ফুটবল > আন্তর্জাতিক ফুটবল

‘মিরাকল অব ইস্তাম্বুল’ ফিরিয়ে তৃতীয় ক্যামেরুন

নিউজ ডেস্ক

৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২, রাত ৩:৩৭ সময়

[ newfile-2-3 ]
ছবিঃ ইন্টারনেট
আফ্রিকা কাপ অফ নেশন্সের হট ফেভারিট ছিল ক্যামেরুন। প্রথমত, দেশটি ঘরের মাঠে খেলা; তার উপর দলের খেলোয়াড়রাও ছিল ফর্মের তুঙ্গে। এমন অবস্থায় ভক্তদের প্রত্যাশা পূরণে ঠিকঠাক এগোচ্ছিলো আফ্রিকার অদম্য সিংহরা। কিন্তু, টপ ফেভারিটদের শিরোপা পুনরুদ্ধারের অভিযান শেষ চারেই ইতি ঘটে। টাইব্রেকারে মোহাম্মদ সালাহর মিশরের কাছে হেরে সেমিফাইনালেই স্বাগতিকদের বিদায় ঘন্টা বাজে। ঘরের মাঠে মহাদেশীয় সেরা হওয়ার লড়াই থেকে ছিটকে গিয়ে ‘সান্ত্বনা’ খুঁজছিল ক্যামেরুন। আসরের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে তাই পেল দলটি। রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচেই টাইব্রেকারে বুর্কিনা ফাসোকে হারিয়ে প্রতিযোগিতার তৃতীয় হয়েছে আবুবাকররা। প্রথমার্ধে তিন গোলে পিছিয়ে পড়লেও লিভারপুলের বিখ্যাত ইস্তাম্বুল জয়ের কাব্যের মতোই ঘুরে দাঁড়ানোর নতুন কাব্যে লিখে শেষ হাসি হাসলো তারা। [caption id="attachment_65086" align="aligncenter" width="1024"] ছবিঃ ইন্টারনেট[/caption] গতকাল (শনিবার) রাতে আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি টাইব্রেকারে ৫-৩ ব্যবধানে জিতেছে ক্যামেরুন। প্রথমা স্টেভি ইয়াগো, জিব্রিল কুয়াট্টারার গোলের সাথে আন্দ্রে ওনামার আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় বুর্কিনা ফাসো। পরে শেষ দিকে স্টেফানে বাহোকেন ও আবুবাকরের নৈপুণ্যে ম্যাচে ফিরে ক্যামেরুন। ঘরের মাঠে স্বান্তনা খুঁজে তৃতীয় হওয়ার লড়াইয়ে ম্যাচ শুরু থেকেই বুর্কিনা ফাসোর উপর আধিপত্য বজায় রাখে ক্যামেরুন। গোটা ম্যাচে ৬৫ শতাংশ বলই নিজেরা দখলে রাখে দলটি। গোলমুখে শটের ক্ষেত্রেও এগিয়ে ছিল স্বাগতিকরা। পুরো ম্যাচে গোলমুখে ১৭টি শট নিয়ে ৭টি লক্ষ্যে রাখে আবুবাকররা। বিপরীতে চমকে দেওয়া বুর্কিনা ফাসো ৮ শটে ৩টি লক্ষ্যে রাখতে পারে। চেনা আঙ্গিনায় ক্যামেরুন দাপট দেখালেও সুযোগ বুঝে গোল আদায় করে নেয় বুর্কিনা ফাসো। ম্যাচের ২৪তম মিনিটে স্টেভি ইয়াগোর গোলে এগিয়ে যায় বুর্কিনা ফাসো। ডান দিক থেকে কাবোর হাওয়ায় ভাসানো ক্রস দূরের পোস্টে দৌড়ে এসে পা লাগিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন এই ডিফেন্ডার। ৪৩ মিনিটে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে বুর্কিনা ফাসোকে গোল উপহার দেন ক্যামেরুনের গোলরক্ষক আন্দ্রে ওনানা। প্রথমার্ধে চেষ্টা করেও ম্যাচে ফিরতে পারেনি স্বাগতিকরা। বিরতির পর মাঠে ফিরে আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় ক্যামেরুন। তবে, এবারও গোলের খেরোখাতা আরম্ভ করে বুর্কিনা ফাসো। ৪৯তম মিনিটে দলটির হয়ে ডান দিক থেকে বার্টান্ড ত্রাওরের মাপা ক্রস বক্সের ভেতরে নিখুত হেডে জিব্রিল গোল করলে সুনশান নীরবতা নেমে আসে স্বাগতিকদের স্টোডিয়ামে। ক্যামেরুনের সমর্থকরাও হার মেনে নিয়ে মাঠ ছাড়া শুরু করে। [caption id="attachment_65087" align="aligncenter" width="2048"] ছবিঃ ইন্টারনেট[/caption] কিন্তু, ম্যাচের নাটকীয়তা সব যেন শেষ দিকের জন্যেই অপেক্ষা করেছিল। ২০০৫ সালে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে এসি মিলানের বিপক্ষে তিন গোলে পিছিয়ে পড়েও রুপকথার জন্ম দিয়ে ইউরোপ সেরা হয়েছিল লিভারপুল। ঘরের মাঠে শেষ দশ মিনিটে তাই ফিরিয়ে আনল ক্যামেরুন। শুরুটা করেন স্টেফানো বাহোকেন। ম্যাচের ৭১তম মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে ব্যবধান কমান ২৯ বছর বয়সী স্ট্রাইকার। পরের গল্পটুকু শুধুই আবুবাকারের। বদলি নামা এই তারকা ফুটবলার ৮৫ ও ৮৭তম মিনিটে দুই গোল করে স্বাগতিকদের সমতায় ফেরান। আসরে এই নিয়ে সর্বোচ্চ আট গোল করলেন ক্যামেরুন অধিনায়ক। [caption id="attachment_65088" align="aligncenter" width="960"] ছবিঃ ইন্টারনেট[/caption] ম্যাচের বাকি সময় আর কোন গোল না হলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। তখনও আর কোন গোল না হলে টাইব্রেকারে ৩-৫ ব্যবধানে ব্যবধানে জিতে আসরে তৃতীয়স্থান নিশ্চিত করে ক্যামেরুন। আজ (রোববার) প্রতিযোগিতার ফাইনালে সাদিও মানের সেনেগালের মুখোমুখি হবে মোহাম্মদ সালাহর মিশর।