ফিচার

দুয়ারে ইউরো : প্রচন্ড আত্মবিশ্বাসী এনরিকে, রিয়ালবিহীন স্পেন স্কোয়াডের পোষ্টমর্টেম

নিউজ ডেস্ক

১ জুন ২০২১, দুপুর ৪:৩৯ সময়

[ spain-winner-uefa-euro-2012-25648605 ]
ছবিঃ ইন্টারনেট
আজ থেকে চলতি মাসে অনুষ্ঠিতব্য উয়েফা ইউরোর জায়ান্ট দলগুলোর স্কোয়াড নিয়ে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করবে ডেইলিস্পোর্টসবিডি। ধারাবাহিক এই আলোচনায় আমরা শুরুতেই পোস্টমর্টেম করেছি এই শতাব্দীর উদীয়মান ফুটবল পরাশক্তি স্পেন নিয়ে। কেমন হতে পারে এই শতাব্দীর ব্যাক টু ব্যাক উয়েফা ইউরো জয়ী স্প্যানিশ দলের শুরুর একাদশ তা নিয়েই আমাদের আজকের আলোচনা। একবিংশ শতাব্দীতে যে কয়েকটি দেশ নতুন করে তাদের নান্দনিক ফুটবল খেলা দিয়ে ফুটবল প্রেমীদের মাতিয়েছে তাদের মধ্যে নিঃসন্দেহে স্পেনের নামটি প্রথম সারিতে থাকবে। দুটো ইউরো ও একটি বিশ্বকাপ ইউরোপিয়ান ফুটবলে এই শতাব্দীতে সবচেয়ে সফল দল লা রোজারাই। বর্তমানে ক্লাব ফুটবল কিংবা আন্তর্জাতিক ফুটবল সব জায়গায় স্প্যানিশদের দাপট রয়েছে চোখে পড়ার মত এমনকি এ সময়ে সারাবিশ্বে স্প্যানিশ কোচরাও শাসন করছে স্পষ্টতই। বেলজিয়ামে রবার্তো মার্টিনেজ, ম্যানচেস্টার সিটির কোচ পেপ গার্দিওলা, সদ্য ইউরোপা লিগ জয়ী ভিয়ারিয়ালের উনাই এমেরি, নিউক্যাসেলের রাফায়েল বেনেতিজ, মালাগার জোসে মিগুয়েল ও সেভিয়ার হুয়ান লোপেতেগি। লিবিয়ার সাবেক কোচ হ্যাভিয়ের ক্লিমেন্ট, স্পেনের সাবেক কোচ ভিসেন্তে দেল বস্ক, বর্তমান কোচ কোচ লুইস এনরিকে এ নামগুলো স্পেনের ফুটবল ঐতিহ্য এবং গভীরতা সম্পর্কে ধারণা দেয়। দ্যা গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ ফুটবল বিশ্বকাপের পর সবচেয়ে জনপ্রিয় আসর হচ্ছে, ইউরো চ্যাম্পিয়নশীপ। স্পেন উয়েফা ইউরোর ইতিহাসের অন্যতম সফল দল। একবিংশ শতাব্দীতে সর্বাধিক দুবার, ইউরোর ইতিহাসে জার্মানির সঙ্গে সর্বাধিক তিনবার শিরোপা জয়ী দল স্প্যানিশরা। প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সর্বাধিক টানা দুবার ইউরো জয়ী দলও হলো লা রোজারাই। [caption id="attachment_29760" align="aligncenter" width="800"] ছবিঃ ইন্টারনেট[/caption] সবমিলিয়ে এবার চলতি আসরে ইউরোয় দশমবারের মত অংশ নিতে যাচ্ছে স্পেন। এ উপলক্ষে ২৪ সদস্যের দলও ঘোষণা করেছে স্প্যানিশ কোচ লুইস এনরিকে। সাবেক বার্সেলোনা কোচের ইউরো স্কোয়াডে সবচেয়ে বড় চমক, কাপ্তান সার্জিও রামোসসহ নেই কোন রিয়াল মাদ্রিদ ফুটবলার। ইতিহাসে এবারই প্রথম কোন মাদ্রিদ ফুটবলার ছাড়াই বড় কোন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে স্প্যানিশরা। যা নিয়ে প্রচন্ড সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে লুইস এনরিকেকে! ২০২০ ইউরো চ্যাম্পিয়নশীপে স্পেন খেলবে গ্রুপ ই তে। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে আছে সুইডেন, পোল্যান্ড ও স্লোভাকিয়া। গ্রুপপর্বের তিনটি দলের বিপক্ষে মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে আছে স্প্যানিশরা। সবশেষ ২০১২ সালে ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন এবার আসরের ক্যাম্পেইন শুরু করবে ঘরের মাঠে সুইডেনের বিপক্ষে। এই দলটির বিপক্ষে লা রোজারা সব ধরনের প্রতিযোগিতায় ১৩ ম্যাচ খেলে জয় পেয়েছে ৬টি। ৩ ম্যাচ হারের বিপরীতে ৫টি। গ্রুপপর্ব স্প্যানিশরা দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে সময়ের অন্যতম সেরা ফুটবলার রবার্ট লেওয়ানডস্কির পোল্যান্ডের বিপক্ষে। পোলিশদের বিরুদ্ধে সবধরনের প্রতিযোগিতায় একচ্ছত্র আধিপত্য স্পেনের। এ দলটির বিপক্ষে ১০ ম্যাচ খেলে ৮টিই জয় পেয়েছে স্প্যানিশরা। যেখানে হার মাত্র একটি। এবার ইউরোয় স্পেনের শেষ ম্যাচটি তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ স্লোভাকিয়া। সবধরনের প্রতিযোগিতায় এই দলটির বিপক্ষে ৬ ম্যাচ খেলে ৪ জয়ের বিপরীতে হার একটি। [caption id="attachment_29761" align="aligncenter" width="794"] ছবিঃ ইন্টারনেট[/caption] সবকিছু বিবেচনা করলে পরিসংখ্যান, ইতিহাস ও ঐতিহ্যে গ্রুপপর্ব অনায়াসেই পার করে আসার কথা স্প্যানিশদের। যদিও গেলবারের ক্ষত কাটিয়ে উঠতে বেশ সাবধানী লা রোজারা। সম্ভবত, তাই ইউরোয় কোচ লুইস এনরিকের ২৪ সদস্যের স্কোয়াডের স্পেন দলে যেমন সার্জিও বুসকেতসের মত অভিজ্ঞ ফুটবলাররা জায়গা পেয়েছে, ঠিক তেমনি পেদ্রি, রদ্রি ও ফেরান তরেসের মত তরুণ ফুটবলারদেরও জায়গা হয়েছে। লুইস এনরিকের বেশ অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেলে গড়া ২৪ সদস্যের স্কোয়াড নিয়ে আলোচনা করলে শুরুর একাদশে থাকার যোগ্যতা রাখে অনেকে। বেশকিছু পজিশনে স্প্যানিশদের জায়গা পেতে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। ইউরো চ্যাম্পিয়নশীপে নিয়ম অনুযায়ী ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করার সুযোগ থাকলেও দুজন কমিয়েই ২৪ সদস্যের দল ঘোষণা করেন লুইস এনরিকে। স্পেনের ঘোষিত এই স্কোয়াডের গড় বয়স মাত্র ২৬.০৮ বছর। এই দলের সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার বার্সেলোনার এট্যাকিং মিডফিল্ডার পেদ্রি। যার বয়স মাত্র আঠারো বছর। এই দলের সবচেয়ে বয়স্ক ফুটবলারও কাতালান ক্লাবটিরই 'মধ্যমাঠের মস্তিষ্ক' খ্যাত অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার সার্জিও বুসকেতস। ইউরোর চূড়ান্ত স্কোয়াডে মোট তিনজন গোলরক্ষক নিয়েছেন কোচ লুইস এনরিকে। যাদের মধ্যে দীর্ঘদিন গোলবার পাহারা দেওয়া ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ডেভিড ডি হেয়া ছাড়াও আছেন অ্যাথলেটিকো বিলবাওয়ের উনাই সিমোন ও ক্লাব ব্রাইটনের রবার্ট সানচেজ। মাত্রই ইউরোপা লিগে পেনাল্টি শুট আউটে ব্যর্থ হয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়া ডি হেয়াই স্পেন দলে এতদিন গোলবারে দায়িত্বে থাকলেও ইউরোয় লুইস পছন্দের গোলরক্ষক হবে সম্ভবত বিলবাওয়ের উনাই সিমোন। লুইস এনরিকে দায়িত্ব নেওয়ার পর ২৩ বছর বয়সী এই গোলরক্ষকই এখন স্পেনের দলের নিয়মিত গোলরক্ষক। https://twitter.com/SeFutbol/status/1396773195248803857?s=19 স্পেনের নিজেদের ইতিহাসে জয় করা প্রথম বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তাদের রক্ষণ। ২০১০ বিশ্বকাপে পুরো আসরে প্রতিপক্ষের জালে ৮ গোল করে স্প্যানিশরা হজম করেছিলো মাত্র ২ গোল, যেখানে নক আউট স্টেজে এক গোলও হজম করেনি চ্যাম্পিয়নদের রক্ষণ দুর্গ। এবার ইউরো উপলক্ষেও অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যে নির্ভর রক্ষণ সাজিয়েছে কোচ লুইস এনরিকে। মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে ইতিহাসের অন্যতম সেরা রক্ষণ ফুটবলার সার্জিও রামোসের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কড়া সমালোচনার মুখে পড়লেও ডিফেন্সে লুইস এনরিকের দলে মোট জায়গা হয়েছে ৭ জন ফুটবলারের। স্পেনের ইউরো স্কোয়াডে বয়সে দিক দিয়ে সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ তাদের রক্ষণ। ডিফেন্সে লুইস এনরিকের দলে ডাক পাওয়া ৭ ফুটবলারের বয়সের গড় ২৬.৭১ বছর প্রায়। স্পেনের ইউরো স্কোয়াডে ৭ ডিফেন্ডারের মধ্যে মাত্র একজন রাইটব্যাক হিসেবে আছেন চেলসির হয়ে এই মৌসুমে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সিজার অ্যাজপিলিকুয়েতা। স্পেনের নিয়মিত একাদশে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ দলের তারকা ডিফেন্ডার দানি কার্ভাহালের ইঞ্জুরির সুযোগে জায়গা পাওয়া সদ্য চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী ৩১ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডারের ইউরোর মূল একাদশে থাকার সম্ভাবনা অনেকটাই নিশ্চিত। এই পজিশনে এনরিকের বিকল্প চিন্তায় থাকতে পারে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব লিডস ইউনাইটেডে হয়ে অসাধারণ পারফরম্যান্স করা দিয়েগো লরেন্তে। চলতি মৌসুমের শুরুতে ইঞ্জুরিতে পড়ে বেশকিছু ম্যাচ মিস করলেও প্রিমিয়ার লিগে সবশেষ ১৫ ম্যাচের ১৩টিতেই ছিলেন লিডসের শুরুর একাদশে। আসরে নিজেদের রক্ষণ দুর্গ ঠিক রাখতে স্পেনের ২৪ সদস্যের ইউরো স্কোয়াডে লেফটব্যাক আছে দুজন - বার্সেলোনার অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার জর্দি আলবা ও ভ্যালেন্সিয়ায় ফর্মের তুঙ্গে থাকা জোসে গায়া। এই পজিশনে শুরুর একাদশে জায়গা পেতে এদের দুজনই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। ডিফেন্সের জন্য গায়া একটু এগিয়ে থাকলেও, অভিজ্ঞতা ও একসময়ে লুইস এনরিকের বার্সেলোনা দলের নিয়মিত সদস্য হওয়ায় এখানে জর্দি আলভাই ফেভারিট। তাছাড়া, রক্ষণ সামলিয়ে দলের গোলের যোগানে পটু এই ডিফেন্ডারের প্রতিপক্ষের রক্ষণছেড়া পাস বদলে দিতে পারে ম্যাচের গতি প্রকৃতি। স্পেনের হয়ে সবধরনের প্রতিযোগিতায় ৭২ ম্যাচে ১৫ গোলের যোগানদাতা ৩২ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার চলতি মৌসুমে ক্লাবেও বার্সেলোনার হয়ে ৪৯ ম্যাচে ১৫ গোলের যোগান দিয়েছে। স্পেনের ইউরো স্কোয়াডে সবচেয়ে বেশি সমালোচনা সৃষ্টি হয় যে পজিশন নিয়ে তা হল সেন্টার ব্যাক। পুরো ফিট ও মৌসুমের বেশিরভাগ ম্যাচ খেলতে না পারায় যে কারণে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের স্কোয়াডে নেই রিয়াল মাদ্রিদের কাপ্তান সার্জিও রামোস, ঠিক একই কারণ থাকার পরও জায়গা হয়েছে এরিক গার্সিয়ার। প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে মৌসুমের বেশিরভাগ সময় বেঞ্চে সময় কাটানো এই ডিফেন্ডার সবধরনের প্রতিযোগিতায় ম্যাচ খেলেছেন মাত্র ১২টি। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ২২ ম্যাচ পেপ গার্দিওলার দলের স্কোয়াডে থাকার পরও শুরুর একাদশে জায়গা পেয়েছেন মাত্র ৩ ম্যাচে। এমনকি ক্লাব ইতিহাসে প্রথমবার উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল খেলা ম্যানচেস্টার সিটির আসরে জায়গা হয়েছে মাত্র তিন ম্যাচে। গার্সিয়ার সঙ্গে এই পজিশনে লড়াই হবে ভিয়ারিয়ালের হয়ে ফর্মে থাকা পাও তোরেসের। লা লিগায় ভিয়ারিয়ালের হয়ে ২৪ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার সবমিলিয়ে ৪৪ ম্যাচ শুরুর একাদশে খেলেছেন। তাই স্পেনের ইউরোর নিয়মিত একাদশনেও এই পজিশনে গার্সিয়ার চেয়ে তোরেসই এগিয়ে থাকবে। [caption id="attachment_29762" align="aligncenter" width="1080"] ছবিঃ ইন্টারনেট[/caption] এরিক গার্সিয়া ও পাও তোরেসের মধ্যে সেন্টার ব্যাক পজিশনে কে খেলবে তা নিয়ে কিছুটা সন্দেহ থাকলেও সদ্য স্পেনের নাগরিকত্ব পেয়ে ইউরোর স্কোয়াডে জায়গা পাওয়া আইমারিক লাপোর্তা শুরুর একাদশেই থাকবেন তা নিশ্চিত করে বলা যায়। লুইস এনরিকের ভাষ্যমতে, দলের দুই সেন্টার ব্যাকের একজন হবেন ২৭ বছর বয়সী ডিফেন্ডার লাপোর্তা। এবার একটু মধ্যমাঠ নিয়ে কথা বলি। স্পেনের ইউরো স্কোয়াডে সবমিলিয়ে মিডফিল্ডার আছে ৮ জন। এরই মধ্যে সিএম দুজন- অভিজ্ঞ সার্জিও বুসকেতস ও ম্যান সিটি তরুণ মিডফিল্ডার রদ্রি। অভিজ্ঞ দুই ডিফেবডার জেরার্ড পিকে ও সার্জিও রামোসের অনুপস্থিতিতে নিজেদের ডিফেন্স ঠিক রাখতে বুসকেতস অনায়াসেই জায়গা পাবে শুরুর একাদশে। মাঝে বুসকেতসের ফর্ম কিছুটা উঠানামা করলেও বার্সেলোনার হয়ে আবারও চেনা ফর্মে ফিরেছে ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে কাতালান ক্লাবটির জার্সি গায়ে ম্যাচ খেলেছেন ৫০টি। তাছাড়া, স্পেনের জার্সি গায়ে ১২২টি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতাও রয়েছে ৩২ বছর বয়সী বুসকেতসের জুড়িতে। বুসকেতসের সঙ্গী হতে পারে কোকে বা পেদ্রি। গেল মৌসুমটা অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের হয়ে বেশ চমৎকার গিয়েছে কোকের। সুযোগ সন্ধানী পাস, দুর্দান্ত সেট পিস ও ডান দিকে প্রতিপক্ষের আক্রমণ মাঝপথেই থামিয়ে দেওয়ার জুড়ি নেই ২৯ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারের। তাই স্পেনের ইউরো স্কোয়াডের নিয়মিত একাদেশেও থাকার যোগ্য দাবিদার কোকে। তবে যেহেতু সার্জিও বুসকেতস মাঠে নামলে একজন হোল্ডিং মিডফিল্ডার অবশ্যই প্রয়োজন সেক্ষেত্রে বার্সার তরুণ পেদ্রির শুরুর একাদশে জায়গা পাওয়ার বেশ জোরালো সম্ভাবনা আছে। এখনই পেদ্রিকে স্পেনের কিংবদন্তি ইনিয়েস্তার উত্তরসূরী বলা হয়ে থাকে। বার্সেলোনার হয়ে সবশেষ বেশকিছু ম্যাচ আলো ছড়াতে না পারলেও এবারের উয়েফা ইউরোতে সার্জিও বুসকেতসের সঙ্গী হতে পারে পেদ্রি। [caption id="attachment_29763" align="aligncenter" width="800"] ছবিঃ ইন্টারনেট[/caption] যদিও বার্সেলোনার তরুণ এই মিডফিল্ডারকেও এখানে চ্যালেঞ্জে পড়তে পারে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের মার্কাস লরেন্তের কাছে। গেল মৌসুমে দিয়েগো সিমেওনির দলে আলো ছড়িয়েছে রিয়াল মাদ্রিদের একাডেমি থেকে উঠে আসা বক্স টু বক্স এই মিডফিল্ডার। স্প্যানিশ লা লিগা চ্যাম্পিয়ন অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের শিরোপা পুনরুদ্ধারের ৩৭ ম্যাচে ১২ গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ১১ গোল। স্পেনের ইউরো স্কোয়াডে ডাক পাওয়া আট মিডফিল্ডারের মধ্যে সর্বোচ্চ গোল কন্ট্রিবিউশানও লরেন্তেরই। তাই বলা যায়, স্পেনের ইউরো স্কোয়াডে মধ্যমাঠে দলে এবার পরিষ্কারভাবেই ডিজার্ভ করে লরেন্তে। সার্জিও বুসকেতসের সঙ্গে পেদ্রি বা লরেন্তে নিয়মিত একাদশে যিনি সুযোগ পায় এদের সঙ্গে নিয়ে মধ্যমাঠে আক্রমণ স্পেনের শানাবে লিভারপুলের তারকা মিডফিল্ডার থিয়াগো আলকান্তারা। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে দুর্দান্ত মৌসুম কাটানোর পর লিভারপুলের জার্সি গায়ে আশানুরূপ পারফরম্যান্স করতে না পারলেও স্পেনের মাঝমাঠে আক্রমণ থিয়াগো আলকান্তারাই নেতৃত্ব দিবেন। সর্বশেষ আমরা যদি আক্রমণভাগ নিয়ে কথা বলি, স্পেনের ইউরো স্কোয়াডে ফরোয়ার্ড ফুটবলার আছে মোট আছে পাঁচজন। এদের মধ্যে আলভারো মোরাতা ও জেরার্ড মোরেনো শুরুর একাদশে থাকবে তা এক প্রকার নিশ্চিত। ইতালিয়ান ক্লাব জুভেন্টাসের হয়ে আলভারো মোরাতা গেল মৌসুমে ৪৪ ম্যাচে ২০ গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে আরও ১০ গোল করিয়েছেন। আর গেল মৌসুমে লা লিগায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ (২৩ গোল) ভিয়ারিয়ালের জেরার্ড মোরেনো সবমিলিয়ে ৪৬ ম্যাচে ৩০ গোল করে সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ১১ গোল। আক্রমণভাগে এ দুজনের সঙ্গে হতে পারে ফেরান তোরেস বা অ্যাডাম ত্রাওরে। এদের ভাগ্য নির্ভর করবে ইউরোর আগে স্পেনের অনুষ্ঠিতব্য দুই ফ্রেন্ডলি ম্যাচে। [caption id="attachment_29768" align="aligncenter" width="1080"] ছবিঃ টুইটার[/caption] স্পেনের লুইস এনরিকের পছন্দের ফর্মেশন ৪-৩-৩। এনরিক যদি এই ফর্মেশনেই ইউরোয় স্পেনকে খেলায় তাহলে এখন পর্যন্ত সব পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে তাদের ইউরোর সম্ভব্য শুরুর একাদশ হতে পারে এমন,
উনাই সিমোন আলবা- তোরেস- লাপোর্তা-সিজার  লরেন্তে- বুসকেতস- থিয়াগো মোরেনো- মোরাতা- ফেরান তোরেস
সাধারণত, উয়েফা ইউরোর প্রাথমিক স্কোয়াডে ২৬ জন ফুটবলার অন্তর্ভূক্ত করার সুযোগ থাকলেও লুইস এনরিকে স্পেন দল ঘোষণা করেন মাত্র ২৪ সদস্যের। বুঝায় যাচ্ছে, নিজের দল নিয়ে খুবই আআত্মবিশ্বাসী বার্সেলোনার হয়ে ট্রেবলজয়ী এই কোচ। উয়েফা ইউরোর আগে নিজের দলকে আরও ঝালিয়ে নিতে দুটো প্রীতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন এনরিকে। আগামী শুক্রবার ঘরের মাঠে ইউরোর বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পর্তুগালের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে স্পেন। ৫ দিন পর প্রীতি ম্যাচে স্প্যানিশদের প্রতিপক্ষ লিথুনিয়া। [caption id="attachment_29771" align="aligncenter" width="1080"] ছবিঃ ইন্টারনেট[/caption] ২০১৬ সালে ইউরোয় বেশ গোছানো স্কোয়াড নিয়েও শেষ ষোলোয় ইতালির কাছে হেরে বিদায় নেয় স্পেন। রাশিয়া বিশ্বকাপে টপ ফেভারিট দল হয়েও আর শেষ ষোলো পার হতে পারেনি স্প্যানিশরা। এবার আগের মত ফেভারিট না, তবে শিরোপা পুনরুদ্ধার করতেই ইউরো খেলতে যাবে লুইস এনরিকের দল। বিশ্বকাপে দলের বিপর্যয় ঠেকাতে না পারা কিংবা ইউরো স্কোয়াড নিয়ে তীব্র সমালোচনা এবার ইউরোয় আশানুরূপ পারফরম্যান্স করতে না পারলে হয়তো কাতার বিশ্বকাপের আগেই বড় ধাক্কা খেতে পারে কোচ লুইস এনরিকে। স্প্যানিশ কোচ এমন পরিস্থিতি কিভাবে সামাল দেয় তা দেখতে মুখিয়ে আছে স্প্যানিশ দলের সমর্থকরা। উয়েফা ইউরোয় স্পেন দলের জন্য শুভকামনা। লেখা: এ.এইচ বাদশা