ক্রিকেট > বাংলাদেশের ক্রিকেট

বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমের মাঝে শক্ত প্রাচীর!

নিউজ ডেস্ক

১৩ এপ্রিল ২০২১, সকাল ৫:৩৪ সময়

[ img-20210411-wa0005 ]
সম্পাদকীয় কলাম
  শিরোনাম কেন এমন লেখা? বাংলাদেশ দলের ড্রেসিং রুমে বিভাজনের প্রথম রেখা তৈরী হয়েছিল ২০০৯ সালে। তৎকালীন কোচ জেমি সিডন্সের সময় প্রথম এইরকম পরিবেশ তৈরী করা হয় জাতীয় দলের মধ্যে। সে সময়ে কিছু ক্রিকেটারকে সরাসরি এমনভাবে হেয় করা হয়েছিল যে তাদের মানসিক অবস্থা ভেঙে চুরমার করা হতো। কথিত আছে, জেমি সিডন্স সাকিব, তামিম ছাড়া আর কারও কোন কথায় শুনতেন না৷ সেসময় ড্রেসিংরুমে উচু নিচু মাপের ক্রিকেটার বলে মাঝখানে বড় এক দেওয়াল তৈরী করে দেওয়া হয়েছিল। জাতীয় দলে এখন স্পষ্ট দুইধরনের ক্রিকেটার। এক দল ক্রিকেটার খুব বড় মাপের ক্রিকেটার, আরেকদল ক্রিকেটার স্পষ্টত যেন ওদের থেকে কমা। আর একটু স্পষ্ট করে বললে পাঁচজন সিনিয়রকে নিয়ে অনেক বেশি কথা হয়, অনেক বেশি আলোচনা হয়, অনেক বেশি আশা করা হয়, অনেক বেশি গালি গালাজ কিংবা সমালোচনাও করা হয়। এই পাঁচজনকে নিয়ে এতো বেশি আলোচনা - সমালোচনা করবার কারণও আছে নিশ্চিতভাবেই। কারণ এই পাঁচজন দেশের ক্রিকেটকে নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়। কিন্তু এই ক্রিকেটারদের নিয়ে আলোচনার মাত্রা এতটাই বেড়ে গেছে যে বাকি ক্রিকেটাররা যে ৫-৬ বছরের বেশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলে ফেললো সেদিকে বোধহয় আমরা বেশ উদাসীন। দেয়ালটা ঠিক এখানেই৷ যেখানে সাকিব তামিম রিয়াদ মুশফিকদের যতটা বড় ক্রিকেটার মনে করা হয় - সৌম্য, লিটন মিরাজদের ততটা মনে করা দুরে থাকুক, কখনো সাকিব তামিম দের মত হতে পারবে বলেও মনে করা হয় না। এর ফলে সাকিব তামিমরা যখন ব্যাট করতে নামেন তখন তাদের করতে হয় ১০০ নতুবা ৫০+। এর কম রান করলে সেদিন আর বাংলাদেশের জেতা হয় না। ২০১৫ সালের আগে এই বিভাজন ভেঙেছিলেন তৎকালীন অধিনায়ক মাশরাফি মর্তুজা ও কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। সেসময়ে দলে সবার দ্বায়িত্ব ছিল স্পষ্ট এবং সমান৷ পার্থক্য খুজতে হলে এক সাব্বির রহমানের দিকেই দেখতে পারেন। হাজার অনিয়মের ভীড়েও ছেলেটার রান পাওয়া তখন থামেনি খু্ব একটা। ঘরের মাঠে এশিয়া কাপে ছিলেন টুর্নামেন্টের সবথেকে বেশি রান স্কোরার। সৌম্য সরকারের খেলার ধরন নিয়ে যে অনেক বেশি এক্সপেরিমেন্ট করা হয়েছে সেটি তো সেদিন এক গণমাধ্যমের সামনে বলেছেন ত্রিকেটারদের প্রিয় ও সফল ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন। চন্ডিকা যখন বিদায় নেন তখন বাংলাদেশ ভালো দল, ওয়ানডেতে যে কোন দলকে চোখ রাঙানি দেয়। বিভাজনের স্বচ্ছ দেয়ালের এপার ওপার তৈরী হয়ে যায় আস্তে আস্তে। যেটা হয়েছে দুটো কারণে। প্রথমত, জুনিয়র বলে যাদেরকে সম্বোধন করা হয়। অর্থাৎ সিনিয়র পাঁচজন বাদে বাকি সবার পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা না থাকা। দ্বিতীয়ত, সিনিয়রদের নিয়ে যতটা আলোচনা বা সমালোচনা কিংবা জবাবদিহিতা করা হয় ততটাই বাকিদের ক্ষেত্রেও করা হয়নি। ১১ এপ্রিল দেশ ছাড়ার পূর্বে মিরপুরে অনুশীলন করবার পর বাংলাদেশ দলের টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক একটি কথা বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ ট্রলের শিকার হয়েছেন। তিনি বলেছেন সাকিব, মুস্তাফিজুর বাদে খুব বেশি ক্ষতি হয়ে যাবে না। অথচ কথাটা যুক্তিপুর্ণভাবে তিনি সঠিক বলেছেন। একটা দল যখন নির্দিষ্ট কয়েকজনের পারফরম্যান্সের উপর নির্ভরশীল হয়ে পরে তখনই বাকিদের উপর ভরসা ও বিশ্বাস কমে যায় আস্তে আস্তে। যেটা এখন ভয়ংকর রুপ ধারণ করেছে৷ মুমিনুল সেটি থেকে বেরিয়ে আসতেই কিনা চাপমুক্ত থাকবার এক কৌশল হিসেবে বেছে নিলেন উক্তিটি৷ কিন্তু অধিনায়ক নিজেই যে মন থেকে নির্ভার নন তা বোঝা গেল পরের প্রশ্নেই। অধিনায়ককে যখন প্রশ্ন করা হলো শ্রীলংকা সফরে জিতবে কিনা বাংলাদেশ! তখন জোর গলায় বলতে না পেরে মুমিনুল হক বললেন, তার দল ভালো ক্রিকেট খেলতে চাই। ঘরোয়া নামী কোচ সরোয়ার ইমরান এর আগে বলেছিলেন ক্রিকেটারদের মানসিকতার পরিবর্তন অনেক জরুরী। কোন ক্রিকেটার ভালো করলেই অমুক ভাইয়ের কথা শুনে এটা করেছি তাই ভালো হয়েছে বলে মন্তব্যগুলো প্রমাণ করে নিজেদের উপর বিশ্বাসের জায়গাটাতে কতটা পেছনে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। গণমাধ্যমে তামিম বলেছেন, মাশরাফি বলেছেন - বুঝিয়েছেন পরিকল্পনা আর মানসিকতার পরিবর্তন কতটা জরুরী। সেই পরিবর্তন আসবে কবে? কার হাত ধরেই বা আসবে? ২০১৪ সালে জেমি সিডন্সের গড়ে দেওয়া সাকিব-তামিমদের সাথে বাকিদের যে দেয়াল ভেঙে দিয়েছিলেন মাশরাফি - হাথুরু। সেটি কে করবেন এবার? এই প্রশ্নের উত্তর দ্রুত খুঁজে না বের করতে পারলে ড্রেসিংরুমের মাঝের দেয়ালটা খুব বেশি মজবুত হয়ে যাবে। 'টিম বাংলাদেশ ' কথাটা চিরদিনের জন্য বিলুপ্ত হয়ে যাবারও আশংকা আছে৷