ফুটবল > বাংলাদেশ ফুটবল

খেলোয়াড়দের ঈদ যেন সুখের মোড়কে চাপা আক্ষেপ

নিউজ ডেস্ক

১৩ মে ২০২১, রাত ১১:৩৮ সময়

[ fb_img_1620948132638 ]
ছবিটি সংগৃহীত
সম্পাদকীয় কলাম 
সূর্য উঠার সাথে সাথে অনেক কিছুই বদলে যায়, বদলে যায় আস্ত একটা দিন। রোজার ত্রিশটা দিনের পর নতুন সকালটা যেমন পুরোই আলাদা। আলাদা নতুন একটা দিন, খুবই আনন্দের একটা দিন। মুসলমানদের ধর্মীয় সবথেকে বড়দিন এই ঈদুল ফিতর। না লিখাটা ঈদুল ফিতর নিয়ে না, খুব বেশি বড় লিখা না, লিখাটা কৃতজ্ঞতা জানাতে। ২০১৯ সালের কথাটাই সবার আগে বলি, দুই বছর আগের ঘটনা যেহেতু সবারই মনে থাকবে। বিট্রিশ মুল্লুকে লাল সবুজের হয়ে বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ দল অনেক আগেভাগেই ইংল্যান্ড যাত্রা করেছিল। সেখানে থাকা অবস্থায়ই ঈদের সময় আসে, সেখানেই ঈদ করতে হয় ক্রিকেটারদের সহ সংশ্লিষ্ট সকলের। অনেকের কাছেই মনে হতে পারে এ আর এমন কি! ক্রিকেটাররা অনেক আরামে আয়েশে থাকেন, সকল সুযোগ সুবিধা আর ভালবাসা নিয়ে ভিনদেশেও বেশ ঈদ করেন তারা। তাদের কাছে প্রশ্ন, "এত কষ্ট করে কামায় করে সেই টাকা খরচ করে, ভীড় ঠেলে কেন ঈদে গ্রামে যান? ঢাকায় থাকলে তো অনেক টাকা বেঁচে যেত!" [caption id="attachment_25303" align="aligncenter" width="701"] ছবিটি সংগৃহীত[/caption] জাতীয় দলের ক্রিকেটার কুষ্টিয়ার মিথুন ভাইকে একদিন কুরবানী ঈদে গরুর হাটে দেখেছিলাম অনেক মানুষজন সাথে নিয়ে গরু কিনছেন খুব খুশি মনে। মিরপুরে একদিন মিথুন ভাইকে জিজ্ঞেস করেছিলাম গল্পের ছলে, ভাই ঈদে কুষ্টিয়া তো যেতে পারবেন না এবার। কথা সেখান থেকে কেড়ে নিয়েই তার উত্তর,
"আর ভাই! ঈদের সময় ভাবি প্রতিবার যে এবার তো হলো না পরের বার সময় নিয়ে যাবো। পরেরবার আসে না আর, হয় খেলা থাকে না হয় ঈদের অল্প ক'দিন পরেই ক্যাম্প শুরু হয়। কিভাবে আর যাবো!"
সাংবাদিক সুলভ একটা রেডি প্রশ্ন তখন করেই বসলাম। "মন খারাপ হয় না?" খানিকক্ষণ হেসে বললেন,
"কি, নিউজ করবেন নাকি! আসলে মন খারাপ হয় কিন্তু পরে আবার ঠিক হয়ে যায়, মাঠে আসলে আর তেমন কিছু মনে থাকে না।"
এই যে এবারের কথায় না হয় বলি, সামনের শ্রীলংকার সফরের জন্য সব ক্রিকেটার নিজের বাড়িতে সীমিত মানুষদের প্রবেশে ঈদ করবেন, কেউ কেউ আছেন বদ্ধ কোয়ারান্টাইনে। কভিড থেকে বাঁচতে, দেশের হয়ে মাঠে নামতে ক্রিকেটারদের সুযোগ হবে না বন্ধু কিংবা পরিবারের সকলকে সামনে থেকে শুভেচ্ছা জানানোর, দুটো গল্প করার। এগুলো কি ত্যাগ না? এরকম গল্প সবারই, ক্রিকেটের জন্য, দেশের জন্য খেলতে গিয়ে বেশিরভাগ জাতীয় ক্রিকেটাররা প্রতিটা ঈদে বাড়িতে যেতে পারেন না। ঢাকাতে থাকলে হয়ত বাবা মাকে ডেকে পাঠান, দেশের বাইরে যেতে হলে সেই সুযোগও কম। বিদেশ সফরে খুব কম ক্রিকেটারই সাথে পরিবার নিয়ে যেতে পারেন। পুরো পরিবারের খরচ মিটিয়ে নিয়ে যাওয়া তো আর সহজ না। শুধু ক্রিকেট না, খেলাধুলার প্রতিটি সেকশনে যারা দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন, তারা এভাবেই বছরের সবথেকে ছুটির দিনটাকেও বিসর্জন দিতে দুইবার ভাবেন না৷ সবার আগে দেশ, একটাই কথা। সেই সাথে খেলাধুলার সবকিছু সাধারণ মানুষ যাদের কল্যাণে দেখতে পাই, জানতে পারেন, বুঝতে পারেন সেই ক্রীড়া সাংবাদিক, ছবি সাংবাদিক কিংবা সংশ্লিষ্ট সকলকেই পাড়ি দিতে হয় অনেক দুরের পথ, পেছনে থাকে প্রিয়জনের মায়া। ঈদ বাড়িতে না করার আকুতি। সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা। দেশের খেলাধুলা যখন সারা বিশ্বে বাংলাদেশ নামটা উচ্চারিত হতে বাধ্য করে তখন সেখানে মিশে থাকে এরকম অনেক ত্যাগ, কষ্টের গল্প।