বিজ্ঞাপন

অফিসিয়াল গ্রুপে যোগ দিন

বাংলাদেশের স্পোর্টসভিত্তিক শীর্ষ অনলাইন ম্যাগাজিন

টপ ট্রেন্ডিং সাকিব আল হাসান/ তামিম ইকবাল/ মুশফিকুর রহিম/ বিরাট কোহলি/ বাবর আজম/ মেসি/ নেইমার/ রোনালদো/ ব্রাজিল/ আর্জেন্টিনা/ রিয়াল মাদ্রিদ/ বার্সেলোনা/ পিএসজি

রায়ান গিগস: দ্য আয়রনম্যান অব ক্লাস অব নাইন্টি টু

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২১ | ১৬:৪৮:৫৪

ডেইলি স্পোর্টসবিডি ডেস্ক

স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের বিখ্যাত ক্লাস অব ‘৯২ এর কথা মনে আছে? যারা ইংল্যান্ডে মার্সেসাইডের ক্লাব লিভারপুলের একক শ্রেষ্ঠত্বকে দুমড়ে মুচড়ে সত্তরের দশকে তলানিতে থাকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা ক্লাবের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল। যারা অজেয়কে জয় করেছিল। অসম্ভবকে সম্ভব করেছিল এবং ফুটবল বিশ্বকে দেখিয়েছিল যে এই ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই। যারা ছিল একটি প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা।

সেই দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিল এক ওয়েলস ফুটবলার। নাম গিগস। পুরো নাম রায়ান জোসেফ গিগস। বলা হয়ে থাকে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ক্লাবের ইতিহাসে সবচেয়ে ঠান্ডা মাথার ফুটবলার রয়ান গিগস। প্রায় ২৪ বছরে রেড ডেভিলদের জার্সিতে শূন্য লাল কার্ড গিগস খেলার মাঠে ঠিক কতটা ঠান্ডা মাথার ছিল তাই প্রমাণ করে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ট্রফি হোল্ডারও এই ওয়েলসম্যান। যার সম্পর্কে দেল পিয়েরো বলেন,

“মাত্র দুজন খেলোয়াড় ছিলেন যাদের কারণে আমার চোখে পানি আসতো। একজন দিয়াগো ম্যারাডোনা; আর অন্যজন রয়ান গিগস।”

রয়ান গিগসের জন্ম ওয়েলস শহর, কার্ডিফে। শৈশবের অধিকাংশ সময় কাটে তার মায়ের বাড়ি স্যালফোর্ডে। তখন স্যালফোর্ডের একটি স্থানীয় ক্লাব ডিনস এফসি’র হয়ে ফুটবল খেলা শুরু করেন গিগস। ঠিক সেই সময়ে ম্যানচেস্টার সিটির এক স্কাউটের নজর কাড়েন গিগস।

ছবিঃ টুইটার

কিছুদিন পর সিটির ‘স্কুল অফ একসেলেন্স’-এ ডাক পান। তখন থেকেই গিগসকে প্রতিনিয়ত স্কাউটিং করতো ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ১৯৮৭ সালে ১৪ বছর বয়সী গিগসের বাসায় হঠাৎ করে আবির্ভুত হন স্যার এলেক্স ফার্গুসন। ফার্গি তাকে ওল্ড ট্রাফোর্ডে ট্রায়াল দেওয়ার অফার করে।সেখান থেকে দ্রুত সুযোগ পেয়ে যান ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেডের একাডেমি দলে।

১৯৯০ সালে প্রথম প্রফেশনাল কন্ট্রাক্ট সাইন করার পর ইউনাইটেডের মূল দলের সদস্য হন ১৭ বছর বয়সে। রয়ান গিগসই ছিলেন স্যার ফার্গুসনের দলের সবচেয়ে কমবয়সী ফুটবলার। পরের বছর থেকে ইউনাইটেডের নিয়মিত মুখ হয়ে ওঠেন গিগস। টানা ২ মৌসুম প্রিমিয়ার লীগের বর্ষসেরা তরুণ ফুটবলারও নির্বাচিত হন।

আরও খেলার খবরঃ   আইপিএলের অরেঞ্জ ক্যাপের মাহাত্ম্য

ক্লাস অব ‘৯২ ছাড়াও প্রফেশনাল ক্যারিয়ারের পুরোটা সময় কাটিয়েছেন রেড ডেভিলদের জার্সিতে। যদিও, ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমটি ছিল রয়ান গিগসের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সফল মৌসুম। অপ্রতিরোধ্য সেই ইউনাইটেড দল জয় করে ঐতিহাসিক ট্রেবল। মৌসুমে এফএ কাপ সেমিতে আর্সেনালের বিপক্ষে দুর্দান্ত একটি সলো গোল করেন। যা এফএ কাপের ইতিহাসে অন্যতম সেরা গোল বলেও বিবেচিত।

ছবিঃ টুইটার

২০০৭-০৮ মৌসুমেও ক্যারিয়ারের চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জেতে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে ২৪ বছরে ৯৬৩টি ম্যাচে অফিশিয়ালি গোল করেন ১১৪টি। তার ২৪ বছরের ইউনাইটেড ক্যারিয়ারের ছিল না অপ্রাপ্তির কিছুই। ১৩টি প্রিমিয়ার লীগ, ৪টি এফ এ কাপ, ৩টি লীগ কাপ, ৯টি কমিউনিটি শীল্ড, ২টি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ, একটি উয়েফা সুপার কাপ, একটি ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ ও ২টি ক্লাব বিশ্বকাপসহ সম্ভব্য সবকিছুই জিতেছেন। ফার্গির অবসরের পর ২০১৩-১৪ মৌসুমের শেষ দিকে বাজে পারফরম্যান্সের জন্য ডেভিড ময়েস বরখাস্ত হলে খেলোয়াড় হয়েই গিগস ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড দলের অন্তর্বর্তীকালীন ম্যানেজার হয়।

সে মৌসুমের শেষ লীগ ম্যাচে ম্যানেজার গিগস জার্সি পড়ে বদলির খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে পড়েন নিজেই। তারপর লুইস ভ্যান গাল ওল্ড ট্রাফোর্ডের দায়িত্ব পেলে ৪১ বছর বয়সে সব ধরনের ফুটবল থেকে অবসর নেন গিগস। বর্তমান তিনি স্যালফোর্ড সিটি ফুটবল দলের মালিক।

ক্লাব ফুটবল ছাড়া দেশের হয়ে গিগস প্রতিনিধিত্ব করেন ওয়েলসকে। মাত্র ১৮ বছর বয়সে জার্মানির বিপক্ষে বদলি নেমে ওয়েলসের হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে অভিষেক হয়ে গিগসের। তৎকালীন গিগসই ওয়েলসের ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার ছিলেন। ক্যারিয়ারের একমাত্র অপ্রাপ্তি বলতে দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলতে না পারা।

ছবিঃ টুইটার

ইতিহাসে বিশ্বকাপ খেলতে পারেননি এমন কিছু কিংবদন্তি খেলোয়াড়ের মধ্যে গিগসও অন্যতম। ওয়েলসের হয়ে ৬৪ ম্যাচে ১২ গোল করে। ২০০৭ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান গিগস। ওয়েলস ছাড়াও গায়ে জড়িয়েছেন গ্রেট ব্রিটেনের জার্সি। ২০১২ সালে অলিম্পিকে গ্রেট ব্রিটেনের হয়ে খেলে করেছিলেন ১টি গোল।

আরও খেলার খবরঃ   কোচের ছোড়া বলে আহত রুট, শঙ্কায় নিউজিল্যান্ড সিরিজ

রায়ান গিগস বিখ্যাত হয়ে থাকবে ইউনাইটেডের হয়ে তার সব কীর্তির জন্য। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এক বর্নিল অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই নামটি। তাই, এখনও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের নাম শুনলে প্রথম যে কয়জন ফুটবলারদের কথা মাথায় আসে, রায়ান গিগস তাদের মধ্যে অন্যতম। যার সম্পর্কে জিনেদিন জিদানও বলেছিলেন, “If he was French, Pires or myself would have been on the bench.” ১৯৭৩ সালের ২৯শে নভেম্বর কার্ডিফে জন্মগ্রহণ করেন গিগস।

লেখা: আফসানা জেসনিন

সাম্প্রতিক খবর

বাংলাদেশ ফুটবল / ফিফা র‍্যাংকিংয়ে উন্নতি বাংলাদেশের
বাংলাদেশ ফুটবল / ঢাকায় এসে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেই ফাইনালের কথা স্মরণ করলেন গ্রান্ট
ক্লাব ফুটবল / ২০২১-এর ক্লাব বিশ্বকাপ হবে আরব আমিরাতে
বাংলাদেশ ক্রিকেট / সুপার টুয়েলভে ওঠার মিশনে পিএনজির বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট / পাকিস্তান নয়, ইনজামামের চোখে বিশ্বকাপে ফেভারিট ভারত
বাংলাদেশ ফুটবল / লঙ্কা সফরে বাংলাদেশের কোচ পর্তুগালের মারিও লেমোস
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট / বাংলাদেশকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন পিএনজির
টপ ট্রেন্ডিং সাকিব আল হাসান/ তামিম ইকবাল/ মুশফিকুর রহিম/ বিরাট কোহলি/ বাবর আজম/ মেসি/ নেইমার/ রোনালদো/ ব্রাজিল/ আর্জেন্টিনা/ রিয়াল মাদ্রিদ/ বার্সেলোনা/ পিএসজি