ফুটবল > বাংলাদেশ ফুটবল

মোহামেডানকে হারিয়ে সেনাবাহিনীর চমক

নিউজ ডেস্ক

২ ডিসেম্বর ২০২১, দুপুর ২:১১ সময়

[ whatsapp-image-2021-12-02-at-6-45-29-pm ]
আগের ম্যাচে সাইফের কাছে লড়াই করে হারলেও মোহামেডানের বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকেই চোখে চোখ রেখে খেলা সেনাবাহিনী প্রথম গোল পেয়েছিল দ্রুতই। সমানে সমান খেলে দ্বিতীয়ার্ধে তুলে নেয় আরো এক গোল। দলীয় পার্ফরমেন্সে মুগ্ধ করে শেষ আটে যাওয়ার আশা জিইয়ে রাখলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে স্বাধীনতা কাপে সি গ্রুপের ম্যাচে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে ২-১ গোলে হারায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। জয়সূচক গোল দুটি করেছেন রঞ্জু শিকদার ও শাহরিয়া ইমন। শেষ মুহুর্তে সাদা-কালোদের হয়ে এক গোল শোধ দেন মিনহাজুল আবেদিন। টুর্নামেন্ট শুরুর ম্যাচে মুক্তিযোদ্ধাকে ২-১ গোলে হারালেও সেনাবাহিনীর বিপক্ষে সাদা-মাটা পারফরমেন্স উপহার দেয় মোহামেডান। গত মৌসুমের অধিকাংশ ফুটবলার ধরে রেখে এবং এ ম্যাচেও এক বিদেশি খেলায় কাগজে কলমে অপেশাদার দল সেনাবাহিনীর কাছে পাত্তাই পেল না। জাতীয় দলে খেলা ডিফেন্ডার মেহেদি হাসান মিঠু ছাড়া সেনাবাহিনী দলে পরিচিত মুখ বলতে আর কেউ নেই। এমন এক দলের বিপক্ষে এতিহ্যবাহি দলটির এমন নিম্নমানের পারফরমেন্স প্রত্যাশা করেনি সাদা-কালো সমর্থকেরা। সেনাবাহিনীর জয়ে গ্রুপের চার দলেরই সুযোগ থাকল শেষ আটে যাওয়ার। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মুক্তিযোদ্ধার বিপক্ষে জিতলে এবং সাইফের কাছে মোহামেডান হারলে কোয়ার্টার ফাইনালে যাবে সেনারা। মোহামেডানের বিপক্ষে এক পয়েন্ট পেলেই শেষ আটে যাবে সাইফ স্পোর্টিং। ম্যাচের ১৮তম মিনিটে মোহামেডান সমর্থকদের স্তব্ধ করে এগিয়ে যায় সেনাবাহিনী। বাঁ দিক থেকে ইমতিয়াজ রায়হানের হাওয়ায় ভাসানো ক্রস লাফিয়ে সাইড ভলিতে লক্ষ্যভেদ করেন রঞ্জু শিকদার। পরের মিনিটেই পালটা আক্রমণে যায় মোহামেডান, সোলেমান দিয়াবাতের জোরা শট ঝাপিয়ে রক্ষা করেন সেনাবাহিনীর গোলরক্ষক আলমগীর হোসেন। ২৩ মিনিটে আবারো সুযোগ পেয়েছিলেন প্রথম গোল করা রঞ্জু শিকদার। বা দিক থেকে সতীর্থের পাওয়া বল বক্সের মধ্যে ঠিক মত পা লাগাতে না পারলে বল চলে যায় প্রতিপক্ষে ডিফেন্ডারের কাছে। প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধেও মোহামেডানের সঙ্গে সমান তালে খেলতে থাকে সেনাবাহিনী। ৬০তম মিনিটে গোলরক্ষক আলমগূর হোসেনের কল্যাণে রক্ষা পায় সেনাবাহিনী। সোলেমান দিয়াবাতের পাস থেকে সাইফ শামসুদের কোনাকুনি শট কর্ণারের বিনিময়ে বাইরে ঠেলে দেন তিনি। ৬৯ মিনিটে মোহামেডানকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়ে ব্যবধা দ্বিগূণ করে সেনাবাহিনী। ডান দিক দিয়ে সাদা-কালোদের এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে কোনাকুনি বুলেট গতির শটে লক্ষ্যভেদ করেন ফরোয়ার্ড শাহরিয়ার ইমন। দুই গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর উল্লাসে ভাসে সেনাবাহিনীর ডাগআউটের পাশাপাশি গ্যালারিতে থাকা সমর্থকেরাও। নির্ধারিত নব্বই মিনিট শেষে যোগ করা সময়ে মোহামেডানের হইয়ে এক গোল শোধ দেয় মিডফিল্ডার মিনহাজুল আবেদিন। জাফরের ইকবালের কর্নার থেকে আসা বল জটলা থেকে পা লাগিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন মিনহাজুল। তবে এই গোল ম্যাচে ফিরতে যথেষ্ট ছিল না মোহামেডানের। নিজেদের প্রথম ম্যাচে সাইফের কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল সেনাবাহিনী এবং মোহামেডান ২-১ গোলে হারিয়েছিল মুক্তিযোদ্ধা।