ফুটবল > বাংলাদেশ ফুটবল

শ্রীলংকার কাছে হেরে স্বপ্ন ভঙ্গ বাংলাদেশের

নিউজ ডেস্ক

১৬ নভেম্বর ২০২১, বিকাল ৫:৩১ সময়

[ whatsapp-image-2021-11-10-at-6-31-16-pm-1-2 ]
প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়া এরপর ম্যাচে ফেরার সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে না পারা। দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক আক্রমণের পর গোলের দেখা পাওয়া। শেষ মুহুর্তে পেনাল্টিতে গোল হজম করে শ্রীলংকার কাছে হেরে স্বপ্ন ভঙ্গ বাংলাদেশের। এই হারে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হল বাংলাদেশকে। দারুণ জয়ে ফাইনালে শ্রীলংকা। মঙ্গলবার রাতে কলম্বোর রেসকোর্স স্টেডিয়ামে স্বাগতিক শ্রীলংকার কাছে ২-১ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। শ্রীলংকার হয়ে জোড়া গোল করেছেন ওয়াসিম রাজেক। বাংলাদেশকে সমতায় ফিরিয়েছিল জুয়েল রানা। কর্দাযুক্ত মাঠে পুরো ম্যাচে ৫৬ শতাংশ বল পজিশনের পাশাপাশি লংকানদের জালে শটও বেশি নিয়েছিল বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের সাথে ড্র করলেই ফাইনালে যাবে বাংলাদেশ এমন সমীকরণ নিয়ে মাঠে নামলেও শুরুতেই লংকানদের আক্রমণ ঠেকাতে ব্যতি ব্যস্ত হয়ে পড়ে তপু-বাদশারা। ম্যাচের দুই মিনিটেই জিকোকে পরীক্ষা নেয় স্বাগতিকরা। বাম পাশ থেকে লম্বা থ্রো কাভিন্দো ইশানের মাথা ছুয়ে জালের দিকে আসলেও আনিসুর রহমান জিকো তা নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন। এরপরের মিনিটেই প্রতিআক্রমণে যায় বাংলাদেশ। রহমত মিয়ার লম্বা থ্রো তপু বর্মন মাথা লাগালেও তা লংকান গোলরক্ষক লুফে নেন। ৫ম মিনিটে বড় বাচা বেঁচে যায় বাংলাদেশ। গোল পোস্ট ফাকা পেয়েও বল জালে জড়াতে পারেনি সাসাঙ্গা দিলহারা ২৫ মিনিটে ম্যাচে এগিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। বক্সের বাইরে থেকে দূর পাল্লার শট জিকো রুখে দিলেও ফিরতি বলে বল জালে জড়ান ওয়াসিম রাজেক। এ নিয়ে টুর্নামেন্টে নিজের পঞ্চম গোল করলেন এই প্রবাসী ফুটবলার। তবে ম্যাচে ফেরার দারুন সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। ৩৩তম মিনিটে জামাল ভুইয়ার কর্ণার থেকে আসা বল তপু বর্মন মাথা ছুয়ালে গোল লাইন থেকে হাত দিয়ে আটকান লংকান ডিফেন্ডার পুসলাস। ফলে পেনাল্টির বাশি বাজান রেফারি এবং হাত দিয়ে বল আটকানোয় সরাসরি লাল কার্ড দেখেন এই ডিফেন্ডার। কিন্তু পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন তপু বর্মন। ফলে ম্যাচে ফেরা হয়নি বাংলাদেশের। বিরতিতে যাওয়ার আগে সুজন পেরেরার দুর্দান্ত সেইভে গোল পাওয়া হয়নি বাংলাদেশের। জামাল ভুঁইয়ার কর্নার থেকে আসা বল মোহাম্মদ হৃদয় মাথা ছুয়ালে ঝাপিয়ে রক্ষা করেন লংকান অধিনায়ক্ক, ফিরতি বলে সুশান্ত ত্রিপুরা সুযোগ পেলেও তার শট ক্রস বারের উপর দিয়ে চলে যায়। ম্যাচে ফিরতে দ্বিতীয়ার্ধে দশ জনের শ্রীলংকার উপর একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে জামাল ভুইয়ারা। কিন্তু কিছুতেই লক্ষ্যভেদ করতে পারছিল না। অবশেষে ৭১ মিনিটে বাংলাদেশকে সমতায় ফেরান জুয়েল রানা। ইয়াসিন আরাফাতের হাওয়ায় ভাসানো বল বক্সের মধ্যে থেকে পা বাড়িয়ে লক্ষ্যভেদ করেন এই উইঙ্গার। এর ফলে ফাইনালের স্বপ্ন জেগে উঠে লেমোসের দলের। সময় বাড়ার সাথে সাথে দশ জনের শ্রীলংকাও ম্যাচে ফেরার চেস্টা করে। ৮৯ মিনিটে নিজেদের বক্সের মধ্যে সাদ উদ্দিনের হাতে বল লাগলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক থেকে লংকানদের এগিয়ে নিয়ে টুর্নামেন্টে নিজের ষষ্ঠ গোলের দেখা পান জার্মান প্রবাসী ওয়াসিম রাজেক। বাকি সময়ে ম্যাচ ফিরতে বেশ কয়েক বার আক্রমণে গেলেও কাঙ্খিত গোলের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। তিন ম্যাচে বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার সমান চার পয়েন্ট এবং গোল ব্যবধান সমান হলেও মুখোমুখি দেখায় এবং টুর্নামেন্টে বেশি গোল করায় ফাইনালে স্বাগতিকরা। ১৯ নভেম্বর ফাইনালে স্বাগতিকদের প্রতিপক্ষ সিশেলস।