ফুটবল > ক্লাব ফুটবল

বিশেষ ফিচার : একজন পেরেজের রহস্য ঘেরা গল্প

নিউজ ডেস্ক

২৯ এপ্রিল ২০২১, সকাল ৬:৫৮ সময়

[ florentino-perez-presidente-real-madrid-1 ]
ছবিঃ সংগৃহীত।
লিখেছেন - রাফি ইকরাম (সাকিব)
সময়টা তখন বিংশ শতাব্দীর শুরু, রিয়াল মাদ্রিদ নিজেদের ট্রফিরুমে যোগ করলো আরও একটি চ্যাম্পিয়নস লীগ ট্রফি। মাদ্রিদের অলিগলিতে তখন রাউল গঞ্জালেজ নামের স্লোগান অকুণ্ঠিত ভাবে গর্জে উঠছে। ফুটবলীয় সফলতার এই নিবিড় সময়েও, তৎকালীন রিয়াল মাদ্রিদ প্রেসিডেন্ট লরেঞ্জো সানজের কপালে তখন মস্ত ভাঁজটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে।
রয়্যাল মাদ্রিদ খ্যাত এই ক্লাব তখন ২৭৮ মিলিয়ন ইউরোর বিরাট অংকের ধারদেনায় ডুবে আছে, আর নাভীশ্বাস অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে ডিসেম্বরের প্রেসিডেন্সিয়াল ইলেকশান। নব্বইয়ের শেষের দিকে ট্রফি থাকলেও, ভক্তদের স্টেডিয়ামে ভেড়ানো কঠিন হয়ে উঠছে দিনদিন। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর মত রাজকীয় স্টেডিয়াম ভক্তদের টানছে না আর। হিসেবের খাতায় তখন গড়ে মাত্র ছত্রিশ হাজার ভক্ত আসছেন টিকেট কেটে খেলা দেখতে। এই নিয়ে ধারের বোঝা, গলার কাঁটা হয়ে পড়ে রইলো প্রেসিডেন্ট সানজের। ঠিক এই সময়ে রিয়াল মাদ্রিদ তথা স্প্যানিশ ফুটবলে আগমন ঘটলো একজন বিজনেসম্যানের, কারও কারও মতে মডার্ন ফুটবলের এক 'গডফাদার' , যার নাম এই মূহুর্তে সবার মুখে মুখে- ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। স্পেনের অন্যতম সফল বিজনেসম্যান, দাঁড়িয়ে গেলেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে। অন্য সবার মত তিনিও জানতেন, নির্বাচন তার নিজের ইমেজ দিয়ে জয় করা অসম্ভব। এই অনুধাবনের সঙ্গে সঙ্গেই ফুটবলের ট্রায়াম্প টেবিলে তিনি ছাড়লেন একটি ঐতিহাসিক এবং ইউটোপিয়ান ট্রাম্পকার্ড। ভক্তদের উদ্দেশ্যে শপথ করলেন নিজের প্রথম প্রেস ব্রিফিংয়েই, "যদি আমি নির্বাচনে জিতে যাই, তবে আমি লুইস ফিগোকে বার্সেলোনা থেকে নিয়ে আসবো, আর যদি আমি সেটা না পারি তবে এখন অব্ধি সব টিকেটের টাকা আমি নিজে পে করে চলে যাবো।" এই শপথটা আজকের দিনে লিওনেল মেসিকে রিয়াল মাদ্রিদে সাইন করানোর মতই অবাস্তব এবং হাসির উদ্রেক করা স্টেটমেন্ট। অথচ তার এই এক শপথে সমস্ত প্রেসিডেন্সি ইলেকশানের গতিপথই ঘুরে গেল। ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়ে রিয়াল মাদ্রিদের প্রেসিডেন্ট হলেন, ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। পেরেজ চাইলেন পঞ্চাশ শতকের সেই সফলতাকে ফেরত আনতে। তিনি ভাবলেন, পৃথিবীর সব শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়কে আনা হবে মাদ্রিদের মাঠে। হিসেবটা সহজ, ভক্তরা হয় খেলা দেখতে আসবেন নয়তো কেবল শ্রেষ্ঠদের মুখ দেখতে। কিন্তু রাইভাল ক্লাব বার্সেলোনা থেকে ছিনিয়ে নিয়ে আসতে হবে তাদের সবচেয়ে বড় তারকাকে। সেটা কি করে সম্ভব? গডফাদার সিনেমার জন ভিটো কার্লিওনির একটা অসাধারণ ডায়ালগ মনে পড়বে হয়তো পাঠকদের- "I am going to make you an offer, You can't refuse।" হঠাৎ ভোরবেলা উঠে জানা গেল, ফিগো একজন ফুটবলার হিসেবে সবচেয়ে বেশি বেতনভুক্ত তো হলেনই, ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার যে নিজের পঞ্চাশ শতাংশ 'ইমেজ রাইটস' বিক্রি করে মিলিয়নস ইউরো পকেটস্থ করে সবচেয়ে ধনী ফুটবলার হয়ে উঠলেন লুইস ফিগো! এটা তৎকালীন সময়ের সেই অফার, যা রিফিউজ করা গেল না। ভক্তদের মাঝে হইচই পড়ে গেল। গ্যালারির হাল ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করলো। কিন্তু ক্লাব তখনও ডুবে আছে অনেক ধারদেনায়। টাকা আসা চাই, চারপাশ থেকে। পেরেজ অপেক্ষা করলেন গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফার সিজনের। বিক্রি করে দিলেন, রেদেন্দো সেভা, নিকোলাস এনেলকার মত ট্রফি বিজয়ী ও পটেনশিয়াল তারকা ফুটবলারদের। ভক্তরা প্ল্যাকার্ড নিয়ে স্টেডিয়ামের বাইরে দাঁড়িয়ে গেল। গোটা বার্নাব্যুতে পেরেজের সমালোচনা। এমন সময়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি শুধু বললেন, "কূল থেকে চোখ না সরালে, কখনই সমুদ্র পাড়ি দেয়া যায় না।" কিন্তু এইটুকু তো যথেষ্ট নয়। ভিসেন্তে দেল বস্ক তখন কোচ, লুইস ফিগোকে মূল অস্ত্র বানিয়ে মৌসুমে রয়্যাল ভঙ্গিতেই খেলছে রিয়াল মাদ্রিদ। ফিগোর বিশ্বাসঘাতকতার তেল তখন কাতালানদের চোখের মাঝে ছিটকে উঠছে, তাই ভক্তদের চরম কটূক্তির মাঝে এল ক্ল্যাসিকো হারতে হলো মাদ্রিদের। ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপেও বোকা জুনিয়রসের কাছে অপমানজনকভাবেই হেরে গেল রিয়াল মাদ্রিদ। দৃশ্যপট এতই অপরিষ্কার যে, মাদ্রিদের উত্থান ঘটছে নাকি পতন, এ নিয়েই সাধারণ মানুষের মাঝে যুক্তিতর্ক শুরু হয়ে গেল। ফ্লোরেন্তিনো সেই আবহ কাটাতেই কিনা হঠাৎ রিয়াল মাদ্রিদ পেয়ে গেল, 'ক্লাব অব দ্য সেঞ্চুরি' পুরস্কার। মুখে মুখে শোনা গেল, পুরস্কার পেতে তিনি ব্যবহার করেছেন ডি স্টেফানোর লেগ্যাসি! যেভাবেই পুরস্কার অর্জন হোক, কিন্তু এই পুরস্কার ট্রফিলসের ঘটনাকে শিথিল করে ফেললো পুরোদমে। এদিকে জিদানকে পেছনে ফেলে, ফিগো জিতলো ব্যালন ডি'অর। রাউল হলেন স্প্যানিশ লা-লীগার টপ স্কোরার। এই সময়েই চ্যাম্পিয়নস লীগে অলিভার কানের দানবীয় পার্ফমেন্সের সামনে হেরে চ্যাম্পিয়নস লীগের সেমিফাইনাল থেকেও বাদ পড়লো মাদ্রিদ। অথচ এই সময়ে ট্রফি নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তিত দেখা গেল না ফ্লোরেন্তিনো পেরেজকে। কারণ ক্লাবের তখন ট্রফি নয়, ব্যাংক অব স্পেনের রঙিন কাগজ গুলোর অনেক বেশি প্রয়োজন। পেরেজ মাদ্রিদের সুবিশাল ট্রেনিং গ্রাউন্ডকে বিক্রি করে দিলেন, নিজের কন্সট্রাক্টেবল জমিতে চালু করলেন নতুন ট্রেনিং গ্রাউন্ড৷ ৪৪৬ মিলিয়ন ইউরোর এই বিজনেস ডিল গোটা ধারদেনা এস্পার ওস্পার করে ছাড়লো। কিন্তু ততদিনে নেকড়ের মুখে তো ততদিনে রক্ত লেগে গেছে। আসল শিকার তখন অনেক বড়, আসল এচিভমেন্ট তখন অনেক টাকা। আর আইডিয়া তখন ও একই- সব বড় তারকাদের নিয়ে আসা হোক মাদ্রিদ প্লে গ্রাউন্ডে, তৈরি হবে হিস্ট্রিক্যাল 'এল গ্যালাক্টিকোস!' দিনক্ষণ বুঝে ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় তারকা জিনেদিন জিদানের সঙ্গে, দেখা করলেন ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। কথা বলতে বলতেই, একটা টিস্যু পেপারে কলম ঘুরিয়ে হাসিমুখে বাড়িয়ে দিলেন জিনেদিন জিদানের দিকে। জিদান এমন কাণ্ডে হেসে ফেললেন কারণ পেপারে লেখা, 'মাদ্রিদে খেলতে চাও?' জিদান ও হাসি মুখে সেখানেই উত্তর লিখে দিলেন, হ্যাঁ। জুভেন্টাস থেকে গ্লোবাল ফ্যানদের মুখ ঘুরিয়ে মাদ্রিদে আনা হলো। কিন্তু জিদানকে আনা তো হলো, দেল বস্ক অবাক হয়ে ভাবলেন, জিদানকে সে খেলাবেন কোথায়! কারণ জুভেন্টাসের জিদানের পজিশন মাদ্রিদে নেই বললেই চলে। কিন্তু জিদান তো বিশ্বজয়ী, তিনি সেন্টার মিডফিল্ডার পজিশনেই, ক্রিটিসিজমের উর্ধ্বে উঠে খেললেন। খেলা নিয়ে পেরেজ ভাবছেন না তখনো, তিনি ভাবছেন সার্কাসের নতুন ট্রাপিজ প্লেয়ার কে হতে পারে তাই নিয়ে। তিনি ভাবছেন কে হতে পারে, বিশ্বশ্রেষ্ঠদের দলে ভেড়ানোর প্ল্যানে তার পরবর্তী মুখ। ভ্যালেন্সিয়ার কাছে লা-লীগা হারাতে হলো। একমাত্র চ্যাম্পিয়নস লীগটাই সিজন বাঁচাতে পারে তখন। বায়ার্ন মিউনিখকে এই বেলা কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায় করলো রিয়াল মাদ্রিদ, মাঠে জিদান তখন সর্বেসর্বা। সেমিফাইনালে বার্সার ডিফেন্স গুড়িয়ে ফাইনাল বায়ার্ন লেভারকুজেনের সঙ্গে। নাভীশ্বাস উঠে আসে এমন ম্যাচের স্বাক্ষী হলো ইতিহাস- রিয়াল মাদ্রিদের রাউলের প্রথম গোলের পরপরই দারুণ হেডারে গোল ফেরত দিলো লেভারকুজেনের লোসিও। খেলায় ৪৫ মিনিট তখন, হাফ টাইমের হুইসেল বাজাবেন রেফারি। ডিবক্সের একটু ভেতরের দিকে রবার্তো কার্লোসের স্লো ক্রসে বল উড়ে আসছে, জিদান বাঁ পায়ের ভলিতে বল ঘুরিয়ে দিলেন- আর ইতিহাসকে দেখালেন চ্যাম্পিয়নস লীগ ফাইনালের এক আশ্চর্য এক্সপেরিমেন্টাল গোল। লস মেরেঙ্গেস(রিয়াল মাদ্রিদ) জিতে নিলো আরেকটি চ্যাম্পিয়নস লীগ ট্রফি। জিদান, মাকেলেলেকে ঘোষণা করলেন, মাঠের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে। কিন্তু ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের তো ট্যাক্টিক্যাল নয় বরং কমার্শিয়াল রেভিন্যু খেলোয়াড় দরকার। নিয়মটা সহজ, এমন খেলোয়াড় কেনা যারা প্রচুর স্যালারি নেবে।এবং ইমেজ রাইটস দিয়ে, আর ভক্তদের চুম্বকীয় ভাবে টেনে আনবে। আর এছাড়া বাকি খেলোয়াড়দের দেয়া হবে খুবই কম স্যালারি। এই পলিসিতে সমস্যাটা দাঁড়ালো, একদল খেলোয়াড় নিজের দক্ষতায় হাই ক্লাস, কিন্তু ফেসভ্যালু বিহীন। তারা হয়ে গেল গ্যালাক্টিকোসদের মিডল ক্লাস প্লেয়ারস। তবে এতে গোটা ক্লাবের টিমভ্যালু হয়ে ব্যালান্সড রইলো। তাই এই সমস্যাকে আমলেই না এনে পেরেজ নিয়ে এলেন তার নতুন ব্রাজিলিয়ান গ্যালাক্টিকো- ফেনোমেনোন রোনালদো। পেরেজ ইন্টার মিলানকে ৩৫ মিলিয়নের বিনিময়ে নিয়ে এলেন এই অসামান্য ও একরোখা খেলোয়াড়কে। বিশ্বকাপের পার্ফমেন্সকে ভিত্তি করে এমন সময়ে রোনালদো জিতলো ব্যালন ডি'অর। মাদ্রিদের গ্যালারি সর্বদিকে ভরাট হয়ে গেল ম্যাজিকের মতন। কিন্তু, এত তারকা নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে যাচ্ছিলো। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে কোয়ার্টার ফাইনালে হিস্টোরিক পার্ফমেন্স করলেন ফেনোমেনোন রোনালদো, কিন্তু গোটা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে তখন ভক্তরা গাইলেন ডেভিড বেকহাম নামক এক উজ্জীবিত তরুণের নামে গান। একজন খেলোয়াড়ের এমন চরম জয়ধ্বনি যেন কোথাও শোনা যায় না। তখনই গডফাদার পেরেজ হয়তো ঠিক করে ফেললেন, তার পরবর্তী গ্যালাক্টিকো! জুভেন্টাসের সঙ্গে সেমিফাইনালে হেরে দেল বস্ক পড়লেন হুমকির মুখে, আর লা-লীগা জিতার সঙ্গে সঙ্গেই খবর এলো, ডেভিড বেকহাম সাইন করেছেন রিয়াল মাদ্রিদে। মাকেলেলে ছাড়লেন প্রিয় ক্লাব, স্যাকড হলেন ভিসেন্তে দেল বস্ক। এদিকে এক খেলোয়াড়ের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি জার্সি বিক্রির এক অবিস্মরণীয় রেকর্ড! এমন বলা হয় যে, বেকহ্যামকে সাইন করার অর্ধেক টাকা জার্সিতে উঠে এসছে। নতুন কোচ এন্তনিও কামাচো অবশ্য বেকহাম আর রাউল কাউকেই টিমে সেট করতে পারলেন না। এত বড় সব তারকাকে সামলে, সেও টিকতে পারলেন না ক্লাবে। কারণ বিগ ফেসদের মাঠে নামাতেই হবে, এটাই ছিল মূলত রুলস। মাদ্রিদে এল গ্যালাক্টিকোস যখন তৈরি। কাতালানদের নায়ক তখন সদা হাস্যরত একজন রোনালদিনহো। ফুটবলকে ফ্রি স্টাইল মুভমেন্টে এক অন্য শিল্পরূপ দিলেন তিনি। ট্রফিরুম ভরতে থাকলো বার্সেলোনার। লা মাসিয়া থেকে বেরিয়ে আসছে সম্ভবপর দারুণ সব খেলোয়াড়। অবশ্যই যার গল্প পুরোপুরি আলাদা। কিন্তু তাতে কি পেরেজ বিফল হলেন, নাকি সফল? সেটা নির্ভর করছে তার আল্টিমেট গোলকে ভিত্তি করে, রিয়াল মাদ্রিদকে তিনি তখন বানিয়ে ফেলেছেন একটি কমার্শিয়াল এবং প্রফিটেবল মেশিন। একটা ২৭৮ মিলিয়ন ইউরোর দেনায় জর্জরিত ক্লাব ততদিনে বিলিয়নস ইউরোর মালিক। প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনে হারলেন ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। আর যখন আবার ফিরলেন, তার গল্পটা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, মেসুত ওজিল, এঙ্গেল ডি মারিয়া, করিম বেনজেমাদের চ্যাম্পিয়নস লীগে আধিপত্য করার, কাউন্টার ফুটবলের মহাকাব্যিক গল্প। এবার সময়টা ২০২১, কোভিডে আক্রান্ত পৃথিবীর মত, গোটা ফুটবল জগত ও। ইউরোপীয়ান ফুটবলে রেভিন্যু কমে গেছে, কোভিডের সময়ে দলগুলোকে প্রায় লভ্যাংশ না দিয়ে চলতে চাইলেন ইউরো কমিটি। বার্সেলোনা, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মত ক্লাব ব্যাংকরাপ্ট হওয়ার পথে। খালি স্টেডিয়ামে টাকা ঢালতে রাজী নন, সব পয়সাওয়ালা হর্তাকর্তারাও। কিন্তু এটা যে ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ, চুপ করে থাকা তো গডফাদারের ধাঁতে নেই! ইউরোপের সবচেয়ে বড় আর প্রিভিলেজড দল গুলোকে নিয়ে গড়ে ফেললেন, এক নতুন গ্যালাক্টিকো। আইডিয়া, আরো কম্পিটিটিভ ফুটবল। সব বাঘা দল। টাকা ঢালার জন্য লোভনীয় একটা সেন্টিমেন্টহীন সিস্টেম। দুনিয়ার সব ভক্তদের চোখ ঘুরে গেল। উয়েফা প্রেসিডেন্টের লুকিয়ে রাখা পয়সার শব্দ ঝনঝন করে বেজে উঠলো। সব ক্লাবকে সাথে নিয়ে ফুটবলের মাটি ধরে এমন টান মারলেন যে, ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনোর বেডরুমের খাট পর্যন্ত কেঁপে উঠলো! ক্লাব নয়, প্লেয়ার নয়,একটা সুপার লীগ গঠন করে দাঁড়িয়ে গেলেন, পেরেজ। হুমকির পর হুমকি দিয়ে গেলেন উয়েফা ও ফিফা প্রেসিডেন্ট। অবশেষে ফলাফল সুপার লীগের সমান রেভিন্যু দেয়া হবে প্রত্যেক দলকেই। সুপার লীগ মুখ থুবড়ে ফল করলো, সব দল ইউরো কম্পিটিশনগুলোতে ফিরে গেল। কিন্তু প্রশ্ন হলো, তাতে এই গডফাদার কি আসলেই হারলেন?