ফুটবল > বাংলাদেশ ফুটবল

ক্লাবগুলোর নেই নিজস্ব মাঠ, তবুও অবকাঠামো উন্নয়নে চোখ ক্যাবরেরার

নিউজ ডেস্ক

২৫ জানুয়ারী ২০২২, দুপুর ১:১১ সময়

[ img20220122124849 ]
নিজেদের ভেন্যুতে খেলবে বসুন্ধরা কিংস।
একটি দেশের ফুটবল উন্নয়নে 'অবকাঠামো' গড়ে তোলার বিকল্প কিছু নেই। জাতীয় দল থেকে শুরু করে দেশের শীর্ষস্থানীয় ক্লাব, সর্বক্ষেত্রেই ফুটবলের অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্ব দেয়া হয়। অনুশীলনের সুন্দর মাঠ, উন্নত আবাসন, শারীরিক অনুশীলনের জন্য জিম-সুইমিংপুল থাকা অত্যাবশ্যক। তবে সেই দেশ বা ক্লাব থেকে প্রতিভাবান ফুটবল উঠে আসে। এশিয়া থেকে আফ্রিকা বা ইউরোপ থেকে আমেরিকা অঞ্চলের অধিকাংশ ক্লাবগুলোর রয়েছে নিজস্ব হোম ভেন্যু। যেখানেই তারা লিগের ম্যাচগুলো খেলে থাকে। ২০২২ সালে এসে বাংলাদেশের একমাত্র ও প্রথম ক্লাব হিসেবে বসুন্ধরা কিংস নিজেদের তৈরি করা হোম ভেন্যুতে প্রিমিয়ার লিগ খেলতে যাচ্ছে, যা তৈরি করবে নতুন এক ইতিহাস। এছাড়া প্রিমিয়ার লিগে খেলা বাকি ১১ ক্লাবেরই নেই নিজস্ব ভেন্যু। শুধু হোম ভেন্যু নয়, অধিকাংশ ক্লাবেরই নেই নিজেদের অনুশীলনের মাঠ। ভাড়া করা মাঠে অনুশীলন সারতে হয় ক্লাবগুলোকে। শুধু ক্লাবই নয়, জাতীয় দলকেও ঐ এক বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের উপর নির্ভর করে থাকতে হয়। মাঝে মাঝে কমলাপুরের টার্ফে অনুশীলন সারলেও জামাল-তপুদের জন্য তৈরি করা হয়নি আলাদা কোনো অনুশীলনের মাঠ। [caption id="attachment_63790" align="aligncenter" width="2560"] নিজেদের ভেন্যুতে খেলবে বসুন্ধরা কিংস।[/caption] বাংলাদেশের ২৩তম বিদেশি কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ৩৭ বছর বয়সী স্প্যানিশ কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা। বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়ার পর ক্যাবরেরার মুখ থেকে দেশের ফুটবলের অবকাঠামো উন্নয়নের কথা শোনা গিয়েছে একাধিকবার। ভারত, স্পেনের মত দেশে কাজ করা এই কোচ গুরুত্ব দিচ্ছেন হাই পারফরম্যান্স অবকাঠামো তৈরি করায়। কিন্তু যে দেশের ক্লাবগুলোর নেই হোম ভেন্যু, নেই অনুশীলনের নিজস্ব মাঠ সেই দেশের ফুটবলের অবকাঠামো তৈরি করা কতটা চ্যালেঞ্জিং সেটা হয়তো এতক্ষণে বুঝেও গিয়েছেন ক্যাবরেরা নিজেও। সোমবার হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা গিয়েছিলেন উত্তর বারিধারার অনুশীলন দেখতে। উত্তর বারিধারার নেই অনুশীলনের ভাল কোনো মাঠ। জাতীয় দলের কোচ আসবে তাই ভাড়া করেছিল পূর্বাচলের একটি মাঠ। সেখানে গিয়ে ক্যাবরেরা বলেন, "যে কোনো দেশের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন হওয়া উচিৎ ফুটবল উন্নয়নের চাবিকাঠি। আমি খুব একটা ভালো জানি না বাংলাদেশের অবস্থা সম্পর্কে। তাই নির্দিষ্ট করে বলতে পারছি না। শুধু এটি বলব যে দেশের ফুটবল উন্নয়নে অবকাঠামোর উন্নয়ন প্রয়োজন।" [caption id="attachment_63791" align="aligncenter" width="1280"] ক্লাবে ক্লাবে ঘুরে অনুশীলন দেখছেন ক্যাবরেরা।[/caption] ঢাকার ফুটবলে একমাত্র ভরসা বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম, ঢাকার বাইরে বিভাগীয় শহরে স্টেডিয়াম থাকলেও দুই-একটা বাদে বাকি গুলোর অবকাঠামো অবস্থা খুব একটা ভাল নয়। ক্লাবগুলোও ঢাকার এই একটি মাঠের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় হোম ভেন্যু বানানোর নেই কোনো তাগিদ। জাতীয় দলের নতুন কোচ এসেছেন স্পেন থেকে। তার দেশের প্রতিটা শহরে রয়েছে ফুটবল খেলার মাঠ। সেই উদাহরণ টেনেই ক্যাবরেরা বলেন, "স্পেনে আমাদের অনেক মাঠ আছে। প্রতিটি শহরের সব জায়গায় অনেক খেলার মাঠ পাবেন, যেখানে ১১ জন করে ম্যাচ আয়োজন করা যায়। আমি এখনও বাংলাদেশের সম্পর্কে অতো জানি না। তাই প্রকৃত ব্যাখ্যাটা দিতে পারবো না। যেটা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো অবকাঠামোয় বিনিয়োগ করা।" প্রিমিয়ার লিগে খেলা একমাত্র বসুন্ধরা কিংস নিজেদের হোম ভেন্যুতে খেলতে যাচ্ছে। আবাহনী লিমিটেড, শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ও রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস এন্ড সোসাইটির নিজস্ব অনুশীলন মাঠ থাকলেও নেই হোম ভেন্যু। এছাড়া বাকি কোনো ক্লাবের নেই নিজস্ব অনুশীলন মাঠ। কর্পোরেট দল সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবসহ ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া সংসদও আজ পর্যন্ত একটা অনুশীলন মাঠ বানাতে পারেনি। মোহামেডানের মত দলও ভাড়া করা মাঠে নিজেদের অনুশীলন সারে। এই যদি হয় দেশের ফুটবলের ক্লাবগুলোর অবকাঠামো অবস্থা তবে ফুটবলের অবকাঠামোর উন্নয়ন আদৌ কি সম্ভব? সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।