ফুটবল > আন্তর্জাতিক ফুটবল

বিশ্ব নারী দিবস: ফুটবল অঙ্গনে সফল নারীরা

‘ডেইলিস্পোর্টসবিডি' বিশ্ব নারী দিবসে তুলে এনেছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবলের সর্বকালের সফল তিন নারী ক্রীড়াবিদের গল্প।

ডেস্ক রিপোর্ট

৮ মার্চ ২০২২, সকাল ৮:৩৬ সময়

[ Screenshot_20220308-083001_Picsart.jpg ]
সম্পাদিত

আজ ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। লৈঙ্গিক সমতার উদ্দেশ্যে প্রতিবছর বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই দিনটি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হয়। নারীদের প্রতি শ্রদ্ধা, তাদের কাজের স্বীকৃতি দানের পাশাপাশি অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সাফল্য উদযাপনের উদ্দেশ্যে নানা আয়োজনে বিশ্বব্যাপী পালিত হয় দিনটি। এ বছরের নারী দিবসে জাতিসংঘের স্লোগান ‘নারীর সুস্বাস্থ্য ও জাগরণ’।

সমাজের বিভিন্ন স্তরের নারীদের নিয়ে হচ্ছে আলোচনা। ফুটবলও তার বাইরে নয়। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এখন বেশ আধিপত্য বিস্তার করেছে নারীরা। ‘ডেইলিস্পোর্টসবিডি' বিশ্ব নারী দিবসে তুলে এনেছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবলের সর্বকালের সফল তিন নারী ক্রীড়াবিদের গল্প।

মার্তা: প্রমিলা ফুটবলারের 'পেলে' 

নারী ফুটবলে সর্বকালের সেরা ফুটবলারের তালিকায় শুরুতেই আসে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি ফুটবলার মার্তার নাম। মেয়েদের ফুটবল বিশ্বে 'পেলে' হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া ব্রাজিলের মার্তা, ফুটবলের ইতিহাসে এক সাড়া জাগানো নাম। পেলে নিজেও তার সাথে এই তুলনা মেনে নেন কোন দ্বিধা ছাড়াই। তার অসাধারণ পায়ের দক্ষতায় মুগ্ধ হয়েছে পুরো ফুটবল বিশ্ব। যার ফলস্বরুপ ২০০৬-১০ পর্যন্ত টানা পাঁচবার মেয়েদের ফুটবলে বর্ষসেরার পুরস্কার উঠেছে তার হাতেই। মেয়েদের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডটিও এখন তার নামের সাথেই জড়ানো। নারী বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ১৫টি গোল করে হয়েছেন সর্বোচ্চ গোলদাতা।

ফুটবলে যে শৈল্পিকতা রয়েছে তার জন্ম বলতে গেলে ব্রাজিলই। সে দেশে ফুটবল প্রতিভার কোনো অভাব নেই। এটা এখন সচরাচর হয়ে গেছে। তেমনই এক প্রতিভার নাম মার্তা ডি সিলভা। জন্ম ১৯৮৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি। পুরো নাম মার্তা ভিয়েরা দ্য সিলভা। তবে ফুটবল বিশ্ব মার্তা নামেই তাকে সবচেয়ে বেশি চেনে। 

মার্তা। ছবি - সংগৃহীত

বয়সটা তখন মাত্র ১৪ পেরিয়েছে। আর পাঁচ-দশটা সাধারণ পরিবারের মেয়ের মতোই কাটছিল তার ছেলেবেলা। তবে ছোট থেকেই ফুটবল হয়ে উঠেছিল মেয়েটির ধ্যান-জ্ঞান এবং সবচেয়ে ভাল লাগার এক বিষয়। পাড়ার রাস্তায় প্রতিবেশী ছেলেমেয়েদের সাথে খেলার মধ্য দিয়ে ফুটবলে তার হাতেখড়ি। যা ব্রাজিলের প্রায় বড় তারকা সবার জীবনেই ঘটেছিল। 

পাড়ার ছেলেরাও তার দুর্দান্ত স্কিলে নাস্তানাবুদ হতো প্রতিনিয়ত। বল নিয়ে ছেলেদের সাথে মাঠে নেমে পড়া সেদিনের সেই ছোট্ট মেয়েটিই আজকের নারী ফুটবল দুনিয়াতে আলোড়ন তৈরি করা তারকা মার্তা। ওই বয়সেই ব্রাজিলের বিখ্যাত মহিলা ফুটবল কোচ হেলেনা পাচেকোর নজরে পড়ে যান মার্তা। মূলত তার তত্ত্বাবধানে ফুটবলার হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলেন মার্তা। মাত্র ১৪ বছর বয়সে ভাস্কো দা গামা মহিলা ক্লাবের সাথে প্রশিক্ষণের জন্য রিও ডি জেনেইরোতে চলে আসেন তিনি।

অ্যালেক্স মরগান: সাড়া জাগানো মার্কিন ফুটবলার

বর্তমান বিশ্বে অন্যতম জনপ্রিয় নারী ফুটবলারদের মধ্যে একজন অ্যালেক্স মরগান। পুরো নাম আলেক্সন্দ্রিয়া প্যাট্রিসিয়া মরগান। তবে, অ্যালেক্স মরগান নামেই সারা বিশ্বে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের সাড়া জাগানো এই ফুটবলার। প্রথম নারী ফুটবলার হিসেবে জায়গা করে নিয়েছিলেন ফিফা ১৬ ভিডিও গেমসের কভারেও। 

১৯৮৯ সালের ২ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিমাসে জন্মগ্রহণ করেন সময়ের অন্যতম সেরা এই নারী ফুটবলার। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ে তিনি ফুটবল খেলতেন। ২০০৭ সালে ক্যালিফোর্নিয়া গোল্ডেন বিয়ার্সে যুবা ফুটবলে অংশ নেন মরগান। এর কিছুদিন পর অর্থাৎ ২০০৮ সালে পোর্টল্যান্ড থর্ণস্‌ ক্লাবে যুক্ত হন। এ কৃতি স্ট্রাইকার জাতীয় দলের হয়ে ২০১১সালে নারী বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো খেলার সুযোগ পান। মাত্র ২৯ বছর বয়সেই যুক্তরাষ্ট্রের নারী ফুটবল দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোল করা কার্লি লয়েডের রেকর্ডের কাছাকাছি এসে গেছেন মরগান। ১৭৩টি ম্যাচ খেলেই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মরগানের গোল ১১৫টি।

আলেক্সন্দ্রিয়া প্যাট্রিসিয়া মরগান। ছবি - সংগৃহীত

২০১২ লন্ডন অলিম্পিক ও ২০১৫ সালে কানাডা নারী বিশ্বকাপে শিরোপা জয় করা যুক্তরাষ্ট্র দলের অপরিহার্য অংশ ছিলেন তিনি। অলিম্পিক ফাইনালে স্বাগতিক কানাডার বিপক্ষে মরগানের করা ১২৩ মিনিটের গোলেই সোনা জিতে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। ২০১২ সালে সবমিলিয়ে গোল করেন ২৮টি। ঐ বছর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সেরা নারী ফুটবলার এবং ফিফা বর্ষসেরা ফুটবল তারকা নির্বাচিত হন। বর্তমানে মরগান খেলছেন অরল্যান্ডো প্রাইডের হয়ে। গেল মৌসুমে ইংলিশ ক্লাব টটেনহ্যাম হটস্পার্স ছেড়ে যোগ দেন সাবেক এই স্বদেশী ক্লাবে।

কার্লি লয়েড: সর্বজয়ী এক নারী ফুটবলার

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রমিলা ফুটবলের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা ফুটবলার বলা হয় তাকে। ১৯৮২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে জন্ম নেওয়া কার্লি লয়েড নিজের বর্নিল ফুটবল ক্যারিয়ারে জিতেছেন সম্ভব্য সব শিরোপা। প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে নারী বিশ্বকাপ ফাইনালে হ্যাট্রিক করে যুক্ত্ররাষ্ট্রকে এনে দিয়েছেন তৃতীয় শিরোপার স্বাদ, পাশাপাশি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতিস্বরূপ গোল্ডেন বলও জয়ী ফুটবলার কার্লি লয়েড। 

মাত্র সতের বছর বয়সে মিডফিল্ডার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা কার্লি লয়েড সর্বপ্রথম ফুটবল মাঠে পা রাখেন স্কুল পর্যায়ে । শিকাগো রেড স্টারস, আটলান্টা বিট ক্লাবে খেলে বর্তমানে তিনি আছেন স্কাই ব্লু এফসি ক্লাবে।

কার্লি লয়েড। ছবি - সংগৃহীত

 

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা কার্লি লয়েড ২৯৯ ম্যাচ খেলে গোল করেছেন ১২৫টি। মার্কিনিদের হয়ে শুধু বিশ্বকাপই নন, এনে দিয়েছেন দুইটি অলিম্পিক স্বর্ণপদকও। পাশাপাশি দুইটি অলিম্পিক ফাইনালে গোল করার কৃতিত্বও গড়েছেন এই ফুটবলার। নারী ফুটবলে অসাধারণ সব কীর্তি গড়ার মাঝেই কার্লি লয়েড ২০১৫ ও ২০১৬ সালে জিতেছেন দুইবার ফিফা নারী বর্ষসেরা ফুটবলারের সম্মাননা পুরস্কার।