টং দোকানের দর্শক থেকে সাকিব পর্যন্ত সবাই আজ খুশি

প্রকাশ: রবিবার, ১৮ জুলাই, ২০২১ | ২২:২৫:২০

Nazmussakib Rumman

টং দোকানের দর্শক থেকে সাকিব পর্যন্ত সবাই আজ খুশি

লক ডাউন উঠে যাওয়াই আজকাল টং দোকানগুলো মাঝ রাত পর্যন্ত খোলা থাকছে। বাড়ির পাশের টং দোকান থেকে মাঝে মাঝেই গুটিকতক লোকের উল্লাসের শব্দ ভেসে আসছিল। প্রতিটি রানেই উল্লাস। মনে হচ্ছিলো যেন বিশ্বকাপের কোনও নক-আউট ম্যাচ খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। আমিও উঠে হাঁটা দিলাম দোকানের উদ্দেশ্যে।

শেষ ওভারের প্রথম বলে ডিপ পয়েন্ট অঞ্চল দিয়ে মুজারাবানির বলে সাকিব আল হাসানের ট্রেডমার্ক কাট শট তখনও বাউন্ডারি স্পর্শ করেনি। উৎসুক গুটিকয়েক দর্শক গর্জন করে উঠলো। নিশ্চিত সেই শব্দ হারারে পর্যন্ত পৌঁছাইনি। পৌঁছানোর কথাও না। পৌঁছালে নিশ্চিই ‘ওয়ান ম্যান আর্মি’ হয়ে এমন একটি উত্তেজনা ঠাসা ম্যাচ জিতিয়ে শুধু একটু নির্লিপ্ত হাসি দিয়েই ক্ষান্ত দিতেন না সাকিব।

হারারেতে যেন মহেন্দ্র সিং ধোনি হয়ে দেখা দিলেন সাকিব। এমন অগণিত ম্যাচ ধোনি জিতিয়েছেন কিন্তু কখনই তাকে বাড়তি উল্লাস করতে দেখা যায়নি। কত ঝড় ঝাপটা পাড়ি দিয়ে সাকিব যে ম্যাচটি খেললেন, নিশ্চয় এমন একটি দিনের অপেক্ষাতেই ছিলেন তিনি।

বিশ্বের একমাত্র প্লেয়ার হিসেবে ৪ বার ৯৬ রান করলেন সাকিব। ছবি – আইসিসি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে কত কত বিতর্কের জন্ম দিলেন। ডিপিএলে স্ট্যাম্প ভেঙেও হলেন নিষিদ্ধ। জিম্বাবুয়েতে এসেও পাচ্ছিলেন না রানের দেখা। অবশেষে যে ৯৬* রান তিনি করলেন তাতে টং দোকানের গুটিকয়েক দর্শক নন, সাকিবও খুশি হবেন নিশ্চয়। হয়েছেনও তাই। চ্যাম্পিয়নরা এভাবেই ফিরে আসে। যেন সকল অতৃপ্ততার পিয়াস মিটে গেলো তৃপ্ততার জলে!

১২ বছর পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তাদের মাটিতে সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ। ৩ নাম্বারে নেমে ব্যাট করলেন প্রায় ৪০ ওভার। সাকিবের থেকে এমন পার্ফরম্যান্স বহুবার দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব। তবে এবারের ইনিংসটি হয়তো তার ক্যারিয়ারের অনেকগুলো ইনিংসের মধ্যে উপরের দিকেই থাকবে, সেটি তার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের বিচারে তারচেয়েও বেশি দলের কঠিন অবস্থাতে।

বল হাতে দুই উইকেট আর অপরাজিত ৯৬ রান। একটা শতক পাওয়ার যোগ্য দাবিদারও ছিলেন সাকিব। তবুও আক্ষেপ নেই। ম্যাচ শেষে সাকিবও জানালেন, আজকের ম্যাচে তার এমন একটি পারফরম্যান্স করতেই হতো, “আজকে সেই দিন, যেদিন আমার এমন কিছু করতেই হতো। খুব খুশি।”

বল হাতেও দুই উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের জয়ে অবদান রাখলেন সাকিব। ছবি- সংগৃহীত।

অষ্টম উইকেটে ৬৯ রান আসলো। সাইফুদ্দিন করলেন ৩৪ বলে মহামূল্যবান ২৮। শেষের দিকে মাথা ঠান্ডা রেখে তাকে সমর্থন দেয়াই মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের প্রশংসা করতেও ভুল করলেন না বাংলার সুপারম্যান, “এটা সহজ ছিল না। কৃতিত্ব সাইফুদ্দিনের যেভাবে ও খেললো। ও ব্যাট হাতে দারুণ সংমিশ্রণ ঘটিয়েছে।”

সাকিবের এমন অতিমানবীয় পারফর্মেন্স স্বস্তির বাণী ঝরলো অধিনায়ক তামিম ইকবালের কন্ঠেও, “২৪১ রান টপকে যাওয়াটা খুশির খবর। কয়েকটি সফট ডিসমিশাল ছিল। কিন্তু যেভাবে সাকিব আর সাইফুদ্দিন খেললো তা দেখা সত্যিই চোখের প্রশান্তি ছিল।”