ফুটবল > ক্লাব ফুটবল

রোমাঞ্চের তুলিতে প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে কোনরকম জান বাঁচালো রিয়াল

নিউজ ডেস্ক

২৩ জানুয়ারী ২০২২, বিকাল ৭:২০ সময়

[ 20220124_011906 ]
ছবিঃ টুইটার
একদিন আগেই দুদলের দুর্দান্ত লড়াইয়ে বেশ উত্তাপ ছড়িয়েছিল। গত শুক্রবার স্প্যানিশ কোপা দেল রে'র শেষ ষোলোয় অতিরিক্ত সময়ে পিছিয়ে পড়েও তিন গোলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে শেষ হাসি হেসেছিল রিয়াল। লা লিগার আজকের ম্যাচেও শুরুতেই এগিয়ে যায় এলচে। এক গোল না, আজ দু গোলে এগিয়ে যায় দলটি। গত ম্যাচের মতো এবারও রিয়াল মাদ্রিদ ঘুরে দাড়ানো গল্প লিখে বটে, তবে জয় নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারেনি। এক ম্যাচ জয়ের পর লিগে আবারও হোঁচট খেলো লস ব্ল্যাংকোসরা। আজ (রোববার) স্প্যানিশ লা লিগায় ঘরে মাঠে ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। প্রথমে এলচের হয়ে লুকাস বোয়ে ও পেরা মিলা গোল করার পর শেষ দিকে লুকা মদ্রিচ ও এডার মিলিটার গোলে হার এড়ায় লস ব্ল্যাংকোসরা। ২০১৭ সালের পর লা লিগায় ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও হার এড়ালো দলটি। [caption id="attachment_63565" align="aligncenter" width="851"] ছবিঃ টুইটার[/caption] জয়ের ধারা ধরে রাখার লড়াইয়ে ঘরের মাঠে এদিন আধিপত্য থাকে রিয়ালের। গোটা ম্যাচে স্বাগতিকরা ৬৫ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রাখে। গোলমুখে শটের ক্ষেত্রেও দাপট ছিল লস ব্ল্যাংকোসদের। ম্যাচে ২৩টি শট নিয়ে ৮টি লক্ষ্যে রাখে তারা। অন্যদিকে, এলচের ৩টি শটের ২টি ছিল লক্ষ্যে। এই দুটো শট থেকেই গোল আদায় করে নেয় সফরকারীরা। স্যান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে শুরুতে গোলের দারুণ সুযোগ পায় রিয়াল। ম্যাচের ৩২তম মিনিটে এলক্সের ডি-বক্সে ব্রাজিলের ভিনিসিউস ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় স্বাগতিকরা। তবে, তা কাজে লাগাতে পারেনি করিম বেনজেমা। স্পটকিকে ক্রসবারে মেরে বসেন এখন পর্যন্ত আসরে সর্বোচ্চ ১৭ গোল ফরাসি তারকা। রিয়ালের হয়ে প্রথমবার পেনাল্টি মিস করলেন উড়ন্ত ফর্মে থাকা এই ফুটবলার। নিজেদের ভুলে রিয়াল এগিয়ে যেতে না পারলেসও প্রতিপক্ষের গোলমুখে প্রথম শটেই এগিয়ে যায় এলচে। বিরতির আগে ৪২তম মিনিটে বাঁ থেকে মিডফিল্ডার ফিদেলের ছয় গজ বক্সের মুখে বাড়ানো ক্রসে ডাইভিং হেডে সফরকারীদের এগিয়ে দেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড বোয়ে। প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় এলচে। বিরতির পর মাঠে ফেরার চেষ্টা করে রিয়াল। ৫১তম মিনিটে ইডেন হ্যাজার্ডকে পড়ে গেলে আবার পেনাল্টি পায় দলটি। যদিও ভিএআরে পেনাল্টি বাতিল হয়ে যায়। ৭১তম মিনিটে সুযোগ পেয়েও ঠিকঠাক লক্ষ্যে রাখতে পারেনি ভিনিসিউস। ৭৬তম মিনিটে স্রোতের বিপরীতে ব্যবধান বাড়ায় এলচে। প্রথম গোল করা বোয়ের পাস কোণাকুণি শটে জাল খুজে নেন মিলা। দুই গোল খেয়েই তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে রিয়াল। ম্যাচে ফিরতে মরিয়া দলটি এলচের রক্ষণে সাড়াশি আক্রমণ চালায়। অবশেষে গোলের দেখা পায় দলটি। ম্যাচের ৮২তম মিনিটে কর্নারের বল মিলার হাতে লাগলে ভিএআরে পেনাল্টি পায় রিয়াল মাদ্রিদ। এবার আর ভুল করেনি তারা। সফল স্পটকিকে ব্যবধান কমান লুকা মদ্রিদ। [caption id="attachment_63566" align="aligncenter" width="600"] ছবিঃ টুইটার[/caption] জমে উঠে খেলা। গোল পেয়ে আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় রিয়াল। তারপরও গোলের দেখা পাচ্ছিলো না দলটি। হারের শঙ্কা জাগে রিয়াল শিবিরে। এমন সময় স্বাগতিকদের প্রাণে বাঁচান এডার মিলিতাও। যোগ করা সময়ে স্বদেশী ভিনিসিউসের নজরকাঁড়া পাস থেকে হেডে রিয়াল মাদ্রিদকে সমতায় ফেরান ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার। বাকি সময় আর কোন গোল না হলে ২-২ গোলে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা। ঘরের মাঠে পয়েন্ট হারালেও শীর্ষেই আছে রিয়াল মাদ্রিদ। ২২ ম্যাচে ১৫ জয় ও পাঁচ ড্রয়ে তাদের পয়েন্ট ৫০। ৪৬ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে সেভিয়া। তিন নম্বরে রিয়াল বেতিসের পয়েন্ট ৪০।