ক্রিকেট > আন্তর্জাতিক ক্রিকেট

উইন্ডিজের সাথে ছেলেখেলায় বছরে সর্বোচ্চ জয়ের রেকর্ড পাকিস্তানের

নিউজ ডেস্ক

১৩ ডিসেম্বর ২০২১, বিকাল ৬:৫ সময়

[ fgfxlwexsaozsxs ]
(বাঁয়ে) হায়দার আলী এবং রিজওয়ান (ছবিঃ টুইটার)
করাচিতে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে অনভিজ্ঞ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাটে-বলে পাত্তা দেয়নি স্বাগতিক পাকিস্তান। ক্যারিবীয়দের রীতিমতো উড়িয়ে দিয়ে সহজ জয় বছর জুড়ে এই ফরম্যাটে দুরন্ত ছন্দে থাকা বাবর আজমের দল। আর এই জয়ের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এক বর্ষপঞ্জিকায় সবচেয়ে বেশি ম্যাচ (১৮) জেতার নতুন ইতিহাস গড়লো পাকিস্তান। সোমবার করাচি ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৬৩ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে পাকিস্তান, যা চলতি বছরে বাবর আজমদের ১৮তম জয়। এদিন টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে ২০০ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছিল স্বাগতিকরা। জবাবে ১৯ ওভারে মাত্র ১৩৭ রানেই থেমে যায় ক্যারীবিয়দের ইনিংস। অথচ টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তানের শুরুটা হয়েছিল দুঃস্বপ্নের মতো। ম্যাচের চতুর্থ বলেই দলীয় ১ রানে আকিল হোসেনের বলে উইকেটের পিছনে শাই হোপের হাতে ধরা পড়ে রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফিরেন পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজম। বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি ফখর জামানও। ১০ বলে ১০ রান করে রোমারিও শেফার্ডের বলে বড় শট খেলতে যেয়ে লংঅনে শামরাহ ব্রুকসের হাতে ধরা পড়েন বাঁহাতি এই ব্যাটার। তবে তৃতীয় উইকেট জুটিতে হায়দার আলীকে নিয়ে দুর্দান্ত এক পার্টনারশিপ গড়েন জীবনের সেরা ফর্মে থাকা মোহাম্মদ রিজওয়ান। এ জুটিতে মাত্র ৬৯ বলে তারা দুজন মিলে যোগ করেন ১০৫ রান। যেখানে ক্যারিবীয় বোলারদের শাসন করে চলতি বছরের ১১তম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ফিফটি তুলে নেন রিজওয়ান। [caption id="attachment_58726" align="aligncenter" width="679"] (বায়ে) হায়দার আলী এবং রিজওয়ান (ছবিঃ টুইটার)[/caption] ১০ চারে ৫২ বল মোকাবিলায় দলীয় সর্বোচ্চ ৭৮ রান করে শেফার্ডের দ্বিতীয় শিকার হয়ে সাজঘরে ফিরেন পাকিস্তানের কিপার-ব্যাটার। ওসানে থমাসের বকে ১ রান করে আউট হন আসিফ আলীও। তবে একপ্রান্তে জোড়া উইকেট হারালেও অন্যপ্রান্তে রানের চাকা সচল রেখে দ্রুত রান বাড়াতে থাকেন হায়দার আলী। ইনিংসের শেষ ওভারে ডমিনিক ড্রেসের বলে আউট হওয়ার আগে ৬ চার আর ৪ ছক্কায় মাত্র ৩৮ বলে ৬৮ রান করেন ম্যাচসেরা হায়দার আলী। আর মাত্র ১০ বলে ৩ চার আর ২ ছক্কায় ৩০ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন মোহাম্মদ নওয়াজ। জবাবে বিশাল টার্গেটে খেলতে নেমে স্বাগতিক বোলারদের দুর্দান্ত বোলিং নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সফরকারী দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় সম্ভাবনাময় শুরু করলেও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হয়েছেন। যেখানে ৭ রানে প্রথম উইকেট হারানো ক্যারিবীয়রা, মাত্র ৮৮ রানেই ৭ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়। শেষ পর্যন্ত ১৯ ওভারে ১৩৭ রানেই থেমে যায় তাদের ইনিংস। [caption id="attachment_58727" align="aligncenter" width="900"] ছবিঃ পিসিবি[/caption] উইন্ডিজের পক্ষে দলীয় সর্বোচ্চ ৩১ (২৬) রান এসেছে ওপেনার শাই হোপের ব্যাট থেকে। এছাড়া ওডেন স্মিথ ২৪, রোভম্যান পাওয়েল ২৩, রোমারিও শেফার্ডে ২১ এবং অধিনায়ক নিকোলাস পুরান ১৮ রান করেছেন। পাকিস্তানের হয়ে পেসার ওয়াসিম জুনিয়র ৪০ রান খরচায় ৪ টি এবং লেগস্পিনার শাদাব খান মাত্র ১৭ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন। সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ পাকিস্তানঃ ২০০/৬ (২০ ওভার); রিজওয়ান ৭৮, হায়দার আলী ৬৮, নওয়াজ ৩০; শেফার্ড ২/৪২, আকিল ১/১৯ ওয়েস্ট ইন্ডিজঃ ১৩৭/১০ (১৯ ওভার); শাই হোপ ৩১, ওডেন স্মিথ ২৪, রোভম্যান পাওয়েল ২৩; ওয়াসিম জুনিয়র ৪/৪০, শাদাব ৩/১৭ ফলাফলঃ পাকিস্তান ৬৩ রানে জয়ী। প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচঃ হায়দার আলী।