ফুটবল > ক্লাব ফুটবল

‘১১ জনকে ডিফেন্ডার’ বানিয়েও সিটির জয় ঠেকাতে পারেনি অ্যাথলেটিকো

দিয়েগো সিমিওনের দলের চীনের প্রাচীর ভেঙে ম্যানচেস্টার সিটির জয়োল্লাস।

ডেস্ক রিপোর্ট

৬ এপ্রিল ২০২২, সকাল ৪:৩১ সময়

[ Screenshot_20220406-043036_Gallery.jpg ]
টুইটার

ম্যাচের ৩৭তম মিনিটের ঘটনা। জার্মান মিডফিল্ডার ইলকাই গিনদোয়ানের পায়ে বল ধরে আক্রমণে যাচ্ছে ম্যানচেস্টার সিটি। ঠিক এমন সময়, অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের রক্ষণদুর্গে এসে দাঁড়িয়ে আছে ১১ ফুটবলার। ইত্তিহাদে গোটা ম্যাচের চিত্র বোঝার জন্য শুধু এতটুকুই যথেষ্ট ছিল। 

ঘরের মাঠে পুরো ম্যাচে দিয়েগো সিমিওনের রক্ষণে সাড়াশি অভিযান চালিয়েছে সিটিজেনরা। একের পর এক আক্রমণে রোজি ব্ল্যাংকোসদের কোণঠাসাও করে রাখে সিটিজেনরা। 

কিন্তু, কিছুতেই যেন রক্ষণ দেয়াল ভাঙ্গা যাচ্ছিলো না। অবশেষে, পেপ গার্দিওলার দলের দাপটের অসাধারণ ফলাফল নিয়ে আসল কেভিন ডি ব্রুইন। বেলজিয়ান তারকার গোলেই শেষ হাসি নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নরা। 

আজ (মঙ্গলবার) রাতে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ আটের লড়াইয়ে প্রথম পর্বের ম্যাচটি ১-০ গোলে জিতেছে ম্যানচেস্টার সিটি। নিজেদের চেনা আঙ্গিনায় সিটির হয়ে পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন কেভিন ডি ব্রুইন। 

এই নিয়ে ঘরের মাঠে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের সর্বশেষ ১৯ ম্যাচই অপরাজিত আছে ম্যানচেস্টার সিটি। সবমিলিয়ে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে সর্বশেষ ছয় ম্যাচই জিতলো দলটি। নিজেদের ইতিহাসে প্রথম বারের মতো ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের আসরে টানা তিন ম্যাচ কোন গোল হজম করেনি সিটিজেনরা। 

ইত্তিহাদে বল দখলের লড়াইয়ে একচেটিয়া দাপট ছিল ম্যানচেস্টার সিটির। গোটা ম্যাচে ৭১শতাংশ বল নিজে দের পায়ে রাখে দলটি। গোলমুখে শট নেওয়ার ক্ষেত্রে ও সিটির কাছে পাত্তা পায়নি অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ। 

লা লিগা চ্যাম্পিয়নরা সিটিজেনদের গোলমুখে লক্ষ্যে একটি শটও নিতে পারেনি। বিপরীতে, দিয়েগো সিমিওনের দলের গোলমুখে ১৫ শটের ২টি লক্ষ্যে রাখে ম্যান সিটি। 

ইত্তিহাদে এদিন শুরু থেকেই অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের রক্ষণে আক্রমণের পসরা সাজায় ম্যানচেস্টার সিটি। কিন্তু, কোনভাবেই রোজি ব্ল্যাংকোসদের রক্ষণ জমাটে চিড় ধরাতে পারেনি সিটিজেনরা। প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয় গোলশূন্য ড্রয়ে।

বিরতির পর ফিরে আক্রমণের ধার বাড়ায় উড়ন্ত ফর্মে থাকা সিটি। পেপ গার্দিওলার দলের একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে ড্র নিয়েই বাড়ি যাওয়ার স্বপ্ন দেখছিল অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ। কিন্তু দিয়েগো সিমেওনির দলের স্বপ্নে পানি ঢেলে দিলেন কেভিন ডি ব্রুইন।

ম্যাচের ৭০তম মিনিটে রিয়াদ মাহরেজের বদলি নামা ফিল ফোডেন প্রতিপক্ষের তিন জনের মধ্যে থেকে দারুণ এক পাস বাড়ান ডি-বক্সে। বল ধরে কোণাকুণি শটে দলকে উচ্ছ্বাসে ভাসান বেলজিয়ান তারকা ডি ব্রুইন। বাকি সময় আর কোন গোল না হলে ১-০ গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ম্যানচেস্টার সিটি। 

এই জয়ে ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের আসরে সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে গেল পেপ গার্দিওলার দল। একই সাথে আগামী রোববার প্রিমিয়ার লিগ ধরে রাখার লড়াইয়ে লিভারপুলের বিপক্ষে হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে মাঠে নামার আগে বাড়তি আত্নবিশ্বাসও যোগালো সিটিজেনরা।