বিজ্ঞাপন

অফিসিয়াল গ্রুপে যোগ দিন

বাংলাদেশের স্পোর্টসভিত্তিক শীর্ষ অনলাইন ম্যাগাজিন

টপ ট্রেন্ডিং সাকিব আল হাসান/ তামিম ইকবাল/ মুশফিকুর রহিম/ বিরাট কোহলি/ বাবর আজম/ মেসি/ নেইমার/ রোনালদো/ ব্রাজিল/ আর্জেন্টিনা/ রিয়াল মাদ্রিদ/ বার্সেলোনা/ পিএসজি

দুর্বোধ্য হেয়া এবং একজন স্প্যানিয়ার্ড বাজপাখির উপাখ্যান

প্রকাশ: শনিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২১ | ১২:১৬:২৯

ডেইলি স্পোর্টসবিডি ডেস্ক

ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

১৮ই ফেব্রুয়ারী ২০১৮।

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগের শেষ ষোলর প্রথম লেগে মুখোমুখি হয় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড বনাম সেভিয়া। চার বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বের ম্যাচ খেলতে নেমেছিল রেড ডেভিলরা। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দুর্বল রক্ষণে একের পর এক আক্রমণ করে যাচ্ছিল স্প্যানিশ ক্লাবটি। এমনিতে ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় সর্বশেষ ঘরের মাঠে সেভিয়া গোলশূন্য থেকেছিল ঠিক ২০০৫ সালে, উয়েফা কাপে ক্লাব এফএসভি মেইনজের বিপক্ষে। প্রায় ভুলে যাওয়া সেই অনুভূতিটাই সেভিয়ার সমর্থকদের সেদিন আবার মনে করিয়ে দেন ডেভিড ডি হেয়া। বলা যায়, একজন ডেভিড ডি হেয়ার করা অতিমানবিক পারফরম্যান্সে সেভিয়ার মাঠ থেকে গোলশূন্য ড্র নিয়ে ফিরে ইউনাইটেড।

প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মিনিটে ডি হেয়ার দুটো সেভ ছিল চোখে লেগে থাকার মতো। প্রথমটি ছিল স্টিভেন এন’জঞ্জির। পাব্লো সার্বিয়ার কাছ থেকে পাওয়া ওভার হেড কিকে হেড করছিলেন এন’জঞ্জির। তার সেই হেড লাফিয়ে উঠে এক হাতে ক্রসবারের ওপর দিয়ে পাঠিয়ে দেন ডি হেয়া। তার কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধান পর হেয়া’র আরেকটি সেভ ছিল রীতিমতো অবিশ্বাস্য! ডান প্রান্ত থেকে ক্রসে আসা বলে লাফ দিয়ে হেয়ার ঠিক সামনে থেকে হেড করছিলেন লুইস মুরিয়েল। চোখের পলকে বলটি এক হাতে ক্রসবারের ওপর দিয়ে বাইরে পাঠিয়ে ইউনাইটেডের ত্রাতা ডি হেয়া।

ছবিঃ টুইটার

তখন হেড থেকে বল ডি হেয়ার হাতে লাগার মাঝের দূরত্ব ছিল মাত্র ৫ গজ,আর সময়ের ব্যবধান ০.১৮ সেকেন্ড, এবং গতি ঘণ্টায় ৫৬.৮ কিলোমিটার! সেদিন পুরো ম্যাচে ইউনাইটেডের গোল- পোষ্টের নিচে ডি হেয়া যেন দাডিয়েছিলেন চীনের ‘মহা প্রাচীরের’ ন্যায়। একাই করেছিলেন ৮টি সেভ। যা ছিল ২০১১ সালের পরে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগের ম্যাচে ইউনাইটেডের যেকোনো গোলরক্ষকের মধ্যে সর্বোচ্চ। ঠিক সাত বছর আগে এফসি বার্সেলোনার বিপক্ষেও সমানসংখ্যক আটটি সেভ করেছিলেন এডউইন ভ্যান ডার সার।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড দলকে একদিক দিয়ে প্রচন্ড ভাগ্যবান বলা যায়। গেল শতাব্দী কিংবা চলতি শতাব্দী ইউনাইটেডের গোলবার সামলিয়েছেন বেশ কয়েকজন লিজেন্ডারি গোলকিপার। স্যার ফার্গুসন এডউইন ভ্যান ডার সারের বিকল্পও খুঁজেন সময়ের সেরা প্রতিভাবান গোলকিপার। তাই স্পেন থেকে যখন ডি হেয়ার খোঁজ পান নিজেই চলে যান তার খেলা দেখতে। ভ্যান ডার সারের উত্তরসূরী খুঁজতে কতটা সিরিয়াস ছিলেন ফার্গুসন তার জন্য একটি তথ্য জেনে রাখা দরকার। স্যার ফার্গি তার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আড়াই যুগের ক্যারিয়ারের মাত্র দুটো ম্যাচ ডাগআউটে মিস করেছিলেন; যার মধ্যে একটি ডেভিড ডি হেয়ার খেলা স্বচক্ষে দেখা। হ্যাঁ, সেই সময়ের সেরা প্রতিভাবান গোলকিপারের খেলা নিজের চোখে দেখার জন্য পাড়ি দিয়েছিলেন সুদূর স্পেনে।। তিনি স্পেন থেকে ফিরেই নিশ্চিত করে ফেলেন হেয়া টু ইউনাইটেড ডিল।

হেয়া যখন ইউনাইটেডে আসে পাড় ভক্তরাও ভ্যান ডার সারের রিপ্লেস হিসেবে তাকে মানতে পারেননি। কেবল, স্যার ফার্গুসনের সাইনিং বলে তারা সামান্যতম ভরসা করতে থাকে। কিন্তু, শুরুর দিকে হেয়ার শিশুসুলভ ভুল ওল্ড ট্রাফোর্ডে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠে। তারপরও কোনকিছুই দমিয়ে রাখতে পারেনি ডেভিড ডি হেয়াকে। ধীরেধীরে মাঠে পারফরম্যান্সে নিজের উপস্থিতি জানান দেন। স্যার ফার্গুসনের বিদায়ের পর নিজে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ওয়ান ম্যান আর্মি বনে যান।।

বর্তমানের পারফরম্যান্সে বেশ ব্যাকফুটে থাকলেও ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের আগেও যারা হেয়ার খেলা দেখেছেন শুধুই তারা বলতে পারবে, তখনকার ডেভিড ডে হেয়া আসলে কি ছিলেন। ভিদিচ- ফার্দিনান্দ জুটির বিদায়ে জোনস-স্মলিংদের মত বিলো এভারেজ ডিফেন্সের সামনে বুক চিতিয়ে লড়ে গিয়েছিলেন। ফুটবল ইতিহাসের খুব কম গোলকিপার এসেছেন যারা নিজের একা পারফরম্যান্স এ দলের জয় নিশ্চিত করতে পেরেছেন তাদের মধ্যে ডি হেয়া একজন।

ছবিঃ টুইটার

বহুদিন ইউনাইটেডের সবচেয়ে ধারাবাহিক ফুটবলার ছিলেন হেয়া। রুনির বিদায়ের পর পগবা, রাশফোর্ড, মার্শাল এবং রোমেলো লুকাকু,স্যাঞ্চোজরা মাঝেমধ্যে পাদপ্রদীপের ন্যায় জ্বলে উঠলেও; দীর্ঘদিন ইউনাইটেড দলের কার্যকর খেলোয়াড় একমাত্র ডি হেয়াই ছিলেন। তাই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সর্বোচ্চ চারবার স্যার ম্যাট বসবি প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার পুরস্কারজয়ী প্লেয়ারও তিনিই। ম্যান ইউনাইটেডের জার্সি গায়ে এখন পর্যন্ত একমাত্র নন-ব্রিটিশ ফুটবলার হিসেবে ম্যাচ খেলেছেন চারশোর বেশি। ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে ক্লিনশীট রাখেন রেকর্ড ১১৩টি। প্রিমিয়ার লীগে এখনও ১ ম্যাচে সর্বোচ্চ সেভ করার অনন্য রেকর্ডে নাম তার আছে।

আরও খেলার খবরঃ   ভারতে ব্যাটারকে মাথায় মেরে নির্বাসিত হয়েছিলেন গিলক্রিস্ট!

২০১৭ সালে আর্সেন ওয়েঙ্গারের আর্সেনাল দলের বিপক্ষে এক ম্যাচ ১৪টি সেভ দিয়ে টিম ক্রুল এবং ভিটো ম্যাননোনের সঙ্গে যৌথভাবে ১ ম্যাচে সর্বোচ্চ সেভ করার রেকর্ড গড়েন। ২০১৮ সালে প্রিমিয়ার লীগে হোসে মরিনহোর দলের সাফল্যের মূল কারিগরও ছিলেন হেতা। একটি বিলো এভারেজ ডিফেন্স নিয়ে গোলবার অক্ষত রাখেন ১৮টি ম্যাচ। এবং ইন্ডিভিচ্যুয়ালি জিতে নেন প্রিমিয়ার লীগের গোল্ডেন গ্লাভস। এখন পর্যন্ত রেড ডেভিলদের গোলবার মোট সামলিয়েছেন ৯টি বছর; জিতেছেন ১টি ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ, দুইটি ডমেস্টিক কাপ ও দুইটি এফএ কমিউনিটি শিল্ড এবং অবশ্যই একটি ইউরোপা কাপ।

ইকার ক্যাসিয়াস এবং পেপে রেইনার মত কিংবদন্তি গোলরক্ষকদের কারণে স্পেন দলে অভিষেকের জন্য অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘদিন। ২০১৪ বিশ্বকাপে ৩০ জনের স্কোয়াডে ছিলেন; কিন্তু খেলতে পারেননি একটি ম্যাচও। স্পেনও সেবার বেশিদূর এগোতে পারে নাই। গ্রুপ স্টেজ থেকে বিদায় নেয় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। ফুটবল বিশ্বকাপের পরই আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে এল সালভাদরের বিপক্ষে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ডেব্যু হয় হেয়ার। তারপরের মাসে ফ্রান্সের বিপক্ষ একেবারে শুরুর একাদশে খেলেন। কিন্তু, ম্যাচটি স্পেন হেরে যায় ১-০ গোলে। ২০১৬- ইউরোতে দেল বস্কের স্পেন দলের গোলবার সামলানোর দায়িত্ব আসে তার উপর।

ছবিঃ টুইটার

মূলত, তার কিছু সময় আগে থেকে স্পেন দলেও নিয়মিত হয়ে উঠে হেয়া। দুর্ভাগ্যবশত, ইতালির বিপক্ষে হেরে রাউন্ড অব সিক্সটিন থেকে বিদায় নেয় স্পেন। ‘১৮ এর রাশিয়া বিশ্বকাপে ছিলেন দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর কাছে হিউমিলিয়েটেড হয়েই আসর শুরু করে খুব বাজেভাবে। রোনালদোর অনিন্দ্য সুন্দর এক হ্যাট্রিকে পর্তুগাল ম্যাচ ড্র করে ৩-৩ গোলে। বলা হয়ে থাকে, ডেভিড ডি হেয়ার শনির দশাও শুরু হয় সেখান থেকেই। রোনালদোর কাছে হিউমিলিয়েশন পর হঠাৎ ক্যারিয়ারের ছন্দপতন হয় যার পরিণতি এক সময়ের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের প্রাচীর হয়ে থাকা ডে হেয়া কয়েকদিন আগেই জায়গা হারান ডিনো হ্যান্ডারসনের কাছে ! দীর্ঘদিন পর আবারও ফিরেছেন রেড ডেভিল দলের গোলবারের নিচে, ফের ফিরেছেন নিজের চেনা ফর্মেও।

আরও খেলার খবরঃ   গলে আসলেই হাসে ম্যাথিউসের ব্যাট

জো হার্ট একবার বলেছিলেন, “As a Goalkeeper, you can’t come off the bench for 10 minutes and prove your worth- it’s either you are in or either you are out.” প্রকৃতির সহজ নিয়মে হেয়া হয়তো এখন ক্যারিয়ারে বাজে সময় পার করছেন। হয়তো অনেকের চোখে ডি হেয়া এখন সমালোচনার পাত্র; কিন্তু, নিজের চেনা ফর্মের ডি হেয়াকেও যারা দেখেছে তার ডায়নামিক সেভগুলো নিশ্চিত কেউ ভুলতে পারবে না। ইনফর্ম হেয়ার প্রতিটি দুর্দান্ত সেভই ছিল চোখের এক পশলা শান্তি।

লেখা: এ.এইচ বাদশা

সাম্প্রতিক খবর

ক্লাব ফুটবল / বেঞ্চ থেকে উঠেও ইউনাইটেডকে জেতাতে পারলেন না রোনালদো
ক্লাব ফুটবল / কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়লেন নেইমার
বাংলাদেশ ফুটবল / জয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করলো ফুটবল একাডেমী নাটোরের
ব্যাডমিন্টন / ২০ হাজার ডলার প্রাইজমানির সানরাইজ-ইয়োনেক্স ব্যাডমিন্টন
ক্লাব ফুটবল / রামোসের অভিষেকে পিএসজির জয়ে বড় দুঃখ নেইমারের ‘কান্না’
হকি / চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রাথমিক দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাংলাদেশ ক্রিকেট / ঢাকায় ‘বিশ্ব শান্তি সম্মেলন’ উপলক্ষে প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচে লড়বে সাবেকরা
টপ ট্রেন্ডিং সাকিব আল হাসান/ তামিম ইকবাল/ মুশফিকুর রহিম/ বিরাট কোহলি/ বাবর আজম/ মেসি/ নেইমার/ রোনালদো/ ব্রাজিল/ আর্জেন্টিনা/ রিয়াল মাদ্রিদ/ বার্সেলোনা/ পিএসজি