানজা জানান,
"আপনি জানেন যখন আমরা ফাইনাল ম্যাচ শেষ করেছি তখন আমরা সেটা পিছনে রেখে এসেছি তাই আমরা সবাই একটি পরিবার হিসেবে একত্রে হই কারণ আমরা ভাল একটি ম্যাচ খেলেছি। আমরা নিজেরাই নিজেদের বিনোদন দিয়েছি। নতুন বন্ধুত্ব করা, নতুন কোনও সংস্কৃতি জানার একটা অংশ ছিল এটা।"
প্রথমবারের মত বাংলাদেশে এসেছেন সাইমন কারানজা। বাংলাদেশে তাদের কেমন অভিজ্ঞতা হলো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,
"দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা, বাংলাদেশ খুব'ই ভাল একটি জায়গা। এখানকার সংস্কৃতিও অনেক ভাল। এখানে অনেক ঝাল খাবার পাওয়া যায় (হেসে)। বাংলাদেশের আতিথেয়তা অনেক ভাল লেগেছে আমাদের।"
[caption id="attachment_16349" align="aligncenter" width="568"] সাইমন কারানজা।[/caption] করোনা ভাইরাসের মধ্যেও শুক্রবারের ফাইনালে ভলিবল স্টেডিয়ামে গ্যালারি ভর্তি দর্শক ছিল। শুধু বাংলাদেশ নয় কেনিয়াকেও উৎসাহ দিতে দেখা গেছে কিছু দর্শককে। বাংলাদেশের মানুষেরাও মন কেড়েছে সাইমন কারানজার। এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন,
"বাংলাদেশের মানুষ অনেক ভদ্র, তারা অনেক ববন্ধুত্বপূর্ণ। তারা কখনো আমাদের শত্রু হিসেবে দেখেনি। সেমিফাইনাল ম্যাচেও তারা আমাদের সাপোর্ট দিয়েছিল।"
দক্ষিন এশিয়ার বাইরে কাবাডি এত জনপ্রিয় না হলেও ধীরে ধীরে সারা বিশ্বেই ছড়িয়ে যাচ্ছে কাবাডি। কিভাবে কাবাডির সাথে যুক্ত হলেন সেটা বলতে গিয়ে কারানজা জানালেন,
"আমি এই খেলাটা দেখেছিলাম এবং আমার আগ্রহ জাগে খেলার জন্য। এরপর আমি এটার সম্পর্কে জানি আর এখন এই খেলার সাথে ভালবাসা তৈরি হয়েছে। কাবাডিকে অনেক ভালবাসি।"
করোনা ভাইরাসের কারণে এবার খুব বেশি হোটেলের বাইরে যেতে পারেননি তারা। তাই সুযোগ পেলে আবারও বাংলাদেশে আসতে চান সাইমন কারানজা। তবে পরিশেষে এটা বলতেই হবে, কেনিয়ার কাবাডি খেলোয়াড়দের এমন উদযাপন , 'আমার- আপনার মন জয় করে নিতে বাধ্য করেছে। ফাইনালে হেরেও এমন আনন্দে মেতে উঠা খেলার মাঠে উদাহরণ হয়ে থাকবে।