ফুটবল > বাংলাদেশ ফুটবল

ফিরে দেখা ২০২১ | মারিয়াদের সাফল্যেও ঢাকা পড়েনি কাজী সালাউদ্দীনের ব্যর্থতা

নিউজ ডেস্ক

২ জানুয়ারী ২০২২, সকাল ৭:১৩ সময়

[ picsart_22-01-02_11-22-00-542 ]
বিদায় নেওয়া ২০২১ সালটা ছিল দেশের ক্রীড়াঙ্গনের এক ব্যর্থতার বছর। যেখানে বিজয়ের মাসে এসে এক চিলতে হাসি দিয়েছে উনিশ না পেরোনো মেয়েরা। ঘরের মাঠে ভারতকে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে কিছুটা হলেও শাপমোচন করেছে মেয়েরা। তবে পুরো বছরে ছেলেদের ফুটবল ছিল ব্যর্থতায় ঘেরা। বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব থেকে শুরু করে সাফ বা টুর্নামেন্ট, সব ক্ষেত্রেই ব্যর্থতায় ঘুরপাক খেয়েছে জামাল ভুইয়ারা। ঘরোয়া ফুটবলেও কম নাটকীয়তা ঘটেনি। বছরের শুরুটা ঠিক ঠাক থাকলে সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখা মিলে নাটকীয়তার। তবে বছরের একদম শেষটা ছিল সার্কাসে ভরা। ফেডারেশন কাপের একদিন আগে বসুন্ধরা কিংস সহ তিন দলের নাম প্রত্যাহার। প্রথম দুই দিনে তিন ম্যাচে ওয়াকওভার পাওয়া আবার ম্যাচ শেষে বাস থেকে ফুটবলারদের ফিরিয়ে এনে টাইব্রেকার নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে দেশের ফুটবলে। নেপাল সফরঃ কোভিডের মধ্যেও প্রথমবারের মত দেশের বাইরের ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট খেলতে যায় বাংলাদেশ। নেপালের মাটিতে টুর্নামেন্ট শুরুর ম্যাচে আত্মঘাতি গোলে কিরগিজস্তানকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। কিন্তু ফাইনালে স্বাগতিকদের হারাতে পারেনি জামাল ভুইয়ারা। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বঃ জুনে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব খেলতে কাতার যায় বাংলাদেশ। যেখানে তিন ম্যাচে এক ড্র ও দুই হার নিয়ে ফেরে জেমি ডের শিষ্যরা। প্রথম ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও আফগানিস্তানের বিপক্ষে ড্র করে লাল সবুজের বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতকে ৮০ মিনিট পর্যন্ত আটকে রাখলেও শেষ দশ মিনিটে সুনীল ছেত্রীর ঝড়ে ২-০ গোলে হারতে হয়। আর শেষ ম্যাচে তো ওমানের কাছে দাড়াতেই পারেনি বাংলাদেশ। তবে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অর্জিত দুই পয়েন্ট বাংলাদেশকে এনে দিয়েছে সরাসরি এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব খেলার সুযোগ।   ঘরোয়া লিগের নাটকীয়তাঃ এক-দুবার নয়; ২০২০-২১ মৌসুমের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ফুটবল গত জুলাই মাসে স্থগিত হয়েছিল তিন তিনবার! করোনায় সংক্রমণ আর মৃত্যুর হার বাড়তে থাকায় ১ জুলাই সারা দেশে লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। সরকারের কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেও খেলা চালানোর ঘোষণা দিয়ে শেষ পর্যন্ত গভীর রাতে লিগ স্থগিত করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) লিগ কমিটি। ২৪ জুলাই খেলা শুরুর কথা থাকলেও ২৩ জুলাই আবারও স্থগিত হয় লিগ। ৩০ জুলাই হইচই করে খেলা শুরুর ঘোষণা দিয়েও দলগুলোকে মাঠে এনে শেষ পর্যন্ত দুপুরে খেলা স্থগিত করে সমালোচনার জন্ম দেয় লিগ কমিটি। প্রায় ১০ মাস ধরে চলার পর নাটকে ভরা লিগ শেষ হয় গত ২০ সেপ্টেম্বর! সাবিনাদের মাঠে ফেরাঃ বৈশ্বিক মহামারিসহ বিভিন্ন কারণে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে দুই বছর নিজেদের সরিয়ে রেখেছিল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। প্রায় দুই বছরের নির্বাসন শেষে নেপালের বিপক্ষে সাবিনারা মাঠের প্রতিযোগিতায় ফেরেন ৯ সেপ্টেম্বর। ফেরাটা অবশ্য সুখের হয়নি বাংলাদেশের। সেই ম্যাচে ২-০ গোলে হেরে যায় বাংলাদেশ। তিন দিন বাদে একই প্রতিপক্ষের সঙ্গে ড্র করে গোলাম রব্বানি ছোটনের দল। জেমি অধ্যায়ের সমাপ্তিঃ সাফ শুরু হতে তখনো হাতে বাকি দুই সপ্তাহেরও কম। এ সময় ১৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় দল কমিটির সভা থেকে এল চমকে যাওয়ার মতো এক ঘোষণা, সাফের আগে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে তিন বছর ধরে জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকা ব্রিটিশ কোচ জেমি ডেকে। তাঁর জায়গায় সাফে বাংলাদেশ দলের ডাগআউটে থাকবেন বসুন্ধরা কিংসের স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজোন। জেমি ডে ছাঁটাই হতে পারেন, এমন গুঞ্জন অবশ্য সাফের কয়েক দিন আগে থেকেই চলছিল। বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে সর্বোচ্চ সময় কোচিং করানো এই কোচকে নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিল বাফুফে। জামালদের হতাশার সাফঃ মাত্র ১০ দিন কোচিং করিয়েই বাংলাদেশকে সাফে ফাইনালে খেলার স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন জাতীয় দলের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ অস্কার ব্রুজোন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১ অক্টোবর প্রথম ম্যাচে তপু বর্মণের পেনাল্টি গোল থেকে জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরুও হয়েছিল বাংলাদেশের। এরপর ১০ জনের দল নিয়েও ইয়াসিন আরাফাতের গোলে ভারতের বিপক্ষে ড্রয়ে ফাইনালের স্বপ্নটাই বড় হচ্ছিল জামাল ভুইয়াদের। স্বাগতিক মালদ্বীপের কাছে হারলেও সম্ভাবনা বেঁচে ছিল বাংলাদেশের। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে জয় পেলেই ২০০৫ সালের পর সাফের ফাইনাল খেলত বাংলাদেশ। ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিটের মধ্যে গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকোর লাল কার্ড আর প্রশ্নবিদ্ধ রেফারিংয়ে সমতা ফেরায় নেপাল। ফাইনালের স্বপ্ন ভাঙে বাংলাদেশের। শ্রীলঙ্কাতেও ব্যর্থতাঃ মালদ্বীপে সাফের ব্যর্থতার ধাক্কা কিছুটা কাটিয়ে ওঠার সুবর্ণ সুযোগ ছিল শ্রীলঙ্কায় চার জাতি টুর্নামেন্টে। চার দলের মধ্যে আফ্রিকান দেশ সেশেলস আর স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা ছিল র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশেরও নিচে। এগিয়ে ছিল শুধু মালদ্বীপ। শুধু এই টুর্নামেন্টের জন্য কোচের দায়িত্বে থাকা কোচ মারিও লেমোসের অধীনে প্রথম ম্যাচে সেশেলসের সঙ্গে ড্র করে পয়েন্ট হারালেও পরের ম্যাচে ১৮ বছর পর মালদ্বীপকে হারানোর স্বাদ পায় বাংলাদেশ। ফাইনালে খেলতে শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ড্র হলেই চলতো জামালদের। সেটি আর পারেনি বাংলাদেশ। সাফে মেয়েদের সাফল্যঃ বাংলাদেশের হতাশার ফুটবলে হঠাৎ হঠাৎ যে সাফল্য আসে তার অধিকাংশই এখন মেয়েদের সৌজন্যে। ব্যর্থতা মেনেই যখন শেষ হতে যাচ্ছিল ২০২১ ফুটবল পঞ্জিকাবর্ষ, তখনই সাফল্য এনে দিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ফুটবল দল। কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে ফাইনালে ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়ে অপরাজিত শিরোপার স্বাদ পান মারিয়া মান্ডারা। দুই মাস আগে যে সাফ কাঁদিয়েছিল ছেলেদের জাতীয় দলকে, মেয়েদের বয়সভিত্তিক দল সে সাফ দিয়েই হাসালো পুরো দেশকে। ফেডারেশন কাপের সার্কাসঃ কমলাপুরের টার্ফে খেলবে না কারণ দেখিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে তিন দল নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেয়। এর ফলে প্রথম দুই দিনের তিন ম্যাচে প্রতিপক্ষ মাঠে না আসায় ওয়াকওভার পায় অন্য তিন দল। এবারই প্রথম দেবাংলাশের ফুটবলে ঘটেছে বিরল এক ঘটনা। মোহামেডান ও স্বাধীনতার মধ্যকার ম্যাচ শেষ, দুই দলের ফুটবলাররা মাঠ ছেড়ে বাসেও উঠে পড়েছে। কিন্তু তখনো ম্যাচ অফিসিয়ালরা নিশ্চিত করতে পারেনি কারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন। তাই সে সময়ই তাদের ডেকে এনে টাইব্রেকারের মাধ্যমে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন চূড়ান্ত করা হয়। এভাবেই একের পর এক সার্কাসে চলেছে এবারের ফেডারেশন কাপে।