ফুটবল > আন্তর্জাতিক ফুটবল

কোপা আমেরিকা ২০২১ : লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার সব সমীকরণ, রেকর্ড ও সময়সূচী

নিউজ ডেস্ক

১ মে ২০২১, দুপুর ১০:৩০ সময়

[ 2b3989b887bab251ab58de302752d96e ]
ঘরের মাঠে এবার কোপার শিরোপা নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে নামবে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা৷ লিওনেল মেসি অনেক অনেক ক্লাব শিরোপা জিতেছেন, সর্ব্বোচ্চ সংখ্যক ব্যালন ডি'অর জিতেছেন, অনেক অনেক গোলের রেকর্ড করেছেন কিন্তু শিরোপা জিততে পারেননি দেশের হয়ে৷ আক্ষেপ ঘোচানোর সুযোগ আরেকবার পেতে যাচ্ছেন সুপারস্টার লিওনেল মেসি। গ্রুপ পর্বের দলগুলো নিয়ে আলোচনায় আজকের দলের নাম লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা।
গ্রুপ 'এ' তে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ, বলিভিয়া, চিলি, প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়ে। আর্জেন্টিনা বনাম চিলি, ১৪ই জুন, ভোর ৩:০০টা স্বাভাবিকভাবেই এই গ্রুপ থেকে কোয়াটার ফাইনালে ওঠা হবে আর্জেন্টিনার জন্য তুলনামুলক সহজ। উদ্বোধনী ম্যাচে মেসিদের পরীক্ষা দিতে হবে ল্যাটিন আমেরিকার পাওয়ার হাউস চিলির বিপক্ষে। ১৩ ই জুন বাংলাদেশ সময় ভোর ৩ টার সময় চিলির মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা৷ যে কোন দলের জন্যই গ্রুপ স্টেজে প্রথম ম্যাচ জেতা অনেক গুরত্বপুর্ণ। আর্জেন্টিনার জন্য প্রথম ম্যাচে জেতাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। চিলির বিপক্ষে রেকর্ডঃ ঘরের মাঠে আর্জেন্টিনা এখন পর্যন্ত চিলির বিপক্ষে ম্যাচ খেলেছে ৪৪ টি, হারেনি একটিও। ৩৬ বার জিতেছে আকাশি নীলরা, বাকি ৮টি ড্র। ঘরের বাইরে ৩৩ ম্যাচে ১৪টি জিতেছে মেসিরা, ১৩টি ড্র আর ম্যাচ হেরেছে ৬টি। কোপা আমেরিকায় মোট মুখোমুখি হয়েছে ২৯ বার, তার মধ্যে ২১ বারই জিতেছে আর্জেন্টিনা, ৮ বার ড্র করেছে দুই দল। আর্জেন্টিনা বনাম উরুগুয়ে, ১৮ই জুন, সকাল ৬ টা ৫ দিন পর আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে পরাশক্তি লুইস সুয়ারেজের উরুগুয়ে। ১৮ই জুন বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টার সময় লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে গ্রুপ স্টেজের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে। গ্রুপের বাকি দলগুলোর তুলনায় আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ উরুগুয়ে। প্রথম ম্যাচ জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচও যদি জিততে পারে তবে সেমির টিকিট পেতে খুব বেশি কষ্ট হবে না মেসির আর্জেন্টিনার৷ উরুগুয়ের বিপক্ষে রেকর্ডঃ মেসির আর্জেন্টিনা উরুগুয়ের বিপক্ষে ৮৭ টি ম্যাচ জিতেছে, ম্যাচ হেরেছে ৫৭ টি, ম্যাচ ড্র করেছে ৪৫ টি। ঘরের মাঠে ৯৫টি ম্যাচে ৬১টি জয় আর্জেন্টিনার। ঘরের বাইরে ৮৭টি ম্যাচের ২২টি জয় মেসিদের। কোপা আমেরিকায় ১৪টি হোম ম্যাচের ১১টিতেই জয় মেসিদের, অ্যাওয়ে ১১ ম্যাচে এখনও ১ ম্যাচও জেতেনি মেসিরা৷ আর্জেন্টিনা বনাম প্যারাগুয়ে, ২১শে জুন, ভোর ৫টা মাঝে দুইদিন বিরতি দিয়েই আবার মাঠে নামতে হবে ম্যারাডোনার শীষ্যদের৷ ২১ শে জুন আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েন্স আয়ারসে বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টার সময় মেসিরা নামবে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে। তুলনামুলক সহজ প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জয় প্রত্যাশা করতেই পারে আকাশি নীল ভক্তরা। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে রেকর্ডঃ প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ৫৫টি হোম ম্যাচের ৩৩টি জিতেছে মেসিরা। ১৮টি ড্র আর হেরেছে ৪টি। ৪২টি অ্যাওয়ে ম্যাচে ১৭ জয়ের বিপক্ষে হার ১২টিতে, ড্র ১৩টি৷ কোপা আমেরিকায় ২৫ ম্যাচে ১৯ টিই জিতেছে মেসিরা। আর্জেন্টিনা বনাম বলিভিয়া, ২৮শে জুন, ভোর ৩টা গ্রুপ স্টেজের শেষ ম্যাচে ২৮শে জুন বাংলাদেশ সময় ঠিক ভোর ৩টার সময় বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে বলিভিয়ার বিপক্ষে। সমুদ্র পৃষ্টের অনেক উপরে থাকা দেশটির সাথে খেলতে হলে শক্তির দিক থেকে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হতে পারে আর্জেন্টিনার। তবে দলটা যখন মেসির আর্জেন্টিনা তখন জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাববে না কেউ৷ বলিভিয়ার বিপক্ষে রেকর্ডঃ আর্জেন্টিনা বলিভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ জিতেছে ৩৯টি। জিতেছে ২৭টি, ৫টি ড্র আর ম্যাচ হেরেছে ৭টি। ঘরের মাঠে ১৮টি ম্যাচের ১৭টিই জিতেছে মেসিরা৷ কোপা আমেরিকায় ঘরের মাঠে ৭ ম্যাচের ৭ টিতেই জয় আর্জেন্টিনার। নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ৬টির ৪টিই জিতেছে আর্জেন্টিনা। কোয়ার্টার ফাইনাল চার দলের মধ্যে চারটিই জিতে গ্রুপ পর্ব পার করতে চাইবে আর্জেন্টিনা৷ তবে কমপক্ষে ২টি জেতার কোন বিকল্প নেই মেসিদের হাতে। সেক্ষেত্রে প্রথম দুইটি ম্যাচ হবে মেসিদের জন্য খুব গুরত্বপূর্ণ। চিলি এবং উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ হারলে বিপদে পড়তে হতে পারবে লিওনেল মেসির। তবে খুব সহজেই এই গ্রুপের চারদলের একটি হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার কথা আ্জেন্টিনা। সেমিফাইনাল ও ফাইনাল কোয়ার্টার ফাইনালগুলো অনুষ্ঠিত হবে ৩ জুলাই থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত। কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে পারে নেইমারের ব্রাজিল, কলোম্বিয়া, ইকুয়েডর, পেরু, ভেনিজুয়েলার যে কেউ৷ আর্জেন্টিনা যদি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় আর ব্রাজিলও যদি প্রত্যাশিত মত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় তবে কোয়ার্টার ফাইনালে সুপার ক্লাসিকো দেখা হচ্ছে না। আর্জেন্টিনার সামনে পড়তে পারে কলোম্বিয়া, ইকুয়েডর কিংবা ভেনিজুয়েলা। লিওনেল মেসির হাতে অন্তত একটি ন্যাশনাল ট্রফির প্রত্যাশায় থাকা আর্জেন্টিনা দল খুব সহজেই এই রাউন্ড পার করার আশা করতেই পারে। সেমিফাইনাল হবে ৭ ও ৮ জুলাই। সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হতে পারে ব্রাজিল অথবা ইকুয়েডর অথবা উরুগুয়ের মত প্রতিপক্ষদের যদি খুব বড় অঘটন না ঘটে৷ কোপা আমেরিকায় যদিও খুব বড় অঘটন ঘটবার সম্ভাবনা কম থাকে৷ এরপরই ফাইনাল। লিওনেল মেসি কি পারবেন নিজের মাঠে শিরোপা উচিয়ে ধরতে? পারবেন কি চোখের পানিগুলো শুকিয়ে আনন্দের কান্না ঝরাতে? ১১ জুলাই এর ফাইনালে সবার প্রত্যাশা অবশ্য থাকবে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত ফুটবল দেখার। ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা! তবে এমন উপলক্ষ তৈরী করতে দুই দলকে আগের সবগুলো ম্যাচে নিজেদের রাজত্ব প্রমাণ করতে হবে।