ক্রিকেট > বাংলাদেশের ক্রিকেট

পার্থক্য গড়ে দিচ্ছে তামিমের অধিনায়কত্ব

অধিনায়ক হিসেবে তামিমের ম্যাচ জয়ের হার ৫৭ শতাংশ, পুর্ণাঙ্গ দ্বায়িত্ব পাবার পর তামিম ম্যাচ জিতেছেন ৬৬ শতাংশ ম্যাচ। বাংলাদেশের আইকনিক ক্যাপ্টেন মাশরাফি জিতেছেন ৫৬ শতাংশ ম্যাচ। সাকিব আল হাসান অধিনায়ক হিসেবে জিতেছেন ৪৬ শতাংশ ম্যাচ।

ডেস্ক রিপোর্ট

২৪ মার্চ ২০২২, দুপুর ২:২৫ সময়

[ 277168605_3188220678112391_1820716782361461958_n.jpg ]
সংগৃহীত

অধিনায়কত্ব পাবার পর তামিম বাংলাদেশের হয়ে ম্যাচ খেলেছেন ১৮টিতে যার মধ্যে জিতেছেন ১২টি ম্যাচেই। নিউজিল্যান্ড সফর বাদে বাকি সব সিরিজ জিতেছেন তিনি। যেখানে তামিমের জেতার হার ৬৬.৬৬ শতাংশ যেটা বাংলাদেশের যেকোন অধিনায়ক থেকে বেশি। অনেক সময় অনেক প্রতিকূলতা পার করেছেন তামিম তবুও তিনি ভাল করেছেন অধিনায়ক হিসেবে। 

দক্ষিন আফ্রিকা সফরে তামিম যা করে দেখালেন তা রীতিমত অবিশ্বাস্য। পুরো সিরিজের সবথেকে বেশি রান করেছেন তিনি। সবথেকে বেশি গড়টাও তামিমের। অধিনায়ক হিসেবে তামিম রীতিমত মুগ্ধ করেছেন স্বয়ং সমালোচকদেরও। পাওয়ারপ্লেতে বোলিং পরিবর্তন করেছেন , সাফল্যও পেয়েছেন। সবথেকে দারুণ লেগেছে তামিমের বিপক্ষ ব্যাটসম্যানকে পড়তে পারার ক্ষমতা। 

একই বোলার ভাল করলেও ব্যাটসম্যান বুঝে বোলার পরিবর্তন করেছেন দ্রুত। কখনো সাকিবকে দিয়ে শুরু করিয়েছেন, কখনো বা শরিফুল। সবথেকে গতির বোলার তাসকিনকে চিরাচরিত নতুন বল না দিয়ে দিয়েছেন একটু সেমি নতুন বল। তূূলনামুলক বেশি অপ্রত্যাশিত স্কিড আর বাউন্সারে তাসকিন ধকল তখন নিতেই পারেনি প্রোটিয়ারা। প্রথম ওয়ানডেতে মিরাজকে তামিম ভঙ্গুর অবস্থাতে বোলিংয়ে আনেননি।

যখন এনেছেন ততক্ষনে মুস্তাফিজ-শরিফূল-তাসকিনকে ব্যবহার করে রান রেট বাড়িয়ে নিয়েছেন। বোলারদের উপর ভরসা রেখে সুযোগ দিয়ে গেছেন ফলাফলও পেয়েছেন। সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে সংবাদ মাধ্যমে এসে ক্রিকেটারদের পুরো ক্রেডিট দেওয়া। মিরাজের বোলিংয়ের পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস আর সাহসের গল্প শুনিয়ে গেছেন। পরিবারের খারাপ সময়ে সাকিবকে আগলে রেখেছেন। 

মিডিয়ার সামনে কখনো সাকিব তামিমের কেউ না বললেও বাতাসে অনেকদিনের কানাকানি যে তাদের বন্ধনটা আগের মত নেই। সেই কানাকানিতেও তামিম পানি ঢেলে দিয়েছেন। ম্যাচের আগে পরে সাকিবকে সাহস দিয়ে গেছেন, ফটো সেশন থেকে শুরু করে সাকিবকে কাছে রেখেছেন যা নজর এড়ায়নি দর্শকদেরও। ম্যাচ জয়ের সাথে সাথে সাকিব-তামিমের জয় উৎসবটা রীতিমত আইকনিক মাত্রা পেয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। 

দ্বায়িত্ব পাবার পর তামিম সিরিজ খেলেছেন মোট পাঁচটি, জিতেছেন চারটিতেই। অধিনায়কত্ব পাওয়ার আগে বদলি অধিনায়ক হিসেবে গিয়েছিলেন শ্রীলংকাতে, সেখানে অবশ্য ভাগ্য কথা বলেনি তামিমের হয়ে। তামিমের অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ হয়ত খেলবে ২০২৩ বিশ্বকাপও, ইতোমধ্যে সেই বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের শীর্ষ দল এখন বাংলাদেশ, ধন্যবাদটা প্রাপ্য তামিমও। 

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ ২০২০-২১: অধিনায়ক হিসেবে পুর্ণাঙ্গ দ্বায়িত্ব পাবার পর তামিমের প্রথম সিরিজ ছিল এটি। ঘরের মাঠে তুলনামুলক বাংলাদেশের তুলনায় হাতে কলমে কম শক্তিশালী উইন্ডিজকে বাংলাদেশ তিন ম্যাচেই বড় ব্যবধানেই হারিয়েছিল। নিষেধাজ্ঞার পর সাকিবও ফিরেছিলেন সেই সিরিজে, হয়েছিলেন সিরিজ সেরা। সেই সিরিজে বাংলাদেশ প্রথম ওয়ানডে জিতে নেয় ১২০ রানে। পরের দুই ম্যাচে বাংলাদেশ ১০০ বল হাতে রেখে ম্যাচ জিতেছিল। তুলনামুলক কম শক্তির দল হওয়ার কারণে তামিম এর অধিনায়কত্ব নিয়ে তেমন আলোচনার সুযোগ ছিল না, শুধু নয়া হাসান মাহমুদকে কেমন ব্যবহার করতে পারেন তামিম সেটি দেখার ছিল। সিরিজটিতে তামিমের রান ছিল ৬৪, ৫০ ও ৪৪। 

ছবি - সংগৃহীত

নিউজিল্যান্ড সফর ২০২১: তামিম সম্ভবত এই সফরটাকে ভূলে যেতেই চাইবেন। নিজের অধিনায়কত্ব শূরুর দ্বিতীয় সিরিজেই তিনি হেরে যান সিরিজের তিনটি ওয়ানডেতেই। দুইটি ওয়ানডে ম্যাচে প্রতিদ্বন্দিতাও করতে পারেনি বাংলাদেশ। সেই সফরে তামিম টি টোয়েন্টি না খেলে দেশে ফিরে আসেন ছুটি নিয়ে। তামিমের ইঞ্জুরিও ভোগাচ্ছিল অনেক। 

জিম্বাবুয়ে সফর ২০২১: জিম্বাবুয়েতে তামিমকে ইঞ্জুরি নিয়েই খেলতে হয়েছিল অধিনায়ক হিসেবে। সেই সিরিজ বাংলাদেশ তিন শূন্য ব্যবধানে জিতলেও টি টোয়েন্টি সিরিজে না থাকা তামিমকে নিয়ে নতুন আলোচনার জন্মে দিতে থাকে। শেষ পর্যন্ত তামিমকে আর টিটোয়েন্টিতে দেখাও যায়নি।  

আফগানিস্তান সিরিজ ২০২২: ওয়ানডে ফরম্যাটে আফগানদের থেকে বাংলাদেশ যোজন যোজন এগিয়ে থাকলেও রশীদ খান, মুজিবদের মত দামী বোলারদের কারণে আফগানিস্তান সিরিজটা বাংলাদেশের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল। তামিম নিজেও বোতল বন্দী ছিলেন ব্যাটসম্যান হিসেবে। প্রথম দুটি ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছে, তামিমের কিছু কিছূ বোলিং পরিবর্তন অনেক সুনাম কুড়িয়েছে তখন। 

তামিমের অধিনায়কত্ব সবসময়ই থেকেছে আন্ডাররেটেড। ঘরোয়া ক্রিকেটেও তামিম তেমন একটা মন দেননি অধিনায়কত্বে। বিপিএলে কুমিল্লার হয়ে চ্যাম্পিয়ন হলেও অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন মাঝপথে, সেই তামিম জাতীয় দলে এতো ট্যাকটিক্যালি এগিয়ে থেকে অধিনায়কত্ব করবেন সেটি ভাবনার বাইরে ছিল বেশিরভাগের কাছেই। তামিম যেভাবে এগোচ্ছেন তাতে ২০২৩ বিশ্বকাপ সুপার লিগে বাংলাদেশ শীর্ষ দেশ হিসেবে থাকলেও অবাক হবার কিছু থাকবে না। 

ধারাবাহিকতা এইভাবে থাকলে , তামিমের নেতৃত্বে বাংলাদেশ অন্যতম ফেভারিট হিসেবেই ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলতে ভারত যাবে। ধন্যবাদটা তামিম পেতেই পারেন।