ফিচার

স্বপ্নের 'লা ডেসিমা', ডন কার্লো ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর কেমেস্ট্রি

নিউজ ডেস্ক

১ জুন ২০২১, রাত ৯:৩ সময়

[ 20210602_024512 ]
ছবিঃ ইন্টারনেট
জিনেদিন জিদানের বিদায়ে রিয়াল মাদ্রিদের ডাগ আউটে ফিরেছেন স্বপ্নের 'লা ডেসিমা' জয়ের নায়ক কার্লো আনসেলত্তি। এক যুগ আগে হ্যাম্পডেন পার্কে জিনেদিন জিদানের ভলিতে যখন নবমবারের মতো ইউরোপ সেরা হয়ে বার্নাব্যুতে ফিরেছিল লস ব্লাংকোসরা, সুদূরতম কল্পনাতেও ছিল না দশমের জন্য অপেক্ষাটা হবে এত দীর্ঘ। অপেক্ষার ফল মধুর করেই আনসেলত্তির আমলে দশমবার ইউরোপ সেরা হয় স্প্যানিশ জায়ান্টরা। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে কোচ কার্লো আনসেলত্তির ওই লা ডেসিমা ছাড়া বলার মত ঠিক তেমন কোন অর্জন নেই। রিয়াল মাদ্রিদকে ইউরোপসেরা বানাতে পারলেও, লা লিগাও স্পর্শ করা হয়নি এ মাস্টারমাইন্ড কোচের। তবে কালো স্যুটের কেতাদুরস্ত এই লোকটা বড্ড লাকি ছিলেন দলের সেরা তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ক্যারিয়ারে। মূলত ডন কার্লো আনসেলত্তির আগমনে ব্যক্তিগত অর্জনেও পর্তুগিজ তারকার কামব্যাক করা শুরু করে। [caption id="attachment_29796" align="aligncenter" width="630"] ছবিঃ ইন্টারনেট[/caption] রোনালদো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদে আসার পরও দারুণ ফর্মে ছিলেন। আনসেলত্তি  আসার আগে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তখন ১৪৪ ম্যাচে রোনালদো গোল করেছিলেন ১৪৬টি এবং সতীর্থদের দিয়ে করান ৪৫টি। তবে এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেও তখনও সাদা জার্সি গায়ে রোনালদো বলার মত ব্যক্তিগতভাবে জিততে পারেননি কিছুই। অবশ্য তখন কিছু ব্যক্তিগত জয়ের সুযোগও ছিল না রোনালদোর। কেননা, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার হয়ে তখন অতি মানবীয় ফর্মে ছিলেন মেসি। রিয়াল মাদ্রিদে রোনালদো যখন ব্যালন ডি'অর ব্যালন ১-০ লিড নিয়ে আসেন, সেখানে মাত্র চার বছরে রেকর্ড টানা চারবার ব্যালন ডি'অর জিতে সবাইকে ছাড়িয়ে যান মেসি। ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে এগিয়ে শুরুতে থেকেও ব্যালন ডি অরে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে ৪-১ তে পিছিয়ে, ঠিক তখন রোনালদোর জন্য আলোকবর্তিকা হয়ে রিয়াল মাদ্রিদের ডাগ আউটে বসেন কার্লো আনসেলত্তির। তার আগমনেই ফের ব্যক্তিগত অর্জনের দিকে দারুণ প্রত্যাবর্তন হয় রোনালদোর। প্রথম মৌসুমেই জিতেন ফিফা ব্যালন ডি'অর। পরের মৌসুমেই ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স করেন। লা লীগায় ৩০ ম্যাচে গোল করেন সর্বোচ্চ ৩১। যদিও মাত্র ৩ পয়ন্টের জন্যই লা লিগা হারান অ্যাথলেটিক্যো মাদ্রিদের কাছে। তবে ঠিকই দ্বিতীয়বার জিতেন ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু এওয়ার্ড। [caption id="attachment_29829" align="aligncenter" width="1200"] ছবিঃ সংগৃহীত[/caption] এই মৌসুমেই উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে এক অবিশ্বাস্য কান্ড ঘটিয়ে ফেলেন রোনালদো! রিয়াল মাদ্রিদের স্বপ্নের লা ডেসিমা জয়ের পথে পর্তুগিজ অধিনায়ক গোল করেছিলেন ১৭ গোল। মাত্র ১১ ম্যাচেই ১৭ গোল! এখনও এটি গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড হিসেবে টিকে আছে। সেবার লা ডেসিমা জয়ের পর রেকর্ড দ্বিতীয়বার মত জিতে উয়েফা বর্ষসেরা পুরস্কার। ফাইনাল ম্যাচে সান লরেঞ্জোকে হারিয়ে প্রথমবার রিয়ালের হয়ে জিতেন ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে জয়ের পর যা রোনালদোর ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা। এই আনসেলত্তির অধীনে রোনালদোর পরের মৌসুমও অসাধারণ কাটে। লা লীগায় মাত্র ৩৫ ম্যাচে ৪৮ গোল করে লিওনেল মেসির ৫০ গোলের রেকর্ডটা প্রায় ছুঁয়েই ফেলছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত তা আর ছাড়িয়ে যেতে পারেননি। তবে সেবার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয়বার জিতেন ইউরোপীয়ান গোল্ডেন শু। সেই মৌসুমে সব মিলিয়ে ৫১ ম্যাচে রোনালদো গোল করেন ৬১টি। সতীর্থদের দিয়ে করেন আরও ২২টি। ততকালীন বার্সেলোনায় বিখ্যাত এমএসএন ত্রয়ীর অবিশ্বাস্য আধিপত্য না থাকলে সেবারও ব্যক্তিগতভাবে আরও বেশ কিছু অর্জন যুক্ত হতো রোনালদোর জুড়িতে। পর্তুগিজ তারকা সবমিলিয়ে কার্লো আনসেলত্তির অধীনে ১০১ ম্যাচে ১.১০ গড়ে গোল করেছেন ১১২টি। সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ৩৯টি। [caption id="attachment_29798" align="aligncenter" width="720"] ছবিঃ ফেসবুক[/caption] পাঁচবারের বর্ষসেরা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ক্যারিয়ারে আনসেলত্তি ছিল টার্নিং পয়েন্ট। বারবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মেসির কাছে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট হারিয়ে তার আমলেই তার দারুণ প্রত্যাবর্তন হয়। মাঠে এবং মাঠের বাহিরেও দুজনের রসায়ন ছিল অন্যরকম। কার্লো আনসেলত্তি নিজেও রোনালদোকে অনেক পছন্দ করতেন। বারবার রোনালদোর প্রতি নিজের মুগ্ধতাও প্রকাশ করতে ভুল করেননি। বারবার বলেছেন,
"কোচিং ক্যারিয়ারের রোনালদোই হল আমার সেরা ছাত্র। আমার দেখা সেরা খেলোয়াড়ও সে।"
আনসেলত্তিকে নিয়ে রোনালদোও বলেন,
"তার অধীনে খেলা আমার জন্য সৌভাগ্য ছিল। তিনি ছিলেন সত্যিকারের বিজয়ী।"
এখন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ ইতিহাসে সবচেয়ে সফল ফুটবলারদের একজন। আর ইতিহাসে মাত্র তিনজন ম্যানেজার যারা তিনবার ইউরোপ সেরা হয়েছেন ডন কার্লো আনসেলত্তি তাদের মধ্যে একজন। কোচ এবং ফুটবলারের এমন ডুয়ো ইতিহাসে খুব কমই এসেছে৷ ছয় বছর পর রিয়াল মাদ্রিদের ডাগ আউটে ডন কার্লো ফিরেছেন বটে, তবে এবার মাঠে তিনি পাবেন না প্রিয় শিষ্যকে। ক্যারিয়ারের এমন দুঃসময়ে রোনালদো কি মিস করবেন না প্রিয় গুরুকে? লেখা: এ.এইচ বাদশা