চিনেদু ম্যাথিউ ম্যাজিকে বসুন্ধরাকে হারের তিক্ত স্বাদ দিল চিটাগাং আবাহনী

প্রকাশ: রবিবার, ১৮ জুলাই, ২০২১ | ১৯:১৬:৪২

ডেস্ক রিপোর্ট

চিনেদু ম্যাথিউ ম্যাজিকে বসুন্ধরাকে হারের তিক্ত স্বাদ দিল চিটাগাং আবাহনী

অবশেষে হারের তিক্ত স্বাদ পেল বসুন্ধরা কিংস। পুরো সিজনের অপরাজিত দল বসুন্ধরা কিংসকে ২-১ গোলের হারের স্বাদ পাওয়ালো মারুফুল হকের চিটাগাং আবাহনী। বঙ্গবন্ধুর সবুজ ঘাসে পুরা ম্যাচে আলো ছড়িয়েছেন নাইজেরিয়ান চিনেদু ম্যাথিউ। জোড়া গোল করে দলকে দুর্দান্ত এক জয় এনে দিয়েছেন।

বসুন্ধরা কিংস সর্বশেষ হারের স্বাদ পেয়েছিল এই চিটাগাং আবাহনীর কাছে ২০২০ সালে পরিত্যক্ত হওয়া লিগে। নীলফামারিতে সে ম্যাচে ৪-৩ গোলে জিতেছিল চিটাগাং আবাহনী।

ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথমার্ধের শুরু থেকেই একের পর এক গোল মিসের মহরায় নামে কিংসের ফরোয়ার্ডরা। কখনো রাউল বেচাররা, কখনো রবসন আবার কখনো বিপলু আহমেদ বা ইব্রাহিম।

যার শুরুটা করেছিলেন ইব্রাহিম, ম্যাচ শুরুর ৬০ সেকেন্ডের মাথায়ই দারুন এক সুযোগ পেয়েছিল বসুন্ধরা কিংস কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন ইব্রাহিম। চিটাগাং আবাহনীর নাসিরুল বল নিয়ন্ত্রণে নিতে না পারলে বল চলে যায় রাউল বেচারার পায়ে। এরপর বেচাররা থেকে পাওয়া বল বাম পায়ের জোরালো শট নেন ইব্রাহিম কিন্তু গোলকিপার নাইম ঝাপিয়ে রক্ষা করে।

১৩ মিনিটে আরো একবার চিটাগাং আবাহনীকে রক্ষা করেন নাইম। বিপলু আহমেদের বাড়ানো বল পেয়ে তা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আবাহনীর তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে জায়গা বানিয়ে ডান পায়ের শট নেন রবসন রবিনহো কিন্তু নাইম নিচু হয়ে শরীরকে নামিয়ে দিয়ে তা ঠেকিয়ে দেন।

বসুন্ধরার আক্রমণ সামলাতে হিমশিম খাওয়া চিটাগাং আবাহনী প্রথম বারের মত আক্রমণে যায় ৩৪ মিনিটে। মঞ্জুরুর রহমান মানিকের বাড়ানো লম্বা বল নিয়ন্ত্রণে নেন রাকিব, তারিক কাজীকে বিট করে ডি-বক্সে ঢুকে কাট ব্যাক করলে পা লাগাতে পারেনি নিক্সন গুইলহারমে। ফলে এ যাত্রায় বেঁচে যায় বসুন্ধরা কিংস।

৩৯ মিনিটে আর ভুল করেনি চিটাগাং আবাহনী। দুর্দান্ত এক গোলে এগিয়ে যায় মারুফুল হকের শিষ্যরা। নাসিরুলের দারুণ এক পাসে তপু বর্মনকে কাটিয়ে কোনাকুনি জায়গা থেকে ডান পায়ের জোরালো শটে বল জালে জড়ান চিনেদু ম্যাথিউ।

প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধেও গোল মিসের মহরা বজায় রাখে কিংসের ফরোয়ার্ডরা। ৪৮ মিনিটে পেনাল্টি আদায় করে নেয় বসুন্ধরা কিংস, রাউল বেচারার বাড়ানো বলের দিকে ছুটতে থাকে ইব্রাহিম কিন্তু ডি-বক্সের মধ্যে ফাউল করে বসেন কিপার নাইম। তবে স্পট কিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন লিগে ১৫ গোল করা আর্জেন্টাইন রাউল বেচাররা। তার নেওয়া শট ক্রস বারে লাগলে হতাশায় ভুগে কিংসের ডাগ আউট।

গোল হজম করেই ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে চিটাগাং আবাহনী। ৫৫ মিনিটে জিকো বীরত্বে গোল হজম থেকে রক্ষা পায় কিংস, নিক্সন গুইলহারমের মাঝ মাঠ থেকে নেওয়া শট বাজ পাখির মত লাফিয়ে রক্ষা করেন জিকো।

৬৫ মিনিটে বিপলুর বদলি হিসেবে মাঠে নামেন এলিটা কিংসলে।

ছবিঃ ফেসবুক

৭৯ মিনিটে বসুন্ধরা কিংস বেঁচে যায় ক্রস বারের সাহায্যে। চিনেদু ম্যাথিউয়ের পায়ের দারুণ কারু কাজের পর ডি-বক্সের মধ্যে ঢুকে বাম পায়ের আলতো শট করলেও তা ক্রস বারে লেগে ফিরে আসে। আরো একবার হতাশ হতে হয় মারুফুল হকের শিষ্যদের। ৮৩ মিনিটে আরো একবার রক্ষা পায় চিটাগাং আবাহনী, এলিটা কিংসলের ক্রস থেকে আসা বল দারুণ ভাবে মাথা ছোঁয়ালেও তা জালের দেখা পায়নি।

৮৭ মিনিটে বসুন্ধরাকে সমতায় ফেরান রবসন রবিনহো, ডি-বক্সের মধ্যে থেকে ডান পায়ের দারুণ শটে বল জালে জড়ান রবসন। এই গোল নিয়ে লিগের ১৭ তম গোলের দেখা পেলেন রবসন রবিনহো। ম্যাচে সমতায় ফিরলেও স্বস্তিতে ছিল না বসুন্ধরা কিংস। কেননা মিনিট খানেক বাদেই অবিশ্বাস্য এক গোল করে চিটাগং আবাহনীকে এগিয়ে নেন চিনেদু ম্যাথিউ। নিজেদের অর্ধ থেকে বল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পথে শুরুতে রবসন এরপর খালিদ শাফিকে দারুণ ভাবে পরাস্ত করে ডি-বক্সের বাইরে থেকে বাম পায়ের বাঁকানো শটে গোলে পরিণত করেন এই নাইজেরিয়ান।

এরপর আর কোন গোল না হলে দারুণ এক জয় নিয়ে মাঠে ছাড়ে চিটাগাং আবাহনী।

এই হারে ২২ ম্যাচ পর পরাজয়ের স্বাদ পেল বসুন্ধরা কিংস। সর্বশেষ যে চিটাগাং আবাহনীর কাছে হারের স্বাদ পেয়েছিল এবার তাদের কাছে হেরেই অপরাজিত থাকার রেকর্ড ভাঙ্গলো বসুন্ধরা কিংস।

এই হারে ১৮ ম্যাচে ১৬ জয় ও এক ড্র এবং এক হারে ৪৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষেই থাকল বসুন্ধরা কিংস। অন্যদিকে ১৮ ম্যাচে ৩১ পয়েন্ট নিয়ে ৫ নাম্বারের থাকলো চিটাগাং আবাহনী।