লাথি মেরে স্ট্যাম্প ভাঙার ঘটনা ঘটানোয় সাকিবই প্রথম নন

প্রকাশ: শনিবার, ১২ জুন, ২০২১ | ১০:৩৬:৩৮

Nazmussakib Rumman

লাথি মেরে স্ট্যাম্প ভাঙার ঘটনা ঘটানোয় সাকিবই প্রথম নন ছবিঃ সম্পাদিত।

গতকাল (শুক্রবার) আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচের হারানো সেই উত্তজনা ফিরে আসলো সাকিব আল হাসানের কল্যাণে। তবে তা কোন সদুপায়ে নয়। মেজাজ হারিয়ে লাথি মারলেন স্ট্যাম্পে। মুহুর্তেই ২২ গজ আর গ্যালারিতে থাকা গুটি কয়েক দর্শক ছাপিয়ে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়লো ক্রিকেট পাড়ায়।

ঘটনা এখানেই শেষ হলে ভালো হতো! কিন্তু ‘শেষ না দেখে ছাড়ছি না’ মনোভাবাপন্ন সাকিব আরো দুবার ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ দেখিয়েই ক্ষান্ত দিলেন। দু’হাতে স্ট্যাম্প তুলে আছাড় দেয়া থেকে শুরু ড্রেসিং রুমে যাবার পথে খালেদ মাহমুদ সুজনের সাথেও একদফা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া করে গেলেন।

পরে অবশ্য সাকিব তার এহেন অখেলোয়াড় সুলভ আচরণের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে অঙ্গিকার করেছেন, এমনটি আর কখনও হবে না। তবে জল যতদুর গড়ানোর তা গড়িয়েই গেছে। ডিপিএল আয়োজক কতৃপক্ষ জানিয়েছে, ম্যাচ রেফারির রিপোর্ট অনুযায়ী আর্থিক বা আর্থিক এবং ম্যাচ নিষিদ্ধ উভয় দন্ডে দন্ডিত হতে পারেন তিনি।

উত্তাপ ছড়ানো ম্যাচে মোহামেডানের জয়

ছবিঃ সংগৃহীত

সাকিবের এভাবে লাথি মেরে স্ট্যাম্প গেঙে ফেলার ঘটনা ঘটায় ফিরে এলো ৪১ বছর আগের পুরোনো স্মৃতি। বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার মনে করালেন কিংবদন্তি মাইকেল হোল্ডিংকে। যিনি সাকিব আল হাসানের জন্মেরও ৭ বছর আগে লাথি মেরে স্ট্যাম্প ভাঙার মতো গর্হিত কান্ড ঘটিয়েছিলেন।

হোল্ডিংয়ের সাথে সাকিব আল হাসানেরও অবশ্য মিল আছে। স্ট্যাম্প ভাঙার সময় এই জ্যামাইকান তারকাও বোলিং করছিলেন। ঘটনা ক্রাইস্টচার্চে নিউজিল্যান্ড বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার আন্তর্জাতিক ম্যাচের। ২৮ রানে নিউজিল্যান্ডের ২ উইকেট নেয়ার পর শর্ট রানাপ নিয়ে ৬ষ্ঠ স্ট্যাম্প বরাবর আউট সুইং একটি ডেলিভারি করেন হোল্ডিং। সাথে সাথে ব্যাটসম্যানের গ্লাভসের কাছাকাছি অঞ্চল ঘেঁষে বল চলে যায় উইকেট কিপারে হাতে। সাথে সাথে দীর্ঘসময় ধরে আউটের আবেদন করতে থাকেন ফিল্ডাররা। হোল্ডিংয়ের করা বলে কট বিহাইন্ডের আবেদন অবশ্য ফিরিয়ে দেন আম্পায়ার ফ্রেড গুডোল। সেদিন প্রচন্ড রাগে কটমট করতে থাকা হোল্ডিং লাথি দিয়ে ফেলে দেন স্ট্যাম্প।

লাথি দিয়ে স্যাম্প ভাঙছেন মাইকেল হোল্ডিং। ছবিঃ সংগৃহীত।

তবে তখনকার সময়ে এমন কড়াকড়ি বা নির্দিষ্ট আচরণবিধি না থাকায় ঘটনা সেখানেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। আইন না থাকায় কোনও ধরনের শাস্তি সেদিন হোল্ডিং না পেলেও ভদ্রলোকের খেলা ক্রিকেটের স্প্রিট ভঙ্গ করায় তার ক্যারিয়ারের একটি কালো অধ্যায় হয়েই আছে ক্রাইস্টচার্চে স্ট্যাম্প ভাঙার মতো গর্হিত কান্ড।

ওই সিরিজে হোল্ডিং এমন নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি না ঘটালেও অপর একটি ম্যাচে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পেরে গুডোলকে কনুই দিয়ে আঘাত করেছিলেন হোল্ডিংয়ের সতীর্থ কলিন ক্রাফট। পুরো সিরিজ জুড়েই বিতর্কিত আম্পায়ারিং করে প্রচুর সমালোচিত হয়েছিলেন এই আম্পায়ার।

হোল্ডিং অবশ্য নিজের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চেয়েছিলেন, একই কাজ করেছেন সাকিব নিজেও। তবে সাকিবের উজ্জ্বল ক্যারিয়ারে এমন বিতর্কিত ঘটনা কিছুটা হলেও আষাঢ়ের কালো মেঘ হয়েই থাকবে।