ওতাবেক ম্যাজিকে সাইফকে হারের তিক্ত স্বাদ দিল শেখ জামাল

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ জুলাই, ২০২১ | ১৮:৪২:১৩

মোঃ রানা শেখ

দুই গাম্বিয়ান ম্যাজিকে সাইফকে হারাল শেখ জামাল

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে আজ দিনের এক মাত্র ম্যাচে ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবকে ২-১ গোলে হারিয়েছে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। দলের হয়ে গোল করেছেন গাম্বিয়ান পা ওমর জোবে ও উজবেকিস্তানের জনোভ ওতাবেক। সাইফের হয়ে এক মাত্র গোলটি করেছেন জন ওকোলি।

প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের শেষ ম্যাচে আরামবাগের কাছে ৩-১ গোলে হারার পর কিছুটা ব্যাক ফুটে ছিল শফিকুল ইসলাম মানিকের শিষ্যরা। তবে লম্বা বিরতির পর ম্যাচে ফিরেই দারুণ শুরু করে সোলেমান কিং,ওমর জোবেরা। অন্যদিকে শেষ চার ম্যাচে মাত্র এক জয় পেয়েছে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। পয়েন্ট টেবিলে সাত নাম্বারে অবস্থান করে শেখ জামালের বিপক্ষে মাঠে নামে জামাল ভুঁইয়ারা।

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের সবুজ ঘাসে আলো ছড়িয়েছেন শেখ জামালের চার গাম্বিয়ান ফুটবলার। প্রথমার্ধে নিজেদের মধ্যে দারুণ বোঝাপড়ায় সাইফকে এক প্রকার কোণঠাসা করে রাখে শেখ জামাল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টায় নিজেদের কিছুটা ঘুছিয়ে নেয় সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। তবে শেষ পর্যন্ত জামালকে আর রুখতে পারেনি সাইফ।

১০ মিনিটে সাইফের ডি বক্সের সামনে থেকে দারুণ ভাবে সাইফের ডিফেন্ডারের মাথার উপর দিয়ে বল চিপ করে দেন ওমর জোবের দিকে দেন জনোভ ওতাবেক কিন্তু গোলকিপার শান্ত জায়গা থেকে বের হয়ে এসে বল ছো মেরে কেড়ে নেন। ১৬ মিনিটেও গোল থেকে বঞ্চিত হতে হয় শেখ জামালকে। ফয়সাল আহমেদের কর্নার থেকে লাফিয়ে উঠে মাথা ছোয়ান সোলাইমান সিল্লাহ কিন্তু তা গোল পোস্টের উপর দিয়ে চলে যায়। ১৯ মিনিটে অল্পের জন্য আরো একবার গোলের দেখা পায়নি শেখ জামাল, জন ওতাবেকের নেয়া বাকানো শট গোলবার ঘেষে উপর দিয়ে চলে যায়।

২৪ মিনিটে গোল হজম থেকে রক্ষা পায় সাইফ স্পোর্টিং, এবার তাদের ত্রাতা হয়ে আসেন গোলকিপার শান্ত। মাঝ মাঠ থেকে সোলেমন কিংয়ের বাড়ানো লম্বা পাস ধরে বাম পাশ থেকে ভলি করেন জনোভ ওতাবেক, সেই ভলি থেকে মাথা ছুয়ান পা ওমর জোবে কিন্তু দুর্দান্ত ভাবে লাফিয়ে রক্ষা করেন শান্ত কুমার।

৩৫ মিনিটে ডিফেন্ডার রিয়াদুল হাসান রাফিকে হারায় সাইফ। মাথায় আঘাত পাওয়ায় এম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সাইফের ডি বক্সের মধ্যে হেড করতে গিয়ে সোলাইমান সিল্লাহর মাথার সাথে আঘাত লাগে রাফির। এরপরেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এই দুই ফুটবলার। রাফির পরিবর্তে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন সবুজ হোসাইন। রাফিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ছয়টি সেলাই দেওয়া হয়েছে।

প্রথমার্ধের ৪৫ মিনিট শেষ হলে অতিরিক্ত হিসেবে যোগ করা হয় আরো সাত মিনিট। যোগ করা এক মিনিটের মাথায় গোলের সুযোগ করেছিল সাইফ। ফাহিমের বাঁকানো ক্রস ধরে জামালের এক ডিফেন্ডারকে ফাকি দিয়ে হেড করেন মারাজ কিন্তু তা সাইড বার ঘেষে বাইরে চলে যায়।

সাইফ স্পোর্টিং গোলের দেখা না পেলেও কাউন্টার আক্রমণে সুযোগ হাত ছাড়া করেনি শেখ জামাল। সোলাইমান সিল্লাহর বাড়ানো পাস থেকে ডান পায়ের শটে গোলে পরিণত করেন পা ওমর জোবে। ফলে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। যার শুরুটা করেন অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া। ৪৮ মিনিটে ডি বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের ভলি নেন জামাল ভুঁইয়া কিন্তু তা সাইড বারের পাশ দিয়ে চলে যায়। তবে ৫৪ মিনিটে আর হতাশ হতে হয়নি সাইফ স্পোর্টিংকে। পেনাল্টি থেকে সাইফকে সমতায় ফেরান জন ওকোলি। জন ওকলিকে আটকাতে গিয়ে ডি-বক্সের মধ্যেই মাটিতে পড়ে গিয়ে বল হাতে লাগান জামালের ডিফেন্ডার মনির হাসান। সঙ্গে সঙ্গে বাঁশি বাজান রেফারি বিতুরাজ বুড়ুয়া। স্পট কিক থেকে অনায়াশে গোল করেন জন ওকোলি।

ম্যাচে সমতায় ফিরে আক্রমণের ধার বাড়ায় সাইফ। ৬৬ মিনিটে শেখ জামালকে গোল হজম থেকে রক্ষা করেন গোলকিপার মাসুম, ডান পাশে ডিফেন্ডার রেজাকে কাটিয়ে বাম পায়ের গতিময় শট করলেও ঝাপিয়ে পড়ে রক্ষা করেন মাসুম। সাইফের আক্রমণের রেশ কাটতে না কাটতেই আক্রমণে ধার বাড়ায় শেখ জামাল। তবে ৭৪ মিনিটে আরো একবার সাইফের ত্রাতা হয়ে আসেন গোলকিপার শান্ত। সোলেমান কিংয়ের বাড়ানো বুদ্ধিমত্তার পাস থেকে ডি-বক্সে ঢূকে শরীর ঘুরিয়ে ডান পায়ের শট নিলেও নিজের জায়গা থেকে বের হয়ে এসে রক্ষা করে শান্ত। এর মিনিট দুয়েক বাদেই আর হাতশ হতে হয়নি শেখ জামালকে। ৭৬ মিনিটে সবাইকে অবাক করে ফ্রিকিক থেকে দুর্দান্ত গোল করেন জামালের জন ওতাবেক। ফলে ২-১ গোলে এগিয়ে যায় শফিকুল ইসলাম মানিকের শিষ্যরা।

জামালের এগিয়ে যাওয়ার ৬ মিনিট বাদেই ম্যাচে সমতায় ফিরতে পারত সাইফ কিন্তু বাঁধা হয়ে দাড়ায় ক্রস বার। জামাল ভুঁইয়ার কর্ণার থেকে আসা বল সবুজের হেড ক্রস বারে লেগে ফিরে আসলে কেনেথ মাথা ছুয়ালেও তা নিজের করে নেন গোলকিপার মাসুম।

এরপর বাকি সময় আরো কোন গোল না হলে ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। এদিকে এ নিয়ে শেষ ৫ ম্যাচের চারটিতেই জয়হীন থাকলো সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব।

এই জয়ে ১৬ ম্যাচে ৩৫ পয়েন্ট নিয়ে তিন নাম্বারেই থাকল শেখ জামাল,অন্যদিকে ১৭ ম্যাচে ২৬ পয়েন্ট নিয়ে সাত নাম্বারেই থাকল সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব।