ফুটবল > আন্তর্জাতিক ফুটবল

‘লেজার লাইটের লুকোচুরি’তে আবারও সালাহর হৃদয় ভেঙে বিশ্বকাপে মানে

আবারও টাইব্রেকারে মিশরকে হারিয়ে বিশ্বকাপে সেনেগাল।

ডেস্ক রিপোর্ট

৩০ মার্চ ২০২২, সকাল ৪:৪৩ সময়

[ Screenshot_20220330-044307_Gallery.jpg ]
টুইটার

এই তো কদিন আগেই আফ্রিকা মহাদেশের সেরা হওয়ার লড়াইয়ে মাঠে নেমেছিলো দুই দল। উত্তেজনা ঠাসা ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ের খেলায় জিততে পারেনি কেউই। পরে টাইব্রেকারে মোহাম্মদ সালাহর মিশর কে কাঁদিয়ে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারে মতো আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের সেরা হয় সেনেগাল। সেই স্মৃতি এখনও তাজা আছে ফুটবল প্রেয়সীদের।

মাস দুয়েক যেতে না যেতেই সেই একই প্রতিপক্ষ, আর একইরকম পেনাল্টি শুটআউট। আগেরবার মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের ফাইনাল, এবার কাতার বিশ্বকাপ টিকিট নিশ্চিত করার মিশনে। কিন্তু, প্রথম লেগে এগিয়ে থাকলেও ক্যামেরুনের সেই ফাইনালে হারের প্রতিশোধ নিতে পারলো না মিশর। 

আবারও পেনাল্টি শুট আউটে হেরে গিয়ে বাছাইয়ে বিশ্বকাপ শেষ মোহাম্মদ সালাহদের। যদিও, সেনেগালের মাঠে মিশরের এবারে হারে দর্শকদের লেজার লাইটের বিভ্রান্তিও বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। 

আজ (বুধবার) রাতে ডায়ামিনিয়াডিওয়ে বিশ্বকাপের বাছাইয়ে প্লে-অফের ফিরতি লেগে টাইব্রেকার নামক ভাগ্য পরীক্ষায় ৩-১ ব্যবধানে জিতে বিশ্বকাপ খেলা নিশ্চিত করে সেনেগাল। প্রথম লেগে মিশর ১-০ গোলে জয়ের পর এখানে স্বাগতিকরা একই ব্যবধানে জিতলে দুই লেগ মিলিয়ে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ১-১। ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।

দুদলের প্রথম লেগে প্রতিপক্ষের মাঠে দারুণ খেলেও আত্মঘাতী গোলে হেরে এসেছিল সেনেগাল। মজার বিষয়, নিজেদের মাঠে সাদিও মানেরাও আত্মঘাতী গোলেই সমতায় ফিরে।

ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটে ডি-বক্সের ডান দিক থেকে সেনেগালের নেওয়া ফ্রি-কিক দূরের পোস্টে হেডে ক্লিয়ার করার চেষ্টায় মিশরের এক ডিফেন্ডার তুলে দেন সেনেগালের বোউলায়ে দিয়ার পায়ে। ছয় গজ বক্সে ঠাণ্ডা মাথায় বুক দিয়ে বল নামিয়ে আলতো টোকায় জালে পাঠান এই ফরোয়ার্ড। এসময় বল মিশরের হামদি ফাথহির পায়ে লাগলেও জালে যেতে বাধা হয়নি। 

ম্যাচের নির্ধারিত বাকি সময়ও ১-০ গোলে লিডটি ধরে রাখে সেনেগাল। অতিরিক্ত সময়েও আর কোন গোল না হলে খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের ফাইনালের স্মৃতি ফিরিয়ে এবারও টাইব্রেকারে শেষ হাসি হাসে সেনেগাল। 

ভাগ্যে পরীক্ষায় প্রতিপক্ষের মাঠে দর্শকদের লেজার লাইটের বিভ্রান্তিতে পড়ে মিশরের হয়ে প্রথম গোলই মিস করে বসেন দলের সেরা তারকা মোহাম্মদ সালাহ।

নিজেদের প্রথম শটে ঠিকই গোল করে সেনেগালের কালিদৌ কুলাবালি। এরপর সেনেগালের হয়ে পেনাল্টি নিতে আসেন সালিও সিস। মিস করে বসেন তিনিও। 

মিশরের হয়ে দ্বিতীয় শট নিতে এসে মিস করেন জিজো। দুই দলই তখন নিজেদের প্রথম দুটি করে শট মিস করেন। তৃতীয় শট নিতে এসে সেনেগালের হয়ে গোল করেন ইসমাইল সার, আর মিশরের হয়ে আমর আল সুলায়া। এরপর চতুর্থ শটে বল জালে জড়ান সেনেগালের আহমাদু বামবা ডিয়েং। 

এদিকে চতুর্থ শট মিস করলে বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন শেষ হয়ে যাবে মিশরের এমন অবস্থায় শট মিস করেন মোস্তফা মোহাম্মদ। এবার সেনেগালকে বিশেকাপে নিয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত ফয়সালা আসে সাদিও মানের সামনে। লিভারপুল তারকা ঠিকঠাক লক্ষ্যভেদ করতে পারলেই কাতার বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত হয়ে যাবে আফ্রিকা চ্যাম্পিয়নদের। 

ধীর পায়ে ডি-বক্সের ভেতরে এসে বল হাতে তুলে নিয়ে স্পটে বল বসালেন সাদিও মানে। এরপর গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে এসে জোরালো শটে বল জালে জড়িয়েই বুনো উল্লাসে সেনেগালকে মাতালেন ২৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।  সালাহদের হৃদয় ভেঙে এই নিয়ে টানা দ্বিতীয় ও সবমিলিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ সেরাদের আসরে খেলবে সেনেগাল।