ফুটবল > বাংলাদেশ ফুটবল

ভ্যাক্সিন নেয়নি ফুটবলাররা, দায় এড়াতে পারবে তো বাফুফে?

নিউজ ডেস্ক

১৩ জানুয়ারী ২০২২, বিকাল ৫:২৪ সময়

[ img-20211107-wa0020 ]
করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সারা বিশ্বে ভ্রমণে কড়াকড়ির বা নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। তবে সময়ের ব্যবধানে সব দেশেই ভ্যাক্সিন পৌছে যাওয়ায় কিছুটা শিথিলতার মুখ দেখা যায়। অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও ভ্যাক্সিন চলে আসায় অধিকাংশই টিকার আওতায় চলে এসেছে। সাধারণ মানুষসহ ক্রীড়াবিদদের জন্যও টিকার ব্যবস্থা করা হয়। গত বছর টিকার বিধিনিষেধ না থাকলেও এ বছর ওমিক্রণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সব দেশেই দুই ডোজ টিকার বিধিনিষেধ দিতে দেখা দিয়েছে। কিন্তু জাতীয় দলের ফুটবলার হয়েও জাতীয় পরিচয় পত্র না থাকায় দুই ডোজ টিকা নেননি বেশ কয়েকজন ফুটবলার। সব ফুটবলারের দুই ডোজ টিকা না নেওয়ায় বাতিল হয়ে গেছে বাংলাদেশের ইন্দোনেশিয়া সফর। জাতীয় দলের ফুটবলারদের ভ্যাক্সিনের আওতায় আনার দায়িত্ব নিয়েছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। কিন্তু সেই দায়িত্ব কতটা পালন করলো দেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা? গত বছরের জুনে বাফুফের আবেদনের পর খেলোয়াড়-কোচ-রেফারি ও কর্মকর্তাদের জন্য ৭০০ টিকার অনুমোদন দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বাফুফে টিকার জন্য প্রথম পর্যায়ে নাম পাঠায় ৪০০ জনের। কিন্তু টিকার অপ্রতুলতা এবং অনেকেরই জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় বেশির ভাগ খেলোয়াড় টিকা নিতে পারেননি। তবে, সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারী বা বেসরকারিভাবে বিভিন্ন হসপিতালে টিকা প্রদানের কার্যক্রম বেড়ে যায়। যেখানে ফুটবলাররা নিজেরাই জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে নিতে পারতেন টিকা। পাশাপাশি বাফুফে পারতো নির্দিষ্ট কোনো হসপিতালে ফুটবলারদের টিকা প্রদানের ব্যবস্থা করে দিতে। বাংলাদেশ সরকারের টিকাকরণ কর্মসূচিতে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের জন্য আলাদা শ্রেণী আছে। খেলোয়াড়েরা টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পেয়ে থাকেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড অনেক আগেই প্রায় সব ক্রিকেটারের টিকা নিশ্চিত করেছে। কিন্তু বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন সরকারের কাছ থেকে টিকা সংগ্রহ করার পরও খেলোয়াড়েরা টিকা নেননি! মূলত গত বছরে যে কয়েকটি আন্তর্জাতিক সফর করেছে বাংলাদেশ দল সেখানে দুই ডোজ টিকা বাধ্যতামূলক ছিল না। মূলত এ কারণেই টিকা নেওয়ার ব্যাপারে বেশি গুরুত্ব দেয়নি বাফুফে। এমনটাই বোঝা গেল সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগের বক্তব্যে। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাফুফে ভবনে আবু নাইম সোহাগ বলেন, "গত বছরে আমরা যে কয়েকটা আন্তর্জাতিক সফর করেছি সেখানে শুধু কোয়ারাইন্টন বা বায়ো বাবল ছিল, বাধ্যতামূলক টিকা নেওয়ার কোনো বিষয় ছিল না। যেটা আমরা বিশেষ সুবিধা পেয়েছি। আমরা সেভাবেই আমাদের কার্যক্রম চালিয়ে গিয়েছি।" জানুয়ারির ফিফা উইন্ডোতে দুটি ম্যাচ খেলার জন্য ইন্দোনেশিয়ায় যাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের। গত বছরের আন্তর্জাতিক সফর গুলোর মত এ সফরেও শুধু বায়ো বাবলের নিয়ম মেনে সেখানে খেলার চিন্তা করেছিল বাফুফে। প্রাথমিক প্রস্তাবে ইন্দোনেশিয়া ফুটবল ফেডারেশন রাজি থাকলেও রাজি ছিল না ইন্দোনেশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রাণলয়। ইন্দোনেশিয়া ফুটবল ফেডারেশন এ বিষয়ে কাজ করলেও কোনো সুরাহা করতে পারেনি। সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক দুই ডোজ টিকা ছাড়া সে দেশে প্রবেশের কোনও সুযোগ নেই বলে জানিয়ে দেয় দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। কিন্তু ২৮ সদস্য দলের ১৫ ফুটবলারের দুই ডোজ, ৭ ফুটবলারের এক ডোজ সম্পন্ন হলেও বাকি ছয় ফুটবলার এখনো টিকা গ্রহণ করেননি। এর ফলেই বাতিল হয়েছে সফরটি। ইন্দোনেশিয়া সফর বাতিল হওয়ায় কিছুটা নড়ে চড়ে বসেছে বাফুফে। মার্চ মাসের ফিফা উইন্ডোর মধ্যেই জাতীয় দল ও অনূর্ধ্ব-২৩ দলের প্রায় ৪০-৫০ জন ফুটবলারকে করোনা টিকার আওতায় আনার চ্যালেঞ্জ নিয়েছে ফুটবল ফেডারেশন।