ফ্যান রিয়াকশনঃ কে কি বলছে বাংলাদেশ-ওমান ম্যাচ নিয়ে?

প্রকাশ: সোমবার, ১৪ জুন, ২০২১ | ১৬:৫৫:০৫

মোঃ রানা শেখ

দোহাকে ‘সল্ট লেক’ বানাতে পারলো না বাংলাদেশ

কাতারের জসিম বিন হামাদ স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানকে ১-১ গোলে রুখে দেয়ার পর ভারতের বিপক্ষে পজিটিভ ফলাফলের আশায় বুক বেধেছিল বাংলাদেশীরা। কিন্তু সেই আশায় গুড়ে বালি হয়েছিল সুনী ছেত্রীর করা দুই গোলে। ৭৯ মিনিট অব্দি ভারতকে আটকে রাখতে পারলেও শেষ ১১ মিনিট আর নিজেদের রক্ষণ রক্ষা করতে পারেনি তপু-তারিকরা, ২-০ গোলের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল জামাল ভুইয়াদের।

ভারতের বিপক্ষে ২-০ গোলে হারলেও ওমানের বিপক্ষে বড় হারের শঙ্কা দেখছেন বাংলাদেশী দর্শকেরা। কেননা শক্তিশালী ওমানের বিপক্ষে বাংলাদেশ পাচ্ছে না নিয়মিত একাদশের ৫ ফুটবলারকে। জামাল ভুইয়া, বিপলু আহমেদ ও রহমত মিয়া থাকছে হলুদ কার্ডের খপ্পরে পড়ে। এছাড়া ইঞ্জুরির কারণে নেই মাসুক মিয়া জনি ও সোহেল রানা। সেই সাথে বাংলাদেশ থেকে ফিফা র‍্যাংকিং ও শক্তি সামর্থ্যেও এগিয়ে ওমান। প্রথম লেগে ওমানের কাছে ৪-১ গোলে হারলেও এই ম্যাচে সম্মানজনক ফলাফল প্রত্যাশা করছে লাল সবুজের ফুটবল প্রেমীরা।

বাংলাদেশ-ওমান ম্যাচ ঘিরে বেশ কয়েকজন ফুটবল প্রেমীর সাথে কথা বলেছে ডেইলিস্পোর্টসবিডি। তারা জানিয়েছে তাদের প্রত্যাশা ও মতামত। চলুন দেখে নেওয়া যাক কে কি বলছেঃ

সম্রাট মহিম তালুকদারঃ

বাংলাদেশ ওমান ম্যাচ নিয়ে হারানোর কিছু নেই! বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের যা হওয়ার তা হয়ে গেছে! একটা সসম্মানজনক রেজাল্ট আশা করবো বাংলাদেশের কাছে। কার্ড ও ইঞ্জুরির জন্য দলের গুরুত্বপূর্ণ ৩-৪ জন খেলোয়াড়কে পাওয়া যাবে না! আর যারা চান্স পাবে তাদের নিজেদের সেরাটা দিয়ে খেলতে হবে। ডিফেন্স লাইন মজবুত করে খেলা লাগবে! ভারতের সাথে ডিফেন্স লাইনের ভুলগুলো শুধরে নিলে ভাল ফলাফল আশা করা যায়।

কিন্তু আফসোসের জায়গা একটাই আফগানিস্তান, ভারত ও ওমানের সাথে এই ৩টা বাংলাদেশের মাটিতে হলে ফলাফল বাংলাদেশের অনুকূলে থাকতো! কিন্তু করোনা ভাইরাস সব এলোমেলো করে দিল।

যাই হোক শুভকামনা বাংলাদেশ দলের জন্য

সারোয়ার আলম খানঃ

সামর্থ্য ও অভিজ্ঞতার নিরিখে বাংলাদেশ অবশ্যই পিছিয়ে। ওমানের সাথে আমাদের হারানোর কিছু নেই। আমি মনে করি ডিফেন্সিভ খেলে স্কোর কন্সিড না করে ওপেন প্লে শো করা উচিত।

নাহিদ এইচ সম্রাটঃ

আমি কখনোই বাস্তবতা উপেক্ষা করে প্রত্যাশার স্বর্গে ভাসি না। আমাদের জন্য অপেক্ষাকৃত সহজ ম্যাচ ছিলো ভারত এবং আফগানিস্তানের বিপক্ষের ম্যাচ যেখান থেকে আমাদের প্রাপ্তির পাল্লা ভারী করা যেতো। বলতে দ্বিধা নেই ওমানের বিপক্ষে সম্মানজনক হারেই আমি সন্তুষ্ট থাকবো।

মাহমুদুল রিফাতঃ

ওমানের বিপক্ষে আমাদের হারানোর কিছুই নেই। গত ম্যাচে ওমান আফগানিস্তানের সাথে ২-১ গোলের ব্যবধানে জয় পেয়েছে। ওরা ভালো দল, আমাদের চেয়ে ফিজিক্যালি হোক বা টেকনিক্যালি, সবদিক থেকে অনেক এগিয়ে। ওদের বিপক্ষে আমরা বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ প্লেয়ার ছাড়াই মাঠে নামবো। আমরা প্রথম রাউন্ডে অ্যাওয়ে ম্যাচে ৪-১ গোলে হেরেছিলাম, সবমিলিয়ে এ ম্যাচে বড়জোর ১ পয়েন্ট বের করে নিয়ে আসতে পারলেই খুশি হবো যদিও সহজ হবে না কাজটা।

ওমায়েস সরকারঃ

একজন বাংলাদেশি হিসেবে নিজের দলের জয় ছাড়া বিকল্প কিছু ভাবতে পারি না। বাংলাদেশ বনাম ওমান খেলায় আমরা হারি অথবা জিতি ফলাফল যাই হোক বাংলাদেশ টিমের কাছে একটাই চাওয়া তারা যেন সুন্দর একটা ম্যাচ আমাদের উপহার দেয়। ফলাফল যাই আসুক খেলা দেখে যেন মনে শান্তি পাই।

আওসাফ তাসিনঃ

এখনই জয়ের স্বপ্ন দেখছি না। আমাদের ডিফেন্ডারদের ম্যান মার্কিংয়ে আরও মনযোগী হতে হবে। সেই সাথে মিডফিল্ড এবং স্ট্রাইকারদেরও খুব দ্রুত পাসিং বিল্ডাপের সাহায্যে আক্রমণে গিয়ে গোলের সুযোগ করতে হবে। তাহলেই হয়তো এই ম্যাচ থেকে একটা ভালো ফলাফল আমরা পেতে পারি।

আগামীকাল (মঙ্গলবার) কাতারের জসিম বিন হামাদ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১১ঃ১০ মিনিটে শুরু হবে ম্যাচটি, সরাসরি দেখা যাবে টি-স্পোর্টস ও জিটিভির পর্দায়।