ক্রিকেট > আন্তর্জাতিক ক্রিকেট

ক্রিকেট বিশ্বকাপ: উৎসব শুরু করবার পর অস্ট্রেলিয়াকে বলা হয়েছিলো তোমরা এখনো জেতোনি

নিউজ ডেস্ক

২৮ এপ্রিল ২০২১, সকাল ৭:১৬ সময়

[ 75177 ]
PHOTO: ICC
খেলাধুলার দুনিয়ায় হলুদের শাসন বোধহয় সবথেকে বেশি। এই যেমন ফুটবলে ব্রাজিল পাঁচ বার বিশ্বকাপ জিতেছে, আবার ক্রিকেটেও পাঁচ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। সবখানেই হলুদের জয়জয়কার। আলোচনার শুরু কেননা আজকের দিনে ২০০৭ সালে নিজেদের চতুর্থ শিরোপা ঘরে তুলেছিল শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া। সেই সাথে এটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার টানা তিন বিশ্বকাপ জয়, হ্যাট্রিক বিশ্বকাপ। যেটি আর কখনও কোন স্পোর্টসে কারও ঘটেছে কিনা সন্দেহ আছে। ২০০৭ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে। অস্ট্রেলিয়া ছাড়া আরেকটি দল ছিল পরাক্রমশালী, তারাই উঠেছিল ফাইনালে। মাহেলা, সাঙ্গাকারা, জয়াসুরিয়া, দিলশান, পারভেজ মাহরুফ, চামিন্দা ভাসদের নিয়ে গড়া ঐ দলটা সম্ভবত শ্রীলংকার সর্বকালের সেরা দল। অস্ট্রেলিয়ার এই বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সকে মনে করা সবথেকে বেশি একনায়কতন্ত্রের মত। অন্য প্রতিটি বিশ্বকাপের আসরের তুলনায় অস্ট্রেলিয়া সেবার ছিল মহাপরাক্রমশালী। বৃষ্টির কারণে ফাইনাল শুরু হয় প্রায় ঘন্টা দুয়েক পর। বৃষ্টির তীব্রতা এতো বেশি ছিল যে ফাইনাল হওয়া নিয়েই ছিল শঙ্কা। একপেশে খেলার সবথেকে মজার ঘটনা ছিল, ঐ মাঠের ২০,০০০ লাইট মাঠের আলোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। ম্যাচের শেষ ওভারে বলতে গেলে তুলনামুলক অনেকটা অন্ধকারেই ব্যাটিং করেছিল শ্রীলংকা। ৩৩ ওভারে আলোর স্বল্পতার কারণে দুই আম্পায়ার স্টিভ বাকনর-আলিম দার যখন আর খেলা চালানো সম্ভব না বলে খেলা বন্ধ ঘোষণা করেন, ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে তখন ৩৭ রানে এগিয়ে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া। নূন্যতম ২০ ওভার যেহেতু ব্যাটিং হয়ে যাবার কারণে চ্যাম্পিয়ন ভেবেই বিশ্বকাপ জয়ের উল্লাসে তাই মেতে ওঠে পন্টিংয়ের অস্ট্রেলিয়া। এমনকি মাঠে থাকা স্ক্রিনবোর্ডে অভিনন্দন জানানো হয় অস্ট্রেলিয়াকে। কিন্তু মাঠের দুই আম্পায়ার বাঁধা দেন, তারা জানান, ম্যাচ শেষ হয়নি। আরও কমপক্ষে খেলতে হবে তিন ওভার। এমনকি সেই তিন ওভার হতে পারে পরদিন রিজার্ভ ডেতে। নিশ্চিত হেরে যাওয়া ম্যাচটি নিয়ে আর দেরী করতে চাননি জয়াবর্ধনে। স্পিনারদের দিয়ে বোলিং করিয়ে সেদিনই খেলা শেষ করার ব্যাপারে একমত হন দুই অধিনায়ক পন্টিং ও জয়াবর্ধনে। একপ্রকার অন্ধকারের মধ্যেই হয় শেষ তিনটি ওভার। প্রয়োজন ছিল ৬৩ রান, শ্রীলঙ্কা তুলতে পারে কেবল ৯ রান। ৮ উইকেটে ২১৫ রানে থামে জয়াবর্ধনের দল। ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে অস্ট্রেলিয়া ফাইনাল জেতে ৫৩ রানে। আগে ব্যাট করতে নেমে ৩৮ ওভারে ৪ উইকেটে ২৮১ রান করে অস্ট্রেলিয়া। ওপেনিংয়ে নেমে ১০৪ বলে ১৪৯ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। হেইডেন করেন ৩৮, পন্টিং ৩৭, সাইমন্ডস ২৩ রানে অপরাজিত ছিলেন। আবারও বৃষ্টি শুরু হলে ম্যাচ কমিয়ে দেওয়া হয় ৩৬ ওভারে। শ্রীলংকার টার্গেট হয় ২৬৯। ফাইনালের প্রেশার তার উপর এতো বড় রানের চাপ। সবমিলিয়ে ভেঙে পরে লংকান শিবির, ২১৫ রানে ৮ উইকেটে শেষ হয় ওদের ইনিংস। অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ জিতে নেয় ৫৩ রানে।