বিজ্ঞাপন

অফিসিয়াল গ্রুপে যোগ দিন

বাংলাদেশের স্পোর্টসভিত্তিক শীর্ষ অনলাইন ম্যাগাজিন

টপ ট্রেন্ডিং সাকিব আল হাসান/ তামিম ইকবাল/ মুশফিকুর রহিম/ বিরাট কোহলি/ বাবর আজম/ মেসি/ নেইমার/ রোনালদো/ ব্রাজিল/ আর্জেন্টিনা/ রিয়াল মাদ্রিদ/ বার্সেলোনা/ পিএসজি

একুশ শতকে রোমাঞ্চ ছড়ানো সেরা পাঁচ এল ক্লাসিকো

প্রকাশ: শনিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২১ | ২২:১০:১৩

ডেইলি স্পোর্টসবিডি ডেস্ক

ছবিঃ ইন্টারনেট
ছবিঃ ইন্টারনেট

স্প্যানিশ লা লিগার সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের নাম এল ক্লাসিকো। যেখানে স্পেনের সেরা দুটি ক্লাব বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ মুখোমুখি হয়। শতবর্ষী পুরোনো লড়াই পেয়েছে শৈল্পিক নাম— এল ক্লাসিকো। বিশ্ববিখ্যাত দুই ক্লাব যখন পরস্পরের মুখোমুখি হয়, তখন তা ফুটবলবোদ্ধা থেকে শুরু সমর্থকদের নজর কাড়তে সক্ষম হবে, এটাই স্বাভাবিক।

দুই দলের ধ্রুপদি এই লড়াইকে যদি কেবল তিন পয়েন্ট কিংবা শুধু একে অপরকে নক-আউট করার লক্ষ্যে ক্লাব দুটির খেলোয়াড়েরা ফুটবলীয় লড়াইয়ে নেমে যায় ভাবা হয়, তাহলে ভুল হবে। শতাব্দীর সেরা লড়াইয়ের পর্দার আড়ালে আরও অজানা অনেক কিছুই আছে। বার্সেলোনা-রিয়াল মাদ্রিদের লড়াই শুধু ফুটবলের না, দুটি ভিন্ন সংস্কৃতি, দুটি ভিন্ন প্রদেশের আলাদা রাজনৈতিক মতাদর্শেরও লড়াই।

আগামীকাল (রোববার) স্প্যানিশ লা লিগায় মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোয় মাঠে নামছে দুদল। বাংলাদেশ সময় রাত আটটা পনের মিনিটে বার্সেলোনার ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যু তে ঐতিহ্যের এই মহারণ অনুষ্ঠিত হবে। ইউরোপীয়ান ফুটবল তথা বিশ্ব ফুটবলের জমজমাট ম্যাচটি মাঠে গড়ার আগে আমাদের আয়োজন এই শতাব্দীতে সবচেয়ে বেশি রোমাঞ্চ ছড়ানো সেরা পাঁচ এল ক্লাসিকো নিয়ে।

৫. রিয়াল মাদ্রিদ ০-২ বার্সেলোনা (২০১১) |চ্যাম্পিয়নস লিগ|

সাধারণত, বিখ্যাত দুটো ক্লাবই একই দেশের হওয়ায় ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের আসরে বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ গ্রুপপর্বে একে অপরের বিপক্ষে খেলেনি। এতদিন তাই বিশ্ববিখ্যাত দুদলের দ্বৈরথ কেবল স্প্যানিশ ঘরোয়া লিগেই সীমাবদ্ধ ছিল।

২০১১ সাল ছিল এদিক থেকে কিছুটা ব্যতিক্রমই। স্প্যানিশ কোন প্রতিযোগিতায় নয়। এবার উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগেই দুদলকে একে অপরের মুখোমুখি করিয়ে দেয়। মর্যাদার এল ক্লাসিকো হয় ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের আসরের সেমিফাইনালে।

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ চারের প্রথম পর্ব হয় বার্সেলোনার ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যু তে। প্রতিযোগিতার সফলতম দলের বিপক্ষে মুখোমুখি কাতালান ইতিহাসে সবচেয়ে সফলতম দল।

লিওনেল মেসির জোড়া গোলে ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের আসরে রিয়ালকে হারায় বার্সেলোনা। 

মহাদেশীয় লড়াইয়ে সবকিছুতেই রিয়াল এগিয়ে থাকলেও তখন বিশ্বব্যাপী চলছিল পেপ গার্দিওলার বার্সেলোনার আধিপত্য। পেপ গার্দিওলার বার্সেলোনা দল ছিল সবার ধরাছোঁয়ার বাহিরে। মাঠের লড়াইয়েও ঠিক তাই হয়। ঘরের মাঠে কাতালানদের সোনালী দল ধরাশায়ী করে রিয়ালকে। ফলাফল, লিওনেল মেসি জোড়া গোলে হোসে মরিনহোর লস ব্লাংকোসদের হারিয়ে ফাইনালের পথে এক পা দিয়ে রাখে পেপ গার্দিওলার দল।

আরও খেলার খবরঃ   বায়ার্নের বিপক্ষে প্রতিশোধ নিতে চায় বার্সেলোনা

৪. রিয়াল মাদ্রিদ ২-১ বার্সেলোনা (২০১৪) |কোপা দেল রে|

এল ক্লাসিকোর ইতিহাসে ২০১৪ এর কোপা দেল রে ফাইনাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে সম্ভবত গ্যারেথ বেলের মধ্যমাঠ থেকে লম্বা দৌড়ে করা চোখ ধাঁধানো গোলটির জন্য! সেবার ভ্যালেন্সিয়ার মাঠে কোপা দেল রে’র ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা। শুরুতেই আর্জেন্টাইন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার আনহেল ডি মারিয়ার গোলে এগিয়ে যায় লস ব্লাংকোসসরা।

২০১৪ স্প্যানিশ কোপা দেল রে’র ফাইনাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে গ্যারেথ বেলের দুর্দান্ত গোলটির জন্য। 

বিরতির পর বার্ত্রার গোলে সমতায় ফিরে প্রতিযোগিতার সেরা দল বার্সেলোনা। নির্ধারিত সময়ের খেলা ড্রয়ের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছিলো। কিন্তু, এমন সময় ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে নিজেদের অর্ধ থেকে বল নিয়ে বিদ্যুৎ গতির দৌড়ে বার্সেলোনার ডি বক্সে ডুকে কাতালানদের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন গ্যারেথ বেল। ওয়েলসের দ্য হান্ড্রেড মিলিয়ন বয়ে অসাধারণ সেই গোলে ২০তম কোপা দেল রে শিরোপা ঘরে তুলে রিয়াল মাদ্রিদ।

৩. বার্সেলোনা ৫-০ রিয়াল মাদ্রিদ (২০১০) |লা লিগা|

একবিংশ শতাব্দীর এল ক্লাসিকোয় সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয়। ঘরের মাঠে প্রায় ৯৭ হাজার দর্শকের সামনে হোসে মরিনহোর রিয়াল মাদ্রিদকে রীতিমতো লজ্জায় ফেলে দিয়েছিল বার্সেলোনা। ২০১১ মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোয় ন্যু ক্যাম্পে রিয়াল মাদ্রিদকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করে পেপ গার্দিওলার দল।

ক্যাম্প ন্যুতে ঘরের মাঠের চেনা আঙ্গিনায় ম্যাচের দশম মিনিটেই জাভির গোলে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। আট মিনিট পর পেদ্রোর গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফেলে স্বাগতিকরা।

ন্যু ক্যাম্পে এই শতাব্দীতে এল ক্লাসিকোর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয়টি পায় বার্সেলোনা। 

বিরতির পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে রিয়াল। তবে, বার্সার সোনালী যুগের সেরা দলের কাছে দ্বিতীয়ার্ধে স্রেফ উড়ে যায় লস ব্লাংকোসরা। তিন মিনিটে দুই গোল করেই দলের জয় নিশ্চিত করে ফেলেন স্প্যানিশ স্ট্রাইকার দাভিদ ভিয়া। ৫৫তম মিনিটে গোল করার পর ৫৮তম মিনিটে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা।

আরও খেলার খবরঃ   ভারতে ব্যাটারকে মাথায় মেরে নির্বাসিত হয়েছিলেন গিলক্রিস্ট!

যোগ করা সময়ে জেফরিন আরও এক গোল করলেও রিয়ালের সর্বনাশের চূড়ান্ত পরিণতি হয় সার্জিও রামোসের লালকার্ড। তৃতীয় মিনিটে দলের বড় পরাজয়ের শেষ মুহুর্তে লালকার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার।

২. রিয়াল মাদ্রিদ ২-৬ বার্সেলোনা (২০০৯) | লা লিগা|

এই শতাব্দীতে এর আগে কোন দলই প্রতিপক্ষের জালে ৫ গোল করতে পারেনি। বার্সেলোনার পেপ গার্দিওলার দল কতটা ভয়াবহ ছিল তা এই ম্যাচেই হাড়েহাড়ে টের পেয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। লস ব্লাংকোসদের মাঠে গিয়েই স্বাগতিক দর্শকদের স্তব্ধ করে দিয়েছিল কাতালান ক্লাবটি। ম্যাচ শেষে স্কোর দেখে হয়তো মাদ্রিদিস্তা সমর্থকরা নিজেদের চোখকেও বিশ্বাস করতে পারেনি। গুনে গুনে রিয়াল ছয় গোল হজম করেছে!

২০০৯ সালে বার্নাব্যুতে এই কান্ড ঘটেছিল। স্প্যানিশ লা লিগায় ঘরের মাঠে শুরুতেই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড গঞ্জালো হিগুয়েইনের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু এই এক গোলই যেন তেলেবেগুনে রাগিয়ে দেয় মেসিদের! কাতালানরা শুরু করে তান্ডব!

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে ঘরের মাঠেই গুনেগুনে ছয় গোল হজম করে রিয়াল। 

সফরকারীদের হয়ে গোলউৎসবের শুরুটা করেছিলেন থিয়েরি অঁরি। লিওনেল মেসির পাস থেকে কাতালানদের সমতায় ফেরান ফরাসি স্ট্রাইকার। মাত্র দুই মিনিট পর জাভির পাস থেকে দলকে এগিয়ে দেন কার্লাস পুয়েল। প্রথমার্ধে স্কোর ৩-১ গোলে করে ফেলেন লিও মেসি। এবারও বলের যোগানদাতা জাভি!

বিরতির পর মাঠে ফিরে সার্জিও রামোসের গোলে ব্যবধান কমায় রিয়াল। কিন্তু, স্প্যানিশ ডিফেন্ডার সেই ব্যবধান খুব বেশি কমাতে পারেননি। থিয়েরি অঁরি ও লিওনেল মেসির ফের লক্ষ্যভেদের পর জেরার্ড পিকের গোলে উড়ে যায় জুয়ান্ডা রামোসের দল। ঘরের মাঠেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে ৬-২ গোলের লজ্জা পায় রিয়াল মাদ্রিদ!

১. বার্সেলোনা ৩-২ রিয়াল মাদ্রিদ (২০১৭) |লা লিগা|

এই শতকের তো বটেই, অনেকের মতে সর্বকালের সেরা এল ক্লাসিকোও এটিই। ইউরোপের ফুটবলের সেরা সব ভাষ্যকারেরা এই ম্যাচটি সম্পর্কে বলেছিলেন, অন্তত তাঁদের দেখা সেরা এল ক্লাসিকো ছিল রিয়ালের ঘরের মাঠে মেসি জাদুতে বার্সেলোনার ৩-২ গোলের জয়ের ম্যাচটিই।

আরও খেলার খবরঃ   মেমফিস ডিপাই এখন বার্সেলোনার

নিকট অতীতেও কোটি কোটি দর্শকের স্নায়ুর পরীক্ষা নেওয়া এল ক্লাসিকো মোটেও কম হয়নি। কিন্তু দু দলই সমানে-সমান খেলে আক্রমণের পর আক্রমণ করেছে; সমান পাল্টা দিয়ে দুই দলের গোলরক্ষক হয়ে উঠেছেন অতিমানবীয় প্রাচীর, গোল, পাল্টা গোল, আর প্রতিটা গোলের লিগের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ ৯০ ডিগ্রি বাঁক নিয়ে বদলে যাওয়া- ২০১৭ সালে বার্নাব্যুতে হওয়া স্প্যানিশ লা লিগার এল ক্লাসিকোয় হয়েছিল ঠিক এমনটাই। রোমাঞ্চকর সেই ম্যাচের প্রতিটা মিনিটই যেন ছিল ম্যাচের একেকটি হাইলাইটস।

বার্নাব্যুতে সেদিন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার ক্যাসিমেরোর গোলে এগিয়ে গিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। ৫ মিনিট পরই বার্সেলোনাকে সমতায় আনেন লিওনেল মেসি। আক্রমণ প্রতি আক্রমণের প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয় ১-১ গোলে।

বিরতির পর মাঠে ফিরে দুদল আক্রমণের স্টিমরোলার চালায়। তবে, এবার এগিয়ে যায় লুইস এনরিকের দল। ইভান রাকিতিচের গোলে লিড নেয় সফরকারীরা। চার মিনিট পর লালকার্ড দেখে মাঠে ছাড়েন রিয়াল মাদ্রিদ ডিফেন্ডার সার্জিও রামোস। কিন্তু, দশ জনের রিয়ালের বিপক্ষেও কাতালানরা সেই লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি। হামেস রদ্রিগেজ গোল করে সমতায় ফেরায় স্বাগতিকদের। ড্রয়ের পথে যাচ্ছিলো ম্যাচ।

লিওনেল মেসির শেষ মুহুর্তের গোলে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল বার্নাব্যু। 

এমন সময় কাতালানদের ত্রাণকর্তা হয়ে ফিরেন লিওনেল মেসি। ম্যাচের যোগ করা সময়ে জর্দি আলবার পাস থেকে দুর্দান্ত এক গোল করে বার্সাকে জয়ের উল্লাস এনে দেন এল ক্লাসিকোর ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। কাতালানদের হয়ে সেদিন নিজের ৫০০তম গোলটিও করে ফেলেন আর্জেন্টাইন ক্ষুদে জাদুকর।

যুগে যুগে অনেক এল ক্লাসিকোই হয়েছে, যেখানে দুই দলের খেলোয়াড়েরা নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছেন। চোখ–ধাঁধানো ফুটবলের পসরাও কম উপভোগ করেনি সবাই। কিন্তু সব ছাপিয়ে গেছে বার্নাব্যুর সেই ম্যাচ। তা খেলার ধরনে, ফলাফলে। যে ম্যাচের ঘোর, মেসির সেই হুংকার, যার রেশ কাটেনি হয়তো এখনো।

 

*ছবি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

সাম্প্রতিক খবর

বাংলাদেশ ফুটবল / সেরাটা খেলেই সেমিফাইনালে যেতে চায় আবাহনী
খেলাধুলায় মেয়েরা / বাংলাদেশ ফুটবল / সাফের দলে নতুন দুই মুখ
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট / অধিনায়ক না হলেও দলের নেতা কোহলিই, রোহিতের শান্তির বার্তা
বাংলাদেশ ফুটবল / বিকেএসপি / প্রতি বিভাগে বিকেএসপি গড়ে তোলার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
ক্লাব ফুটবল / কোভিড প্রাদুর্ভাবে স্থগিত টটেনহ্যাম-রেঁনে ম্যাচ
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট / ড্যানি মরিসনের চোখে সবচেয়ে ওভাররেটেড ক্রিকেটার পোলার্ড, আন্ডাররেটেড কারা?
বাংলাদেশ ফুটবল / ছেলেদের চ্যাম্পিয়ন সিলেট, মেয়েদের রংপুর
টপ ট্রেন্ডিং সাকিব আল হাসান/ তামিম ইকবাল/ মুশফিকুর রহিম/ বিরাট কোহলি/ বাবর আজম/ মেসি/ নেইমার/ রোনালদো/ ব্রাজিল/ আর্জেন্টিনা/ রিয়াল মাদ্রিদ/ বার্সেলোনা/ পিএসজি