প্রথমবার লঙ্কানদের সিরিজ বধে সুপার লিগের শীর্ষে টাইগাররা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৫ মে, ২০২১ | ২২:০২:৩০

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রথমবার লঙ্কানদের সিরিজ বধে সুপার লিগের শীর্ষে টাইগাররা প্রথমবার লঙ্কানদের সিরিজ বধে সুপার লিগের শীর্ষে টাইগাররা ছবিঃ সংগৃহীত।

মিরপুরে ৩ ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ডার্থওয়াথ লুইস সিস্টেমে (ডিএসএল) শ্রীলঙ্কাকে ১০৩ রানে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই প্রথমবারের মতো লঙ্কানদের বিপক্ষে সিরিজ জিতে নিলো বাংলাদেশ দল। সিরিজের শেষ ওয়ানডে ২৮ মে, দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ম্যাচ সেরা মুশফিকুর রহিম।

এই জয়ে ৮ ম্যাচে ৬০ পয়েন্ট তুলে নিয়ে ওয়ানডে সুপার লিগের টেবিলের শীর্ষেও উঠে এসেছে টাইগাররা, ৫ ম্যাচ খেলে এখনো পয়েন্ট টেবিলে -২ নিয়ে সবার নিচে অবস্থান করছে। এটি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম, দেশের মাটিতে ২২তম, সবমিলিয়ে বাংলাদেশের ২৭তম দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয়।

সিরিজে টিকে থাকার জন্য লক্ষ্যটা ২৪৭ রানের হলেও বৃষ্টি আইনের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হয়েছে লঙ্কানদের, শুরুটাও একেবারে মন্দ ছিল না দলটির। তবে ১৫ বলে ২ চারে ১৪ রান করা শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক কুশাল পেরেরাকে নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম শিকার বানিয়ে বাংলাদেশকে ব্রেক থ্রু এনে দেন অভিষিক্ত পেসার শরিফুল ইসলাম।

২৪ রানে ওপেনিং জুটি ভেঙে যাওয়ার পর দ্বিতীয় উইকেটে পাথুম নিসাঙ্কাকে নিয়ে ২৯ রানের জুটি গড়েন ওপেনার দানুস্কা গুনাথিলাকা। ৪৬ বলে ২ চারে ২৪ রান করা গুনাথিলাকাকে ফেরান বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান, ১৪তম ওভারের শেষ বলে ৫৩ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ফেলে শ্রীলঙ্কা।

লঙ্কানদের ঘুরে দাঁড়ানোর কোন সুযোগই দেননি অভিজ্ঞ সাকিব আল হাসান, ৩৬ বলে ২ চারে ২০ রান করা পাথুম নিসাঙ্কাকে তামিম ইকবালের ক্যাচ বানিয়ে ৯৯ তম টপ অর্ডার ব্যাটারকে আউট করেন সাকিব। তবে সফরকারীদের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা দেন অফ-স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজই, শ্রীলঙ্কার শেষ ভরসা কুশাল মেন্ডিসকে লেগ-বিফোরের ফাঁদে ফেলেন তিনি।

সাকিব ধনাঞ্জয়া ডি সিলভাকে তুলে নিলে ৮৯ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকেই মোটামুটি ছিটকে যায় শ্রীলঙ্কা, এদিন আর বাংলাদেশের জয় দীর্ঘায়িত করতে পারেননি ওয়েনিন্দু হাসারাঙ্গা; আফিফ হোসেনের হাতে একবার জীবন পেলেও পরের বলেই বোল্ড হয়েছেন তিনি। তার আগে ফিরে গেছেন দাসুন শানাকাও, দুজনকেই ফিরিয়েছেন মেহেদি হাসান মিরাজ।

শেষ স্বীকৃত ব্যাটার হিসেবে আসেন বান্দারা ১৫ রান করে মুস্তাফিজুর রহমানের বলে আউট হলে ১১২ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে পরাজয়ের ক্ষণ গুণতে থাকে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশ যখন জয় থেকে ১ উইকেট দূরে দাঁড়িয়ে, ঠিক তখনই বেরসিক বৃষ্টির আগমন ঘটে।

বৃষ্টি থামার পর আবার খেলা শুরু হলে বৃষ্টি আইনে শ্রীলঙ্কার সামনে নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪০ ওভারে ২৪৫ রানের, অর্থ্যাৎ জিততে হলে শেষ ২ ওভারে ১ উইকেট হাতে নিয়ে ১১৯ রান করতে হতো লঙ্কানদের। শেষ পর্যন্ত ৪০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৪১ রানে থামে শ্রীলঙ্কার ইনিংস, বাংলাদেশ জয় পায় ১০৩ রানের ব্যবধানে। ইসুরু উদানা ১৮ রানে অপরাজিত থাকেন, মিরাজ, মুস্তাফিজ ৩ ও সাকিব নেন ২ উইকেট।

ম্যাচের শুরুতে মেঘলা আকাশ, বৃষ্টির শঙ্কা থাকলেও টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক তামিম ইকবাল। ব্যাট করতে নেমে প্রথম বল থেকেই ৯ রান আসে, ইসুরু উদানার করা প্রথম বলটি নো হয়, সেই বল ও ফ্রি-হিটে চার মারেন তামিম। তবে শুরুর সেই সময়টা দীর্ঘ হয়নি বাংলাদেশের, দ্বিতীয় ওভারের বাংলাদেশকে জোড়া ধাক্কা দেন দুশমন্ত চামিরা।

তামিমকে আম্পায়ার আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে প্রথম সাফল্য পায় শ্রীলঙ্কা, একই ওভারে লেগ-বিফোরের ফাঁদে পড়েন সাকিব আল হাসানও। সমালোচনাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে লিটন দাসের উপরেই আস্থা রাখে টিম ম্যানেজমেন্ট, অতি সাবধানী ব্যাটিংয়ে মনে হচ্ছিলো সেই আস্থার প্রতিদান দিবেন লিটন।

কিন্তু, ২৫ রানেই আউট হয়ে যান তিনি। হাত খুলতেই পয়েন্টে হাসারাঙ্গার কাছে তালুবন্দি হন তিনি৷ এরপর মিথুনের বদলি মোসাদ্দেকও পারেননি ভালো করতে। ঘুরে ফিরে সেই নির্ভরতা, সেই জুটি। মাহমুদউল্লাহ আর মুশফিকের জুটিতে ১৫০ রান পার করে বাংলাদেশ।

৪১ রানে ভুল শটে রিয়াদ আউট হলেও ফিফটি তুলে নেন মুশফিক। আফিফ নেমে বৃষ্টির সম্ভাবনায় কিছুটা দ্রুত রান তোলাতে মন দেন। ৩৬ ওভারে ১৭৫ রান বাংলাদেশের। ৪১.১ ওভার হওয়ার পর ১৯৬/৭ উইকেটে পৌছে বাংলাদেশ। এসময় বৃষ্টি শুরু হলে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। মুশফিক ৮৫ রানে অপরাজিত ছিলেন।

৯৬ রানের সময় দ্বিতীয়বার বৃষ্টির কবলে পড়েন মুশি, এরপর বিরতি থেকে ফিরে ১১৪ বলে নিজের ৮ম ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নেন মুশফিকুর রহিম। ৪৬ ওভারে ২৩১ রানে ৭ উইকেট বাংলাদেশের। ততক্ষণে সঙ্গ দিচ্ছেন সাইফুদ্দিন। ২৯ বলে ১১ এই বাঁহাতির। এরপর সাইফুদ্দিন ফিরলে আসেন শরিফুল।

৪৮তম ওভারের প্রথম দুই বলে বাউন্ডারির পর সিঙ্গেল নেন মুশফিক। প্রথম বলেই উদানার বলে আউট হয়ে যান। ২৪৬ রানে ৯ উইকেটে তখন বাংলাদেশ। মুস্তাফিজুর এসে শেষ দুই বল টিকে থাকেন। ৪৯তম ওভারে আবারো স্ট্রাইকে আসেন মুশফিক, কিন্তু প্রথম বলেই ক্যাচ আউট হয়ে যান তিনি। ২৪৬ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

বাংলাদেশ ২৪৬/১০, ৪৮.১ ওভার; (মুশফিকুর রহিম ১২৫, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৪১, লিটন দাস ২৫, তামিম ইকবাল ১৩, দুশমন্ত চামিরা ৩/৪৪, লক্ষণ সান্দাকান ৩/৫৪, ইসুরু উদানা ২/৪৯)।

শ্রীলঙ্কা ১৪১/৯, ৪০ ওভার; (৪০ ওভারে লক্ষ্য ২৪৫ রান); (দানুস্কা গুনাথিলাকা ২৪, পাথুম নিসাঙ্কা ২০, ইসুরু উদানা ১৮*, কুশাল মেন্ডিস ১৫, আসেন বান্দারা ১৫, মুস্তাফিজুর রহমান ৩/১৬, মেহেদি হাসান মিরাজ ৩/২৮, সাকিব আল হাসান ২/৩৮, শরিফুল ইসলাম ১/৩০)।

বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশ ১০৩ রানে জয়ী।

ম্যাচ সেরাঃ মুশফিকু রহিম।