ফুটবল > আন্তর্জাতিক ফুটবল

ইতিহাস গড়ে ফাইনালে সাদিও মানের সেনেগাল

নিউজ ডেস্ক

৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২, সকাল ৪:৩০ সময়

[ 20220203_102706 ]
ছবিঃ টুইটার
আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে আগের পাঁচ ম্যাচের মধ্যে সেনেগাল গোলের দেখা পেয়েছে মাত্র তিনটিতে। যেখানে দুই ম্যাচেই গোলের দেখা পেয়েছিলেন দলের সবচেয়ে সেরা তারকা সাদিও মানে। তবে,তেরেঙ্গার ঈগলদের শেষ আটের ম্যাচে দুর্দান্ত জয়েও গোলের দেখা পাননি সাদিও মানে। কোয়ার্টার ফাইনালে গোলের খরা আবারও শেষ চারে এসে কাটালেন লিভারপুলে ফরোয়ার্ড। দুদলের শক্তির বিচারে কিছুটা পিছিয়ে থাকা বুর্কিনা ফাসোর বিপক্ষে সেমিফাইনালে সহজ জয় পেয়েছে সেনেগাল। আর দলের জয়ে প্রথম সতীর্থকে দিয়ে গোল করিয়ে ও পরে নিজে গোল করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন মানে। [caption id="attachment_64730" align="aligncenter" width="2560"] ছবিঃ টুইটার[/caption] গতকাল (বুধবার) রাতে আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের সেমিফাইনালে-ই বুর্কিনা ফাসোকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে সেনেগাল। গোলশূন্য প্রথমার্ধ ড্র হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে সেনেগালকে এগিয়ে নেন আবদু দিয়ালো। ইদ্রিসা গেয়ি ব্যবধান দ্বিগুণ করার পর বুর্কিনা ফাসোর হয়ে একটি শোধ করেন ব্লাতি তুরে। এর একটু পরই ব্যবধান আবার বাড়িয়ে জয় নিশ্চিত করেন সাদিও মানে। আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে নিজেদের ইতিহাসে প্রথম বার ব্যাক টু ব্যাক ফাইনালে উঠেছে সেনেগাল। এর আগে ২০১৯ সালেও আফ্রিকা মহাদেশে সেরা হওয়ার লড়াইয়ে ফাইনাল খেলেছিল সাদিও মানেরা। যদিও সেবার রিয়াদ মাহরেজদের আলজেরিয়ার কাছে হেরে রানার্স-আপ হয়েই সন্তুষ্ঠ থাকতে হয় দলটির। সবমিলে আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে এটি সেনেগালের তৃতীয় ফাইনাল। ক্যামেরুনের স্ট্যাদে আহমাদউ আহিদজো স্টোডিয়ামে ফাইনালে উঠা লড়াইয়ে গোটা ম্যাচে আধিপত্য থাকে সেনেগালের। পুরো ম্যাচে বল দখলে লড়াইয়ে এগিয়ে ছিল দলটি। ম্যাচের ৫২ শতাংশ বলই নিজেদের পায়ে রাখে আফ্রিকার তেরেঙ্গা ঈগলরা। গোলমুখে শটের ক্ষেত্রেও এগিয়ে ছিল সাদিও মানেরা। গোটা ম্যাচেই ১৮ শট নিয়ে ৭টি লক্ষ্যে রাখে তারা। বিপরীতে, ১০টি শটের মধ্যে ৩টি লক্ষ্যে রাখতে পারে বুর্কিনা ফাসো। [caption id="attachment_64731" align="aligncenter" width="2560"] ছবিঃ টুইটার[/caption] শেষ চারের লড়াইয়ে শুরু থেকে দাপট দেখালেও প্রথমার্ধে গোলের বড় কোন সুযোগ তৈরি করতে পারেনি সেনেগাল। ম্যাচের ২০তম মিনিটে বাঁ দিক থেকে সাদিও মানে আক্রমণে উঠলেও যুতসই কোন ভীতি ছড়াতে পারেননি। ২৯তম মিনিটে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরে। নিজেদের ডি-বক্সে বুর্কিনা ফাসোর গোলরক্ষক সেইতু কুইয়াতেকে আঘাত করলে পেনাল্টি পায় সেনেগাল। রেফারি ভিএআর দেখে সিদ্ধান্ত বদলালেও শনির দশা কাটেনি বুর্কিনা ফাসোর। এই ঘটনায় চোট পড়ে মাঠ ছাড়েন দলটির গোলরক্ষক। ৩৯তম মিনিটে প্রথমবার গোলের সুযোগ পায় বুর্কিনা ফাসো। ছয় গজ বক্সের বাঁ দিক থেকে মিডফিল্ডার বনদের কাছের পোস্টে নেওয়া শট কর্নারের বিনিময়ে ফেরান সেনেগাল গোলরক্ষক এডুয়ার্ড মেন্ডি। প্রাণে বাঁচে সেনেগাল। বিরতির আগে আবারও পেনাল্টি পায় সাদিও মানেরা। প্রথমার্ধে যোগ করা সময়ে ডি-বক্সে বুর্কিনা ফাসোর এক ডিফেন্ডারের হাতে বল লাগলে পেনাল্টির বাঁশি বাঁজান রেফারি। কিন্তু, পরে ভিএআর দেখে এবারও সিদ্ধান্ত বদলান তিনি। প্রথমার্ধের খেলা গোলশূন্য সমতায় শেষ হয়। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেই আক্রমণের ধার বাড়ায় সেনেগাল। একের পর এক আক্রমণ করেও গোলের দেখা পাচ্ছিলো না দলটি। অবশেষে, বুর্কিনা ফাসোর রক্ষণে চিড় ধরাতে পারে সেনেগাল। ম্যাচের ৭০তম মিনিটে কর্নার থেকে উড়ে আসা বল প্রতিপক্ষের রক্ষণ ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে ওভারহেড কিক নেন কালিদু কলিবালি। বল ছয় গজ বক্সের মুখে পেয়ে নিচু শটে বাকি কাজ সারেন আবদু দিয়ালো। [caption id="attachment_64732" align="aligncenter" width="2560"] ছবিঃ টুইটার[/caption] ছয় মিনিট পরই ব্যবধান বাড়ায় সেনেগাল। এবার গোলের উৎস সাদিও মানে। ৭৬তম মিনিটে লিভারপুল তারকার ক্যাটব্যাকে বল পান ইদ্রিস গেয়ি। ছয় গজ বক্সের বাইরে থেকে নিচু শটে ফাঁকা জালে বল পাঠান পিএসজির এই মিডফিল্ডার। এবার ছয় মিনিট পর ব্যবধান কমিয়ে ম্যাচের ফেরার ইঙ্গিত দেয় বুর্কিনা ফাসো। ৮২তম মিনিটে হাঁটুর দিয়ে গোল করেন দলটির ব্লাতি তুরে। তবে, পাঁচ মিনিটের মধ্যেই তাদের সেই আশায় পানি ঢেলে দেন সাদিও মানে। [caption id="attachment_64733" align="aligncenter" width="1109"] ছবিঃ টুইটার[/caption] ম্যাচের ৮৭তম মিনিটে দারুণ এক প্রতি আক্রমণ থেকে গোল করে সেনেগালের জয় নিশ্চিত করে ফেলেন ২৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। বাকি সময় আর কোন গোল না হলে ৩-১ গোলের জয়ে ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যায় সেনেগালের। আফ্রিকা মহাদেশের সেরা হওয়ার লড়াইয়ে ফাইনালে সেনেগালের প্রতিপক্ষ হবে কারা যাবে তা আজ জানা যাবে। রাতে আসরের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে স্বাগতিক ক্যামেরুনের বিপক্ষে মাঠে নামবে মোহাম্মদ সালাহর মিশর।