ফিচার

আলিউ সিসে: একবার না পারিলে দেখো শতবার

নিউজ ডেস্ক

৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২, সকাল ৯:৮ সময়

[ fb_img_1644224366587 ]
তিনবারের প্রচেষ্টায় আফ্রিকার সেরা হলেন আলিউ সিসে। ছবিঃ ফেসবুক
উপমহাদেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘অধ্যবসায়’ প্রবন্ধটি পড়েনি এমন খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। সাধারণ ভাষায়, কোন কাজে সাফল্য পাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে ধৈর্য্য ও সহিষ্ণুতার মাধ্যমে নিরলস প্রচেষ্টা করে যাওয়ার নামই হলো অধ্যবসায়। অধ্যবসায়ের উদাহরণ বলতে এতদিন রবার্ট ব্রুস, স্যার আইজাক নিউটন, মহাকবি ফেরদৌসী, নেপোলিয়ন বোনাপার্ট, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসিদের নাম বেশি শোনা যেত। এবার সেই তালিকায় আরও একজনের নাম অনায়াসেই যুক্ত করা যেতে পারে। তিনি আর কেউ নন সাদিও মানেদের গুরু, আফ্রিকার ‘নতুন রাজা’ সেনেগাল হওয়ার নেপথ্যের কারিগর আলিউ সিসে। [caption id="attachment_65233" align="aligncenter" width="1080"] তিনবারের প্রচেষ্টায় আফ্রিকার সেরা হলেন আলিউ সিসে। ছবিঃ ফেসবুক[/caption] এখন পর্যন্ত আফ্রিকা মহাদেশের সেরা হওয়া লড়াইয়ে তিনবার ফাইনাল খেলেছে সেনেগাল। খেলোয়াড় এবং কোচ হিসেবে তিনবারই শিরোপার খুব কাছে গিয়েছেন আলিউ সিসে। অ্যাফকনে সেনেগালের সবকটি ফাইনাল ম্যাচেই যুক্ত আছে এই একটি নাম। ২০০২ সালে মালিতে হওয়া আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে টপ ফেভারিট ছিল সেনেগাল। আলিউ সিসের দারুণ নেতৃত্বে তেরেঙ্গার সিংহরা প্রথমবারের মতো শিরোপার খুব কাছে গিয়েছিল। কিন্তু, ফাইনালে ক্যামেরুনের কাছে হেরে বসে দলটি। গোলশূন্য ড্র হলে টাইব্রেকারে ম্যাচটি জিতে নেয় ক্যামেরুন। আর সেই ম্যাচে নিজের নেওয়া স্পটকিক ঠিকঠাক লক্ষ্যভেদ করতে না পারায় সেনেগালে খলনায়ক বনে যান আলিউ সিসে। যদিও ২০০২ সালেই প্রথমবারের মতো সেনেগালকে বিশ্বকাপ খেলার স্বাদ এনে দিয়ে সেই হারে ক্ষতে কিছুটা প্রলেপ দিয়েছেন। তারপর কেটে যায় আরও একটি দশক। কিছুতেই আর মহাদেশীয় লড়াইয়ে সাফল্যে পাচ্ছিলো না সেনেগাল। উপায় না পেয়ে ২০১৫ সালে সাবেক অধিনায়ক আলিউ সিসে উপর সেনেগালে দায়িত্ব দেওয়া হয়। অবশ্য তার আগেই সেনেগালের যুবদলের হয়ে কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করেন সিসে। একসময়ে আফ্রিকা ফুটবলে সাড়া জাগানো এই ফুটবলার কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করার আগে অ্যাফকন-এ সেনেগালের সর্বোচ্চ সাফল্য ছিল ২০০৬ এ সেমিফাইনাল খেলা। সেনেগালের দায়িত্ব নেওয়ার পরই দলটির মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন আনেন আলিউ সিসে। পুরাতনদের ঝেটিয়ে বিদায় করে নতুনদের সুযোগ দেন তিনি। লক্ষ্যে একটা ই অধিনায়ক হিসেবে দেশকে যা এনে দিতে পারেননি এবার নতুন চরিত্রেই তা এনে দেওয়ার চেষ্টা করবেন। [caption id="attachment_65234" align="aligncenter" width="612"] সেনেগালের অধিনায়ক হিসেবে ফাইনাল খেলেও শূন্য হাতে বাড়ি ফিরেছেন। ছবিঃ ফেসবুক[/caption] মাত্র চার বছরের ব্যবধানে সেই লক্ষ্যপূরণে অনেকদূর এগিয়ে যায় আলিউ সিসে। তার অধীনেই ১৭ বছর পর আবারও আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের ফাইনালে উঠে সেনেগাল। সিসের অধীনে বদলে যাওয়া দলটির মধ্যে তারকা ফুটবলারেও ভরপুর ছিল। ফাইনালে সবার চোখে ফেভারিটও ছিল দলটি। কিন্তু, সেবার ভাগ্য সিসের সহায় ছিল না। সাদিও মানেদের হারিয়ে মুকুট যায় আলজেরিয়ার ঘরে। সতের বছরের ব্যবধানে দুবার মহাদেশীয় সেরা হওয়ার খুব কাছে গিয়েও শূন্য হাতে ফিরেছেন আলিউ সিসে। কিন্তু, তারপরও তিনি হতাশ হননি। লক্ষ্যপূরণে এবার আরও বদ্ধপরিকর হয়ে চেষ্টা চালান সেনেগালে সাবেক এই অধিনায়ক। মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে সেই সুযোগ আবারও পান সিসে। এবার নিজেদের ইতিহাসে প্রথমববারের মতো টানা দ্বিতীয়বার আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে ফাইনালে উঠে সেনেগাল। আগের দুইবার ভুল করলেও তৃতীয় প্রচেষ্টায় আর ভুল করেনি তেরেঙ্গার সিংহরা। হতাশ হননি আলিউ সিসেও। [caption id="attachment_65235" align="aligncenter" width="739"] সেনেগালের প্রধান কোচের দায়িত্ব নিয়েই মানেদের বদলে দিয়েছেন আলিউ সিসে। ছবিঃ ফেসবুক[/caption] শিষ্যদের কৃতিত্বে অপেক্ষায় ফুরোয় ৪৪ বছর বয়সী এই কোচের। উনিশ বছর আগে যে টাইব্রেকারে আফ্রিকার সেরা হওয়ার দৌঁড়ে হেরে গিয়েছিলেন, এবার প্রতিযোগিতার সবচেয়ে সফলতম দলটিকেই টাইব্রেকারে কাঁদিয়ে শিরোপা জিতলো আলিউ সিসের সেনেগাল। দুই দুটো ফাইনালে কাঁদার পর অবশেষে হাসলেন সেনেগাল কোচ। বারবার ব্যর্থ হওয়ার পরও চেষ্টা করে সাফল্যে পাওয়ার উদাহরণ হয়ে গেলেন তিনি। আলিউ সিসে যেন সেনেগালের রবার্ট ব্রুস, নেপোলিয়ন বেনোপার্ট, মেসি কিংবা রোনালদো! লেখা: এ.এইচ বাদশা