ফুটবল > আন্তর্জাতিক ফুটবল

৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে কানাডাকে দেখে ‘চোখ টিপ্পনী’ দিচ্ছে আর্জেন্টিনা?

কাতার বিশ্বকাপ যত ঘনিয়ে আসছে, আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জেতার আলামত ততই বাড়ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট

২৯ মার্চ ২০২২, দুপুর ৩:৩২ সময়

[ Screenshot_20220329-152935_Gallery.jpg ]
ইন্টারনেট

চার বছর ঘুরে দরজায় কড়া নাড়ছে আরও একটি বিশ্বকাপ। যদিও আট বছর আগে ব্রাজিল বিশ্বকাপের স্মৃতি এখনো সবার কাছে বেশ উজ্জ্বল। যদিও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের দেশে ঐতিহ্যবাহী মারাকানা স্টেডিয়ামের সেই স্মৃতি আর্জেন্টিনার কাছে একদমই সুখকর নয়। 

দীর্ঘ ২৪ বছর পর আকাশী-নীলরা পৌঁছেছিল বিশ্বকাপ ফাইনালে। লিওনেল মেসির সামনে সুযোগ এসেছিল অবিসংবাদিত সেরা হওয়ার। আর্জেন্টিনা মঞ্চও প্রস্তুত করে রেখেছিল বরণ করে নেওয়ার জন্য। কিন্তু, ফুটবল ভাগ্যবিধাতা তা হতে দেননি। বিশ্বকাপ ট্রফির সামনে মাথা নিচু করে ফিরতে হয়েছিল মেসিবাহিনীকে।

এরপর আর্জেন্টিনা আরও দুটি মেজর শিরোপার ফাইনাল খেলেছিল। কিন্তু, প্রতিবারই খালি হাতে ফিরেছিল দলটি। অবশেষে, গেল বছর জুন-জুলাই অনুষ্ঠিত কোপা আমেরিকায় আর্জেন্টিনার অপেক্ষার অবসান ঘটে। সেই ব্রাজিলের মাটিতে গিয়েই নেইমারদের হারিয়ে লাতিন আমেরিকার সেরা হয় মেসিরা। 

কোপা আমেরিকা জয়ের পর অপ্রতিরোধ্য গতিতেই ছুটছে আর্জেন্টিনা। নিজেদের সবশেষ ৩০ ম্যাচে কোন হার নেই লিওনেল স্কালোনির দলের। ইতোমধ্যে, কোন ম্যাচ না হেরেই কাতার বিশ্বকাপের টিকিটও নিশ্চিত করে ফেলেছে তারা। এমন অবস্থায়, প্রথমবারের মতো মধ্যপ্রাচ্যে অনুষ্ঠিত হওয়া বিশ্বকাপে টপ ফেভারিটের তকমা জুটছে আলবিসেলেস্তেদের। 

তবে, এরই মাঝে এবার বিশ্বকাপ খরা কাটানোর বড় টোটকা পেয়ে গেল আর্জেন্টিনা। দীর্ঘ ৩৬ বছর পর কানাডার বিশ্বকাপ টিকিট নিশ্চিতে সৌভাগ্যে বার্তা পেল যেন দলটি। কেননা, মেপল লিফ জার্সিধারীরা এর আগে বিশ্বকাপ খেলার সময়ে সুখস্মৃতি আছে আর্জেন্টিনার। 

গত রোববার বিশ্বকাপ বাছাইয়ে কনকাকাপ অঞ্চলের ম্যাচে জ্যামাইকাকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেয় কানাডা। দুর্দান্ত এ জয়ের ফলে এ অঞ্চলের প্রতিষ্ঠিত শক্তি ও বিশ্বকাপের নিয়মিত মুখ মেক্সিকো-যুক্তরাষ্ট্রের মতো দলকে পেছনে ফেলে এক ম্যাচ বাকি রেখেই এবার সবার আগে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে ফেললো দলটি। ১৩ ম্যাচে ২৮ পয়েন্ট তাদের।

৩৬ বছর পর কানাডার বিশ্ব আসরে ফেরায় এখন সৌভাগ্যের সমীকরণ মেলাতে পারে আর্জেন্টিনা। কেননা, ১৯৮৬ সালে যেবার সবশেষ দলটি বিশ্বকাপে খেলার মর্যাদা লাভ করে সেবারই সবশেষ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা। মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত হওয়া সেই বিশ্বকাপের ফাইনালে পশ্চিম জার্মানিকে ৩-২ গোলে হারিয়েছিল দিয়েগো ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা। তারপর থেকে আর বিশ্ব সেরা হতে পারেনি আকাশী-নীলরা। 

শুধুই দুর্দান্ত ফর্ম, কোপা আমেরিকা জয় আর কানাডার বিশ্ব মঞ্চে ফেরাই নয়; কাতারে বিশ্বকাপে মেসিদের স্বপ্ন পূরণের আলামত পাওয়া যাচ্ছে আরও। 

এই যেমন, ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদিনিয়ো ২০০১ সালে পিএসজিতে যোগ দেওয়ার পর ২০০২ সালে ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছেন। সময়ে সবচেয়ে সম্ভাবনাময়ী ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পেও তাই করেছেন। ২০১৭ সালে মোনাকো ছেড়ে পিএসজিতে যোগ দেওয়ার পর বছর বিশ্বকাপ ট্রফি উচিয়ে ধরেন তিনি। 

মজার বিষয়, সমীকরণটি লিওনেল মেসির সঙ্গেও মিলছে। ২০২১ সালে গ্রীষ্মকালীন দলবদলে চরম নাটকীয়তার পর বার্সেলোনার সঙ্গে দীর্ঘ একুশ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করে পিএসজিতে যোগ দিয়েছেন তিনি। প্যারিসের এই ক্লাবটির ফুটবলার রোনালদিনিয়ো ও কিলিয়ান এমবাপ্পে দেশের হয়ে যে কীর্তি গড়েছিলেন সাতবারের বর্ষসেরা ফুটবলারেরও সুযোগ আছে সেই কীর্তির পাশে বসে অবিসংবাদিত সেরা হওয়ার। 

৩৬ বছর আগে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের মহা নায়ক ছিলেন ফুটবল ঈশ্বর দিয়েগো ম্যারাডোনা। ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ফুটবলারের একক নৈপুণ্যে দ্বিতীয়বার বিশ্বসেরা হয় আকাশী-নীল দলটি। সবমিলিয়ে সেবার ফেব্রুয়ারী মাসে কিংবদন্তি এই ফুটবলার গোল করেছিলেন ৭টি। মজার বিষয়, ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপে মূল ভরসা যিনি; সেই লিওনেল মেসিও সবধরনের প্রতিযোগিতায় গোল করেছেন ৭টি। 

কাতারে ছিয়াশির সুখস্মৃতি ফিরিয়ে আনতে মেসিদের বিশেষ বার্তা দিয়েছে বার্সেলোনাও। ১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপের বছরে লা লিগায় ঐতিহ্যের এল ক্লাসিকোয় রিয়াল মাদ্রিদের মাঠে গিয়ে ৪-০ গোলে জিতেছিল কাতালানরা। মজার বিষয়, এবারও বার্নাব্যুতে গিয়ে লস ব্ল্যাংকোসদের জালে ‘এক হালি’ গোল দিয়ে এসেছে কাতালানরা!

ফুটবলীয় অঙ্কের হিসেব কষলে একুশ শতকের অন্য যেকোন সময়ের তুলনায় এবার আর্জেন্টিনা দলটি বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে লিওনেল স্কালোনির দলটি এখন বেশ গুছিয়েও উঠেছে। তবে, বিশ্বকাপ জয়ে ভাগ্যেও বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। লিওনেল মেসিরা ভাগ্যেটাও খুব কাছে পাচ্ছে। সব কিছু এভাবে চললে এবার আলবিসেলেস্তেরা অনেক বোদ্ধাদের ভুল প্রমাণ করে দিতে পারে!