ফুটবল > বাংলাদেশ ফুটবল

বাংলাদেশ সবই পারে, শুধু গোল করতে পারে না

বিপক্ষের অতি ডিফেন্সিফ খেলার কারণে জায়গা পেয়ে খেলাকে আক্রমণাত্মক করতে পেরেছে বাংলাদেশ কিন্তু কাজের কাজ হয়নি। হতাশা আরো একবার ধরা দিয়েছে ফুটবলে, সিলেটের মাঠ ভরা দর্শক হারের কষ্ট নিয়েই ঘরে ফিরেছে। 

ডেস্ক রিপোর্ট

২৯ মার্চ ২০২২, রাত ১১:৩৩ সময়

[ Capture.PNG ]
প্রথম আলো

৯০ মিনিটে যদি কোন দল গোল করতেই না পারে তাহলে সে দল কখনোই জিততে পারে না। বাংলাদেশ দলের গলদটা ঠিক সেখানেই। যেন কোনভাবেই ক্লিন গোল আদায় করতে পারে না বাংলাদেশ। গেল কয়েক বছরে বহু কোচ এলো গেলো কিন্তু এই সমস্যার সমাধান করতে পারেনি বাংলাদেশ। দুর্বল দল কিংবা সবল, সব দলের বিপক্ষেই একই আচরণ বাংলাদেশ দলের স্ট্রাইকারদের। 

মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠেও একটি গোলও করতে পারেনি বাংলাদেশ। ম্যাচের পুরোটা সময় বাংলাদেশ মাঠে নেতৃত্ব দিয়েছে ঠিকই কিন্তু বাংলাদেশ পারেনি ফিনিশিং ভালো করে একটা গোল করতে। চোখে পরবার মত ভূল করেছেন ফরওয়ার্ডরা। একই ভুল বারবার করেছেন তবুও গোল করতে পারেননি কেউ। 

স্ট্রাইকার সুমন রেজা ডি বক্সে বারবার সুযোগ পেয়েও গোল হতে পারে এমন অন টার্গেট কোন শট নিতে পারেননি। ব্যাক হিল কিংবা সফট টাচ এর মত গুরত্বপূর্ন ট্যাকটিকস গুলো দেখা যায়নি কোন স্ট্রাইকারের মাঝেই। পুরো সময়টাই মঙ্গোলিয়া দল অনেক বেশি ডিফেন্সিফ খেলেছে তা না হলে বাংলাদেশের মিড ফিল্ডের এলোমেলো পাসিং বিপদ ঘটাতে পারতো। 

প্রথম হাফে বাংলাদেশ দারুণ ফুটবল দেখিয়েছে মাঝ মাঠ আর ডিফেন্সে কিন্তু গোল বারের সামনে গেলেই কেমন যেন একটা জড়তা। গোল করাটা খুব কঠিন যেন বাংলাদেশ দলের জন্য। কঠিন হবারই কথা, ঘরোয়া ফুটবলে ক্লাবগুলো বিদেশ থেকে স্ট্রাইকার এনে খেলাতে থাকে আর তাতে জাতীয় দলের পাইপলাইনের ফুটবলাররা বেঞ্চ গরম করতেই থাকে। 

গণমাধ্যমে প্রচুর সরগরম হয়েছে ঠিকই তবে কখনও কাজের কাজটা হয়নি ম্যানেজমেন্ট থেকে। ক্লাবগুলোর প্রতি নেই সুস্পষ্ট কোন নির্দশনা। লিগগুলোরও বেহাল দশায় জাতীয় দলের স্ট্রাইকারদের একমাত্র অবলম্বন জাতীয় দলের ক্যাম্প। 

নতুন কোচ বাধ্য হয়ে ছোট ছোট পাস খেলার বদলে লং পাস দিয়ে গোলে কোনমতে শট নেবার পথে হাঁটলেন দ্বিতীয় অর্ধ থেকেই। তাতেই আরো খাপছাড়া দল, লং পাসিং হয়েছে ঠিকই কিন্তু কোন পরিকল্পনা ছাড়া। বারবার  উঁচুতে ভাসিয়ে দিতে দেখা গেছে মাঝ মাঠ থেকেই। সেখান থেকে বলটা রিসিভ করে গোল বারে শট নেওয়াটা রীতিমত কঠিনতম মনে হচ্ছিলো স্ট্রাইকারদের। 

বাংলাদেশ দল আক্রমণাত্মক খেলেছে ঠিকই তবে সেই আক্রমণে গোল করার মতই কোন পরিকল্পনা দেখা যায়নি। বরং বিপক্ষের অতি ডিফেন্সিফ খেলার  কারণে জায়গা পেয়ে খেলাকে আক্রমণাত্মক করতে পেরেছে বাংলাদেশ কিন্তু কাজের কাজ হয়নি। হতাশা আরো একবার ধরা দিয়েছে ফুটবলে, সিলেটের মাঠ ভরা দর্শক হারের কষ্ট নিয়েই ঘরে ফিরেছে। এমন ড্র কে হারই তো বলে?