ফিচার

স্বপ্নের মতো বছর কেটেছে পাকিস্তানের

নিউজ ডেস্ক

২৪ জানুয়ারী ২০২২, রাত ৮:২৪ সময়

[ screenshot_20220125-020750_gallery ]
ছবিঃ টুইটার
গেল বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তারকাঠাসা দল নিয়ে টপ ফেভারিট হয়ে নিদেনপক্ষে ফাইনাল খেলার স্বপ্ন দেখেছিল ভারত। কিন্তু, মরুর বুকে রীতিমতো চোখে সর্ষে ফুল দেখে টিম ইন্ডিয়া। আসরের শেষ চারেও নিশ্চিত করতে পারেনি রবি শাস্ত্রীর দল, স্রেফ খালি হাতেই দেশে ফিরে বিরাট কোহলিরা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপরীত কান্ডটাই যেন ঘটিয়েছিল পাকিস্তান। আনপ্রেডিক্টেবল তকমা নিয়ে বিশ্বকাপে দলটি গ্রুপপর্বে চরম আধিপত্য দেখিয়ে বিশ্ব সেরা হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা স্বপ্ন-ই রয়ে গেছে। বাবর আজমের দলকে শেষ চারেই ফেলে আসে অস্ট্রেলিয়া। আসরে শুরুতে কোন ফেভারিটে তকমা না পেয়ে অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবেই প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট পরে অজিরা। [caption id="attachment_63708" align="aligncenter" width="1080"] ছবিঃ টুইটার[/caption] ২০২১ সালটি দুর্দান্ত কেটেছিল নিউজিল্যান্ডেরও। টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছে দলটি। যদিও, অস্ট্রেলিয়া কাছে শেষ পর্যন্ত পেরে উঠেনি। ফের একরাশ হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরে কিউইরা। তবে, গেল বছরে কেইন উইলিয়ামসনের দল-ই সবাইকে ছাড়িয়ে সবচেয়ে বড় কীর্তি গড়েছিল। জুনে ইতিহাসের প্রথমবার অনুষ্ঠিত আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রবল শক্তিশালী ভারতকে হারিয়ে শিরোপা উচিয়ে ধরেছিল দলটি। নিজেদের ইতিহাসের প্রথমবার আইসিসির বড় কোন টুর্নামেন্টে শিরোপার মুকুট পড়ে কিউইরা। গেল বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া ও আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নসশিপ শিরোপা নিউজিল্যান্ড ঘরে গেলেও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে বছরটি নিদেনপক্ষে পাকিস্তানের বলা যায়। আইসিসি সব পুরস্কারে পাক ক্রিকেটারদের চরম আধিপত্য যেন তাই প্রমাণ করেছে। এ বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শিরোপা অস্ট্রেলিয়া জিতেছে বটে, তবে আইসিসির বর্ষসেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার ঠিকই গেছে পাকিস্তানের ঘরে। বিশ্ব চ‍্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার অলরাউন্ডার মিচেল মার্শ ও শ্রীলঙ্কার লেগ-স্পিনিং অলরাউন্ডার ভানিন্দু হাসারাঙ্গাকে পেছনে ফেলে পুরস্কারটি জিতেছেন পাক উইকেটরক্ষক ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান। [caption id="attachment_63709" align="aligncenter" width="800"] আইসিসির বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটার রিজওয়ান। ছবিঃ সংগৃহীত[/caption] ২০২১ সালে গোটা বছর টি-টোয়েন্টিতে অবিশ্বাস্য ছিলেন রিজওয়ান। বছরে সবমিলে ২৯ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৭৩.৬৬ গড় ও ১৩৪.৮৯ স্ট্রাইক রেটে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩২৬ রান করেন তিনি। সঙ্গে ছিল ২৪ ডিসমিসাল। তাছাড়া, গেলবছরই রিজওয়ান প্রথম ব্যাটার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এক পঞ্জিকাবর্ষে হাজার রান করার কীর্তি গড়েন। একই সঙ্গে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে এক বছরে দুই হাজার রানের কীর্তিও গড়েন তিনি। এমনি, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের গ্রুপ পর্বে দাপট দেখানোর পর শেষ চারে খেলায় রিজওয়ানের ছিল বড় অবদান। ৬ ম্যাচে ৭০.২৫ গড় ও ১২৭.৭২ স্ট্রাইক রেটে ২৮১ রান করে তিনি ছিলেন টুর্নামেন্টের তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। [caption id="attachment_63711" align="aligncenter" width="1080"] আইসিসির বর্ষসেরা ওয়ানডে ক্রিকেটার বাবর আজম। ছবিঃ সংগৃহীত[/caption] ২০২১ সালে টি-টোয়েন্টির ঝনঝনানিতে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কম হয়েছে। তবে, যা হয়েছে তাতেই নিজের নৈপুণ্যে দেখিয়েছেন বাবর আজম। তাই, ওয়ানডে ক্রিকেটের বর্ষসেরা হয়েছেন পাকিস্তান অধিনায়ক। বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান, দক্ষিণ আফ্রিকার ইয়ানেমান মালান ও আয়ারল্যান্ডের পল স্টার্লিংকে হারিয়ে একদিনের ক্রিকেটের সেরা পুরস্কার জিতেছেন বাবর। রঙিন পোশাকে গেল বছর দারুণ সময় কেটেছে পাক অধিনায়কের। ২০২১ সালে ওয়ানডে ক্রিকেটে মাত্র ৬টি ম্যাচ খেলেছেন। দুই শতকে সংগ্রহ করেছেন মোট ৪০৫ রান। ব্যাটিং গড় ৬৭.৫০। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে পাকিস্তানের সিরিজ জয়ে ব্যাট হাতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। যার স্বীকৃতিস্বরূপ জিতেছেন ২০২১ সালের সেরা ওয়ানডে ক্রিকেটারের খেতাব। তবে, ২০২১ সালে পাকিস্তানের সবার অর্জনকে যেন ছাড়িয়ে গেলেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। টেস্টে রান বন‍্যা বইয়ে দেওয়া জো রুট, টি-টোয়েন্টিতে স্বপ্নের মতো বছর কাটানো মোহাম্মদ রিজওয়ান ও নিউজিল‍্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে পেছনে ফেলে প্রথম পাক ক্রিকেটার হিসেবে আইসিসির বর্ষসেরা পুরুষ ক্রিকেটারের পুরস্কার জিতে ইতিহাস গড়েছেন বাঁহাতি এই পেসার। [caption id="attachment_63712" align="aligncenter" width="700"] প্রথম পাকিস্তানি হিসেবে আইসিসির বর্ষসেরা ক্রিকেটার শাহিন শাহ আফ্রিদি। ছবিঃ সংগৃহীত[/caption] গেল বছর পুরোটা সময় চোখধাঁধাঁনো বল করেছেন শাহীন শাহ আফ্রিদি। ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি কিংবা টেস্ট ক্রিকেট- যেখানেই সুযোগ পেয়েছেন নিজেকে প্রমাণ করেছেন। সবমিলিয়ে ২০২১ সালে ৯ টেস্ট খেলে ১৭.০৬ গড়ে ৪৭টি উইকেট তুলেছেন আফ্রিদি, ছিলেন বছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারীও। শুধু টেস্ট ক্রিকেট নয়, সীমিত ওভারের ক্রিকেটেও ধারালো ছিলেন পাক এই পেসার। গতি, স্কিল, সুইংয়ে নাজেহাল করেছেন প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের। ২০২১ সালে ৬টি ওয়ানডে খেলে ৪১.৩৭ গড়ে ৮ উইকেট নিয়েছেন আফ্রিদি, ইকোনমি রেট ৬.৩। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যেন নিজের সামর্থ্যের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছেন তিনি, সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বল ছিলেন ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণেই। ২১ ম্যাচ খেলে ২৬.০৭ গড়ে ২৩ উইকেট শিকার করেছেন আফ্রিদি, ইকোনমি রেট ৭.৮৬। শুধু পুরুষ ক্রিকেটেই নয়; গেল বছরের আইসিসির বর্ষসেরা ক্রিকেটারে মেয়েদের ক্যাটাগরিতেও শূন্য হাতে ফিরেনি পাকিস্তান। গোটা বছর জুড়ে দুর্দান্ত খেলে আইসিসি বর্ষসেরা উদীয়মান নারী ক্রিকেটারের পুরস্কার জিতেছেন পাক অলরাউন্ডার ফাতিমা সানা। ২০২১ সালে ১৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে বল হাতে ২৩.৯৫ গড়ে উইকেট নিয়েছেন ২৪টি। ব্যাট হাতেও ১৬.৫০ গড়ে রান করেছেন ১৬৫। [caption id="attachment_63713" align="aligncenter" width="1920"] আইসিসির বর্ষসেরা উদীয়মান নারী ক্রিকেটার ফাতিমা সানা। ছবিঃ সংগৃহীত[/caption] ২০২১ সালে কেবল ব্যক্তিগত অর্জনে নয়; আইসিসির বর্ষসেরা দলেও পাক ক্রিকেটারদের ছড়াছড়ি। বর্ষসেরা ওয়ান ডে ও টি-২০ দলের অধিনায়ক নির্বাচিত হয়েছে বাবর আজম। ছেলেদের বিভাগে তিন ফর্ম্যাটেই আইসিসির বর্ষসেরা দলে রয়েছেন একাধিক পাক ক্রিকেটার। মেয়েদের বিভাগে বর্ষসেরা ওয়ান ডে দলে জায়গা করে নিয়েছেন ফতিমা সানা। নারী ও পুরুষ সবমিলিয়ে আইসিসির বর্ষসেরা দলে আট ক্রিকেটারের জায়গা হয়েছে। বুঝাই যাচ্ছে, আইসিসির বর্ষসেরা পুরস্কারে এবার পাকিস্তানের জয়জয়কার!