ক্রিকেট > বাংলাদেশের ক্রিকেট

ইনিংস ও ১১৭ রানের হার, সিরিজ জেতা হলো না মুমিনুলদের

নিউজ ডেস্ক

১১ জানুয়ারী ২০২২, সকাল ৬:২ সময়

[ 20220111_090953-2 ]
ছবি - আইসিসি
ক্রাইস্টচার্চে দুই দলের প্রথম ইনিংসের পরেই অনেকটা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের ইনিংস হার, সেই হার এড়াতে দুর্দান্ত কিছুই করতে টাইগারদের। কিন্তু সেটা করে দেখাতে পারেননি মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন শান্তরা, বাংলাদেশও হেরেছে ইনিংস ও ১১৭ রানের ব্যবধানে। স্রোতের বিপরীতে হেটে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন লিটন দাস। এই হারে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে সিরিজ জয়ের আশাও শেষ হয়ে গেছে, তবুও ইতিহাসই গড়েছে টাইগাররা। প্রথমবারের মতো কোন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ ভাগ করে দেশে ফিরবে মুমিনুল হকের দল, সিরিজের প্রথম টেস্ট জিতেছিল ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে। দিনের শুরুতে ফলোঅনে পড়া বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামে। থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ সাদমান ইসলাম, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক, নাঈম শেখরা। যে কারণে বাংলাদেশের ইনিংসটাও সৌন্দর্য পায়নি, নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে হয়েছে টাইগারদের। চায়ের বিরতিতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ১৫২ রান, লিটন দাস ২৩ ও নুরুল হাসান সোহান ৬ রানে ব্যাট করছেন। তৃতীয় দিনের শুরুতে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশকে ২৭ রানের উদ্বোধনী জুটি এনে দেন দুই ওপেনার সাদমান ইসলাম ও নাঈম শেখ। উইকেটে থিতু হয়েও কাইল জেমিসনের শিকার হয়ে ৪৮ বলে ৩ চারে ২১ রান করে ফিরেন সাদমান, অভিষেক ইনিংসেই শূন্য হাতে ফেরা নাঈম এদিন ধৈর্য্য নিয়ে ব্যাট করছেন। দ্বিতীয় উইকেটে নাঈম শেখ ও নাজমুল হোসেন শান্ত গড়েন ৪৪ রানের জুটি, নাঈমের ধৈর্য্যের বিপরীতে শান্ত ছিলেন আক্রমণাত্মক। তবে সাদমানের মতো শান্তও উইকেটে থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হয়েছেন, নেইল ওয়াগনারের বলে ট্রেন্ট বোল্টের হাতে ধরা পড়ার আগে ৩৬ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় করেন ২৯ রান। ৭১ রানে ২ উইকেট হারানো বাংলাদেশ প্রথম সেশনে আর কোন উইকেট হারায়নি, ৭৪ রান নিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতিতে গেছে টাইগাররা। বিরতি থেকে ফিরে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি নাঈম শেখ, ধৈর্য্য দেখানো ব্যাটিংয়ে ৯৮ বল খেলে করেন ২৪ রান। থিতু হয়ে ফিরেছেন মুমিনুল হকও, নেইল ওয়াগনারের বলে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে এসেছে ৬৩ বলে ৩৭ রান। প্রথম ইনিংসের সর্বোচ্চ স্কোরার ইয়াসির আলী রাব্বি ২ রানে আউট হলে ১২৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বড় হারের শঙ্কায় পড়ে বাংলাদেশ। সেখান থেকে পাল্টা আক্রমণে বাংলাদেশকে ইনিংস হার এড়ানোর আশা দেখান লিটন দাস ও নুরুল হাসান সোহান। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে গড়েন ১০৫ বলে ১০১ রানের জুটি। মাঝে বাউন্ডারির ঝড় তোলেন লিটন দাস। ট্রেন্ট বোল্টকে এক ওভারে ৪ বাউন্ডারি মারার আগের ওভারে কাইল জেমিসনকে ২ চার ও ১ ছক্কা হাঁকান লিটন, এই সময়ে তিনি তোলেন ১০ বলে ৩১ রান। লিটনকে দারুণ সঙ্গ দিচ্ছিলেন নুরুল হাসান সোহানও, তবে ড্যারিল মিচেলের বলে ৫৪ বলে ৩৬ রানে সোহানের বিদায়ে ভাঙে বাংলাদেশকে স্বপ্ন দেখানো ১০১ রানের জুটি। মেহেদি হাসান মিরাজকে নিয়ে আবারও জুটি বাধেন লিটন, তবে মিরাজের আউটে শঙ্কায় পড়ে দুর্দান্ত ব্যাটিং করা লিটনের সেঞ্চুরি নিয়ে। তবে সেই শঙ্কাও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়েই কাটিয়েছেন লিটন, ১০৬ বলে তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। তবে সেঞ্চুরির পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি লিটন, কাইল জেমিসনের বলে লেগ-বিফোরের ফাঁদে পড়ে থামে লিটনের ১১৪ বলে ১৪ চার ও ১ ছক্কায় ১০২ রানের দুর্দান্ত ইনিংসটি। সেই সাথে শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস হার এড়ানোর সম্ভাবনা টুকুও, শরিফুল ইসলাম ০ ও এবাদত হোসেন ৪ রানে ফিরলে ২৭৮ রানে থামে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস। ইনিংস ও ১১৭ রানে জয়ে সিরিজে সমতায় ফিরে নিউজিল্যান্ড, কাইল জেমিসন ৪, নেইল ওয়াগনার ৩, রস টেইলর, টিম সাউদি ও ড্যারিল মিচেল নেন ১টি করে উইকেট। ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতেছেন টম ল্যাথাম, সিরিজ সেরা ডেভন কনওয়ে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংস ৫২১/৬, ডিক্লেয়ার. ১২৮.৫ ওভার; (টম ল্যাথাম ২৫২, ডেভন কনওয়ে ১০৯, টম ব্লান্ডেল ৫৭*, উইল ইয়ং ৫৪, রস টেইলর ২৮, শরিফুল ইসলাম ২/৭৯, এবাদত হোসেন ২/১৪৩, মুমিনুল হক ১/৩৪)। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস ১২৬/১০, ৪১.২ ওভার; (ইয়াসির আলী রাব্বি ৫৬, নুরুল হাসান সোহান ৪১, লিটন দাস ৮, সাদমান ইসলাম ৭, মেহেদি হাসান মিরাজ ৫, ট্রেন্ট বোল্ট ৫/৪৩, টিম সাউদি ৩/২৮, কাইল জেমিসন ২/৩২)। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস ২৭৮/১০, ৭৯.৩ ওভার; (লিটন দাস ১০২, মুমিনুল হক ৩৭, নুরুল হাসান সোহান ৩৬, নাজমুল হোসেন শান্ত ২৯, নাঈম শেখ ২৪, সাদমান ইসলাম ২১,  কাইল জেমিসন ৪/৮২, নেইল ওয়াগনার ৩/৭৭, রস টেইলর ১/০)। ফলাফল: নিউজিল্যান্ড ইনিংস ও ১১৭ রানে জয়ী। ম্যাচ সেরা: টম ল্যাথাম (নিউজিল্যান্ড)। সিরিজ সেরা: ডেভন কনওয়ে (নিউজিল্যান্ড)।