ফিচার

চাঁদপুর থেকে ডারবান, যেভাবে উঠে আসা মাহমুদুল হাসান জয়ের

বিকেএসপিতে নিজের প্রতিভার প্রমাণ দিয়ে জায়গা করে নেন বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক দলে, মূলত জয়ের আলোচনায় আসাটা বয়স ভিত্তিক ক্রিকেট দিয়েই।

ডেস্ক রিপোর্ট

৩ এপ্রিল ২০২২, দুপুর ১২:২ সময়

[ unnamed.jpg ]
সংগৃহীত

বর্তমান সময়ের আলোচিত ব্যাটার ও বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যত তারকা ক্রিকেটার মাহমুদুল হাসান জয়, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চলমান টেস্টে একপাশ আগলে রেখে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি হাকিয়ে নিজের প্রতিভার জানান দিয়েছেন আরও একবার, যদিও জয়ের উত্থানের গল্পটা আরও পুরোনো।

১৩ই নভেম্বর ২০০০ সালে জন্ম মাহমুদুল হাসান জয়ের, জন্ম ও বেড়ে ওঠা নানা বাড়ীতেই। পৈতৃক বাড়ী কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলায় হলেও পরিবার নিয়ে নানা বাড়ী চাঁদপুরেই স্থায়ী ছিলেন জয়, সেখানেই ক্রিকেটের হাতেখড়ি, শুরুটা চাঁদপুর ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমি দিয়েই, সেখান থেকে ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমির মাধ্যমেই বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) ভর্তি হন টপ অর্ডার এই ব্যাটার।

বিকেএসপিতে নিজের প্রতিভার প্রমাণ দিয়ে জায়গা করে নেন বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক দলে, মূলত জয়ের আলোচনায় আসাটা বয়স ভিত্তিক ক্রিকেট দিয়েই। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশকে বৈশ্বিক ট্রফি এনে দেওয়া অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সদস্য ছিলেন জয়, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান স্কোরার ছিলেন জয়, ৬ ম্যাচে ৪৬ গড়ে ১ সেঞ্চুরি ও ১ ফিফটিতে করেন ১৮৬ রান।

শুধু বিশ্বকাপেই নয়, অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়েই বেশ সফল ছিলেন মাহমুদুল হাসান জয়। টাইগার যুব দলের হয়ে ৩১ ম্যাচ খেলা জয় ৪৭.৩৬ গড়ে করেছেন ১১৮৪ রান, যা যুব ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ড। ৫ ফিফটির বিপরীতে সেঞ্চুরি ছিল ৪ টি, এছাড়াও যুব দলের হয়ে ৩ টেস্ট ও ১টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন জয়।

বয়স ভিত্তিক ক্রিকেটের পর ঘরোয়া ক্রিকেটেও আলো ছড়িয়েছেন জয়, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৭ ইনিংসে ৩৮.৭০ গড়ে ২ সেঞ্চুরিতে করেছেন ৬৫৮ রান, লিস্ট এ ক্রিকেটে ৪২.৫০ গড়ে করেছেন ৫১০ রান, টি-টোয়েন্টিতে জয়ের রান ৩৩.৯৫ গড়ে ৭৪৭। বিপিএলেও যতটুকু সুযোগ পেয়েছেন নিজেকে মেলে ধরেছেন, যার ফলে দ্রুতই জায়গা করে নিয়েছেন টেস্ট দলেও।

বয়স ভিত্তিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণের পর গত বছরের ডিসেম্বরে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট দলে সুযোগ হয় মাহমুদুল হাসান জয়ের, যদিও অভিষেক টেস্টে মনে রাখার মতো কিছু করতে পারেননি, আউট হয়েছেন ০ ও ৬ রানে। প্রথম টেস্টে ব্যর্থ হলেও জয়ের প্রতিভার উপর আস্থা ছিল টিম ম্যানেজমেন্টের, নিউজিল্যান্ড সফরে সেটার প্রমাণও দেন ৭৮ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে।

এরপর দক্ষিণ আফ্রিকায় তো নিজেকে ইতিহাসেই ঠাই করে দিয়েছেন, প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্টে সেঞ্চুরি হাকানোর কৃতিত্ব গড়েছেন জয়। তার ব্যাটিং দক্ষতায় মুগ্ধ হয়েছেন ভারনন ফিল্যান্ডার, স্টিভ রোডসের মতো ক্রিকেট বোদ্ধারা, রোডস তো জয়ের মধ্যে দুর্দান্ত একটা ভবিষ্যতই দেখতে পেয়েছেন।

মাহমুদুল হাসান জয়দের উত্থানটা যতটা আলোচিত, তার চেয়ে বেশি আলোকিত হবে তার পরবর্তী ক্রিকেট ক্যারিয়ার এমনটাই চাওয়া দেশের কোটি ভক্ত-সমর্থকের। জয়ের হাত ধরেই গড়ে উঠুক বাংলাদেশের ক্রিকেটের পঞ্চপাণ্ডব পরবর্তী যুগের ভিত্তি।