ইউরো ফাইনাল: রাশফোর্ড, স্যাঞ্চোদের বর্ণবাদের ঘটনায় আটক ৫

প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ জুলাই, ২০২১ | ১২:৪৪:১৯

ডেস্ক রিপোর্ট

ইউরো ফাইনাল: রাশফোর্ড, স্যাঞ্চোদের বর্ণবাদের ঘটনায় আটক ৫ ছবিঃ ইন্টারনেট

ঘরের মাঠে ওয়েম্বলি স্টোডিয়ামে ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের আসরে ইতালির মুখোমুখি হয় ইংল্যান্ড। মহাদেশীয় লড়াইয়ে এবারই প্রথম শিরোপার দ্বারপ্রান্তে ইংলিশরা, সবমিলিয়ে প্রায় ৫৫ বছর পর বড় কোন শিরোপা জয়ের খুব কাছে গ্যারেথ সাউথগেটের দল। পুরো ওয়েম্বলি জুড়ে তখন,’ইটস কামিং হোম’ উচ্চ ডেসিবলে কাঁপছে। শুরুতে গোল করে এগিয়েও গিয়েছিল স্বাগতিকরা। তবে শেষ পর্যন্ত লিওনার্দো বনুচ্চির গোলে ড্র করে খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। 

স্পটকিকে থ্রি লায়ন্সদের হয়ে নায়ক হওয়ার সুযোগ ছিলো রাশফোর্ড, স্যাঞ্চো ও বুকায়ো সাকাদের। কিন্তু, সেই সুযোগ হাতছাড়া করে ফেলেন তরুণ তিন তুর্কি। টাইব্রেকারে লক্ষ্যভেদ করতে না পেরে নিজেদের মাঠে নায়ক না হয়ে উল্টো ভিলেন হয়ে গেলেন তারা। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের তীব্র রোষানলে পড়েন তিন জনই। ইংলিশ তিন ফুটবলারের বর্ণবাদের ঘটনায় রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয় গোটা ফুটবল বিশ্বে।

ছবিঃ ইন্টারনেট

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে গ্রেট ব্রিটেনের সব রাজনৈতিক দলের সদস্যরা, ইংলিশ দলের কোচ, স্টাফ ও খেলোয়াড়রাও এই নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। যার ফলশ্রুতিতে বর্ণবাদী ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে তদন্তে নামার ঘোষণা দেয় দা মেট্রোপলিটন পুলিশ। তখন তারা জানিয়েছিল, একটি বিশেষজ্ঞ দল পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে।

গতকাল তদন্তের অগ্রগতি জানিয়েছে ব্রিটিশ পুলিশ। বৃটেনের দ্য মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, “ইউরোর ফাইনালে বর্নবাদের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলির সঙ্গে খুব নিবিড়ভাবে কাজ করছি। তারা আমাদের তদন্তে অগ্রগতির জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করছেন।”

ছবিঃ টুইটার

বৃটেন পুলিশ আরও জানায়, ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের আসরে ফাইনাল ম্যাচের আগে এবং পরের ২৪ ঘণ্টায় ফুটবল সম্পর্কিত ৮৯৭টি ঘটনায় মোট ২৬৪ জনকে আটক করা হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, ইউরোপিয়ান ফুটবলে বর্ণবাদের ঘটনা এখন ক্রমাগত বেড়েই চলছে। ইউরোতে এবার নিজেদের সব ম্যাচের শুরুতে হাঁটু গেড়ে বর্ণবাদের বিপক্ষে প্রতিবাদ জানান ইংলিশ খেলোয়াড়রা। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বর্ণবাদের বিপক্ষে রুখে দাঁড়াতে ইংল্যান্ডের সকল পর্যায়ের ফুটবলাররা চার দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার থেকে বিরত ছিল।