ফুটবল > বাংলাদেশ ফুটবল

মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে ড্র করে শেষ আটের আশা জিইয়ে রাখলো সেনাবাহিনী

নিউজ ডেস্ক

৬ ডিসেম্বর ২০২১, দুপুর ১২:১৮ সময়

[ whatsapp-image-2021-12-06-at-6-14-34-pm ]
মুক্তিযোদ্ধাকে হারাতে পারলে শেষ আটে যাওয়া সম্ভাবনা জোরালো হতো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর। কিন্তু এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের প্রথমার্ধে নিজেদের ছন্দে ছিল না সার্ভিসেস দলটি, বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচের প্রথার্ধেই পিছিয়ে পড়ে। তবে বৃষ্টি কমায় দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত খেলে ম্যাচে ফিরে এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে সেনাবাহিনী। দুই দলের এই ড্র'য়ে শেষ আট নিশ্চিত সাইফের, তবে অপেক্ষায় এখনো সেনাবাহিনী ও মোহামেডান। সোমবার কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে স্বাধীনতা কাপে সি গ্রুপের শেষ ম্যাচে ১-১ গোলের সমতায় শেষ করেছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। মুক্তিযোদ্ধাকে প্রথমার্ধে এগিয়ে নেন আহমেদ আইমান, দ্বিতীয়ার্ধে সেনাবাহিনীকে ম্যাচে ফেরান সামিউল হক। দুই দলের এই ড্র'য়ে শেষ আট নিশ্চিত দুই জয় পাওয়া সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের। তিন ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে সাইফ-মোহামেডান ম্যাচের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে সেনাবাহিনীকে। সাইফ জিতলে বাদ পড়বে মোহামেডান তবে সাদা-কালোরা জিতলে নিশ্চিত হবে তাদের শেষ আট। আর ড্র হলে হেড টূ হেড বা গোল ব্যবধানে সেনাবাহিনী বা মোহামেডানের যে কোন এক দল চূড়ান্ত হবে। এদিকে তিন ম্যাচে দুই হার এবং এক ড্র'য়ে এক পয়েন্ট নিয়ে বিদায় নিশ্চিত গ্রুপের অন্য দল মুক্তিযোদ্ধার। বৃষ্টি-বিঘ্নিত ম্যাচে কমলাপুরের টার্ফের প্রথমার্ধে পুরোটাই নিয়ন্ত্রণে ছিল মুক্তিযোদ্ধার, গোলও তুলে নিয়েছিল দলটি। তবে বৃষ্টি কমার সাথে সাথে দুই দলই পেনাল্টি মিস করে রোমাঞ্চের জন্ম দেয়। তবে শেষের দিকে প্রথম দুই ম্যাচে দলীয় পারফরমেন্স ঝলক দেখানো সেনাবাহিনী আক্রমণের পসরা বসিয়ে গোল আদায় করে নেয়। ম্যাচের অষ্টম মিনিটেই এগিয়ে যায় মুক্তিযোদ্ধা। দিদারুল আলমের ফ্রি-কিক বক্সের মধ্যে তারেক মিয়ার হেড থেকে বল পান গিনির ডিফেন্ডার কামারা, তার জোরাল শট ক্রস বারে লেগে ফিরে এলেও মিশরীয় ফরোয়ার্ড আহমেদ আইমানের পায়ে আচমকা লেগে বল জালে জড়ায়। ২২তম মিনিটে বা দিক থেকে সতীর্থের বাড়ানো লম্বা পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন রঞ্জু শিকদার কিন্তু তার জোরাল শট লক্ষ্যে ছিল না। ৩৩তম মিনিটে জাপানিজ তেতসুয়াকি মিসাওয়ার দূর পাল্লার শট ক্রস বারে লেগে ফিরে এলে ব্যবধান বাড়েনি মুক্তিযোদ্ধার। ইয়ামিন মুন্নার ফ্রি-কিক সেনাবাহিনীর এক ডিফেন্ডার হেডে ক্লিয়ার করার চেষ্টা করলেও এজ অফ দ্য বক্সে বুক দিয়ে বল নামিয়ে ডান পা থেকে বা পায়ে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শট নিলে ক্রস বারে লেগে ফিরে আসে। দ্বিতীয় দফায় সুযোগ পেয়েছিলেন ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ রোমান কিন্তু তার দুর্বল শট পরাস্ত করতে পারেনি গোলরক্ষক আলমগির হোসেনকে। প্রথমার্ধে মুক্তিযোদ্ধা নিয়ন্ত্রণ নিলেও শেষ ৪৫ মিনিট দাপট দেখিয়েছে সেনাবাহিনী। ৬০তম মিনিটে বা দিক থেকে আক্রমণে উঠেন জাপানিজ তেতসুয়ায়কি মিসাওয়া, সেনাবাহিনীর দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে তার বা পায়ের বাঁকানো শট গোলমুখ থেকে হেডে ক্লিয়ার করেন ডিফেন্ডার ইব্রাহিম খলিল। ৬৪তম মিনিটে ইব্রাহিম খলিলে লম্বা ক্রস মুক্তিযোদ্ধার কামারার মাথা ছুঁয়ে বল পান রঞ্জু শিকদার, বুক দিয়ে নামে তার ডান পায়ের জোরালো শট রুখে দেন গোলরক্ষক রাজিব। ৬৬তম মিনিটে আবারো আক্রমণে উঠে সেনাবাহিনী। বা প্রান্তে দিদারুল ও রঞ্জু শিকদার বল দেয়া নেয়া করে বাড়িয়ে দেন শাহরিয়ার ইমনের উদ্দেশ্যে, কিন্তু তার শট ফাকি দিতে পারেনি মুক্তিযোদ্ধার গোলরক্ষক রাজিবকে। ৭২তম মিনিটে বা প্রান্ত থেকে রোমানের হাওয়ায় ভাসানো ক্রস বক্সের মধ্যে আইমান আহমেদের হেড সাইড বারে লেগে বাইরে চলে যায়। ৭৪ মিনিটে পেনাল্টি মিস করে মুক্তিযোদ্ধাকে এগিয়ে নিতে পারেননি জাপানিজ তেতসুয়াকি ওতাঞ্জ। এর আগে বক্সের মধ্যে সেনাবাহিনীর মাহবুব আলম সোমা ওতাঞ্জকে পিছন থেকে ফাউল করায় পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি মিজানুর রহমান। ৮০তম মিনিটে ম্যাচে ফেরার সুযোগ পেয়েছিল সেনাবাহিনী। কিন্তু পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেননি জাতীয় দলের ডিফেন্ডার মেহেদি হাসান। তবে ৮৮ মিনিটে আর হতাশ করেনি সেনাবাহিনী। রঞ্জু সিকদারের হাওয়ায় ভাসানো বাঁকানো ক্রস বক্স থেকে দারুণ ভাবে মাথা লাগিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন সামিউল হক। ৯০তম মিনিটে দশ জনের দলে পরিণত হয় সেনাবাহিনী। সোমা ওতাঞ্জকে ফাউল করায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন মাঠ ছাড়েন মাহাবুব আলম। তবে এতে বড় কোন বিপদে পড়তে হয়নি সেনাবাহিনীকে। এক গ্রুপে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে লড়ছে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। এই ম্যাচের ফলাফলের উপর নির্ভর করছে সি গ্রুপ থেকে বাকি দল হিসেবে কারা শেষ আটে যাচ্ছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সাইফ ও মোহামেডানের ম্যাচ গোল শূণ্য সমতায় রয়েছে।