ফুটবল > আন্তর্জাতিক ফুটবল

মিশরকে কাঁদিয়ে আফ্রিকার ‘নতুন রাজা’ সেনেগাল

নিউজ ডেস্ক

৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২, রাত ২:৫ সময়

[ senegal-070222-02-1 ]
ছবিঃ ইন্টারনেট
স্বপ্নের মতো ফাইনাল দেখতে বসেছিল ইংলিশ ক্লাব লিভারপুলের ভক্তরা। কেননা, আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের ফাইনালে মুখোমুখি অলরেডদের প্রিয় দুই তারকা মোহাম্মদ সালাহ ও সাদিও মানে। ম্যাচ শেষে একজনের মুখে বিজয়ের আনন্দ, আরেকজনের মুখে বিষাদে ভরা দুঃখ হতাশার ছাপ- সবই দেখার সুযোগ হয়েছে মার্সেসাইডের জনপ্রিয় ক্লাবটির সমর্থকদের। এই অবস্থায় পেনাল্টি মিস করেও শেষ হাসি হেসেছে সাদিও মানে। ক্লাব সতীর্থ মোহাম্মদ সালাহর মিশরের অপেক্ষা আরও বাড়িয়ে প্রথমবারের মতো আফ্রিকার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ২৯ বছর বয়সী এ ফরোয়ার্ডের দেশ সেনেগাল। প্রতিযোগিতায় ২০০২ এবং সর্বশেষ ২০১৯ আসরের রানার্স-আপ দলটি তৃতীয় চেষ্টায় ঘরে নিল আফ্রিকার ফুটবল শ্রেষ্ঠত্বের ট্রফি। [caption id="attachment_65173" align="aligncenter" width="640"] ছবিঃ ইন্টারনেট[/caption] গতকাল (রোববার) রাতে আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের ফাইনালের ম্যাচটি টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জিতেছে সেনেগাল। ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হওয়ার পর গড়ায় ভাগ্যে পরীক্ষায়। সেখানেই বাজিমাত করে সাদিও মানেরা। আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে সর্বাধিক ৬বার টাইব্রেকারে জেতা মিশরকে হারিয়ে দিল তেরেঙ্গার সিংহরা। আফ্রিকা মহাদেশের সেরা হওয়ার লড়াইয়ে সবচেয়ে সফলতম দল মিশর। তবে, প্রতিযোগিতায় আটবারের চ্যাম্পিয়ন হওয়া দলটি ২০১০ সালের পর আর সেরার মুকুট পরতে পারেনি। ২০১৭ সালে ফাইনালে উঠেও ক্যামেরুনে কাছে হেরে যায় মোহাম্মদ সালাহরা। এবার হারলো সেনেগালের কাছে। যদিও দল হিসেবে আসরের টপ ফেভারিটই ছিল সাদিও মানেরা। শিরোপা পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে এদিন ক্যামেরুনে বল দখলের লড়াইয়ে এগিয়ে ছিল সেনেগাল। গোটা ম্যাচ এ ৫৮ শতাংশ বল নিজেদের পায়ে রাখে দলটি। ম্যাচে গোলমুখে শট নেওয়ার ক্ষেত্রেও এগিয়ে ছিল তারা। পুরো ম্যাচে গোলমুখে ১৩ শট নিয়ে ৮টিই লক্ষ্যে রাখে সাদিও মানেরা। বিপরীতে মিশর ৭ শটের ৩টি লক্ষ্যে রাখতে পারে। [caption id="attachment_65175" align="aligncenter" width="640"] ছবিঃ ইন্টারনেট[/caption] আক্রমণ প্রতি আক্রমণের ফাইনালের সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত সেনেগাল। কিন্তু সেমি-ফাইনালে টাইব্রেকারে দুই শট ঠেকিয়ে মিশরকে ফাইনালে নেওয়া গোলরক্ষক আবু গাবাল ঠেকিয়ে দেন মানের বুলেট গতির স্পট কিক। ৪৩তম মিনিটে মোহাম্মদ সালাহর প্রচেষ্টা কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন সেনেগালের গোলরক্ষক এদুয়ারদো মেন্দি। সতীর্থের বাড়ানো পাস ডান নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সে ঢুকে সালাহ শট নিলে তা ঝাপিয়ে ঠেকিয়ে দেন মেন্দি। গোল শূন্য সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ। বিরতির পর আক্রমণের ধার বাড়ায় সেনেগাল। তবে, মিশরের গোলরক্ষক বরাবরই ছিলেন সতর্কে। ম্যাচের ৫২তম মিনিটে মিশরকে আবারো রক্ষা করে সেই আবু গাবাল। মাঝ মাঠ থেকে গোছাল আক্রমণে উঠে সেনেগাল। ডান দিক থেকে সাদিও মানের নিচু ক্রস গোলমুখে সেনেগালের দুই ফুটবলার মিলেও আবু গাবালকে পরাস্ত করতে পারেনি। এরপর বার বার আক্রমণ শানাতে থাকে সেনেগাল কিন্তু কিছুতেই গোলের দেখা পাচ্ছিলো না। কখনো নিখুঁত ফিনিশিংয়ের অভাব আর কখনো দেয়াল হয়ে দাঁড়ায় আবু গাবাল। এরপর দুই দলই বেশ কয়েকবার সুযোগ তৈরি করলেও কাঙ্ক্ষিত গোলে দেখা মিলেনি। [caption id="attachment_65174" align="aligncenter" width="1024"] ছবিঃ টুইটার[/caption] নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হলে আরও ত্রিশ মিনিট যোগ করা হয়। তবে, এই সময়েও জালে বল পাঠাতে পারেনি কেউই। ১০০তম মিনিটের মাথায় আবারো সেনেগালের বাঁধা সেই আবু গাবাল। আহমাদু বাম্বার লাফিয়ে উঠা হেড বা দিকে ঝাপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন তিনি। ১১৪ মিনিটে মিসরের ত্রাতা হয়ে আসেন আবু গাবাল। এবারও সেই আহমাদু বাম্বার নেওয়া বুলেট গতির শট দক্ষতার সঙ্গে প্রতিহত করে দেনে এই গোলরক্ষক। অতিরিক্ত সময়েও খেলার ফলাফল সমতায় থাকায় নিষ্পত্তি ঘটে টাইব্রেকারে। সেখানে নিজের সর্বোচ্চ টুকু দিয়েছিলেন মিশরের গোলরক্ষক আবু গাবাল। মূল ম্যাচে সাদিও মানের পেনাল্টি ঠেকানো আবু গাবাল টাইব্রেকারেও ফেরান বোনা সারের শট। সেনেগালের হয়ে কালিদু কলিবালি, আব্দু দিয়ালো, বাম্বা জালের দেখা পান। শুরুর পেনাল্টিতে সফলভাবে জিজুর গোলে শুরু হয় মিশরের স্পটকিক। তবে, দলটির পরের মোহামেদ আব্দেলমোনেমের শটটি ব‍্যর্থ হয়ে বাঁদিকের পোস্টে লেগে যায়। পরে মারওয়ান হামদি গোল করার পর মোহামেদ লাশিনের শট ঠেকিয়ে ম্যাচ সাদিও মানের উপর ন্যস্ত করেন সেনেগাল গোলরক্ষক মেন্ডি। [caption id="attachment_65172" align="aligncenter" width="640"] ছবিঃ ইন্টারনেট[/caption] মূল ম্যাচে পেনাল্টি মিস করলেও এবার আর ভুল করেননি লিভারপুল ফরোয়ার্ড। সফল স্পটকিকেই সেনেগালকে প্রথমবার আফ্রিকা মহাদেশের সেরা হওয়ার মুকুট এনে দেন মানে। টাইব্রেকারে শট নেওয়ার সুযোগই পাননি মিশরের মোহাম্মদ সালাহ। হেরেও গোটা ম্যাচে নৈপুণ্যে দেখিয়ে সেরা হয়েছেন মিশরের গোলরক্ষক আবু গাবাল। আর আসরের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার উঠেছে সাদিও মানের হাতে। আসরে আট গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন ক্যামেরুনের অধিনায়ক ভিনসেন্ট আবুবকর।