ফুটবল > আন্তর্জাতিক ফুটবল

টাইব্রেকারে ইতিহাস গড়ে ফাইনালে সালাহর মিশর

নিউজ ডেস্ক

৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২, রাত ৩:১০ সময়

[ screenshot_20220204-090213_chrome ]
ছবিঃ টুইটার
আফ্রিকা কাপ অব নেশন্স শুরুর পর থেকেই ফুটবল সমর্থকদের মাঝে বাড়তি উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল লিভারপুলের দুই তারকা ফুটবলার সাদিও মানে ও মোহাম্মদ সালাহর মিশরকে ঘিরে। প্রতিযোগিতার অন্যতম ফেভারিট দুদল। দুই দলেই আছে তারকা ফুটবলারে ভরপুর। সম্ভবত, এই জন্যই ফুটবল প্রেয়সীরা নিজেদের কল্পনার ক্যানভাসে মহাদেশের শ্রেষ্ঠত্বের ফাইনালে সাদিও মানে ও মোহাম্মদ সালাহর দ্বৈরথ দেখার চিত্র একেছিল। আগের দিন বুর্কিনা ফাসোকে হারিয়ে বিশ্বব্যাপী কোটি ফুটবল অনুরাগী সেই কল্পনায় বাড়তি হাওয়া দিয়েছিলেন সাদিও মানের সেনেগাল। অপেক্ষায় ছিল কেবল মোহাম্মদ সালাহর মিশর। যদিও সেনেগালের মতো অত সহজেই জিততে পারেনি সালাহর দল, তবে স্বাগতিক ক্যামেরুনকে স্বপ্ন ভেঙে ঠিকই ফাইনালে উঠে গেছে মিশর। মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের আসরে ফাইনালে দেখা হবে ক্লাব সতীর্থ সাদিও মানের সেনেগালের। [caption id="attachment_64814" align="aligncenter" width="1080"] ছবিঃ টুইটার[/caption] গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ক্যামেরুনকে টাইব্রেকারে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে মিশর। দুই দলের জমজমাট লড়াইয়ে নির্ধারিত সময়ের খেলা গোলশূন্য ড্র হলে খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানেই গোলরক্ষক আবু গাবালের বীরত্বে শেষ হাসি হাসে সালাহরা। এই নিয়ে রেকর্ড দশমবারের মতো আফ্রিকা মহাদেশে সেরা হওয়ার লড়াইয়ে ফাইনালে উঠলো মিশর। এর আগে ২০১৭ সালে ফাইনালে উঠলেও ক্যামেরুনের কাছে হেরেই শূন্য হাতে ফিরেছিল দলটি। এবার সেই হারেই প্রতিশোধ নিল মোহাম্মদ সালাহরা। পল বিয়া স্টোডিয়ামে লড়াই হয়েছে হাড্ডাহাড্ডি। যদি ও বল দখলের লড়াই কিংবা গোলমুখে শটের ক্ষেত্রে সামান্য এগিয়ে ছিল ক্যামেরুন। গোটা ম্যাচের প্রায় ৫৩ শতাংশ বল নিজেদের পায়ে রাখে স্বাগতিকরা। আর গোলমুখে ৯ শটের ৩টি রাখে লক্ষ্যে। অন্যদিকে, পুরো ম্যাচে ৭টি শট নিয়ে মাত্র ১টিই লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে মিশর। ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে প্রথম দশ মিনিটে কোনও দলই তেমন সুযোগ বানাতে পারেনি কোন দল। তবে, সময় বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মিশরের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখতে শুরু করে স্বাগতিকরা। ১৮তম মিনিটে অল্পের জন্য গোলের দেখা পায়নি ক্যামেরুন। কর্নার থেকে আসা বল ডিফেন্ডার মাইকেল এনগাদু হেড করলে ক্রস বারে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে শট নিলেও জালের দেখা পায়নি স্বাগতিকরা। ৩২তম মিনিটে ফাকা পোস্ট পেয়েও লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি স্বাগতিক ফরোয়ার্ড তোকো একাম্বি। বাম দিক থেকে সতীর্থের বাড়ানো পাস গোল মুখে ঠিক মত বলে পা লাগাতে পারেনি এই ফরোয়ার্ড। বল চলে যায় গোলরক্ষকের হাতে। [caption id="attachment_64816" align="aligncenter" width="1080"] ছবিঃ ইন্টারনেট[/caption] বিরতির পর ম্যাচে উত্তেজনা বাড়ে। দুদলই একের পর এক আক্রমণ শানায়। তবে, কেউই রক্ষণ দুর্গে চিড় ধরাতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের পায়ে বল রাখা মিশর ৫৬তম মিনিটে ম্যাচে সেরা সুযোগ হারায়। দলের সেরা তারকা মোহাম্মদ সালাহ সুযোগটি নষ্ট করে দেন। মাঝ মাঠ থেকে ক্যামেরুনের তারকা মার্টিন হোগলান গোলরক্ষক ওনানার উদ্দেশ্যে ব্যাক পাস দিলে তা ভাগ্যক্রমে পেয়ে যান মোহাম্মদ সালাহ। নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সের দিকে এগোতে থাকেন তিনি কিন্তু সময়মত পোস্ট ছেড়ে বের হয়ে এসে লিভারপুল তারকার আক্রমণ নষ্ট করে দেন ওনানা। গোলশূন্য সমতায় নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হচ্ছিল। কিন্তু, ৯০তম মিনিটে মেজাজ হারিয়ে লালকার্ড দেখে ডাগ-আউট ছাড়েন মিশরের কোচ। ম্যাচ রেফারিতে অসন্তুষ্ট কিরোস টাচ লাইনের কাছে দাঁড়িয়ে হাত নাড়িয়ে রেফারির উদ্দেশ্যে কিছু বললে লালকার্ড দেখেন মিশরীয় কোচ। [caption id="attachment_64817" align="aligncenter" width="1080"] ছবিঃ ইন্টারনেট[/caption] সালাহদের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হবে ফাইনালে সহকারী কোচকেও কাছে পাবে না দলটি। অতিরিক্ত সময়ে তিনিও হলুদকার্ড দেখেছেন। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়েও কোন গোল না হলে খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে মিশরের হয়ে বাজিমাত করেন প্রথম পছন্দের গোলরক্ষকের চোটে পড়ায় দলে জায়গা পাওয়া আবু গাবেল। টাইব্রেকারে ক্যামেরুনের প্রথম শট আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা আবুবাকারকে ঠেকাতে না পারলেও পরের দু শটই ঠেকিয়ে দেন আবু গাবেল। তৃতীয় শটও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি ক্যামেরুন। স্বাগতিকদের ব্যর্থতার সুযোগে মিশরের তিন ফুটবলার জিজু, মোহামেদ আব্দেল মোনেম ও মোহামেদ লাশিন ঠিকই জাল খুঁজে নেন। আর এতেই মিশরের ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যায়। [caption id="attachment_64818" align="aligncenter" width="1080"] ছবিঃ ইন্টারনেট[/caption] এই নিয়ে আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে ছয়বার টাইব্রেকারে জিতেছে মিশর। প্রতিযোগিতার ইতিহাসে আর কোন দল টাইব্রেকার ভাগ্যে এতবার জিততে পারেনি। সবমিলিয়ে অ্যাফকন-এ নিজেদের সবশেষ ছয় সেমিফাইনালের প্রত্যেকটিতেই জিতেছে মিশর। ফাইনালে লড়াই সাদিও মানে ও মোহাম্মদ সালাহর। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী রোববার শিরোপা নির্ধারণী ম‍্যাচে মুখোমুখি হবে লিভারপুলের দুই সতীর্থ।