বিজ্ঞাপন

অফিসিয়াল গ্রুপে যোগ দিন

বাংলাদেশের স্পোর্টসভিত্তিক শীর্ষ অনলাইন ম্যাগাজিন

টপ ট্রেন্ডিং সাকিব আল হাসান/ তামিম ইকবাল/ মুশফিকুর রহিম/ বিরাট কোহলি/ বাবর আজম/ মেসি/ নেইমার/ রোনালদো/ ব্রাজিল/ আর্জেন্টিনা/ রিয়াল মাদ্রিদ/ বার্সেলোনা/ পিএসজি

জন্মদিন বিশেষ | ব্রাজিলিয়ান রোনালদোর জানা-অজানা দশ

প্রকাশ: শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ | ০৪:৩২:২০

ডেইলি স্পোর্টসবিডি ডেস্ক

ছবি - সংগৃহীত
ছবি - সংগৃহীত

৩০শে জুন, ২০০২ সাল।

জাপানের ইয়োকোহামা স্টোডিয়ামে জার্মানির বিপক্ষে মাঝমাঠের বল পেয়ে ভারী কোমরটা দুলিয়ে ফার্স্ট ইনসাইডে শট মারলেন। স্পিড- ফিটনেস-ট্যাকটিক্সের ফুটবল এই গ্রহে যেন ফের আরও একবার দোলা লাগলো; শিল্পের দ্বিতীয় টোকায় যেন গতি বাড়িয়ে ফেলে দিলেন ডিফেন্ডারকে, বহু বছর পর হলুদ আলোর নেশায় মাত হয়ে যাচ্ছে ফুটবল পৃথিবী,তিনটে ড্রিবলের পর কিংবদন্তি অলিভার কানকে ফাঁকি দিয়ে জালে বলটা ঠেকে দিয়েই হাতের তর্জনী তুলে দিলেন দৌড়……

মেসি- রোনালদোর এই ফুটবল সাম্রাজ্যের অনেক আগেই যিনি বিশ্বকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন আধুনিক, আধুনিকতম ফুটবলবিজ্ঞানের সঙ্গে। তিনিই রোনালদো লুইস নাজারিও দ্যা লিমা। আজ ব্রাজিলের বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকার ৪৫তম জন্মদিন।

ছবিঃ ইন্টারনেট

ব্রাজিলিয়ান জীবন্ত কিংবদন্তি এই ফুটবলারকে নিয়ে নতুন করে কিছু লেখাই বাহুল্য। তবে এই ফাঁকে আসুন জেনে নিই রোনালদো নাজারিও সম্পর্কে কম জানা এবং অজানা দশটি তথ্য—

১. দলবদলের বাজারে ‘বিশ্বরেকর্ড’

১৯৯৬ সালে ডাচ ক্লাব পিএসভি থেকে ১৯.৫ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে বার্সেলোনায় যোগ দেন মাত্র ২৯ বছর বয়সী রোনালদো নাজারিও- যা তৎকালীন দলবদলের বাজারে বিশ্বরেকর্ড ছিল।

২. রহস্যময় কারণে ‘৯৮ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলতে না পারার কথা

১৯৯৮ বিশ্বকাপটা হতে পারতো তার বিশ্বকাপ। তিনি তখন তর্কযোগ্যভাবে বিশ্বের সেরা ফুটবলার। মাত্র ২১ বছর বয়সেই টানা দুইবার ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলার হয়ে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ রেখেই তিনি পা রাখেন বিশ্বকাপের মঞ্চে।

প্রত্যাশার প্রতিদানও দিচ্ছিলেন ভালোভাবেই। চার গোল করে ও তিন গোল বানিয়ে দিয়ে দলকে ফাইনালে তুলে তিনি তখন গোটা ব্রাজিলের মধ্যমণি। ১৯৯৪ এর শিরোপা জেতার পর ১৯৯৮ তেও শিরোপা জয়ের মঞ্চ প্রস্তুত ব্রাজিলের সামনে। ফাইনালে প্রতিপক্ষ প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা স্বাগতিক ফ্রান্স। ফাইনাল ফ্রান্স বনাম ব্রাজিল ছিল বটে, তবে সকলের চোখ কেবলই রোনালদো লিমার উপর ছিল। পারবেন কি রোনালদো লিমা?

ছবিঃ টুইটার

১২ জুলাই, ১৯৯৮। প্যারিসের স্তাদে ডি ফ্রান্স স্টেডিয়াম। ৮০ হাজার দর্শক সমর্থকের সামনে ফাইনালের মোকাবেলায় ফ্রান্স-ব্রাজিল। স্রেফ ফুটবলীয় আকর্ষণের দিক থেকেই ম্যাচটা হতে পারতো বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ফাইনাল। স্মরণীয় হলো বটে, তবে মাঠের ফুটবলের কারণে নয়।

আরও খেলার খবরঃ   অ্যান্টিগার কর্নওয়ালের অন্যরকম গল্প

১৯৯৮ বিশ্বকাপের ফাইনাল স্মরণীয় হয়ে আছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে রহস্যময় ফাইনাল হিসেবে। আর রহস্যের কেন্দ্রবিন্দু? রোনালদো নাজারিও ডি লিমা। ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকারের রহস্যময় সেই ‘অসুস্থতা’র জট আজও খোলেনি পুরোপুরিভাবে। বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফি হাতে নিয়ে পুরো দেশ মাতানোর কথা ছিল যার, সেই রোনালদো লিমাকেই ফাইনাল শেষে দাঁড়াতে হলো জনতার কাঠগড়ায়, এমনকি তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তেও নেমেছিল ব্রাজিল সরকার

৩. ‘থাইরয়েড’ সমস্যা ছিল রোনালদোর

দুবারে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন রোনালদো নাজারিওর শরীর ক্যারিয়ারের শেষ দিক অস্বাভাবিক হারে ওজন বাড়তে থাকে। এসময় সতীর্থ, সমর্থক ও মিডিয়াকর্মীদের দ্বারাও প্রচন্ড সমালোচনার শিকার হন তিনি। ২০১১ সালে ফিটনেসের কারণ দেখিয়ে ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি টেনে রোনালদো জবাব দেন নিন্দুকের। ইতিহাসের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার জানান, হাইপোথাইরয়েডিজম সমস্যা ভুগছেন তিনি।

ছবিঃ ফেসবুক

একটি প্রশ্নোত্তর পর্বে রোনালদো স্বীকার করেন, যে তিনি চার বছর আগে থাইরয়েডের অবস্থা সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন এবং প্রশাসনিক বোর্ড কর্তৃক নিষিদ্ধ ছিল এমন খেলা চালিয়ে যাওয়ার জন্য তাকে হরমোনের ইনফিউশন নিতে হয়েছিল। পরে বুটজোড়া তুলে রাখার পর তিনি নিয়মিতই তা গ্রহণ করতেন।

৪. রোনালদো ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত ব্রাজিলের হয়ে খেলেছেন ‘রোনালদিনহো’ নামে

১৯৯৪ সালে প্রথমবারের মত ব্রাজিল দলে সুযোগ পান রোনালদো। কিন্তু তখন দলে রোনালদো রড্রিগেজ ডে জেসুস নামে আরেকজন সিনিয়র ফুটবলার ব্রাজিল দলে ছিল। তাই ১৭ বছরের তরুণ রোনালদোকে ‘রোনালদিনহো’ (পর্তুগীজ ভাষায় যার অর্থ ছোট রোনালদো) নামের জার্সি দেয়া হয়। ৯৪ বিশ্বকাপে মাঠে নামার সুযোগ না পেলেও ১৯৯৬-এর অলিম্পিকসে ব্রাজিলের হয় রোনালদিনহো নামেই খেলেন রোনালদো।

ছবিঃ ইন্টারনেট

৩ বছর পরে ১৯৯৯ সালে রোনালদো ডি অ্যাসিস মোরেইরা নামের এক নতুন ফুটবলার ব্রাজিল দলে জায়গা পায়। তাকে আমরা এখন সবাই রোনালদিনহো নামে চিনি। তারপর থেকে রোনালদো নিজের নামের জার্সি পরেই ব্রাজিলের হয়ে মাঠে নামেন।

আরও খেলার খবরঃ   জন্মদিন বিশেষ | স্টিভেন জেরার্ডঃ দ্যা হার্ট অফ লিভারপুল

৫. ওল্ড ট্রাফোর্ডে ইউনাইটেড সমর্থকদের থেকে মর্যাদার ‘স্ট্যান্ডিং অভিয়েশন’ পেয়েছেন রোনালদো

২০০৩ সালের ২৩শে এপ্রিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও রিয়াল মাদ্রিদ। সেই ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ৪-৩ গোলে রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে দেয়। কিন্তু দুই লেগ মিলিয়ে জয়ী হয় রিয়াল এবং টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পরে যায় ইউনাইটেড। আর ম্যানচেস্টারের এই বাদ পড়ার পেছনের মূল হোতা ছিলেন রোনালদো। ওল্ড ট্রাফোর্ডে সেদিন রোনালদো একাই রিয়াল মাদ্রিদের হয় ৩টি গোল করেন। তাঁর অসাধারণ নৈপুণ্যে প্রতিপক্ষ সমর্থকরাও বিমুগ্ধ হয়ে পরে। তাই হ্যাট্রিক পূরণ করার পরে যখন রোনালদোকে বদলি করা হয় তখন ওল্ড ট্রাফোর্ডে ইউনাইটেড সমর্থকরা তাকে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানায়। প্রতিপক্ষের মাঠে এরকম অভিবাদন পাওয়া ফুটবল ইতিহাসে খুবই বিরল।

৬. শৈশবের প্রিয় ক্লাব ‘ফ্ল্যামেঙ্গো’ জার্সি গায়ে কখনো খেলা হয়নি রোনালদোর

রোনালদো নাজারিওর শৈশবে প্রিয় ক্লাব ছিল ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ফ্ল্যামেঙ্গো। ক্লাবটির হয়ে খেলার খুব দ্বারপ্রান্তেও ছিলেন, কিন্তু এক সময় রোমারিওর কথা শুনে ফ্ল্যামেঙ্গো ছেটে রোনালদো যোগ দেন ক্রুইজার। ব্রাজিলিয়ান লিগে রোনালদো করিন্থিয়াসের হয়ে খেললেও, শেষ পর্যন্ত কখনোই প্রিয় ক্লাবের হয়ে খেলা হয়নি ইতিহাসের অন্যতম সেরা নাম্বার নাইনের।

৭. লা-লিগার ক্লাব রিয়াল ভ্যালেদোলিদের মালিক রোনালদো

স্প্যানিশ লা লিগার ক্লাব রিয়াল ভ্যালেদোলিদের ৫১% শেয়ার কিনেছে রোনালদো। সংবাদ মাধ্যমের খবর, এজন্য ৩ কোটি ইউরো খরচ করতে হয়েছে তাকে। ক্লাবটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন ৪৫ বছর বয়সী রোনালদো।

৮. কখনো ‘চ্যাম্পিয়ন্স লিগ’ জিততে পারেননি রোনালদো

২টি বিশ্বকাপ, ২টি কোপা আমেরিকা, ২টি ব্যালন ডি’অর, ৩টি বার ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার, একমাত্র ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপ টানা দুই ফাইনাল খেলে গোল্ডেন বল ও বুট জয়ী রোনালদো বর্ণাঢ্য ক্লাব ক্যারিয়ারে কখনোই ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের স্বাদ পাননি। অথচ, ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি খেলেছেন বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ, এসি মিলান, ইন্টার মিলানের মতো ইতিহাসসেরা ক্লাবগুলোও।

আরও খেলার খবরঃ   ‘স্পেনবিহীন বিশ্বকাপ চিন্তাই করা যায় না’

৯.  মাত্র এক পয়েন্ট ব্যবধানে একটি ‘ব্যালন ডি’ অর’ হারিয়েছেন রোনালদো

রোনালদো নাজারিও। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা নাম্বার নাইন। অনেকের মতে, সর্বকালের সেরা স্ট্রাইকারও বটে। ফেনোমেনন ক্যারিয়ার ৩ বার ফিফা বর্ষসেরা পুরস্কার এবং ২ বার ফিফা ব্যালন ডি’অর পুরস্কার জিতেছে। কিন্তু, রোনালদোও ক্যারিয়ারে ব্যালন ডি’অরও ৩ বার জিততে পারতো।

ছবিঃ টুইটার

১৯৯৬ সালে জার্মানির ম্যাথিয়াস সামারের কাছে মাত্র ১ পয়েন্টের ব্যবধানে ব্যালন ডি’অর হারান রোনালদো। ১৯৯৬’এর ব্যালন ডি’অরে নাজারিওর পয়েন্ট ছিল ১৪৩। আর জার্মান ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ম্যাথিয়াস সামারের পয়েন্ট ছিল ১৪৪। তাই রোনালদো নাজারিওর ক্যারিয়ারে ফিফা বর্ষসেরার পুরস্কার ৩টি হলেও ব্যালন ডি’অর সংখ্যা ২।

১০. এল ক্লাসিকোয় ও মিলান ডার্বির সব ক্লাবের হয়ে খেলেছেন রোনালদো

ক্লাব ফুটবলে সবচেয়ে বড় দ্বৈরথ নি:সন্দেহে রিয়াল মাদ্রিদ বনাম বার্সেলোনা ক্লাসিকো। পৃথিবীর কয় জন ফুটবলার রিয়াল মাদ্রিদ এবং বার্সেলোনা উভয় দলের হয়েই এল ক্লাসিকো মাতিয়েছেন? উত্তরে অনেক জন বলা যেতে পারে। তবে, প্রশ্ন যদি হয় পৃথিবীর কয়জন ফুটবলার এল ক্লাসিকোতে দুই দলের হয়ে এবং ইতালির মিলান ডার্বিতেও দুই দলের হয়েই গোল করেছেন?

তাহলে প্রশ্নের উত্তর একজনই আসবে। আর তিনি হলেন রোনালদো ফেনোমেনন; রোনালদো লুইস নাজারিও দ্য লিমা! বর্ণাঢ্য ফুটবল ক্যারিয়ারে রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, ইন্টার মিলান ও এসি মিলান সব দলের হয়েই মাঠ মাতিয়েছেন ইতিহাসের সর্বকালের সেরা নাম্বার নাইন।

সাম্প্রতিক খবর

বাংলাদেশ ফুটবল / টাইব্রেকারে তেজগাঁও থানাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন ওয়ারী থানা
আন্তর্জাতিক ফুটবল / বিরূপ আবহাওয়ায় সাফ ফাইনালের সংবাদ সম্মেলন হবে জুমে
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট / চ্যাম্পিয়নের লক্ষ্যে টসে জিতে বোলিংয়ে সাকিবের কলকাতা
বাংলাদেশ ফুটবল / শিষ্যদের মালদ্বীপে রেখে ঢাকায় অস্কার ব্রুজন
আন্তর্জাতিক ফুটবল / বলিভিয়ার কাছে বিধ্বস্ত হয়ে বরখাস্ত হলেন প্যারাগুয়ের কোচ
আন্তর্জাতিক ফুটবল / গোল না পেয়ে ব্রাজিলিয়ান রেফারিকে নিয়ে ফুঁসলেন মেসি!
আন্তর্জাতিক ফুটবল / ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে উরুগুয়ে
টপ ট্রেন্ডিং সাকিব আল হাসান/ তামিম ইকবাল/ মুশফিকুর রহিম/ বিরাট কোহলি/ বাবর আজম/ মেসি/ নেইমার/ রোনালদো/ ব্রাজিল/ আর্জেন্টিনা/ রিয়াল মাদ্রিদ/ বার্সেলোনা/ পিএসজি